আন্ডারস্ট্যান্ডিং মুহাম্মদ, মূল – আলি সিনা , ভাষান্তর-দুরের পাখি ; পর্ব-১৯

এই ঘটনা মোহাম্মদের বহুবিবাহের পিছনে যেসব মডারেট যুক্তি দেয়া হয় তার সবগুলোকে খন্ডন করে । সে এবং তার দলবল মিলে বিনা উসকানির যুদ্ধে জুবাইয়ারার স্বামীকে হত্যা করে । সে ছিলো বানু মুসতালিকের গোত্র-প্রধানের মেয়ে ও রাজকন্যা । তাকে দাসীবৃত্তিতে বাধ্য করানো হয় । সে মোহাম্মদের লুটেরা দলের একজনের ভাগে পড়ে । কিন্তু তার সৌন্দর্য্যে মোহিত হয়ে মোহাম্মদ তাকে “মুক্ত করে” এই শর্তে যে সে তাকে বিয়ে করবে । এটা কি আসলেই মুক্ত করা ? তার কি অন্য কোন উপায় ছিলো ? এছাড়া যদিও মোহাম্মদ তাকে সত্যি সত্যিই মুক্ত করতো তাহলেই বা তার যাওয়ার কি কোন জায়গা ছিলো ?

মুসলিম এপোলোজিস্টরা দাবী করে মোহাম্মদের বেশিরভাগ স্ত্রীই ছিলো বিধবা মহিলা। ফলে অনেকেই মনে করতে পারে মোহাম্মদ দয়াপরবশ হয়ে তাদের বিয়ে করেছিলো । এপোলোজিস্টরা যেটা লুকিয়ে যায় তা হচ্ছে, এইসব ‘বিধবারা’ ছিলো যুবতী ও সুন্দরী । আর মোহাম্মদ তাদের স্বামীদের হত্যা করার কারণেই তারা বিধবা হয়েছিলো । মোহাম্মদের বয়স যখন ৫৮ বছর তখন জুবাইরার তখন ২০ বছর । ইসলামের ইতিহাসবিদরা স্বীকার করে নিয়েছে যে মোহাম্মদ সুন্দরী, যুবতী ও নিঃসন্তান মহিলা ছাড়া বিয়ে করতো না । একমাত্র ব্যাতিক্রম ছিলো সাওদা (অবশ্যই খাদিজাকে বাদ দিয়ে), যাকে মোহাম্মদ বিয়ে করেছিলো তার ছেলেমেয়েদের দেখাশোনা করার জন্য । একটা হাদিসে পাওয়া যায় যখন থেকে সে সুন্দরী অল্পবয়স্কা মেয়েদের বিয়ে করা শুরু করে তখন থেকে সে আর সাওদার সাথে থাকতো না । (টীকা ৫৪) । তার সব স্ত্রীরা ছিলো টিন বয়সের অথবা প্রথম বিশের, যখন তার নিজের বয়স ছিলো পঞ্চাশ, ষাটের ঘরে । ঐতিহাসিক তাবারি (টীকা-৫৫) বর্ণনা করেন মোহাম্মদ তার চাচাতো বোন হিন্দ বিনতে আবু-তালিবকে বিয়ের প্রস্তাব দিয়েছিলো, কিন্তু যখন জানতে পারে তার আগের ঘরের এক সন্তান আছে তখন সে প্রস্তাব ফিরিয়ে নেয় । আরেকজন ছিলো জিয়া বিনতে আমির । মোহাম্মদ কারো একজনের মাধ্যমে তাকে বিয়ের প্রস্তাব পাঠায় । সে গ্রহণো করে কিন্তু যখন মোহাম্মদকে তার বয়সের কথা বলা হয় তখন সে তার মত পাল্টে ফেলে । (টীকা -৫৬)

জারির ইবনে আবদুল্লাহ থেকে বর্ণীত আছে, মোহাম্মদ একবার তাকে জিজ্ঞেস করে, “বিয়ে করেছ?” সে হ্যাঁ সূচক জবাব দেয়ার পরে মোহাম্মদ প্রশ্ন করে, “কুমারী নাকি পূর্ববিবাহিত?” সে উত্তর দেয়, “পূর্বে বিবাহিত ।” তখন মোহাম্মদ বলে, “একটা কুমারী বিয়ে করলেই পারতে, তাহলে সে আর তুমি একে অপরের সাথে খেলা করতে পারতে ।” (টীকা-৫৭)

