নারীর প্রতি ডমিনেন্সি,আমার ভাবনা।

সত্যি বলতে,একজন ছেলে হয়ে মেয়ের প্রতি ডোমিনেন্সি মূলক মনোভাব ত্যাগ করাটা খুব খুব কঠিন। আর ইকুইটি মূলক দৃষ্টিভঙ্গি,সে আরো অনেক বেশি কঠিন। বাংলাদেশ তথা এই সাবকন্টিনেন্টে সে আরো কঠিন। মাঝে মাঝে আমাদের ডমিনেন্সি “দয়ায়” পর্যবসিত হয়,এবং আমরা মহান হয়ে যাই। আমরা কখনোই মেয়েদের সমান বা উপরে বা সামনে চিন্তা করতে পারি না। তা হোক বিছানায় বা মটরসাইকেলে। কোন একবার কাকে বলতে শুনছিলাম এই রকম,যে আমার পরিবার অনেক লিবারেল। আমার পরিবারে কোন মেয়ে কোনদিন চাকুরি করে নাই,কিন্ত আমি আমার স্ত্রীকে চাকুরী করার “অনুমতি” দিয়েছি। স্ত্রীকে অনুমতি দিয়েছে,বাহ! সামন্তবাদী অনুমতি প্রথার পূর্ন প্রয়োগ ঘটিয়েও উনি উত্তর আধুনিক লিবারেল। হু দ্যা ** আর ইউ গিভ পারমিশান! যাই হোক,বেশি দূরে যাওয়া লাগে না। আমাদের ঘরের দিকেই তাকাই, মায়ের সাথে যে টোনে আমরা কথা বলি,বাবার সাথে সেই একই টোনে কয়জন কথা বলি? হ্যা,আপনি মাকে কম ভালবাসেন সেটা বলছি না,এইযে স্ত্রী জাতিকে ইনফেরিও ভাবা,তুলনামূলক দুর্বল ভাবা এটা এতটাই ইন ডিপলি প্রোথিত হয়েছে,এতটাই প্রাচীন ধারনা,মাঝে মাঝে আবার রিলিজিওন দ্বারা সার্টিফায়েড, আসলে আমরা বুঝিও না,অনুভব ও করি না যে আমরা যে তাকে ইনফেরিওরলি দেখছি। এবং মেয়েরা নিজেরাও বুঝে না, অনুভব করে না। যারা একটু আধটু অনুভব করে তারা নষ্ট মেয়ে,বখে যাওয়া মেয়ে,ফাকিং ফেমিনিস্ট।

মাঝে মাঝেই শুনি,মেয়েদের আমাদের সম্মান করা উচিত। তাদের দেখভাল করা উচিত। আমার কাছে সেখানেই তো মেইন সমস্যা মনে হয়। কেন একটা মেয়েকে আপনার কাছে সম্মান চাইতে হবে? আপনি কি একটা মেয়ের কাছে সম্মান ভিক্ষা করেন? নিপীড়িত এর পাশে দাঁড়ানো মানবিক দায়িত্ব। তা সে ছেলে, মেয়ে হিজড়া যাই হোক। তাই মেয়েদের আমাদের পাশে দাঁড়ানো উচিত,বর্তমান প্রেক্ষাপটে। কিন্ত যদি আপনি ভেবে থাকেন,ইউ আর দ্যা অথরিটি টু গিভ হার সামথিং জাস্টিস,ইউ আর দ্যা সেন্ট্রাল কোর,দ্যান দি হোল থিং বিকাম এ লাই মাই ফ্রেন্ড। দয়া করে আপনার দয়ার দৃষ্টি সরিয়ে নেন,অনেক সমস্যাই সলভ হয়ে যাবে। আর মেয়ে বলেই কেউ বাই ডিফল্ট সম্মান পেতেও পারে না। সম্মান মানুষ পায় তার কাজে। কেউ মেয়ে হয়ে জন্মেছে,কেবল এই কারনে কেউ এক্সট্রা সম্মান পেতে পারে না ।

দিন পালটেছে। পাল্টাচ্ছে। পাল্টাবে। স্বামী -স্ত্রীর ভালবাসা,প্রেমিক প্রেমিকার ভালবাসা অনেক সুন্দর জিনিস। ভালবাসায় খাদ আছে,তা বলছি না। খাদ আছে আপনার চিন্তায়।। সেটা ঠিক করুন,ডমিনেন্সির মনোভাব ত্যাগ করুন। একশ ভাগ খাটি সোনা করে ফেলুন। ভিডিওসহ দেখতে চাইলে পিংক দেখুন। কথা দিচ্ছি,আর একটাও মলেস্টেশান এর ঘটনা ঘটবে না। সেটা হোক এখানের বাংলা নববর্ষে বা ভারতের ব্যাঙ্গালুরুতে….

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

38 + = 45