একটা মুক্ত উদার গনতান্ত্রিক রাষ্টে বসবাস করার মতো যোগ্যতা এখনও মুসলমানদের হয়নি

গনতন্ত্র নিয়মটা মুসলমানদের জন্য কখনো প্রজোয্য নয়। একটা গনতান্ত্রিক রাষ্ট্রে বসবাস করার যোগ্যতা এখনো মুসলমানদের হয়ে উঠেনি। মুসলমানরা একটা গনতান্ত্রিক রাষ্ট্রে মানুষের মৌলিক অধিকার না চেয়ে, আগে তারা ধর্মীয় অধিকার চেয়ে বসে। একটা কথা খেয়াল রাখা দরকার যে, মানুষের জন্য ধর্ম, ধর্মের জন্য মানুষ নয়। কিন্তু মুসলমানরা ভাবে ইসলামের জন্য মুসলমান, মুসলমানের জন্য ইসলাম নয়। আজ মুসলমানরা ইউরোপের বিভিন্ন দেশগুলোর গনতন্ত্রের সুযোগ নিয়ে নিজেদের ধর্মীয় অধিকার পাওয়ার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে। অথচ পৃথিবীর সংখ্যাগুরু মুসলিম দেশগুলোতে মুসলমানদের অত্যাচারে অমুসলিমরা অতিষ্ঠ আজ। সেখানে অমুসলিমদের ধর্মীয় অধিকার তো দুরের কথা, তাদের নুন্যতম মানবাধিকার পর্যন্ত নেই।

মুসলমানরা তাদের ধর্মকে নিজেদের অন্তরে রাখতে চান না। তারা তাদের ধর্মকে বাড়ির উঠান পেরিয়ে, মেটো পথ মাড়িয়ে, পিচঢালা রাস্তাতে বের হয়ে, দেশের একেকটি শহরে আধিপত্য বিস্তার করতে চায়! শুধু তা নয়, রাষ্ট্রে পর্যন্ত তার অধিকার প্রতিষ্ঠিত করতে (যেমন, -বাংলাদেশ পাকিস্তানের রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম) চায়। ইসলামের বরাত দিয়ে তাদের দেশগুলোতে শরীয়া আইন চায়। এই পর্যন্ত পৃথিবীর কোনো সংখ্যাগরিষ্ট মুসলমান রাষ্টে ইসলামতন্ত্রকে বাদ দিয়ে গনতন্ত্রকে অগ্রাধিকার দেয়া হয়েছে এমনটা শুনা যায়নি। হ্যাঁ বাংলাদেশ পাকিস্তান আফগানিস্তান দেশগুলো নামমাত্র গনতন্ত্র। কিন্তু চলে ইসলামতন্ত্রে। মুসলমানকে খুশি করার জন্য দেশগুলোতে একেকটি প্রগতিশীল বিরোধী আইন করা হয়।

আমি কেন বললাম মুসলমানরা গনতান্ত্রিক রাষ্টের বাসিন্দা হবার জন্য এখনো যোগ্য নয়? হ্যাঁ কথাটা ঠিক বলেছি। মুসলমানদের শিক্ষা দিতে প্রয়োজন চীন, রাশিয়া, কিউবা, উত্তর কোরিয়ার মতো কড়া সমাজতান্ত্রিক রাষ্টের নীতি। যেখানে ঘটা করে ধর্ম পালনের কোনো সুযোগ নেই। যেখানে কাজ ফাঁকি দিয়ে নামাজ আদায়ের নামে ভন্ডামী করার সুযোগ নেই। যেখানে ধর্মীয় ওয়াজ মাহফিলের নামে শব্দ দুষন করার অধিকার নেই। যদিও চীন, রাশিয়া, উত্তর কোরিয়া, কিউবা চলছে এখন নায়কতন্ত্রে।

