গুমোট আঁধারে দিকশূন্য উড়ে অস্তিত্বের চিত্রাবলী

গুমোট আঁধারে দিকশূন্য উড়ে অস্তিত্বের চিত্রাবলী,
এ যেন অলৌকিক অবিশ্বাস্য!
তারাদের ঘুমগোলিতে ল্যাম্পের নিভু আলো,
হলদে রাঙ্গা পথে নিভৃতে পথিক চলে,
ভেতরে বেঁচে থাকা এক পরিচিত হেয়ালী পৃথিবীতে।
সেই যে – ভুল করে একদিন
ব্যাকুল চিত্তে পথিক গিয়েছিলো ভালোবাসার হেমলক!
সেই থেকে, বিষাদের নীলাভ বিষে পুড়ছে
পথিকের অন্তর আত্মা।
সংখ্যাতীত না-বলা কথামালা
বোকা মুখ করে দাঁড়িয়ে আছে
দৃশ্যহীন বিষন্ন আঁধারে!
বেদনার শ্লোক বুনে পথিক মেটায়
সমবেদনার মলিন সান্ত্বনা।
একাকীত্বের কাছে হাত পাতে পথিক
মিনতির নির্বাক আবেদন শুনতে পায়না কেউ।
একাকীত্বের আর্তনাদে জড়ানো
এখানে যন্ত্র দানবের চিৎকার, হারিয়ে
খুঁজে পাওয়া ধ্বংসাবশেষের শুদ্ধ চিহ্ন
যে চিহ্নে আঁধার শিকল নিত্য প্রবাহমান।
নৈশব্দের আড়ালে লুকানো
নিঃশ্বাসের দীর্ঘশ্বাস কে শুনে ?
সময় এখানে এসে থমকে দাঁড়িয়েছে
ল্যাম্পপোস্টের খুঁটি ধরে !
ঘড়ির কাটা দৌড়ে পালাচ্ছে,
আর ভালোবাসা নিশ্চুপ ঘুমাচ্ছে।
পথের পাশে চায়ের দোকানটার
খোঁড়া বেঞ্চীতে বসে আনমনে
সিগারেটের ধোয়া উড়াচ্ছে নিশাচর পথিক,
রাত কখন শুরু কখন শেষ খবর রাখে না সে।
সমান্তরাল রেললাইন ধরে যখন
ছুটে আসে নৈশকালীন শেষ ট্রেন
কু- ঝিক -ঝিক শব্দে, নিশাচর বুঝতে
পারে রাত দ্বিপ্রহর ছাড়িয়েছে।
পূর্ণতিথির জ্যোৎস্না জোয়ারও হেলে
পড়েছে সকালের আগমনি বার্তায়।
সিগারেটের ধোয়ার সাথে নিশাচরের
ঘুমগুলো বাতাসে উড়ছে তো উড়ছে।
কথা হচ্ছিল আকাশের সাথে অনশনরত
ধূসর কাপড়ে জড়ানো মেঘেদের,
অস্থির চিত্ত অঙ্কুরিত চোখের পাতায়
কিছু নীল নিহত হয়ে লাশ হয়েছে আজ,
নৈশব্দের গায়ে কিছু অজ্ঞাত স্মৃতি
হাতড়ে পথ চলেছে পথিক নিত্য দিন।
অযাচিত কিছু অনুভূতি কিছুক্ষণ
নোনা জলের বৃষ্টিতে ভিঁজিয়ে
প্রভাতের আগমন।
অতঃপর একটি ব্যস্ত দিবসের
কারাদণ্ডে স্বেচ্ছায় প্রবেশ।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

− 2 = 1