কৃষ্ণার্জুন সংবাদ

কৃষ্ণার্জুন সংবাদ

বিদ্ধস্ত অর্জুন ক্লান্তভাবে কৃষ্ণের সামনে এসে দাঁড়ালেন হাঁটুভাঙা দ এর মত,
একদৃষ্টিতে তাকিয়ে দেখলেন চারিদিক ও কৃষ্ণের চোখ,
নিঃশ্বাস নিচ্ছেন জোর করে, পৃথিবীতে এত বাতাস, তার জন্য যেন অবশিষ্ট নেই কিছু,
হে কৃষ্ণ, করুণাসিন্ধু, ভাতৃঘাতী যুদ্ধে আমি নিঃশেষ হয়ে গেছি।
কৃষ্ণ তখনো অন্য পাণ্ডব বেষ্টিত, অদূরে গোলাবৃষ্টি হচ্ছে,
স্প্লিন্টারে ক্ষত বিক্ষত দুই গাছের ফাঁকা দিয়ে কৃষ্ণ বললেন,
হে বৎস, মাথা উঁচু করে উঠে দাঁড়াও,
অর্জুন পূর্ণদৃষ্টিতে কৃষ্ণকে পর্যবেক্ষণ করলেন, মুখের উপর স্থির হলো চোখ,
শান্ত স্বরে বললেন, আমার এই ক্ষত তমার জন্য যেখানে আমার কোন স্বার্থ নেই,
কৃষ্ণ যেন কিছুটা হতবুদ্ধি হয়ে গেলেন, যেন ফিসফিস করে বললেন,
আমি তোমাকে যুদ্ধের বাইরে আধ্যাত্মিক গুরু করতে চেয়েছিলাম,
তাই রেখেছিলাম রহস্যের আবর্তে।


অর্জুন রাইফেল ফেলে দিলো ধুলোর মধ্যে,
পিঠ থেকে আস্তে গড়িয়ে পড়ে গেল সৈনিকের ব্যাগ,
ঘাড় থেকে ঘাম মুছে নিয়ে বলল, হে কৃষ্ণ এই রক্তক্ষয় বন্ধ করুন,
চেয়ে দেখ, পাহাড়ের উপর আকাশের গায়ে মরিচা পড়ে গেছে,
দিন যত বাড়ছে বোমা পড়ছে বজ্রের ন্যায় দশদিক।
কৃষ্ণ যেন করুণামিশ্রিত কন্ঠে বললেন, আমি জন্মেছিলাম সাম্রাজ্য বিস্তার করতে,
কি ভুল বা সঠিক করেছি তা বিবেচ্য বিষয় নয়।
তুমি কি আমার শিক্ষায় আস্থা রাখতে পারোনি? যা শিখিয়েছিলাম বিশ্বস্ত মনে করে।
আমি তোমাকে দেখিয়েছিলাম বিশ্বরূপ, জীবন এবং আলোর পুনর্জন্ম।


পাহাড়ের পাদদেশে কামানের চাকার ঘড়ঘড় শব্দ শোনা যাচ্ছে,
এইমাত্র বাতাসে শীষ কেটে চলে গেল বুলেটের ঝাঁক,
শেল বিস্ফোরণে ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে গেল বন, প্রান্তর।
আমি এখনি তোমার জ্বরা দূর করে দিতে পারি, কৃষ্ণ বললেন।
কিন্তু অর্থহীন দেবত্ব আমি দেখাবো না। অর্জুন বললেন, যদি পারো তো আমাকে সুস্থ করে দাও,
যখন আমার আত্মা যুদ্ধ চায় না, তখন ক্ষমা করে দাও শত্রুদের যুদ্ধের বিভীষিকা থেকে।
আমি সৈনিক, খুন করার জন্য প্রশিক্ষিত এবং এটাই আমার জীবিকা
যখন আমি মানুষকে গুলি করি তখন কোন মায়ের বুক খালি হয়ে যায়,
এই কি তোমার শিক্ষা?
একটি পাখি কৃষ্ণকে ছুঁয়ে গেল, মিষ্টি সুরে কিচিরমিচির বলে গেল কিছু।
বয়ে গেল মৃদুমন্দ বাতাস, নাড়া দিয়ে গেল পাকা ধানের ক্ষেতে,
কৃষ্ণ আবার তাগাদা দিল, উঠে দাঁড়াও যুদ্ধ করো,
সমূলে নির্মূল করো আক্রান্ত হওয়ার আগেই।
হে কৃষ্ণ এই কি তোমার বলার ছিল শেষ কথা?
অর্জুন কাঁধে ঝুলিয়ে নিলো ভারী ব্যাগ ও বন্দুক, হেলমেটে গুতো লেগে শব্দ হলো একটু,
টলটলতে সে নেমে গেল বাঙ্কারে,
যন্ত্রণায় কাতর হয়ে বলতে লাগল হে কৃষ্ণ, কেন আমার জন্ম হলো?
যুদ্ধ তখন পূর্ণযৌবনে, এত শব্দের জঞ্জালে কৃষ্ণের উত্তর শোনা গেল না।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

+ 52 = 60