আন্ডারস্ট্যান্ডিং মুহাম্মদ, মূল – আলি সিনা , ভাষান্তর-দুরের পাখি ; পর্ব-২০

যেদিন মোহাম্মদ কিনানা নামের তরুনকে নির্যাতন করে হত্যা করে সেদিন সে তার সতের বছর বয়েসী স্ত্রী সাফিয়াকে তার তাঁবুতে নিয়ে যায় সংগমের জন্য । দুই বছর আগে সে সাফিয়ার বাবা এবং তার গোত্র বানু কুরাইযার সব প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষকে হত্যা করেছেলো । ইবনে ইসহাক লিখেন

“রাসূল একের পর এক ইহুদি দূর্গে হামলা চালান । চলতে চলতে প্রচুর লোককে বন্দী করেন । এদের মধ্যে ছিলো সাফিয়া, কিনানার স্ত্রী, খাইবারের গোত্রপ্রধান, এবং দুই চাচাতো বোন । রাসূল তার নিজের জন্য সাফিয়াকে রাখেন । অন্য বন্দীদেরকে মুসলিমদের মধ্যে ভাগ করে দেয়া হয় । বিলাল কয়েকজন ইহুদির লাশ মাড়িয়ে সাফিয়াকে রাসূলের কাছে নিয়ে আসে । সাফিয়ার সংগিনীরা বিলাপ করছিলো ও নিজেদের মাথায় ধূলা মাখছিলো । আল্লাহর রাসূল এই দৃশ্য দেখে বলেন, এইসব ডাইনীদের এখান থেকে নিয়ে যাও , কিন্তু তিনি সাফিয়াকে থাকতে বলেন এবং তার জুব্বা সাফিয়ার শরীরে ছুড়ে মারেন । এতে করে মুসলিমরা বুঝতে পারে ওকে রাসূল নিজের জন্য রেখেছেন । রাসূল বিল্লালকে মৃদু ভর্ৎসনা করেন এই বলে যে, ‘তোমার দিলে কি দয়ামায়া নাই, যে নারীদের তার স্বামীদের লাশ মাড়িয়ে নিয়ে আসছো’? “

বুখারিতেও মোহাম্মদের খাইবার আক্রমণ ও সাফিয়া ধর্ষণ বিষয়ে কিছু হাদিস আছে ।

“আনাস হতে বর্ণীত, ‘আল্লাহর রাসূল যেদিন খাইবার আক্রমণ করেন সেদিন আমরা অন্ধকার থাকতে থাকতেই ফযর নামায আদায় করি । নবী এবং আবু তালহা ঘোড়ায় সওয়ারী হন । আমি ছিলাম আবু তালহার পিছনে । নবী শহরের গলিগুলো খুব দ্রুতি অতিক্রম করার ফলে আমার হাঁটু তার উরুতে গিয়ে লাগছিলো । তিনি তার উরু উম্মুক্ত করলে আমি তার উরুর সাদা চামড়া দেখতে পাই । শহরে ঢুকে তিনি বলেন, ‘আল্লাহু আকবার, খায়বার ধ্বংসপ্রাপ্ত , যখনি আমরা কোন একটা জাতির দিকে অগ্রসর হই ভোর সে জাতির জন্য দুর্ভাগ্য নিয়ে আসে যাদের সাবধান করা হয়েছিলো তাদের জন্য’ । নবী এই কথা তিনবার বলেন । শহরের লোকেরা কাজে যাবার জন্য বের হয়ে আসছিলো । তাদের মধ্যে কেউ কেউ বলাবলি করছিলো মোহাম্মদ তার দলবল নিয়ে হাজির হয়েছে । আমরা খায়বার জয় করি, দাস-দাসী সংগ্রহ করি ও গনিমতের মাল নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নিই ।

দিয়া নামের এক লোক নবীর কাছে বললো, হে রাসূল বন্দীদের মধ্যে থেকে আমাকে একজন দাসী দিন । নবী বললেন, যাকে পছন্দ হয় নিয়ে যাও । সে সাফিয়া বিনতে হুয়াই কে নিয়ে যায় । এক লোক নবীর কাছে এসে বললো , আপনি সাফিয়া বিনতে হুয়াইকে দিয়াকে দিয়েছেন অথচ সে ছিলো বানু নাদীর এবং কুরাইযার প্রধান বেগম । তার জন্য আপনি ছাড়া কাউকে মানায় না । নবী বললেন ওদের আমার কাছে নিয়ে আসো । দিয়া ও সাফিয়া আসলে নবী সাফিয়াকে দেখে দিয়াকে বললেন ওকে ছাড়া অন্য যেকোন একজনকে পছন্দ করে নিয়ে যাও । নবী তখন সাফিয়াকে মুক্ত করে তাকে বিয়ে করেন ।

ছাবিত আনাসকে জিজ্ঞেস করেছিলো, ‘ওহে আবু হামজা নবী দেনমোহর কি দিয়েছিলেন এই বিয়েতে ? সে বলে, তার নিজের দামই ছিলো দেনমোহর , কারণ নবী তাকে মুক্ত করে তারপর বিয়ে করেন । আনাস আরো যোগ করেন, পথে উম্ম সুলাইম সাফিয়াকে বিয়ের সাজে সাজান ও রাতে নবীর ঘরে বধূ করে পাঠিয়ে দেন । “ (টীকা -৬১ )

