ইসলামী ব্যাঙ্কের পরিচালনা পর্ষদের পুনঃবিন্যাসঃ সরকারের অন্যতম সফল কৌশলী সিদ্ধান্ত

.png” width=”400″ />
স্বাধীনতার অল্প কয়বছর পর থেকেই জামাতীরা দেশে কখনোই আর্থিক সমস্যায় পরে নাই। সৌদি, কুয়েতী দাতারা তো ছিলই, পাকিস্তানীরাও তাদের অতীতের প্রকাশ্য এবং বর্তমানের গোপন তাবেদারদের হাত খুইলাই দিয়া গেছে।

আমি একসময় আমার গাড়ির কাজ করাইতাম এফ কে অটোমোবাইলসে। খুব ভালো কাজ করতো, হিসাবে ঘাপলা করতো না, চার্জ অল্প বেশি নিলেও কাজ ছিল নিখুঁত। পরে ওই গ্যারেজের ম্যানেজারের সাথে কথা বলে জানতে পারি পুরা নাম ফুয়াদ আল খতিব অটোমোবাইলস এর উল ফর্ম। বছর দুয়েক আগে যখন শেহবার কথা হয় ম্যানেজারের সাথে, ততদিনে ম্যানেজার নিজেই নতুন গ্যারেজ দিছেন। কারণ জিজ্ঞেস করলে জানাইলেন, সরকার জামাতী প্রতিষ্ঠান যা কিছু আছে সবগুলারে নাকি ভাতে মারতেছে। এফ কে অটোমোবাইলসও এর বাইরে যায় নাই।

ব্যাপারটা ভালোই হইছে, সাপ মরলো কিন্তু লাঠি ভাঙ্গলো না।

স্বাধীনতার অল্প কয়বছর পর থেকেই জামাতীরা দেশে কখনোই আর্থিক সমস্যায় পরে নাই। সৌদি, কুয়েতী দাতারা তো ছিলই, পাকিস্তানীরাও তাদের অতীতের প্রকাশ্য এবং বর্তমানের গোপন তাবেদারদের হাত খুলেই দিয়ে গেছে।

আমি একসময় আমার গাড়ির কাজ করাইতাম এফ কে অটোমোবাইলসে। খুব ভালো কাজ করতো, হিসাবে ঘাপলা করতো না, চার্জ অল্প বেশি নিলেও কাজ ছিল নিখুঁত। পরে ওই গ্যারেজের ম্যানেজারের সাথে কথা বলে জানতে পারি পুরা নাম ফুয়াদ আল খতিব অটোমোবাইলস এর ফুঁল ফর্ম। বছর দুয়েক আগে যখন শেষবার কথা হয় ম্যানেজারের সাথে, ততদিনে ম্যানেজার নিজেই নতুন গ্যারেজ দিছেন। কারণ জিজ্ঞেস করলে জানাইলেন, সরকার জামাতী প্রতিষ্ঠান যা কিছু আছে সবগুলারে নাকি ভাতে মারতেছে। এফ কে অটোমোবাইলসও এর বাইরে যায় নাই।

.png” width=”400″ />
মাশরিকি বাংলার মহান নেতা শহীদ কাসেম আলী সাহেব ছিলেন ইসলামী ব্যাঙ্কের বড় কান্ডারি। জামাতের রাজনীতির সাথে জড়িতরাই এই ব্যাঙ্কের পরিচালনা পরিষদে এবং উচ্চ থেকে মধ্যম শ্রেণীর কর্মচারীদের বেশিরভাগি জামাতী ঘরানার ছিল। জামাতের আর্থিক শক্তির অন্যতম ভিত্তি ছিল এই ব্যাঙ্ক এবং ইবনে সিনা ট্রাস্টের মত আরও কিছু প্রতিষ্ঠান। এইদেশে ব্যবসা কিংবা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেরও রাজনৈতিক ট্যাগ থাকে এইসব অস্বীকার করবার কিছু নাই।

জামাতীরা রোহিঙ্গাদের নামে, ইসলাম প্রচারের নামে হাজার হাজার কোটি টাকা দেশে নিয়ে আসছে। ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে না থাকতে পারলেও তাদের অর্থনৈতিক সক্ষমতা এবং সমর্থকদের পারিবারিক আর্থিক সামর্থ্য অন্যান্য দলের সাধারণ সমর্থকদের চেয়ে অনেক বেশি। দল থেকে সহায়তা, নিজস্ব প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ সহ আরও নানা সুবিধা পেতো দলীয় কর্মীরা, এইসব কারণে দলের প্রতি আনুগত্যও অনেক বেশি।

