উদ্বাস্তুঃ তীর্থের কুহকের কবিতাগুচ্ছ (১)

শোনা যাচ্ছে শিশুর ভয়ার্ত আকুতি-
তাকিয়ে আছে সাহায্যের জন্য ।
ভীতু,তবে তোমার বিনিময়ে আরেকদিন বাঁচবে বেশী একটি জীবন;
সন্তানটি তোমার কাটাবে আরেকটি প্রহর ।
তবে কেউ আপনার সাহায্যের জন্য আসেনি, উদ্বাস্তু।
আমি লজ্জিত -তুমি বাঁচতে পারো নি।

আপনারা পরিবার একত্রিত করে মৃত্যুস্তুপের ভেতর দিয়ে পালিয়ে যান
আপনার বাড়িটি গুড়িয়ে গেছে মধ্যরাতে ।
বিদ্রোহী বিপ্লবীরা সরকারী বাহিনী কে হত্যা করে গুলি করে
খ্যাপাটে চরমপন্থিরা গলা কাটে স্ত্রীলোকের
গলা কাটে শিশুর
কোন দয়া নেই – যেন পশুর মত
বন্য।
আপনার নাম কারো জানা নেই, উদ্বাস্তু।
অর্থ নেই, খাবার নেই ,নেই কোন জল
নেই পরিকল্পিত কোন পদক্ষেপ ।
অনেককে পিছনে ফেলে পায়ে হেঁটে
করছো তুমি মুক্তির এক মরিয়া অনুসন্ধান ।
কি পাবে খুঁজে-জানা নেই ।
দিনের তাপে পায়ের পাতার ব্যাথা ও হৃদয়ের রক্তক্ষরণ মালিশে প্রশমিত করুন আপনার আপনজনেরা সারা রাত শিশিরের মধ্যে গাদাগাদি করে
ওখানে কেউ আপনাকে সাহায্য করার নেই, শরনার্থী ।
নেই কোন সেতু এমন বাধা পেরুবার
ক্ষুধার্ত দৃষ্টিতে সমুদ্র তাকিয়ে আছে- আত্মা ভোজনের।
অনেক জীবন- ডিঙ্গি নৌকা
একটি উত্তাল তরঙ্গে উল্টে গেল।
শোনা যাচ্ছে শিশুর ভয়ার্ত আকুতি-
তাকিয়ে আছে সাহায্যের জন্য ।
ভীতু,তবে তোমার বিনিময়ে আরেকদিন বাঁচবে বেশী একটি জীবন;
সন্তানটি তোমার কাটাবে আরেকটি প্রহর ।
তবে কেউ আপনার সাহায্যের জন্য আসেনি, উদ্বাস্তু।
আমি লজ্জিত -তুমি বাঁচতে পারো নি।

© ১৪ ডিসেম্বর’১৬

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

+ 82 = 86