সৌদিরাজপরিবারের ‘পাপের ইতিহাস’ বললেই এখনও যাদের গা-চুলকায়

এই দেশে সত্য বোঝার মতো মানুষের বড়ই অভাব। আর সত্যবাদীমুসলমান খুঁজতে গেলে ‘কম্বলের লোম বাছাড়’ মতো গাঁ-উজাড় হয়ে যাবে। তবুও একজন সত্যিকারের মুসলমান খুঁজে পাওয়া আজকের দিনে ভীষণভাবে দুষ্কর! আর তবুও এরা মুসলমান! ইসলামের নবী মোহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ সা. সারাজীবন মিথ্যাকে ঘৃণা করে এ-কে ‘পাপের জননী’ বলেছেন। আর এখনকার এই সমাজের মুসলমান-নামধারীরা মিথ্যাকে জীবনের একমাত্র আদর্শ বানিয়ে তারই বেসাতি করছে। এমনকি এইসব নামধারী-মুসলমানের কাছে এখন একমাত্র মিথ্যাই প্রধান খাদ্য। বাংলাদেশসহ ভারতীয় উপমহাদেশের অধিকাংশ মুসলমান তথা নামধারী-মুসলমানশ্রেণীটি ইসলামধর্ম না-বুঝেই ‘হুজুগে পড়ে’ মুসলমান হয়েছে। আর তারাই এখন ইসলামের নামে ভারতীয় উপমহাদেশসহ সারাপৃথিবীতে একের-পর-এক অনাসৃষ্টি করে চলেছে। এদের হাতে আজ ইসলামধর্ম, মানুষ, মানবতা—এমনকি মুসলমান কেউই নিরাপদ নয়। আর এদের অপরাজত্ব আজকাল দিন দিন বাড়ছে।

বাংলাদেশের নামধারী-মুসলমানশ্রেণীটি আল্লাহকে চেনে না, মানে না, তাঁর রাসুল সা.-কে চেনে না, মানে না, ইসলামধর্মকে জানে না, মানে না। এরা বোঝে ধর্ম! এদের লাগামহীন-কথাবার্তা শুনলে হাসি পায়। আর ক্রোধে পিত্তি জ্বলে যায়। আরে, এরা যদি মুসলমানই হতো—তাহলে, কীভাবে নিজের স্বার্থে মানুষহত্যা করে? আর কীভাবে পবিত্র ইসলামধর্মের দোহাই দিয়ে নারীধর্ষণ-গণধর্ষণ করে? আর কীভাবে অবাধে একের-পর-এক ‘নারীসম্ভোগে’র জন্য ইসলামধর্মের দোহাই দেয়? এদের যাবতীয় অপকাণ্ড ও শয়তানী-কর্মকাণ্ড দেখে মনে হয়: ইসলামধর্মে বুঝি একমাত্র নারীসম্ভোগ ব্যতীত আর-কিছু নাই! নিজেদের লাভ ও লোভের রাজত্ব টিকিয়ে রাখার স্বার্থে এরা (একটি শ্রেণী) এখন যাবতীয় ভোগের কাজে ইসলামধর্মকে ব্যবহার করছে। এরা নিজেদের স্বার্থে অপরাজনীতিকে জায়েজ করার জন্যও আজ ইসলামের দোহাই দিচ্ছে। আবার নিজেদের স্বার্থহাসিলের সবরকমের অপকাজেও অবলীলাক্রমে ব্যবহার করছে ইসলামধর্মকে। আর এক্ষেত্রে, সবসময় আমাদের কাছে সর্বাপেক্ষা জলন্ত-উদাহরণ হলো: আজকের সৌদিআরব, ব্রুনাই, পাকিস্তান ইত্যাদি। এদের মাঝে শুরু থেকেই ইসলামধর্মকে পুঁজি করে গড়ে উঠেছে ধর্মব্যবসা ও অপরাজনীতির রাজত্ব। তারা ইসলামকে স্বার্থবিস্তারের হাতিয়ার হিসাবে ব্যবহার করছে।

বাংলাদেশসহ ভারত-পাকিস্তানের নামধারী-মুসলমানশ্রেণীটি তাদের জীবনের একমাত্র কিবলা বানিয়েছে পাকিস্তান ও সৌদিআরবের রাজবংশকে। এই মূর্খশ্রেণীটি এখনও জানে না যে, ইসলামধর্ম আর সৌদিরাজপরিবার একই জিনিস নয়। বরং নিজেদের স্বার্থে ইসলামধর্মকে একের-পর-এক ব্যবহার করে এর অপূরণীয় ক্ষতিসাধন করছে সৌদিরাজপরিবার তথা রাজসরকার। আমাদের দেশের নামধারী-মুসলমানশ্রেণীটি ইসলামের মাহাত্ম্য না বুঝেই তারা সৌদিআরবের ভক্ত। আরে মূর্খ, সৌদিআরব এখন এজিদবংশের লোকদের দ্বারা শাসিত হচ্ছে। আর এদের জীবনের একমাত্র আদর্শ ও ধর্মজ্ঞান হলো: মানুষহত্যা, খুন-ধর্ষণ, ব্যভিচার, গণধর্ষণ ইত্যাদি। সৌদিআরবের জালিমসরকার নিজেদের স্বার্থের ‘রাজতন্ত্র’ টিকিয়ে রাখার স্বার্থে যখন-তখন যেকোনো মানুষকে হত্যা করতে বিন্দুমাত্র দ্বিধাবোধ করে না।

