বুদ্ধ দর্শনের শূন্যবাদঃ

বুদ্ধের শূন্যবাদ/আপেক্ষিকবাদ:[The madhamika School of Sunyavada]

১.১ বুদ্ধ ধর্মের অন্যতম অনুসারী মাধ্যমিক সম্প্রদায়ের প্রবর্তক সুপ্রসিদ্ধ বৌদ্ধ দার্শনিক নাগার্জুন। মাধ্যমিক সম্প্রদায়ের দার্শনিক মতবাদই হলো শূন্যবাদ যার অপর নাম আপেক্ষিকবাদ( The theory of relativity).এই শূন্যবাদ অনুসারে সবকিছু শূন্য।

১.২ এই শূন্যবাদ অনুসারে, জড় জগত ও মনোজগত সবই মিথ্যা। নাগার্জুনের এই শূন্যবাদ বুদ্ধের প্রতীত্য সমুৎপাদ, যে মতাবাদ অনুসারে সবকিছু শর্তাধীন তা থেকে নিঃসৃত।

১.৩ শূন্যতা মানে কার্যকারন ও শর্তহীনতা। Cause & condition ব্যতীত যে ইন্দ্রিয়গ্রাহ্যহীনতা।
নাগার্জুন এর মতে বস্তুর সকল ধর্মই উৎপত্তির দিক থেকে শর্ত সাপেক্ষ, অতএব শূন্য।

১.৩ শূন্যবাদকে আপেক্ষিকবাদও বলা হয়। কারন শূন্যবাদ অনুসারে, কোন বস্তুকে বা বস্তুর ধর্মকে জানতে চাইলে বস্তুর সঙ্গে উহার সম্বন্ধের মাধ্যমে জানতে হয়। আপেক্ষিকবাদের মত এ মতবাদ স্বীকার করে যে, কোন বস্তুর এমন কোন ধর্ম নেই যা সম্পূর্ন আত্মনির্ভর।

১.৪ মাধ্যমিক দর্শন জগতকে দুই ভাবে স্বীকার করে। ১) কার্যকারন ও শর্তাধীন অবভাসিক জগত( world of appearance এবং ২) পরমার্থিক / অন্তঃসারের জগত।
এ দর্শনে পরমার্থিক জগতে অনিত্যতা, পরিবর্তনশীলতা, কার্যকারন সম্পর্ক প্রযোজ্য নয়।

১.৫ এখানে উল্লেখ্য যে, নাগার্জুনের শূন্যবাদী দর্শনের প্রতিষ্ঠা পায় খ্রিস্টীয় ২য় শতাব্দীতে।
পক্ষান্তরে উনবিংশ শতাব্দিতে আইনস্টাইনের আপেক্ষিকতার তত্ত্ব বৈজ্ঞানিক সমীকরনে প্রকাশিত হয়। আইন স্টাইনের সমীকরনেরই একটি সিদ্ধান্ত হলো শূন্য থেকে মহাবিশ্বের সৃষ্টি। বুদ্ধ দর্শনের পরামার্থিক জগত ও কার্যকারনবিহীন কোয়ান্টাম অনিশ্চয়তার জগত সমার্থক।কোয়ান্টাম তত্ত্ব ও আপেক্ষিতার তত্ত্ব যুগপদভাবে বুদ্ধ দর্শনের শূন্যবাদের সঙ্গে সাংঘর্ষিক নয়। বরং বুদ্ধ দর্শনই উপরিক্ত বৈজ্ঞানিক তত্ত্বের ভিত্তি স্থাপন করেছিল।

১.৬ আপেক্ষিকতাতত্ত্বের জনক আইনস্টাইন যে, বুদ্ধ দর্শন সম্পর্কে অবগত ছিলেন তা নিজেই স্বীকার করেছেন। তিনি ইউনিভার্সাল কসমিক রিলিজন হিসেবে বুদ্ধ ধর্মকে স্বীকৃতি দেন।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

5 + 5 =