ইন্টারনেটকে বোরখা পড়ানোর শরীয়ত সম্মত সহীহ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ফলাফল !

এবার যুব সমাজের অবক্ষয় রোধে পর্ন সাইট বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বাংলাদেশের ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রনালয়। ইন্টারনেট ট্রাফিক ব্যবহার করে সাইটগুলোতে বাংলাদেশ থেকে এক্সেস বন্ধ করা হবে। এর আওতায় পড়বে প্রায় সাড়ে পাচশো পর্যন্ত সাইট যার তালিকা করা হয়েছে ইতিমধ্যে। জানা গেছে তালিকাভুক্ত সাইটগুলোর মধ্যে দেশের অভ্যান্তরে পরিচালিত সাইটও আছে অনেক। যাহোক ব্যাপারটা অনেকটাই এরকম যে দর্শকদের রুখতে ইন্টারনেট কেও শরীয়ত সম্মত সহীহ উপায়ে বোরখা পড়ানো হচ্ছে ঠিক যেমনটা বলা হয় বাইরে বের হলে পুরুষের নজর এড়াতে কিংবা ধর্ষণ রুখতে নারীর বোরখা পড়তে হবে। কিন্তু এর ফলাফল কতটা সুদূরপ্রসারী হবে তা হয়তো বোঝার ক্ষমতা কতৃপক্ষের এখনো হয় নি। অবশ্য না বোঝাটাই স্বাভাবিক , কারণ পুরুষের চোখকে সংযত রাখতে ইসলামিক দেশগুলো যখন নারীকেই বস্তাবন্দি করতে চায় , তখন এই ব্যাপারেও মানসিকতার প্রভাব তারা বুঝবে না। চলুন আজ এই ইন্টারনেট কে বোরখা পড়ানোর ব্যাপারে কিছু খোলামেলা আলোচনা করা যাক।

ইন্টারনেট কে বোরখা পড়ানোর প্রচেষ্টা বাংলাদেশে এই প্রথম নয়। এর আগেও সময়ে অসময়ে ফেসবুক হোয়াটসএ্যাপ ভাইবারের মতো ইন্টারনেটভিত্তিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর এক্সেস বন্ধ করে সরকার সময়ে অসময়ে বহুবার চেষ্টা করেছে ইন্টারনেট কে জোরপূর্বক বোরখা পড়ানোর। তবে সাময়িকের জন্য সক্ষম হলেও পরবর্তীতে আবার ইন্টারনেট সব বাধা ভেঙে ফিরে এসেছে তার আগের মুক্ত রূপে। এবার প্রচেষ্টা পর্ন সাইট বন্ধের মাধ্যমে ইন্টারনেটকে শরীয়ত সম্মত পবিত্র রূপ দান। হ্যা পর্নোগ্রাফিক বিষয়বস্তু কিংবা পর্নবিরোধী হওয়াটা মোটেই খারাপ কিছু না বরং অনেক উন্নত চিন্তা । আমি নিজে পর্নোগ্রাফির বিরুদ্ধে যথা সম্ভব কাজ করে যাচ্ছি যার উদাহরণ দেখা যায় পর্নোগ্রাফিক নিষ্ঠুরতার বিভিন্ন পর্বে। কিন্তু তার মানে এই নয় যে মানুষের চোখে কাপড় বেধে পর্নদেখা বন্ধ করাতে হবে কিংবা যাতে দেখতে না পারে তাই ইন্টারনেট কেই বোরখা পড়াতে হবে। ব্যাপারটা আরেকটু ভালোভাবে বুঝতে কিছু জিনিস আর একটু পরিষ্কার করে আলোচনা করি।