চলতি বছরের মাঝামাঝি সময়ে সৌদিআরবের বিশিষ্ট ধর্মীয় চিন্তাবিদ আয়াতুল্লাহ নিমরকে এক প্রহসনমূলক বিচারের নামে হত্যা করা হয়। এটি রাজপরিবারের ও রাজসরকারের ইন্ধনে ঠাণ্ডামাথায় একটি পরিকল্পিত-হত্যাকাণ্ড। নিমরের একমাত্র অপরাধ ছিল: তিনি প্রকাশ্যে সৌদিরাজপরিবারের অনাচার ও ব্যভিচারের বিরুদ্ধে কথা বলতেন। আর তিনি রাজতন্ত্রকে ঘৃণা করে তাঁর ভক্তদের (অনুসারীদের) উদ্দেশ্যে বক্তৃতা করতেন। ইসলামে রাজতন্ত্রকে নিষিদ্ধ (হারাম) করা হয়েছে। আর যারা ইসলামে বিশ্বাসী তারা কখনও রাজতন্ত্রের ধারক-বাহক ও ব্যভিচারসম্রাট সৌদিরাজপরিবারকে সমর্থন করতে পারে? না, পারে না। কিন্তু বাংলাদেশের মুসলমান-নামধারী একটি ভণ্ডশ্রেণী এটিকে সবসময় সমর্থন করে। আর তারা এখনও ইসলাম মানে—পাকিস্তান ও সৌদিআরবকে বোঝে!

পবিত্র কুরআনের কোথাও সৌদিআরবের প্রতি ঈমান আনতে বা রাখতে বলা হয়নি। আর মুসলমানদের ঈমানের মূলস্তম্ভ হলো: মহান আল্লাহ ও তাঁর রাসুল সা.। এখানেই আমাদের কথা। এখন আমাদের দেশের মুসলমান-নামধারী একটি ভণ্ডশ্রেণী মহান আল্লাহ ও তাঁর পবিত্র রাসুল সা.-কে বাদ দিয়ে নিজেদের বিকৃত-মানসিকতার কারণে ‘সৌদিআরব’ ও ‘পাকিস্তানে’র প্রতি ঈমান-আনয়ন করেছে! এদের না-আছে বিন্দুপরিমাণ ঈমান আর না-আছে সামান্যতম লজ্জাশরম। এই শ্রেণীটিই আমাদের দেশে সবসময় ইসলামের নামে বাড়াবাড়ি করছে। তাই, সৌদিআরবের রাজপরিবারের জিনাব্যভিচার, অনাচার, পাপাচার ইত্যাদির বিরুদ্ধে সামান্য ক’টি কথা বললেও এদের গা-জ্বলে। আর এদের গা-চুলকায়! কিন্তু কেন? তোমরা কি সৌদিআরবের জালিমসরকারের অসংখ্য পাপাচার দেখতে পাও না? নাকি তোমরা ইচ্ছাকৃতভাবে চোখবন্ধ করে রয়েছো? নাকি তোমরা জন্মান্ধ?

সৌদিরাজপরিবারের ‘পাপের ইতিহাস’ বর্ণনা করতে গেলে কয়েক শ’ বছর লেগে যেতে পারে। আর এতো বর্ণনার আবশ্যকতা এখানে নাই। শুধু একটি বিষয় চিন্তা করুন: সৌদিরাজপরিবার তথা রাজসরকার আমাদের বাংলাদেশ থেকে ‘গৃহপরিচারিকা’ নেওয়ার কথা বলে এখন তাদের ব্যক্তিগত ‘যৌনকর্মী’ বা আগের মতো ‘যৌনদাসী’ বানাচ্ছে। আর অতিসম্প্রতি তারা ঘোষণা করেছে: এদের ‘যৌনদাসী’ বানানো যাবে। অর্থাৎ, এদের বিবাহবহির্ভূতভাবে ‘ভোগ’ করা যাবে। কিন্তু কখনও বিবাহ করা যাবে না। কোনো মুসলমান কখনও একথা বলতে পারে না। আর কালের বিচারে এগুলো স্রেফ শয়তানের প্রলাপ-উক্তি মাত্র।
আর যারা সৌদিআরবের এইসব প্রমাণসিদ্ধ পাপের কথা শুনেও এ-কে মিথ্যা বলার অপচেষ্টা করে তারা মুসলমান নয়—এরা হয়তো সৌদিআরবের আর নয়তো পাকিস্তানের দালাল। আর এদের কিবলা সবসময় পাকিস্তান আর নয়তো সৌদিরাজবংশের দিকে। আর এরাও সবসময় সৌদিরাজপরিবারের সদস্যদের মতো ব্যভিচারপ্রিয়-অমানুষ।

সাইয়িদ রফিকুল হক
মিরপুর, ঢাকা, বাংলাদেশ।
৩০/১২/২০১৬

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

− 1 = 2