আল্লাহর নবী দাবীকারী এই ব্যাক্তির কাছে নারী ছিলো কেবলি খেলার সামগ্রী । গবাদিপশুর চাইতে খুব বেশি অধিকার তাদের জন্য বরাদ্দ ছিলো না । তাদের কাজ ছিলো স্বামীদের আনন্দ দেয়া আর তাদের জন্য সন্তান জন্ম দেয়া ।

ধর্ষণ

ডাকাতির সময় বন্দীকরা নারীদের ধর্ষণের অনুমতি দিয়েছিলো মোহাম্মদ তার অনুসারীদের । কিন্তু , এক্ষেত্রে তারা দ্বন্দে পড়ে যায় । তারা বন্দিনীদের সাথে যৌনমিলন ও করতে চায় আবার মুক্তিপণের টাকাও চায় । কিন্তু যৌনমিলনে বন্দিনীরা গর্ভবতী হয়ে পড়লে দাসী বাজারে তাদের দাম কমে যাবে । আবার কিছু কিছু বন্দিনীর স্বামী মোহাম্মদের আক্রমণ থেকে পালাতে সক্ষম হয়েছিলো, তারা যদি পরে মুক্তিপণ দিয়ে তাদের মুক্ত করতে আসে তখন গর্ভবতী অবস্থা হলে তার হয়তো মুক্তিপণ দিতে চাইবে না এই ভয়ও ছিলো । ডাকাতের দল তখন বীর্যপাতপূর্বউত্তোলন কথা ভাবছিলো । পরামর্শের জন্য তারা মোহাম্মদের কাছে যায় । বুখারির বর্ণনায় পাওয়া যায়

“ আবু সাইদ বর্ণনা করে, ‘আল্লার রাসূলের সাথে আমরা বানু মুসতালিখ এর যুদ্ধে যাই । যুদ্ধে অনেক আরব নারী আমাদের হাতে বন্দী হয় । আমরা চাচ্ছিলাম তাদের সাথে যৌনমিলন করতে । ধৈর্য্য ধরে রাখা বেশ কষ্টকর হয়ে পড়ছিলো । আমরা বীর্যপাতপূর্বউত্তোলনের কথাও ভাবছিলাম । একাজ করার আগে আমরা ভাবলাম , একবার রাসূলকে জিজ্ঞাসা করা দরকার । তার কাছে গেলে তিনি বললেন, ‘এটা না করাই ভালো হবে তোমাদের জন্য, কারণ যাদের জন্ম নেয়া ভাগ্যে আছে তারা জন্ম নিবেই’ ।” (টীকা-৫৮)

এখানে লক্ষনীয় যে মোহাম্মদ যুদ্ধবন্দিনীদের ধর্ষণে কোন বাধা দেয়নি । সে বরং বলে যে আল্লাহ যখন কোন মানুষ সৃষ্টি করতে চান তখন সেটা ঠেকানোর ক্ষমতা কারো নাই । অন্য কথায় বীর্য ছাড়াও সেটা সম্ভব । তাই মোহাম্মদ তার অনুসারীদের বলে যে বীর্যপাতপূর্বউত্তোলন করে গর্ভধারণ ঠেকানোর চেষ্টা করা হবে আল্লাহর পরিকল্পণাতে বাধা দেয়ার বৃথা চেষ্টার শামিল । যুদ্ধবন্দিনীদের সাথে জোরপূর্বক সংগমের বিরুদ্ধে মোহাম্মদ একটা শব্দও উচ্চারণ করেনি । আদতে বীর্যপাতপূর্বউত্তোলনের সমালোচনার মাধ্যমে সে বরং যুদ্ধবন্দিনীদের জোরপূর্বক গর্ভধারণে বাধ্য করার অনুমতি দিলো ঘুরিয়ে ।

কোরানে মোহাম্মদের খোদা দাসীর সাথে সঙ্গমকে বৈধতা দিয়েছে, তথাকথিত , “তোমাদের ডান হাত যাদের ধরে রেখেছে” বলে । এমনকি দাস হওয়ার আগে তারা যদি বিবাহিত থাকে তার পরও । (টীকা-৫৯)

