রাষ্ট্রচিন্তাঃ গনতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতা

রাষ্ট্র চিন্তাঃ গনতন্ত্র

Majority must be granted. কিংবা ভক্স ডার ভক্স পপুলি অর্থাৎ দশচক্রে ভগবান অস্থির কিংবা Voice of the people is the voice of God. গনতন্ত্র কি আসলে তাই?! দশজনে মিলে একজনকে হত্যা করার সিদ্ধান্ত নিল! ইহা কি গনতন্ত্র? গনতন্ত্র কি সত্যই শুধু সংখ্যা গরিষ্ঠের মতের প্রতিফলন?

উত্তর অবশ্যই না। মানুষের মৌলিক অধিকার, সার্বজনীন নৈতিকতা ও মানবিকতার সঙ্গে সাংঘর্ষিক সংখ্যা গরিষ্ঠের সিদ্ধান্তও গনতন্ত্র নয়।

দেশের অধিকাংশ মানুষেরই ধর্ম হিন্দু কিংবা সনাতন ধর্ম। তাই রাষ্ট্রধর্ম হবে হিন্দু! দেশের অধিকাংশ মানুষ বৌদ্ধ। অতএব, রাষ্ট্রধর্ম হবে বৌদ্ধ! দেশের অধিকাংশ মানুষ মুসলিম। অতএব, রাষ্ট্র ধর্ম ইসলাম। অন্যভাবে অন্য ধর্মে যা প্রযোজ্য! তা তখনও গনতন্ত্র নয়।

গনতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থায় রাষ্ট্রের কখনও রাষ্ট্রধর্ম থাকতে পারেনা। তেমনি পারেনা রাষ্ট্র ভাষাও।

রাষ্ট্রের ধর্ম হলো সংবিধান যা দ্বারা রাষ্ট্র পরিচালিত।মৌল অধিকার, নিরপেক্ষতা, নৈতিকতা, মানবিকতা পরিপন্থী সংবিধানের যেকোন ধারা উপধারা সংবিধানের টিউমার স্বরূপ যা সংবিধানের সুস্থতা রক্ষায় কর্তন করা আবশ্যক।

রাষ্ট্র চিন্তাঃ ধর্মনিরপেক্ষতা

ধর্মনিরপেক্ষতা মানে ধর্মহীনতা নয়, ধর্মযুক্ততাও নয়। রাষ্ট্র কোন বিশেষ ধর্মের বিশেষ প্রধান্য দিবেনা। রাষ্ট্র একটি ইহজাগতিক প্রতিষ্ঠান। ধর্ম বা ধর্মসমূহের যে অংশ ইহজাগতিকতার সঙ্গে যুক্ত যা সার্বজনীন নৈতিকতা কিংবা মানবিকতার সঙ্গে বিরোধপূর্ন নয় রাষ্ট্র তা গ্রহন করবে, প্রয়োজনে সংবিধান বদ্ধ করবে। ধর্ম বা ধর্মের যে অংশ সমূহ পারলৌকিক বিশ্বাসের সঙ্গে যুক্ত সে ব্যাপারে রাষ্ট্র নিরপেক্ষ থাকবে। প্রত্যেকেই তার নিজ নিজ ধর্মীও বিশ্বাস অনুসারে ঈশ্বর/গড/ভগবান/আল্লাহর উপাসনা করবে কিংবা করবেনা সে ব্যাপারে রাষ্ট্রের কোন হস্তক্ষেপ নেই। তবে কোন ধর্মবিশ্বাসের প্রচার-প্রচারনা এমন হওয়া চলবেনা যাতে অন্যের ধর্মবিশ্বাসে কটাক্ষপূর্ন ও সামাজিক বিশৃংখলাপূর্ন হয়।
শুধু ধর্ম বিশ্বাস কিংবা নীতিকে কেন্দ্র করে নয় যেকোন উগ্র প্রচারনা যা রাষ্ট্রের ঐক্য, সংহতি ও সার্বভৌমত্বের জন্য ক্ষতিকর তা রাষ্ট্র কখনও গ্রহন করবেনা। রাষ্ট্রীয় নিয়ম-নীতি-আইন হবে ধর্মনিরপেক্ষ। ইহাই আধুনিক গনতান্ত্রিক রাষ্ট্রের ধর্মনিরপেক্ষ চিন্তা।

নিরপেক্ষতাঃ একটি মানবিক গুণঃ

নিরপেক্ষতা হলো একাধিক পক্ষের মধ্যে কোন পক্ষের প্রতি বিশেষ কোন আসক্তি না থাকা।

নিরপেক্ষতা মানে পক্ষপাতিত্ব নয়, পক্ষহীনতাও নয়! ভিন্ন ভিন্ন পক্ষের মধ্যকার পার্থক্য পর্যবেক্ষণে ভারসাম্য মূলক বিচার-বিবেচনা এবং কর্ম ও আচরনে তার প্রকাশ!

নিরপেক্ষতাও একটি পক্ষ_এমন পক্ষ যা বিদ্যমান অন্যান্য পক্ষের প্রতিপূরক নয় বরং সম্পূরক!

নিরপেক্ষতা মানে পূর্নতা_পূর্নতা মানে শূন্যতা_শূন্যতা মানে আসক্তিহীনতা_পজিটিভ-নেগেটিভে পূর্নতা!

আমার যোগ করার কিছু নেই, বিয়োগ করারও কিছু নেই। আমার পাওয়ার কিছু নেই, হারানোর কিছু নেই। এই অনুভূতি ধারনে বিদ্যমান পক্ষসমূহের মধ্যে আচরনে ও কর্মে ভারসাম্যমূলক অবস্থানই নিরপেক্ষতা !!!

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

২ thoughts on “রাষ্ট্রচিন্তাঃ গনতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতা

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

41 − 34 =