ইন্টারনেটে বর্তমানে কোটি কোটি সাইট আছে যার মধ্যে আছে বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সাইট , ইডুকেশনাল সাইট কিংবা আরও অনেক। এখন এর মধ্যে এমন অনেক সাইট আছে যেগুলোতে মানুষ মোটেই এক্সেস করছে না। কারণ হয়তো ওই সাইটগুলোতে মানুষ ইন্টারেস্ট খুজে পাচ্ছে না। কিন্তু পর্ন সাইটে ভিউয়ারের অভাব নেই। কারণ তাদের একটি বিশাল ইন্টারেস্ট কাজ করে পর্নগ্রাফির উপর। তাদের মানসিকতাটাই এমনভাবে গড়ে ওঠেছে যে তাদের কাছে এই পর্নোগ্রাফির আড়েলের ঘটনা কিছু না , সবই আনন্দ। তারা ব্যপকভাবে এডিক্টেড এই পর্নোগ্রাফি দিয়ে। ইন্টারনেটে প্রতিদিন লক্ষ লক্ষ টাকা ব্যয় হয় এসব ভিডিও ডাউনলোডের জন্য। তো এখন তাদের যদি এগুলো দেখা বন্ধ করাতে চান তাহলে আপনার উচিত কী তাদের চোখে কাপড় বেধে দেয়া কিংবা ইন্টারনেটের বিভিন্ন সাইট এক্সেস বন্ধ করে দেয়া নাকি তাদের মানসিকতা পরিবর্তনের জন্য সচেতনতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা। আপনি যদি তার চোখে কাপড় বেধে দেন কিংবা সাইট এ্যাক্সেস কেড়ে নেন তো ফলাফল কী হবে জানেন ? নিচের ছবিটি লক্ষ্য করুন ।

পর্ন সাইট বন্ধের কথা উঠতে না উঠতেই একদল ওয়েব ব্রাউজার কম্পানি মানুষের হাতে স্পন্সর করে তুলে দিচ্ছে ট্রাফিকলেস এ্যাপ যার মাধ্যমে মানুষ সহজেই এসব ব্রাইজার ব্যবহার করে ব্লককৃত সাইটগুলোতে এক্সেস করতে পারবে। তাহলে ইন্টারনেট কে বোড়খা পড়িয়ে কি লাভ হচ্ছে , একদল মানুষ দিব্যি তাদের ব্যবসা বাড়াচ্ছে। তাছাড়া প্রযুক্তির অগ্রগতিতে বর্তমানে বাংলাদেশে কোন সাইট এক্সেস ব্লক করা হলে মুহুর্তই প্রক্সি সার্ভার ব্যবহার করে এসব সাইটে পুনরায় এক্সেস করছে। আর ব্যবসায়ী পর্ন সাইটের মালিকরাও যে করেই হোক যতদিন চাহিদা থাকবে ততদিন তাদের কাছে এক্সেস পৌছে দিবেই । কিন্তু এবার একটু ভাবুন যে যদি পর্ন সাইটের প্রতি মানুষের ইন্টারেস্টই না থাকে কিংবা সাইটগুলো গ্রাহকই খুজে না পায় তবে কিন্তু একসময় তারা নিজেরাই সাইটগুলো বন্ধ করতে বাধ্য হবে। তাছাড়া বিদেশী যে সকল সাইট আছে তার বেশীরভাগই চলে পর্ন ইন্ড্রাস্টির ভিডিও গুলো দিয়ে । তাই চাইলেও কেও তাদের ব্যবসার সাইটগুলো একেবারে বন্ধ করাতে পারবে না, বড় জোর সাইট এক্সেস একটি নির্দিষ্ট এরিয়া থেকে বন্ধ করাতে পারবে।