একটা কথা অস্বীকার করা যাবে না যে এইদেশে জামাতের মধ্যেই দলের অভ্যন্তরীন গণতন্ত্র সবচেয়ে বেশি। এক নেতার কল্লা পইরা যাক, আরেকজন চুপিসারে আইসা দাঁড়াইয়া যাবে। তৃণমূল থেকে দলের উপরের স্তরে পৌছানোর প্রক্রিয়াটা অন্যান্য প্রধাণ দলের চেয়ে বেশি গণতান্ত্রিক এবং কোন্দলমুক্ত। দেশে নানা দলের দুই গ্রুপের মধ্যে মারামারির কাহিনী শুনছি, খবরেও আসে, কিন্তু জামাতের বা শিবিরের দুই গ্রুপে মারামারি কিংবা কথা কাটাকাটি হইছে এমন কাহিনী আমার জানা নাই।

যাইহোক, জামাত শিবিরের সমর্থকেদের ভিতর এখনো স্বাধীনতা নিয়ে ক্ষোভ আছে। হাজার অকাট্য প্রমাণের পরেও তারা গণহত্যা নিয়ে প্রশ্ন করবে। দাবী করবে কাদের মোল্লা সুইট কিউট নিরীহ তরুণ ছিল ৭১-এ, যাকে তার মা বাড়িতে মুখে তুলে দুধভাত খাওয়াইয়া দিতো, এতটাই সহজ সরল আলাভোলা ছিল সে। বাই দ্য ওয়ে, আমি ছোটবেলায় পড়তাম মনিপুর স্কুলে, মনিপুরেই ছিল কাদের মোল্লার আদি বাড়ি এবং আমি যখন ক্লাস থ্রি-ফোরে পড়ি, আমার ওই এলাকায় স্থায়ী বাসিন্দা পিচ্চিকালের ক্লাসমেট এমনি এমনি বলছিলো যে, “ওইটা রাজাকার কাদের মোল্লার বাড়ি।” ওই এলাকার সদ্যজাত সারমেয় বেবী, তেলাপোকা পাখির বাচ্চাও জানে ওইটা কার বাড়ী, সে কী ছিল। জামাতই জানলো না আর মানলো না। তাদের স্বভাব এবং বিশ্বাস খুবই সরল কিনা…

এই দলটার প্রভাব নষ্ট করা এবং শক্তির উৎসগুলো নির্মুল করা জরুরী। এরা ৭১-এ নিজেদের অমানুষ প্রমাণ করে আসছে এবং দেশের স্বাধীনতা পরবর্তী রাজনীতিতে এদের কালোছায়া বিপদজনক। আদর্শগতভাবে এরা সাম্প্রদায়িক রাজনীতি করে। এদের নেতা মওদুদীরও নাকি হত্যার দায়ে ফাঁসি হওয়ার কথা ছিল, মওদুদীর আসল বাপ সৌদি বাদশাহর কান্নাকাটিতে প্রাণে রক্ষা পায়।

সরকারের অনেক কাজ সমর্থন করি না। কিন্তু চুপচাপ, টু শব্দ না কইরা জামাতকে যে বাঁশটা সরকার দিতেছে এজন্য খুশী। সরকার একদিনে কাজটা করে নাই। গতবছর থেকেই পরিচালনা পর্ষদে সরকারের প্রতিনিধি যায়, এইবার পরিচালনা পর্ষদ মোটামুটি জামাতের হোমরা চোমরাদের প্রভাবের বাইরে চলে আসলো। জামাতের রাজনীতি নিষিদ্ধ করলে সেইটা হইতো ভয়াবহ। অন্য নামে আবার চলে আসতো। কারণ, সমর্থকেরা সমর্থন থামাতো না এবং চেইন অফ কমান্ড খুবই ভালো দেখে নতুন নামে দাঁড়িয়ে যাওয়া কোন ব্যাপারই হতো না। নতুন নামের অঘোষিত শত্রুর চেয়ে ঘোষিত প্রকাশ্য শত্রু ভালো। একইরকম ভাবে মাদ্রাসা এবং অন্যান্য ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকেও নজরদারীতে আনা দরকার। এক হেফাজতে ইসলাম যে শোডাউন করছিলো ঢাকায়, সেইটা সরকার থামাইলেও এরচেয়ে বড় শোডাউনের সামর্থ্য তারা এখনো রাখে। আর একসাথে তেহেলকা মাচানোর জন্যও দরকার আর্থিক সংগতি। অর্থভান্ডার নিজেরাই এককভাবে নাড়াচাড়া করার ক্ষমতা না থাকলে অনেক গোপন জঙ্গিবাদী কার্যক্রম চালানো কঠিন হবে। নাইলে দেখা যাবে মধ্যপ্রাচ্য থেকে দান আসলো এতিমদের শিক্ষার কামে, খাওয়ানোর নামে, আর চইলা গেল রামদা কিনতে। কতটুকু সম্ভব জানি না, কিন্তু নজরদারী দরকার।

এই সরকার আরও ৫-১০ বছর টিকলে দেশের কি হবে কে জানে? কিন্তু জামাতে যে শক্তি হারাবে তা ফিরে পাইতে বছর দশ-বিশ লাগবে। খুব একটা খারাপ হবে না কিন্তু…

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

48 − = 39