আনাস থেকে বর্ণীত আরো একটা হাদিস আছে, এক আরব গোত্রের আটজন মানুষ মোহাম্মদের কাছে এসেছিলো কিন্তু মদীনার আবহাওয়াতে তারা মানিয়ে নিতে পারছিলো না । মোহাম্মদ তাদের উটের মূত্র পান করার নির্দেশ দিয়ে মদীনার শহরের বাইরে তার উটের রাখালের কাছে পাঠিয়ে দেয় । ঐ লোকেরা রাখালকে খুন করে উট নিয়ে পালিয়ে যায় । মোহাম্মদ এই খবর শুনে কিছু লোককে পাঠায় ওদের তাড়া করার জন্য । তাদের ধরে আনা হলে মোহাম্মদের নির্দেশে তাদের হাত পা কেটে দেয়া হয়, লোহার শিক গরম করে তাদের চোখে ঢুকিয়ে দেয়া হয় ও পাথুরে মরুভূমিতে মরার জন্য ফেলে রাখা হয় । আনাস আরো বলেন, তারা পানি চাইলেও মরার আগ পর্যন্ত তাদের কেউ পানি দেয়নি । (টীকা-৬২)

এই লোকেরা খুন এবং চুরি অপরাধে দোষী । তাদের শাস্তি দেয়া অবশ্যই দোষের কিছু না । কিন্তু এই পরিমাণ নির্যাতন কেন করা ? মোহাম্মদও কি সেই একই কাজই করছিলো না ? মোহাম্মদ উট পেলো কোথা থেকে ? সেগুলোওতো চুরি করা জিনিসই ছিলো । সে কি ডাকাতি করে মালিকদের খুন করেই সেই উটগুলো আনেনি ?

এই দ্বিমুখী নীতিই শুরু থেকে আজ পর্যন্ত মুসলিম সমাজের প্রধান বৈশিষ্ট্য । গোল্ডেন রুল (অন্যরা তোমার সাথে যেমন ব্যাবহার করলে তোমার পছন্দ, তুমিও অন্যদের সাথে তেমন ব্যাবহার করো ) ও ন্যায্যতার কোন ধারণা নেই মুসলিম মনস্তত্তে । তারা অমুসলিম দেশে গিয়ে সব রকমের সুযোগ-সুবিধা চায় কিন্তু যেসব দেশে তারা নিজেরা সংখ্যা গরিষ্ট সেখানে অমুসলিমদের মৌলিক, নূন্যতম মানুষ হিসাবে অধিকারটুকুও দিতে চায় না । তারা সত্যিকার অর্থেই বিশ্বাস করে , এটাই ঠিক ।

গুপ্তহত্যা

এখন পর্যন্ত মুসলিমরা বিশ্বাস করে ইসলামের সমালোচনাকারীদের একমাত্র জবাব হচ্ছে তাদের খুন করা । ১৯৮৯ সালে খোমেনি লেখক সালমান রুশদিকে হত্যা করার ফতোয়া জারী করে । কারণ ছিলো রুশদি স্যাটানিক ভার্সেস নামে একটি বই লিখেছিলেন যেটা কারো কারো মতে ইসলামকে অপমান করেছে । কেউ কেউ খোমেনির সমালোচনা করে তাকে মৌলবাদী বলে আখ্যায়িত করেন । আশ্চর্যজনকভাবে অনেকেই উল্টো রুশদিকে মুসলিমদের অনুভুতির প্রতি অশ্রদ্ধার দোষ দেয় । ২০০৬ সালের ১৪ ই ফেব্রুয়ারি ইরানের সরকারি সংবাদমাধ্যম জানায় এই ফতোয়া রুশদীর মৃত্যু পর্যন্ত জারী থাকবে ।

ইরানের ইসলামি শাসনযন্ত্র শুরু থেকেই কাঠামোবদ্ধ পদ্ধতিতে খুন করার মাধ্যমে সমালোচকদের নির্মূল করে আসছে , তারা ইরানে থাকুক বা ইরানের বাইরে থাকুক না কেন । শতশত বিরুদ্ধবাদীদের এভাবে খুন করা হয়েছে । এদের মধ্যে ছিলেন ডক্টর শাপুর বখতিয়ার । একজন্য সত্যিকারের গণতান্ত্রিক । শাহের নিয়োগ করা সর্বশেষ প্রধানমন্ত্রী ।

বেশিরভাগ লোকজনই জানে না যে এই গুপ্তহত্যা ছিলো প্রতিপক্ষককে দমন করার মোহাম্মদী পন্থা । আজকের মুসলিম আততায়ীরা মোহাম্মদের দেখানো পথই অনুসরণ করছে মাত্র ।

********************************************************
টীকা ৬১ > সহিহ বুখারি ১-৮-৩৬৭
টীকা ৬২ > বুখারি ৪-৫২-২৬১

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

১ thought on “আন্ডারস্ট্যান্ডিং মুহাম্মদ, মূল – আলি সিনা , ভাষান্তর-দুরের পাখি ; পর্ব-২০

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

+ 51 = 61