ইচ্ছে লাইব্রেরী, বই পড়তে ইচ্ছেই যথেষ্ট!

বই কি সাজিয়ে রাখার জিনিস?
আমাদের সংগ্রহে থাকা ১০০টি বই কোন কাজে আসছে ঘরের সৌন্দর্য বৃদ্ধি ছাড়া?
নাহ।
বই শোপিজ না। সংগ্রহ করে সাজিয়ে রাখার জিনিস বই না। এর জন্মই হয়েছে পাঠক সঙ্গমের জন্যে। পাঠকের চোখ বইয়ের খোলা পাতার উপরে না পড়লে বইয়ের সৃষ্টিই বৃথা। মিথ্যে তার জন্ম।

তাই আপনার পড়ে শেষ করা বইটি অন্যকে পড়তে দিন। শেল্ফে সাজিয়ে না রেখে কাউকে পড়তে পাঠিয়ে দিন। সার্থক করুন একেকটি বইয়ের জন্ম।

ইচ্ছে করলে আপনি দারুণ কিছু একটা করে ফেলতে পারেন এই বই গুলো দিয়ে। আচ্ছা! অন্যকাউকে পড়তে দেয়ার শর্তে কাউকে বইগুলো পাঠালে কেমন হয়, তাকেও একই শর্তে অন্যকে পাঠাতে অনুরোধ করলে? কুরিয়ার খরচ বেশি না, ইচ্ছে করলেই কিন্তু এটা করা যায়! একবার ভাবুন, এভাবে একটা বই অনেক জনের পড়া হয়ে যাচ্ছে, যেখানে বইটি শুধু শুধু শেল্ফে থাকতো পড়ে 🙁

আপনি যদি এই আইডিয়াকে একটি দারুণ আইডিয়া মনে করেন তাহলে ইচ্ছে লাইব্রেরী আপনার জন্য। আসুন পরিচিত হই ইচ্ছে লাইব্রেরী এর সাথে।

ইচ্ছে লাইব্রেরী অন্যকে পড়তে দেয়ার শর্তে, চাহিদার ভিত্তিতে কুরিয়ার করে বই পাঠিয়ে দেয়ার একটি লাইব্রেরী। দুই ভাবে এই লাইব্রেরী থেকে বই দেয়া নেয়া করা যায়

ক. মালাঃ পড়া শেষে অন্য একজন কে কুরিয়ার করে পাঠিয়ে দেবে (বইয়ের সূতোয় পাঠকের মালা)
খ. ধারঃ পড়া শেষে বই সরাসরি বইয়ের মালিকের কাছে ফেরত যাবে।

পুরো ব্যাপারটি মেইনটেইন করার জন্যন্য ফেসবুকে একটি গ্রুপ খোলা হয়েছে। যেখানে পোস্ট করে বই দেয়া নেয়া করতে পারবেন। চাইলে লাইব্রেরিয়ান হিসেবেও যোক দিতে পারেন ইচ্ছে লাইব্রেরী এর সাথে।

অতি উৎসাহীদের জন্য এই অংশ-

প্রথমে নিশ্চিত করুন আপনি অন্যকে পড়তে দেয়ার শর্তে, চাহিদার ভিত্তিতে কুরিয়ার করে বই পৌঁছে দেয়া আদর্শে বিশ্বাসী।

কী পড়তে আগ্রহী লিখে পোস্ট করুন, কাছে থাকলে কেউ না কেউ আপনাকে পাঠিয়ে দেবে।
আপনার পড়া বইটি অন্যকে পড়তে দিতে পারেন। সে ক্ষেত্রে বইটির নাম উল্লেখ করে পোস্ট করতে হবে। যে কোন এক শর্তের ভিত্তিতে পড়তে দিতে পারেবেন।

বই দেয়া দেয়া নেয়ার ক্ষেত্রে অবশ্যই
১. পূর্ণ ঠিকানা এডমিনকে জানাতে হবে।
২. প্রেরককে কুরিয়ার খরচ বহন করবে।
৩. তিন সপ্তাহের বেশি কোনো বই নিজের কাছে রাখা যাবে না।
৪. বই পড়া শেষ হলে গ্রুপে জানিয়ে পোস্ট করতে হবে, পরে কমেন্টের ভিত্তিতে অন্য একজনকে পাঠিয়ে দিতে হবে।
৫. আরেকজন কে পাঠানোর আগে বইয়ে নিজের একটি সিগনেচার করতে হবে।
৬. বই হারিয়ে বা নষ্ট করে ফেললে কিনে দিতে হবে।

দুই ক্যাটাগরিতে বই পড়তে দিতে পারেন

ক. মালাঃ পড়া শেষে অন্য একজন কে কুরিয়ার করে পাঠিয়ে দেবে (বইয়ের সূতোয় পাঠকের মালা)
খ. ধারঃ পড়া শেষে বই সরাসরি বইয়ের মালিকের কাছে ফেরত যাবে।

বইয়ের মালিক যদি মনে করেন তিনি আর মালা গাঁথবে না তাহলে চলতি পাঠক বই পড়া শেষে তাকে কুরিয়ার করে ফিরিয়ে দেবে।

#যে কোনো অবস্থাতে ” ইচ্ছে লাইব্রেরী ” বইয়ের মালিককে বই ফেরত দিতে বাধ্য থাকবে।

ইচ্ছে লাইব্রেরিতে বইপোকাদের অংশগ্রহণ, পরামর্শ এবং সহযোগিতা খুবি প্রয়োজন। আমি বিশ্বাস করি বইপোকারা পাশে থাকবে।

গ্রুপে টু মারতে- https://m.facebook.com/groups/1699353097023401?_rdr

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

২ thoughts on “ইচ্ছে লাইব্রেরী, বই পড়তে ইচ্ছেই যথেষ্ট!

  1. চমৎকার উদ্দ্যেগ;
    চমৎকার উদ্দ্যেগ;
    কিন্তু চিন্তা হয়, কুরিয়ার খরচের ধাক্কায় এটা টিকবে কী?
    একটা বই প্যাকেট করে প্রেরণের জন্য রিক্সা ভাড়া সহ প্রায় ৭০ থেকে ১০০ টাকা খরচ হবে!

    তবে যদি অাপনারা বইয়ের জন্য খাম প্রিন্ট করে নিতে পারেন, এবং ২/৩ টি কুরিয়ারের সাথে চুক্তি করে নিতে পারেন, তবে ৩০ থেকে ৫০ টাকায় বই প্রেরণ সম্ভব!

    প্রেরক বইয়ের সাথে একটি নতুন খাম যুক্ত করে পাঠিয়ে দেবে!

    যদি এমন করতে পারেন তবে সফল হবেন, না হলে অাশা দেখি না!

    1. ধন্যবাদ আপনাকে!
      ধন্যবাদ আপনাকে!
      সুন্দরবন কুরিয়ারে এক কিলোর কম বই পাঠাতে ৩০টাকার মত পড়ে। ইচ্ছে থাকলেই পাঠানো যায়।

      ইচ্ছে লাইব্রেরির কার্যক্রম এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। কার্যক্রম সামনে এগিয়ে নিয়ে যেতে কিছু ডেডিকেটেড মানুষ পাশে প্রয়োজন। তেমন কাউকে পাচ্ছি না। আগ্রহী হলে আপনিও যুক্ত হতে পারেন।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

− 4 = 1