ফিরে দেখাঃ ২০১৬ এর গায়ে জঙ্গিবাদের কালো থাবা……………।।

আবারো দেখতে দেখতে চলে গেল একটি বছর। আসছে নতুন বছর নতুন কিছু নিয়ে। ২০১৬ সালে সবচেয়ে আলোচিত বিষয় ছিল জঙ্গিবাদ। বিগত বছরগুলতে জঙ্গিদের কার্যক্রম চোরাগোপ্তা হামলাতেই সীমাবদ্ধ ছিল। এবার দেখা দেয় নতুন রুপে পুরোপুরি ওয়েস্টার্ন স্টাইলে জিম্মি করে হামলা চালানো হয়। এ বছর কার্যত দুই ধরনের হামলা লক্ষ্য করা যায়। চোরাগোপ্তা হামলাকারী গ্রুপটি তো আগে থেকেই সক্রিয় ছিল। এবার তারা হামলার ধরন পাল্টে ফেলে নতুন রুপে অর্থাৎ জিম্মি করে, প্রকাশ্য জনসমাবেশে হামলা করা শুরু করে। এ হামলা তারা তখনেই শুরু করে যখন সরকার খুব বড় মুখ নিয়ে বলতেছিল বাংলাদেশে কোন জঙ্গি নেই।

বছরের প্রথম হামলাটি হয় জানুয়ারিতে। এরপর ধারাবাহিক ভাবে চলতে থাকে তাদের হত্যাযজ্ঞ।
৭ই জানুয়ারি ঝিনাইদহ সদর উপজেলার বেলেখাল বাজারে কালুহাটি গ্রামের সমির উদ্দীন খাজা নামে এক ধর্মান্তরিত খ্রিষ্টান হোমিও চিকিৎসককে হত্যা করা হয়।

২২শে ফেব্রুয়ারি পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে শ্রী শ্রী সন্তু গৌরীয় মঠের পুরোহিত যজ্ঞেশ্বর রায়কে গলা কেটে হত্যা করে। এসময় তাদের ছোড়া গুলিতে আহত হন গোপাল রায় নামের অপর একজন পুরহিত আহত হয়।
১৪ই মার্চ সন্ধ্যায় শিয়া মতালম্বি হোমিও চিকিৎসক চাপালী গ্রামের আবদুর রাজ্জাককে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যা করে ।

৬ই এপ্রিল রাত ৯টার দিকে সূত্রাপুরের একরামপুর মোড়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপানোর পর মাথায় গুলি করে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ব্লগার নাজিমুদ্দিন সামাদকে হত্যা করা হয়।

২৩শে এপ্রিল রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজির অধ্যাপক রেজাউল করিম সিদ্দিকীকে গলা কেটে হত্যা করা হয়।

২৫শে এপ্রিল কলাবাগানে ৩৫ উত্তর ধানমন্ডির বাড়ির দোতলার বাসায় ঢুকে বাংলাদেশের সমকামীদের একমাত্র পত্রিকা রুপবানের সম্পাদক জুলহাস মান্নান ও তার বন্ধু মাহবুব তনয়কে কুপিয়ে হত্যা করে।

৩০শে এপ্রিল টাঙ্গাইলে হিন্দু দর্জি নিখিল চন্দ্র জোয়ারদারকে কুপিয়ে হত্যা করে।

৬ই মে রাজশাহীর তানোর উপজেলায় মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ নামে এক ‘পীর সাহেবকে গলা কেটে হত্যা করা হয়।

১৩ই মে রাতে বান্দরবানের বাইশারী ইউনিয়নের চাক পাড়ার বৌদ্ধ ভিক্ষু মংশৈ উ চাককে গলা কেটে হত্যা করা হয়।

২৪ই মে গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে মহিমাগঞ্জ বাজারে সকাল ৬টার দিকে দেবেশ চন্দ্র প্রামাণিক নামে এক ব্যবসায়ীকে জবাই করে হত্যা করা হয়।

৫ই জুন নাটোরের বনপাড়ায় খ্রিস্টান মুদি ব্যবসায়ী সুনীল গোমেজকে গলা কেটে হত্যা করা হয়।

৭ই জুন ঝিনাইদহ সদরের সোনাইখালী গ্রামের মহিষের ভাগাড় মাঠে আনন্দ গোপাল গাঙ্গুলি নামে এক পুরোহিতকে কুপিয়ে ও গলা কেটে হত্যা করা হয়।

১০শে জুন পাবনা সদর উপজেলার হেমায়েতপুরে ঠাকুর অনুকূলচন্দ্র সৎসঙ্গ আশ্রমের সেবক নিত্যরঞ্জন পাণ্ডে প্রাতর্ভ্রমণে বের হলে মানসিক হাসপাতালের উত্তরপাশে ফটকের সামনে তাঁকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়।

১লা জুলাই ঝিনাইদহ সদরের মন্দির শ্রীশ্রী রাধামদন গোপাল বিগ্রহের (মঠ) সেবায়েত শ্যামানন্দ দাসকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। একই দিনে বান্দরবান জেলার নাইক্ষ্যংছড়িতে মংশৈনু মারমা নামে এক আওয়ামী লীগ নেতাকে কুপিয়ে হত্যা করে।

প্রতিটি হামলার দায় স্বীকার করেছে এইএস, আনসার আল ইসলাম অথবা অন্য কোন জঙ্গি সংগঠন। বছরের সবচেয়ে বড় জঙ্গি হামলার ঘটনা ঘটে গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারিতে। এটিকে বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ও ভয়াভয় জঙ্গি হামলা বললেও ভুল হবে না। ১লা জুলাইয়ের এ ঘটনা গোটা বাংলাদেশকে হতবিহবল করে দিয়েছিল। সরকার সেনাবাহিনীকে মাঠে নামাতে বাধ্য হয়। এ হামলায় ১৭ জন বিদেশি নাগরিকসহ ২২ জন বেসামরিক লোক, দুজন পুলিশ কর্মকর্তা ও ৫ জন হামলাকারী মারা যায়। এ হামলার ফলেই সরকারের টনক নড়ে। জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেয় সরকার। কিন্তু সবাইকে অবাক করে দিয়ে এক সপ্তাহের মধ্যেই দেশের সবচেয়ে বড় ঈদের জামাত শোলাকিয়ায় হামলা চালায় জঙ্গিরা। এতে দুই জন পুলিশ সদস্যসহ চারজন নিহত হয়।

এই হামলার পরেই সরকার পুরোপুরি টনক নড়ে। এতদিন জঙ্গির কথা শুনলেই সরকার বলত- বাংলাদেশ কোন জঙ্গি নেই, এসব কিছু বিচ্ছিন্ন গোষ্ঠীর কাজ। এবার তারাই মুখ ভোতা করে নেমে পড়ে জঙ্গি নিধনে। একে একে জঙ্গির আস্তানাগুলো ধ্বংস করে দেয়। কমে যায় জঙ্গি হামলা।
কথায় আছে- নিজের পাছায় আগুন না লাগলে বোঝা যায় না আগুন কি জিনিস। সরকারের যে কাজগুলো দুই বছর আগে করার কথা ছিল। তারা তা করল অনেক পরে। যাই হোক, সরকারের যে শুভবুদ্ধির উদয় হয়েছে এটাই অনেক। যতই হোক না কেন, গাধা একটু জল ঘোলা করেই খাবে।
সবাইকে নতুন বছরের শুভেচ্ছা। সবার অনেক ভাল কাটুক। নতুন বছরে এটাই কামনা- কাউকে যাতে জারজদের হাতে প্রান হারাতে না হয়।।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

79 − = 71