থাকুক না একটু পাগলামি ! ওইটাই তো ভালোবাসা

( ভালোবাসায় একটু পাগলামি থাকবে না তাই আবার হয় নাকি?? 🙂 )

-এটা কি?
-মাংস!তুমিই না আনতে বললে!
-আমি কিসের মাংস আনতে বলেছিলাম?
-তুমি আমাকে একশ ভাগ খাঁটি কবুতরের মাংস আনতে বলেছিলে!
-নাহিয়ান! আমি তোমাকে গরুর মাংস আনতে বলেছি! কোন কান দিয়ে শুনেছ যে গরুর নাম কবুতর শুনেছ?
-আরে বাহ! তোমার কথার তো আজকাল অনেক উন্নতি হয়েছে! তুমি বল ‘গরু!’ আর আমি শুনি ‘কবুতর’!!
-নাহিয়ান!
-দেখো নামিরা! গরুর মাংসে প্রচণ্ড চর্বি! খেলে হাজার সমস্যা। এর চাইতে তুমি কবুতরের মাংস খাও। দেখবে অনেক ভালো থাকবে। আমরা এটা দিয়ে স্যুপ বানিয়েও খেতে পারি যা স্বাস্থ্যের জন্য আরও ভালো!
-তুমি আর একটা কথা বললে এই কবুতর আমি তোমাকে গুলিয়ে খাইয়ে দিব! বাবা আসবেন রাতে। ওনাকে আমি কবুতরের মাংসের স্যুপ খাওয়াবো??
-নামিরা, তুমি কি জানো তোমার রাগান্বিত মুখ দেখতে আমার কত ভালো লাগে?যখন তুমি রাগ করো না তখন তোমার এই ফর্সা মুখখানা একদম লাল হয়ে যায়! রাগের জন্য চোখের পাপড়ি গুলো কাঁপতে থাকে! আর যদি তখন চোখে কাজল থেকে থাকে তাহলে তো কথাই নেই!
-চোখের পাপড়ি কিভাবে কাঁপে? তুমি আমাকে চোখের ইতিহাস শেখাচ্ছ??
-আরে বাহ! এটা ইতিহাস কেন হতে যাবে! এটা হচ্ছে চোখের ভাষা। দেখো, তুমি যখন রাগ করবে তখন তোমার চোখ একরকম থাকবে, যখন হাসবে তখন এক রকম, যখন কাজ করবে তখন এক রকম। তোমার এই মুহূর্তে…
-তুমি থামবে?? তোমার সাথে কথা বলছি কবুতর নিয়ে। তুমি চোখ পর্যন্ত চলে গেলে কি করে??
-বলছি কারণ তোমাকে এই মুহূর্তে অপ্সরীর মত লাগছে। রাগান্বিত অপ্সরী! এই রকম রাগী লাল চেহারা তো আর সব সময় দেখা যায় না! নেহাত মাংস আনতে ভুল করেছিলাম সেই জন্যই না দেখতে পেলাম!
নামিরা হেসে ফেললো। এই ছেলের উপর বেশিক্ষণ রাগ করে সে কিছুতেই থাকতে পারে না!
-ঠিক! ঠিক এই হাসিটার জন্যও আসলে অপেক্ষা করছিলাম!
-অনেক হয়েছে এই হাসি দেখা। এবার যাও। যা আনতে বলেছিলাম নিয়ে এসো। রান্নার দেরি হয়ে যাচ্ছে!
-যাচ্ছি গো যাচ্ছি! আবার একটু হাসো তো! দেখে তারপর যাই!
নামিরা এক প্রকার ধাক্কা দিয়ে নাহিয়ান কে বাজারে পাঠালো।
( ভালোবাসায় একটু পাগলামি থাকবে না তাই আবার হয় নাকি?? 🙂 )

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

9 + 1 =