তাই ইন্টারনেটকে বোড়খা পড়িয়ে কোন স্থায়ী সমাধান পাওয়া যাবে না। স্থায়ী সমাধানের একমাত্র উপায় হলো গ্রাহকের ইচ্ছাকে পরিবর্তন করা , মানসিকতার পরিবর্তন ঘটানো। পর্ন আসক্ত বেশীরভাগ মানুষই কিন্তু জানে না এই পর্নোগ্রাফির আড়ালে লুকিয়ে থাকা কাহিনী কিংবা তাদের এই আনন্দের বলি হয়ে কতো মানুষের জীবন নরকে পরিণত হচ্ছে। যেমন পর্নোগ্রাফিক নিষ্ঠুরতার গত পর্বে একজন সাবেক পর্ন তারকা যে তার নিজের জীবনী পরবর্তীতে স্বীকার করেছে “স্টোরি বিহাইন্ড ফ্যান্টাসি অফ পর্ন” নামক একটি বইয়ের মাধ্যমে সে সম্পর্কে বলেছিলাম। এমনও আরও হাজারটা করুণ বাস্তবতা আছে যা পর্নগ্রাফিতে আকৃষ্ট মানুষ গুলোকে জানানো গেলে তাদের আসক্তি কমে আসবে।

আর বাংলাদেশের অভ্যন্তরে পরিচালিত যেসব সাইট আছে সেখানকার বেশীরভাগ ভিডিও থাকে নানাভাবে লিক করা ভিডিও যা হরহামেশাই একদল মানুষের জীবনে বয়ে আনে সর্বনাশের আগুন। এখন এসব সাইট এক্সেস ব্লক করলেই কি কাজ গুলো থেমে যাবে? বাঙালি যৌনতা নিয়ে কতোটা সৌখিন তা চটি নামক বিভিন্ন যৌন উত্তেজক পোষ্টে লক্ষ্য করলেই বোঝা যায়। সুতরাং এই যৌনপ্রেমী বাঙালিকে সাইট ব্লক করে আটকে রাখা কখনই সম্ভব হবে না। এগুলো বন্ধ করতে প্রথমেই ওই সাইটের এডমিনদের আইনের আওতায় আনতে হবে। যাদের ভিডিও গুলি লিক করে ভাইরাল করা হচ্ছে তাদের সাক্ষ্য আমলে নিয়ে সুষ্ঠ বিচার করতে হবে। টাকা খেয়ে জামিনে সবাইকে ছেড়ে দিলে কি আর ক্রাইম কমবে ! তাছাড়া পাবলিকের ইন্টারেস্ট না কমলে কোনভাবেই পর্ন সাইট বন্ধ রেখে কোন সুফল পাওয়া যাবে না। একটি সাইট বন্ধ হলে চাহিদা মেটাতে আরেকটা তৈরি হবে।

একটা ব্যাপার আমরা কখনেই মানতে রাজি না যে আমরা প্রত্যেকে প্রত্যেকের নিজ নিজ মানসিকতার উন্নয়ণ ঘটাতে পারলে পৃথিবীর অন্য কিছুই কখনোই বস্তাবন্দী করতে হবে না। না নারীকে আর না ইন্টারনেটকে। আর মানসিকতা বদলাতে না পারলে পুরো পৃথিবীকেও বস্তাবন্দি করলেও কাজ হবে না।

সরকারের উচিত পর্নোগ্রাফির প্রতি মানুষকে অনাকৃষ্ট করতে ব্যবস্থা গ্রহণ করা। শিক্ষার্থীদের হাতে অন্ধবিশ্বাস আর জঙ্গি তৈরির বই আবশ্যক পাঠ্য বিষয় না করে আমাদের মতো দুই একজন সস্তার ব্লগারের সস্তার পর্নবিরোধী লিখাও আবশ্যক করা উচিত। তাহলে অন্তত মূল সমস্যাটার একটু সমাধান হবে।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

১ thought on “ইন্টারনেটকে বোরখা পড়ানোর শরীয়ত সম্মত সহীহ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ফলাফল !

  1. অসাধারণ লিখেছেন।
    অসাধারণ লিখেছেন।

    ভাল লাগল আপনার লেখা পড়ে।আমার মনে হচ্ছে সরকার ধর্ম ব্যবসায় নেমেছ।তাই তো তেতুলতত্ত্ববিদদের আখের গোজানের জন্য পর্ণো সাইট বন্ধে নেমেছে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

+ 37 = 41