শারিরীক নির্যাতন

ইবনে ইসহাক ইহুদি নগরী খাইবারে মোহাম্মদের হামলার বিবরনে লিখেন মোহাম্মদ এই দূর্গ নগরীতে আচমকা হামলা করে পলায়নরত নিরস্ত্র অধিবাসীদের হত্যা করে । বন্দীদের মধ্যে কিনানা নামে এক লোক ছিলো ।

“ কিনানা আল রাবী নামে এক ছিলো বানু নাদিরের কোষাগার রক্ষক । রাসূলের কাছে তাকে আনা হলে তিনি তাকে তাদের লুকানো সম্পদের ব্যাপারে জিজ্ঞেস করেন । সে বলে যে সে জানেনা । এক ইহুদি এসে বললো সে প্রতিদিন খুব ভোরে কিনানাকে একটা পোড়োবাড়ীতে যেতে দেখতো । রাসূল যখন কিনানাকে বললেন , আমরা যদি ঐখানে সম্পদ পাই তাহলে কিন্তু তোকে খুন করবো, বুঝছিস ? সে বললো হ্যাঁ , বুঝেছি । রাসূল তখন ঐ পোড়োবাড়ীতে খননের নির্দেশ দিলেন । সেখান থেকে কিছু পরিমাণ সম্পদ পাওয়া যায় । কিনানাকে বাকী সম্পদের ব্যাপারে জিজ্ঞেস করা হলে সে বলতে অস্বীকার করে । রাসূল তখন আল জুবাইর আল আওয়াম কে নির্দেশ করেন তাকে টর্চার করার জন্য, যতক্ষণ না তার কাছ থেকে সম্পদের লুকানো জায়গা বের করা যায় ততক্ষন পর্যন্ত । জুবাইর তখন চকমকি পাথর আর ইস্পাত দিয়ে কিনানার বুকের উপর আগুন ধরিয়ে দিয়ে । সে প্রায় মরে যাচ্ছিলো । রাসূল তাকে নিয়ে মোহাম্মদ বিন মাসালামার হাতে তুলে দেন, যে তার ঘাড় থেকে মাথা ফেলে দেয় । তার ভাই মাহমুদের মৃত্যুর প্রতিশোধ হিসাবে । (টীকা-৬০)
************************************************************
টীকা-৫৩ > ফেইথফ্রিডম ডট অর্গে মোহাম্মদের স্ত্রীদের বিষয়ে লেখাতে বিস্তারিত পাওয়া যাবে ।
টীকা -৫৪ > বুখারি , ভলিউম ৩ , বুক ৪৭, হাদীস নং ৭৬৬
টীকা-৫৫ > তারিখ আল তাবারি এবং তাফসির আল তাবারির লেখক । প্রাথমিক যুগের বিখ্যাত পারসিয়ান বংশোদ্ভুত ইসলামি ঐতিহাসিক ।
টীকা -৫৬ > পার্সিয়ান তাবারি , ভলিউম ৪, পৃষ্টা ১২৯৮
টীকা -৫৭ > বুখারি , ভলিউম ৩, বুক ৩৪, হাদীস নং ৩১০
টীকা -৫৮ > বুখারি , ভলিউম ৫, বুক ৫৯, হাদীস নং ৪৫৯ যুদ্ধবন্দী ও দাসীদের সাথে সংগমের অনুমতি দেয়া নিয়ে আরো অনেক সহিহ হাদীস আছে । যেমন বুখারি ৩-৩৪-৪৩২ । আরো আছে সহিহ মুসলিম এবং সুনান আবু দাউদ এ ।
বুখারি ৩-৪৬-৭১৮, ৫-৫৯-৫৪৯, ৭-৬২-১৩৫ আরো আরো ।
টীকা -৫৯ > কোরান ৪-২৪, ৩৩-৫০, ৪-৩
টীকা -৬০ > সিরাত রাসুল আল্লাহ , ইবনে ইসহাক পৃষ্টা ৫১৫

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

২ thoughts on “আন্ডারস্ট্যান্ডিং মুহাম্মদ, মূল – আলি সিনা , ভাষান্তর-দুরের পাখি ; পর্ব-১৯

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

39 − = 36