পতিতা ও পতিতালয় -২

সেদিন রাত্রেও জাহেদ ঘুমাতে পারেনি, সে এই সমাজে অনেক মানুষকে দেখেছে অনেক নারী ও না বালিকা মেয়েকে দেখেছে। কিন্তু সেই হিজাবী মহিলাগুলোর মতো না।

পরদিন সকালে জাহেদ স্কুলে যাওয়ার আগে বাবার ফোন থেকে রিয়াজদের বাসায় কল দিয়ে রিয়াজকে দ্রুত জাহেদদের ঘরের গলির মূখে আসতে বলে এবং ফোন রেখে দিয়ে কাধে ব্যাগ ঝুলিয়ে আয়নায় মূখটা দেখে চুলগুলো ঠিক করে আচড়ে নিয়ে স্কুলের উদ্দেশ্যে রওনা হলো। গলির মূখে এতোক্ষনে রিয়াজ এসে গেছে…..

আজ জাহেদের মনটা খারাপ, সে পতিতাদের বিষয়গুলো নিয়ে বেশ চিন্তিত।কোনভাবেই মাথা থেকে বিষয়টা নামাতে পারছে না জাহেদ।

রিয়াজ উদ্ভট হেসে জাহেদ কে জিজ্ঞেস করলো,- কিরে জাহেদ তুই সকালে নাস্তা খাসনি নাকি খালাম্মা টিফিনের টাকা দেয় নাই?

জাহেদ অনেক্ষন চুপ থাকার পরে রিয়াজকে খুলে বলে সব- আমি বেশ্যাদের বিষয়টা কোনভাবেই ভূলতে পারছি না দোস্ত…!!!

রিয়াজ মাথায় হাত দিয়ে বলে- তুই ত দেখছি, এই বিষয় নিয়ে খুব প্যাচগোচ করছিস। কারো সাথে আলোচনা করিস না, লোকে খারাপ ভাববে।

কথা বলতে বলতে স্কুলের গেটের সামনে চলে এসেছে দুইজনে।

জাহেদ- মাথা নিচু করে বললো চল আগে ক্লাসে যাই, সময় হয়ে গেছে। আজকে তোদের দোকানে যাবো। ছুটি হলে একসাথে বের হবি…..

আজ জাহেদের মনমানসিকতা ক্লাসে নেই । প্রথম বেঞ্চের ছেলেটা আজ পিছনের শেষ বেঞ্চে বসেছে! জাহেদের একাকীত্ব টেনশন দেখে শিক্ষক তাকে ইনকয়ারি করলো এবং জিজ্ঞেস করলো শরীর খারাপ কিনা না বাসায় মা-বাবা শাসন করেছে।

সে শিক্ষকের প্রশ্ন এড়িয়ে গিয়ে বলল,- কিছু না স্যার এমনিতে পিছনে বসেছি। আমার শরীর ঠিক আছে।

ছুটির ঘন্টা বাজলো, আর রিয়াজ ও জাহেদ একত্রিত হয়ে রিয়াজদের দোকানের দিকে রওনা দিলো।

দোকানে পৌছা মাত্রই প্রতিদিনের মতো রিয়াজের বাবা জাহেদের মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে, রিয়াজ কে ভালো করে দোকান দেখা ও বেচা-কেনা করার কথা বলে চলে গেলো বাসায়।

জাহেদ আজকে খুব আগ্রহী হিজাবী সেই মহিলাটার সাথে কথা বলবে তার সমন্ধে জানবে।

এই চিন্তা করতে করতে বিকাল গড়াতে লাগলো আর হঠাৎই দোকানের পাশেই হিজাবী দুই মহিলা এসে দাড়িয়ে খুব জোরেশোরেই হাসতে লাগলো এবং জাহেদ সেই দুইজনের মধ্যে একজনকে ঠিক চিন্তে পেরেছে! কালকের সেই মহিলাটি!

জাহেদ লজ্জা পাচ্ছিলো আর রিয়াজকে বললো,- দোস্ত আমি ঐ মহিলার সাথে কথা বলতে চাই!!।

রিয়াজ- কেন? তুইও কি কিছু করবি নাকি?

জাহেদ – আরে না, আমি শুধু উনার সাথে পরিচিত হবো তুই শুধু একবার ডাক।

রিয়াজ জাহেদের কথা মতো সেই হিজাবী মহিলাটিকে ডেকে দোকানের একটু কাছে আসতে বলে ঠিক জাহেদের কাছেই……

মহিলাটি কিছু মনে না করেই এলো এবং বললো- কিরে পিচ্চি, কি বল?
রিয়াজ- ইশারা দিয়ে বললো, এই তো আমার বন্ধু জাহেদ আপনার সাথে কথা বলবে!

