ও – তে ওড়না….

“ও – তে ওড়না” এই বিষয়টি নিয়ে বর্তমানের অন্যতম যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে বইছে সমালোচনার ঝড়!!

প্রাথমিক স্থরের শিক্ষার্থীদের মাঝে বৈষম্য ঢুকিয়ে দেয়া হয় প্রথম থেকেই, ক্লাসে যখন তাদের একসাথে বসতে না দিয়ে আলাদা বেঞ্চে আলাদা করে রাখা হয়। আর তখনই তারা বুঝতে পারে মেয়ে ও ছেলেদের মধ্যে পার্থক্যটা তারা জানতে পারে ছেলে-মেয়ে একসাথে বসা ঠিক না।

ধর্মীয় গোঁড়ামি প্রাথমিক স্তর থেকেই বিরাজমান, আর মেয়েদের সেই স্তর থেকেই ওড়না, ব্রা বা সেমিজ পড়ানো শিখিয়ে ফেলে মা- বাবারা আর তাদের বলা হয় কোন ছেলে বন্ধুর সাথে না মেশার জন্য। যাতে সুরক্ষিত থাকে মেয়েটি! তবে সে মেয়েগুলো কতটা সুরক্ষা বা অধিকার পায় যখন তাদের কে বস্তা দিয়ে তার দেহ মোড়ানো হয়…..

যদি কোন মেয়েকে ধর্ষন করা হয় তখন ধর্ষক কে? সেটা জানার আগে ধর্ষিতা মেয়েটি কি পরিহিত ছিলো বা মেয়েটির আচার-আচরণ কেমন ছিলো সেটা জানতে ভদ্র সমাজ উঠে পড়ে লাগে! কিন্তু কে ধর্ষন করলো কে? সেটা জানার প্রয়োজন তাদের মনে হয় না।

আমাদের দেশের সাম্প্রতিক একটি ঘটনা নাড়িয়ে দিয়েছিলো পুরো দেশকে, তনু নামের কলেজ পড়ুয়া হিজাব পরিহিত মেয়েটিকে ধর্ষন করার পর হত্যা করা হয়! তনু নামের সেই মেয়েটি অতন্ত পরিপাটি হিজাবী ছিলো, তবে মেয়েটি কেন ধর্ষিত হলো? তার পোষাক দোষে? না তার চাল চলনে?

এইখানেই হচ্ছে বিবেকের বিষয়, উগ্র মুসলিম হেফাজতে ইসলামের আমির আল্লামা শফি অরফে ( তেঁতুল হুজুর) তার এক বয়ানে এমনটাই বলেছিলো, “যে নারীদের পোষাকের কারণে তারা ধর্ষিত হয় এবং নারীরা তেঁতুলের মতো যা দেখলে ঈমানদন্ড সামলানো অসম্ভব ও মূখ থেকে লালা পড়ে!!”

এই হচ্ছে ধর্মীয় গোড়ামীর ভেতরকার নারীর মর্যাদা!

তাই সমাজকে কুসংস্কার ও ধর্মীয় আখড়া থেকে বেরিয়ে আসতে হবে, নইলে এই সমাজে হাজারটা তেঁতুল হুজুরের জন্ম হবে এবং নারীদের কে উচ্চ সম্মানের নাম দিয়ে তাদের অধিকারকে মাটিচাপা দিয়ে দিবে! আর ৪ টা করে বিয়ে করে ইচ্ছে মতো তালাক দিবে।

তাই, ও – তে ওড়না নয়, ও – তে ওদের ধরে জুতাপেটা করো যারা ইমানদন্ড সামলাতে পারে না যাদের নারী দেখলেই মুখ নামের লিঙ্গ থেকে লালা পড়ে।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

− 4 = 1