মৃত্যু

তুমি কোথায় যাও, কোনদিন ঠিকানা বল না।
চলে যাও একমুখি অনন্ত গমন পথের দিকে,
চিরতরে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে।
প্রবেশ পথে কি ছিল সেই তিনমুখো কুকুর?
তুমি চলে যাও পাতালে হেডিসের নৌকায় চড়ে, পার হয়ে লিথি, নিক্স, স্টিক্স,
তীরে উঠে পুড়িয়ে দাও নৌকা,
যাতে আর ফিরতে না হয় এপারে।
তোমার সাথে আর কোনদিন দেখা হবে না।
যাত্রা পথে আঁজলা ভরে পান করে নিয়েছো বিস্মৃতির জল,
মনে পড়বে না কার কেবা ছিলে বা ছিলাম কতটুকু।

সে কেমন দেশ যেখানে রাজত্ব করে অন্ধকার, নিঃশব্দ জগৎ,
সেখানে কি কোন একদিন বেজেছিল পৌরাণিক বাঁশি?
গল্পের মত বেহুলা ফিরে পায় না তার মৃত স্বামীকে আর,
সিদ্ধধানে গজিয়ে ওঠে না অঙ্কুর,
পঙ্গুও অতিক্রম করে না পর্বত, বোবা হয়ে ওঠে না বাকপটু।
হয়ত তুমি পেয়ে যাও সেখানে সুক্ষ্ণ শরীর,
অলক্ষ্যে লক্ষ্য করো আমাকে প্রতি পদক্ষেপে,
নাকি আমার চিন্তায় নিয়েছ ঠাই চিরস্থায়ী,
তোমার অহর্নিশ নেই, নেই কালান্তর, নেই জৈবিক খুদপিপাসা?
এমনকি নেই যৌন তাড়না?
আকাশস্থ নিরালম্ব, বায়ুভূত নিরাশ্রয়।
সমাধান অযোগ্য চির ধাঁধাঁ তুমি।
গীতামৃতে তুমি বর্ণিত জন্ম রহিত,
নিত্য, অজর, অমর, অবিনশ্বর।
মনে হয় সেখানে গিয়ে অপেক্ষা করছো আমার জন্য,
আমরা কেউ খুঁজে পাবো না আমাদেরকে,
প্রত্যেকে স্বতন্ত্র, নিঃসঙ্গ আলোকবর্ষ দূরত্বে।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

5 + = 10