মহিলাটি জাহেদকে দেখে হেসে বলে- কিরে তোর কি যৌবন জেগেছে নাকি? আমার সাথে কি সেক্স করবি?
জাহেদ লজ্জায় মাথা নিচু করে রেখেছে, জাহেদ একেবারেই ঐ ধরনের ছেলে না! তারপরেও মৃদু হেসে জাহেদ বললো- জ্বি না, আমি আপনার সাথে পরিচিত হতে চাই, আপনার সমন্ধে জানতে চাই!!

হিজাবী মহিলা- আমার মতো নারীর সাথে পরিচিত হয়ে কি করবে? কি বলতে চাও সোজাসুজি বলো!
জাহেদ ঢোকগিলছে আর বলছে- তেমন কিছু না, আপনার নাম কি? কোথায় থাকেন?

হিজাবী এইবার উচ্চস্বরে হাসতে হাসত বললো- আমার নাম খাদিজা (ছদ্মনাম), আমি যেখানেই রাত হয় সেখানোই লোকের সাথে কাত হই! বুঝলে……!
আর বেশি কথা না বলে।

হিজাবী মহিলা এক পুলিশকে দেখে দ্রুত সেখান থেকে সটকে গেলো! জাহেদ অবাক হয়ে শুধু দেখে যেতে লাগলো…..

সন্ধ্যা নামার আগেই জাহেদ প্রতিদিন বাসায় যায়, কিন্তু আজ একটু ব্যাতিক্রম কিছু হলো জাহেদের সাথে।সন্ধ্যার আগে আগেই রিয়াজদের দোকানে জাহেদের এক পুরাতন বন্ধু রাসেলের সাথে দেখা হয়ে গেল, রাসেল লাক্ষ পতির ছেলে ওর বাবার এক আবাসিক হোটেল আছে শহরের নিকটেই। এক সাথে প্রাইমারী স্কুলে পড়েছে রাসেল আর জাহেদ! জাহেদ রাসেলের সাথে প্রায় ৬ মাস পর দেখা হলো। অনেক্ষন জমিয়ে আড্ডা হয়েছে এবং রিয়াজ ও জাহেদ রাসেলকে এই বিষয়ে সবকিছু বলে!!!

রাসেল সব শুনে বলে উঠলো চল তোকে আজকে আমাদের হোটেলে নিয়ে যাবো!!!

জাহেদ চমকে গেছে! জাহেদ রাসেলকে প্রশ্ন করলো কি কোন জরুরী কিছু?
রাসেল- না ঐ মহিলার সাথে তোকে পরিচয় করিয়ে দিবো, আমি ওকে চিনি!
জাহেদ আগ্রহী হয়ে বললো- চল সন্ধ্যে হয়েছে বেশি রাত নামার আগেই চলে আসবো।

রিয়াজকে বিদায় দিয়ে রাসেল আর জাহেদ রাসেলদের হোটেলের উদ্দেশ্যে হাটতে লাগলো।

জাহেদ রাসেলের বাবাকে বেশ ভালো করেই চিনে কিন্তু রাসেলের বাবা জাহেদকে চিন্তে পারেনি মনে করেছে রাসেল খদ্দের নিয়ে এসেছে!! রাসেলের বাবাও রাসেলকে জিজ্ঞেস করলো না সে কে…!

রাসেল ও জাহেদ হোটেলের ভেতরে ঢোকার পরপরই দেখতে পেলো জাহেদের বাবাও মূখে দাগ ভর্কি এক লোক সিড়ির পাশেই দাড়িয়ে রয়েছে, এবং রাসেল তাদের কিছু না বলে সিড়ি বেয়ে উপরে উঠতে লাগলো!

জাহেদ রাসেলকে প্রশ্ন করলো- মহিলাকে কি এখানেই পাবো?
রাসেল- হ্যা, দুই তলায় চল দেখাচ্ছি!
জাহেদ- আচ্ছা, চল।

দুই তলায় এসে দুইজন মহিলাকে সে দেখতে পেলো অর্ধনগ্ন এবং এক বয়স্ক ব্যাক্তি তাদের হাত ধরে কথা বলছে এবং হাসাহসি করছে। কিছুক্ষন পরেই রাসেল জাহেদকে হাত ধরে একটি খালি রুমের ভেতর ঢোকালো!!

জাহেদ বললো- কিরে এই খালি রুমে ঢোকালি কেন? এইখানে ত কেউই নেই!

রাসেল ডাকছি বলেই হাল্কা চিৎকার করে বলছে- খাদিজাকে রুমে পাঠিয়ে দে!

কয়েক সেকেন্ডস পরেই- সেই হিজাব পড়া মহিলাটি জাহেদ ও রাসেলের সামনে এসে দাড়ালো! শরীরে শুধু একটা সেমিজ ছিলো আর পরনে একটা জিন্সের থ্রি কোয়াটার স্কাট!

জাহেদ মাথা নিচু করে রেখেছে, কি পরিচিত হবে বা কি জানবে! জাহেদ মনে মনে ভাবছে কিছুই হবার নয়…….

পরবর্তী পর্বে বিস্তারিত……

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

৪ thoughts on “পতিতা ও পতিতালয় -২

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

74 − 64 =