ধর্ম ও বিজ্ঞানঃ একটি বিশেষ পাঠ

ধর্ম ও বিজ্ঞান উভয়ের আধিক্য ব্যক্তি, সমাজ, রাষ্ট্র এবং নীতি-নৈতিকতা-মানবিকতার জন্য ক্ষতিকর। আধিক্য এই অর্থে উহাদের অপপ্রয়োগ ও অপব্যবহার। আধিক্য এই অর্থে বিজ্ঞান-প্রযুক্তির অপব্যবহার। আধিক্য এই অর্থে যে, ধর্মের নামে অন্ধবিশ্বাস গ্রহন ও মানব সমাজ বিভাজনের নীতি গ্রহন করা।

বিজ্ঞানের নামে বিজ্ঞানবাদীতা এবং ধর্মের নামে ধর্ম মত এবং উগ্রতা উভয়ই সমভাবে ক্ষতিকর।

বিজ্ঞান ও ধর্মের সঙ্গে মত, পথ, বাদ কিংবা ism যুক্তকরে যেকোন মতবাদ সৃষ্টি করা এবং সেই বাদকে কেন্দ্র করে যেকোন ধরনের উগ্রতাই মানবিকতা ও নৈতিকতার পরিপন্থী।

প্রকৃতপক্ষে, ধর্ম ও বিজ্ঞানে কোন বিরোধ নেই। বরং উহারা একে অপরের পরিপূরক।

বিজ্ঞান ধর্মকে ধারন করেই একটি গতিশীল প্রক্রিয়া রূপে প্রকাশিত। ইহা বিশেষ জ্ঞান। কিন্তু এই বিশেষ জ্ঞান স্থির কোন বিষয় নয়। বরং পরিবর্তনশীল এবং আপেক্ষিক।

যাকে অপরিবর্তনীয়, স্থির ও অনাপেক্ষিক ভাবা হয় তাই অবিজ্ঞান এবং অধর্ম।

বস্তু ও বস্তুর কার্য-কারন এবং বস্তুর জটিলতম সংগঠন সমূহের গুনা-গুনই ধর্ম। আর এই ধর্ম এবং ধর্মসমূহ যখন জ্ঞানাকারে প্রকাশিত তখন তা বিশেষ জ্ঞান কিংবা বিজ্ঞান। যেমন_অক্সিজেনের ধর্ম, হাইড্রোজেনের ধর্ম ইত্যাদি। আর এই ধর্মসমূহই ধারন করে বিজ্ঞান।

সমাজতন্ত্র যেমন বিজ্ঞান নয়, ঠিক তেমনি প্রচলিত ধর্মমত সমূহও ধর্ম নয়।

বাদ, মত, পথ কিংবা ism ধর্মও নয়, বিজ্ঞানও নয়।

কোন বাদ, মত, পথ কিংবা ইজম কোন এক দেশ-কালিক-পারিপার্শ্বিকতা সাপেক্ষে গ্রহন যোগ্য হতে পারে কিন্তু তা কখনও সর্বকালের, সর্বযুগের ও সর্বদেশের জন্য প্রযোজ্য হতে পারনো।

কোন বিষয়ে অনাপেক্ষিক ভাবনাই আমাদেরকে মৌলবাদীতে পরিনত করে। ধর্মীও মৌলবাদী যেমন আছে ঠিক তেমনি কমিউনিস্ট মৌলবাদীও আছে। কমিউনিস্ট মৌলবাদীতা বিজ্ঞানবাদীতার নামে প্রতিষ্ঠিত। অপর দিকে ধর্মীও মৌলবাদীতা প্রচলিত ধর্মমতের নামে প্রতিষ্ঠিত।

উভয় ক্ষেত্রে ধর্ম ও বিজ্ঞান নির্দোষ।

কিন্তু ধর্ম ও বিজ্ঞানের নামে মত, পথ, বাদ কিংবা ইজম সৃষ্টি করে তাকে আবশ্যিকভাবে পালনের ঘোষণাটা অবিজ্ঞান এবং একই সঙ্গে অধর্মও বটে।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

81 + = 85