সবুজ টাউন হিসেবে পরিচিতির লক্ষ্যে উত্তরা

আধুনিক মডেল টাউন উত্তরার উন্নয়নে চলতি অর্থবছরে মোট ১২৫ কোটি টাকা ব্যয়ে উত্তরার বিভিন্ন সেক্টরের প্রায় ৪০ কিমি সড়ক, ৪৯ কিমি ফুটপাথ এবং ২০ কিমি ড্রেন নির্মাণকাজ করা হচ্ছে। ১৯৭০ এর দশকে মডেল টাউন হিসেবে উত্তরাকে গড়ে তোলার জন্য পরিকল্পনা করে সরকার। ১০ লক্ষাধিক নাগরিকের সার্বিক নাগরিক সুযোগ-সুবিধার জন্য পরিকল্পনা করেই ১৪টি সেক্টর তৈরি করা হয়। উত্তরাবাসীর প্রধান সমস্যা হচ্ছে কোন সেক্টর এমনকি বড় রাস্তার পাশেও সরকারী উদ্যোগে বিশাল এলাকাবাসীর জন্য কোন কাঁচাবাজার গড়ে তোলা হয়নি। যা এলাকাবাসীর বিশাল সমস্যার কারণ হিসেবে দেখা দিয়েছে। লাখ লাখ লোকের জন্য কোন কাঁচাবাজার তৈরি না করে পরিকল্পনা অনুযায়ী মডেল টাউন গড়ে তোলা আদৌ সম্ভব নয়। বর্তমানে এটি এলাকাবাসীর প্রধান দাবিতে পরিণত হয়েছে। ঢাকা ময়মনসিংহ সড়কের সঙ্গে বিডিআর মার্কেটই উত্তরাবাসীর একমাত্র বাজার। এছাড়া আজমপুরে রেললাইনের জমিতে অবৈধভাবে কাঁচাবাজার গড়ে উঠলেও অবৈধ হওয়ায় কিছুদিন পরপর তা উচ্ছেদ করা হয়। যা নাগরিকদের জন্য যন্ত্রণা হয়ে দাঁড়ায়। এছাড়া উত্তরা ৮নং সেক্টরের সরকারী স্টাফ কোয়ার্টারের কয়েকটি ফুটপাথ ছাড়া কোন বস্তি নেই। যা রাজধানীর অন্য যে কোন এলাকার চেয়ে ব্যতিক্রম। ২০১৫ সালের ২৮ এপ্রিল ডিএনসিসি নির্বাচনের আগে উত্তরার ১৪টি সেক্টরের মধ্যে প্রতিটি অলিগলির রাস্তাঘাট ভাঙাচোরা ও খানাখন্দ ছিল। স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করতে কষ্ট হতো। রাস্তায় নামলেই ঝাঁকুনি খেতে হতো। বর্তমানে এ অবস্থা থেকে মানুষের মুক্তি মিলেছে। ২০১৫-১৬ অর্থবছরে সংস্থাটির পক্ষ থেকে উত্তরা এলাকার রাস্তাঘাটের উন্নয়নে মোট ৬৮ কোটি টাকা ব্যয় করা হয়েছে। তবে দীর্ঘমেয়াদী সুফল পেতে রাস্তার উন্নয়নের এজন্য ডিএনসিসি কর্তৃপক্ষ বাধ্য হয়ে কয়েকশ গাছ কাটতে হয়েছে। পরে সুন্দর রাস্তা তৈরি করার কারণে এলাকাবাসীর ক্ষোভ প্রশমিত হয়েছে। উত্তরাকে মডেল টাউন শুধু নামেই নয় কাজের মাধ্যমে রাজধানীর প্রকৃত মডেল টাউন হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ করা হচ্ছে। এ লক্ষ্যে উত্তরাবাসীর সুবিধার্থে কোটি কোটি টাকার উন্নয়ন কাজ করা হচ্ছে। এমন কোন গলি নেই যেখানে উন্নয়নের ছোঁয়া পড়েনি। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিততি রাজধানীর যে কোন স্থানের চেয়ে ভাল। যার ফলাফল নাগরিকগণ সরাসরি ভোগ করছেন। এছাড়া নাগরিকদের চলাচলের সুবিধার্থে ১৫ কিমি ফুটপাথ নির্মাণ করা হয়েছে। গ্রীন সিটি হিসেবে ঢাকাকে গড়তে সমগ্র উত্তরা এলাকাকে সবুজায়নের অংশ হিসেবে ডিএনসিসি কর্তৃপক্ষ রাস্তার ধারে ও ফাঁকা স্থানে প্রায় ৩২ হাজার গাছ লাগানো হয়েছে। রাস্তার ধারে বা আর কোন ফাঁকা স্থান নেই যেখানে গাছ লাগানো হয়নি। এসব গাছ বড় হলে পুরো উত্তরা এলাকার চেহারাই পাল্টে যাবে। পুরো উত্তরা সবুজ টাউন হিসেবে পরিচিতি পাবে।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

+ 31 = 32