কবিতাঃ আয়লানকে আমার চেনা হয়নি

আয়লানকে আমার চেনা হয়নি, প্রয়োজনও ছিল না;
যেভাবে সে শেখেনি সমুদ্রে বিরামহীন সাঁতার কৌশল!
তনুরাও আমার স্মৃতি বিস্মৃত,
ঠিক যেমন ভূমধ্যসাগর তীরবর্তী প্রাচীন জনপদে-
কোনো কিশোরীর উরুসংযোগ ক্ষতবিক্ষত হচ্ছে;
বেঁচে থাকলে কেউ তার হৃদয়ের-
নিরন্তর রক্তক্ষরণের খবর রাখবে না।

কিংবা আজ রমনায় যে মেয়েটা অভ্যস্ত নির্ঘুম চোখে,
বহুদিন হলো সেই মেয়েটা আর মেয়ে নেই!
অলিগলিতে পিলপিল করে হাঁটছে মানুষ,
মানুষ নয়, মানুষ নয়…

পৃথিবীর সর্বংসহা বোবা প্রান্তরে অসংখ্য নির্বোধ মুখ,
ইচ্ছা করে কোনো সুউচ্চ মঞ্চে দাঁড়িয়ে-
নিজেকে দেবতা ঘোষণা করি,
দাবী করে বসি আমিও পয়গম্বর!
দেখি তাদের নির্লিপ্ততার দৌড় কতদূর…

কারো ভ্রূক্ষেপ অসম্ভব বুঝে থেমে যাই;
পৃথিবীতে আজ আর দেবতার চল নেই,
পয়গম্বর নাম পরিত্যক্ত, কৌতুকের বিষয়!
কোটি কোটি মুখ নিমগ্ন নিজস্ব ঘেরাটোপে,
শত কোটি মানুষ হায়, কেউ কারো নয়!

মানুষের ভিতর অধিক প্রকট অন্য স্বত্বা,
নিজের কাছে নিজে ফেরাউন, নিজেই ঈশ্বর…

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

4 + 6 =