প্রথম তিউনেশিয়ার হাত ধরে আরব বসন্তের নামে যে মুসলমানদের গনজাগরন শুরু হয়েছিল। আমরা ভেবে ছিলাম এই বুঝি ধর্মান্ধ মুসলমানদের বোধোদয় হল। এই বুঝি মুসলমানরা একনায়কতন্ত্রের আবদ্ধ শৃঙ্খলকে ভেংগে দিয়ে উদার গনতান্ত্রিক রাষ্টের জন্য জেগে উঠছে। লিবিয়ার চার দশকের শাসক একনায়কতন্ত্র গাদ্দাফিকে যখন সেদেশের বিদ্রোহী মুসলমানরা উৎখাত করার জন্য সশস্ত্র সংগ্রামে যোগ দেয়, তখনো ভেবে ছিলাম, এবার লিবিয়ার মানুষ বুঝি মুক্ত গনতন্ত্রের মুখ দেখবে। মুক্ত উদারনীতির গনতন্ত্রে বিচরন করবে। আমাদের ভ্রম হল তখনি, যখন দেখি এই আরব বসন্ত ইরাক-সিরিয়াতে হানা দিয়েছে। এই সময়ে এসে দেখি মুসলমানরা আদৌ গনতন্ত্রের জন্য লড়ছে না, লড়ছে ইসলামি খিলাফত প্রতিষ্টা করার জন্য! লড়ছে ইসলামি শরীয়া আইন প্রতিষ্টা করার জন্য! যেখানে থাকবে ১৪০০ বছরের পুরোনো মধ্য যুগীয় অন্ধকার যতসব মুহম্মদবাদীয় নিয়ম-কানুন। তা তো আমরা আইএস, বোকো হারামদের ইসলামিক বর্বর অমানবিক নীতি দেখে বুঝেছি। আইসিসের যৌদ্ধারা (Islamic state of iraq-syria.=isis) কিনা করল। এই বিগত কয়েক বছরে ইরাক-সিরিয়ার একেকটি শহরগুলো দখল করে সেখানে ইসলামি আইন জারি করল। যেমন খুশি তেমন হত্যাযজ্ঞ চালাল। জবাই করল, জিহাদের নামে গনহত্যা চালাল। মেয়েদের যৌনদাসী বানিয়ে বাজারে বিক্রি করল। অমুসলিমদের যেখানে পেল শিরোচ্ছেদ করল। এটা মোটেও মুক্তির আরব বসন্ত নয়। এটা হতে পারে মুসলমানদের ইসলামিয় বর্বর বসন্ত! যে বসন্তে গনতন্ত্রের ‘গ’ ও নেই। মুসলামানরা এক অন্ধকারকে কাটিয়ে আরেক ঘোর অন্ধকারে আরব দেশগুলোকে পতিত করেছে। এরচেয়ে মুসলমানদের জন্য একনায়কতন্ত্র স্বৈরাচার শাসক সাদ্দাম-গাবদ্দাফিরা খুব উপযুক্ত শাসক ছিলেন।

–মুসলমানদের জন্য কিসের গনতন্ত্র? এই ধর্মান্ধ বর্বর মুসলমানদের গনতান্ত্রিক রাষ্ট্রে বসবাস করার যোগ্যতা আছে কি? মুসলমান দেশগুলোতে দীর্ঘকাল ধরে চীনের মতো কট্টর নাস্তিক দেশের নিয়মনীতি থাকা দরকার। যেখানে গলা উঁচিয়ে আল্লাহু আকবর বলারও সুযোগ নেই। যেখানে ধর্মীয় সহিংসতা করা তো দুরের কথা, মুমিনদের সুন্নতের আশায় দাঁড়ি রেখে মুহম্মদের মতো রাম ছাগল হবারও সু্যোগ নেই। যেখানে বস্তাবন্দী বোরকা পরে আঁততায়ী হবারও সু্যোগ নেই। যেখানে মুসলমানরা গনতান্ত্রিক রাষ্ট্রে বসবাস করার এখনো নুন্যতম যোগ্যতা অর্জন করেনি, সেখানে মুসলমানদের গনতান্ত্রিক অধিকার মানে বাতুলতা। কথাই আছে না, কুকুরের পেটে ঘি হজম হয়না!

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

২ thoughts on “একটা মুক্ত উদার গনতান্ত্রিক রাষ্টে বসবাস করার মতো যোগ্যতা এখনও মুসলমানদের হয়নি

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

3 + 3 =