শিরোনামহীন

অতঃপর তার সাথে যা করা হবে, সবাই বিভিন্নভাবে বলবে, তারা ওকে কতো বেশি ভালোবাসে! সেটা বুঝাতেও চেষ্টা করবে। আর, সে যেহেতু জন্মেছে এবং সে জীবিত, ভালোবাসা তার খুব দরকার; হয়তো খাবার থেকেও বেশি দরকার- এটা সবাই মানে। এ কারণে একটা বয়স পর্যন্ত তাকে যা বলা হবে সে তাই করতে বাধ্য থাকবে; তবে এই বয়সটা কেউ নির্দিষ্ট করে দেবে না। এটা এমন যে, সবকিছু মেনে নিতে নিতে একটা সময় সে বোর হয়ে যাবে; ফলে সে কোনভাবেই আর তা মানতে চাবে না, নতুন কিছু করতে চাবে, হয়তো বিপরীত কিছুই। সবাই তাকে বুঝাতে চাইবে, রাগবে, ভয় দেখাবে; শেষে যখন কিছুতেই কিছু হবে না, তারা দ্বিতীয় অধ্যায় শুরু করবে;
তারা এমন ভাব নেবে যেন সবাই তার কথা মেনে নিচ্ছে; সবাই বার বার বলবে, তারা তাকে কতো বেশি ভালোবাসে এবং তাকে কতো বেশি স্বাধীনতা দেয়া হচ্ছে! সবাই ওকে সবসময় এটা বুঝাতে ব্যস্ত হয়ে পড়বে, কীভাবে তার কথা মেনে নেয়া হচ্ছে! তবে ও এক সময় ওদের থেকে চতুর হয়ে ওঠবে। তবে এমনও হতে পারে, সে এটাতেও বোর হয়ে যাবে; সেও পরের ধাপে চলে যাবে। ফলে সবাই তাকে আবার বুঝাতে চাইবে, রাগবে, ভয় দেখাবে; শেষে যখন কিছুতেই কিছু হবে না, তখন তারাও পরের ধাপে চলে যাবে; প্রতিটা বিষয়েই তারা ওকে রাগাবে, এক ধরণের বন্দিত্বের প্রথা শুরু করবে এবং বলবে, তাদের ভালো, সরল সন্তানটা বখে গেছে, গোল্লায় গেছে;
এখানে অর্থনৈতিক অবস্থা একটা নোংরা ব্যাপার; একসময় ও হয়তো ভাববে এবং ও হয়তো এমন ভাব নেবে এবং বুঝাতে চাইবে, সে সবার কথাই মেনে চলছে; আর, চতুরতার পরিচয় দিলে, সে এই ধাপ উতরে যাবে; নয়তো বহু কিছুই ঘটবে; আর তারও ভেতরেও যেহেতু ক্ষোভ থাকবে, শাসন করার লোভ থাকবে, এবং যেহেতু দেখেছে ক্ষমতা কীভাবে ব্যবহার করতে হয়, একটা নিকৃষ্ট প্রথা রক্তের ভিতর দিয়ে প্রবাহিত হতে থাকবে। যেহেতু একটা স্বৈরাচারী প্রক্রিয়ার তার জন্ম হয়েছে(জন্ম স্বৈরাচারী প্রক্রিয়াতেই ঘটে) এবং একটা স্বৈরাচারী পরিবারে সে বড় হয়েছে, কেউ কীভাবে সুন্দর কিছু আশা করতে পারি? তবে তার কাছে কেউ তেমন কিছু আশাও করবে না। এমন যে, শুধুমাত্র আধিপত্য প্রতিষ্ঠাই সবাইকে সুখি করে তুলতে পারে; আর- সৌন্দর্য, সুখ অতিমাত্রায় ব্যাক্তিগত জিনিস।

১৫১২১৬, ঢাকা।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

− 3 = 5