এসিড নিক্ষেপ

পোলাটা এলাকার মস্তবড় গুন্ডা। নাম তার মোহাম্মদ। ভালোবেসে চ্যালাচামুণ্ডারা তাকে মোহা ভাই বলে ডাকে। এলাকার মানুষেরা মোহার কর্মকাণ্ডে বিরক্ত, অতিষ্ঠ, ক্ষুব্ধ। কিন্তু কেউ প্রতিবাদ করার সাহস পায় না। কে আর নিজ থেকে অশান্তি ডেকে আনতে চায়!

মোহা এলাকার মেয়েদের অনেক বেশি বিরক্ত করতো। সবাই ভয়ে থাকতো কখন, কাকে ধরে নিয়ে যায়! চাঁদাবাজি থেকে শুরু করে খুন, ধর্ষণ সব মামলার আসামী মোহা। কিন্তু পুলিশ মোহাকে জামাই আদরে যত্ন করতো। সন্ত্রাসীদের সাথে পুলিশের বন্ধুত্ব খুব দ্রুত সম্ভব। চারিত্রিকভাবে পুলিশ ও সন্ত্রাসী একই আত্মার সঙ্গী।

কিছুদিন যাবত মোহা একটি মেয়েকে প্রচণ্ড পরিমাণে উত্যক্ত করছে। মেয়েটি ছিল যেমন সুন্দরী তেমনই মেধাবী। মেধাবী দিয়ে সন্ত্রাসীদের কিছু যায় আসে না, যতোটা শরীর বিবেচনার প্রাধান্য পায়। ‘এ’ ‘বি’ ‘সি’ ‘ডি’ কিংবা ‘অ’ ‘আ’ জেনে মেয়েদের কী হবে এমনটাই ভাবনা ছিল গুন্ডা মোহার।

মেয়েটির শারীরিক সৌন্দর্যে মোহা মুগ্ধ। যে কোন মূল্যে মোহা মেয়েটিকে বিছানায় পেতে চায়। মেয়েটি সাড়া দেয় না মোহার আহবানে। অন্য সবার মতোই মেয়েটি মোহাকে ভয় পায়। সম্ভবত, অন্য সবার তুলনায় একটু বেশিই ভয় পায়। কারণ মেয়েটি বুঝতে পারে মোহার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে সে।

একদিন যন্ত্রণার মাত্রা বেড়েই গেলো। আশেপাশের মানুষজন যা ইচ্ছে তাই বলছে। সবাই মেয়েটিকে দোষ দিচ্ছে। মানুষজন বলাবলি করছে- দেখতে সুন্দর হয়েছে তাই দুধ, পাছা দেখায় বেড়াবে? এইসব মেয়েদের সাথে এমনই হয়।

মোহা একদিন রাস্তায় মেয়েটির ওড়না টেনে বলল- এত সুন্দর দুটি ডাব ঝুলিয়ে রেখেছিস আর দেখতে দিবি না? মেয়েটির ধৈয্যশক্তি পায় শেষ। চোখ দিয়ে পানি ফেলতে ফেলতে মেয়েটি গুন্ডা মোহাম্মদ ওরফে মোহার গালে কষে পাঁচশত পাউন্ডের একটা চড় মেরে হেঁটে চলে যায়। রাস্তাঘাটের সবাই অবাক হয়ে দেখল। কেউ কেউ আবার হাততালি দেওয়ার চেষ্টা করেও সাহস সঞ্চয় করতে পারলো না।

মোহা এমন অপমান সহ্য করতে পারছিল না। পুরো এলাকার সবার সামনে মোহার চড় খেতে হয়েছে! এই মেয়েকে অবশ্যই শিক্ষা দিতে হবে। মোহা ঠিক করল আগামীকাল মেয়েটির মুখে, হাতে ও বুকে এসিড ছুঁড়ে মারবে। যে হাত মোহার গালে পড়েছে সে হাত অবশ্যই জ্বলসে দিতে হবে। যে শরীর মোহা পাই নি, সে শরীর এসিডে গোসল করাতে হবে।

মোহা ভোরবেলা থেকেই মেয়েটির বিল্ডিং এর নিচে অপেক্ষা করছে। মোহা অপেক্ষা করতে করতে ভাবছিল, মাত্র একবারই তো বিছানায় চেয়েছিলাম! মাত্র একবারই তো ওড়না টেনেছিলাম। মাত্র একবারই তো দুধ দেখানোর কথা বলেছিলাম! মেয়ে মানুষের এতো রাগ! সাহস কতো! পুরুষ তাও আবার আমার মতো পুরুষের গালে! শালা, আজকে মাইয়াটারে শেষ কইরা দিমু।

অনেকক্ষণ ধরে অপেক্ষা করার পর মোহা মেয়েটিকে নামতে দেখল। মোহাকে বিল্ডিং এর নিচে দেখে মেয়েটি ঘাবড়ে গেলো। মেয়েটি জড়পদার্থের মতো দাঁড়িয়ে রইলো। মোহা যতোই সামনে এগোচ্ছে মেয়েটি আতঙ্কে কাঁপছে। গুন্ডা মোহা মেয়েটির শরীরে এসিড নিক্ষেপ করে শান্তি পেলো। বীরদর্পে এলাকা দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় মোহা জানতে পেলো- প্রতিপক্ষদের দ্বারা মোহার একমাত্র ছোট্ট বোন এসিড নিক্ষেপের শিকার হয়েছে।

ভুক্তভোগী শুধু নারীরাই।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

+ 28 = 31