পাকিস্তানীরা ৭১-এ কেমন লড়েছিল?

মুক্তিযুদ্ধে ৩০ লাখ কিংবা এমন সংখ্যক বাঙ্গালী হতাহতের হিসেবের বাইরে। সম্ভবত ২২০০০ মুক্তিযোদ্ধা নিহত হয়েছিলেন। মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা ছিল ২-৩ লাখ। ইন্ডিয়ান বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স এবং সেনা সদস্যরাও ডিসেম্বরের আগে থেকেই মুক্তিবাহিনীর অনেক অপারেশনে সাহায্য করেছে, অংশ নিয়েছে, ফায়ার সাপোর্ট এবং নির্দেশনা দিয়েছে। ডিসেম্বরে আরতীয় বাহিনীর প্রায় তিনটি কোরের ৮ ডিভিশন সেনা বাংলাদেশে মুক্তিবাহিনীর সহায়তায় অভিযান শুরু করে আনুষ্ঠানিক যুদ্ধ ঘোষণার পর। শক্তিশালী নৌবাহিনীর মাধ্যমে বঙ্গোপসাগরে ছিল নেভাল ব্লকেড। বিমান বাহিনীর একমাত্র জঙ্গী বিমানের বহর ১৪ নং স্কোয়াড্রন এফ-৮৬ স্যাবর জেট অপারেট করতো কেবলমাত্র ঢাকা থেকে। ইন্ডিয়ানদের ছিল চতুর্দিকে প্রায় ৫ টি মেইন এয়ারবেস এবং ১০ টির বেশি জঙ্গী বিমানের স্কোয়াড্রন।

এত বিশাল ভূখন্ড দখলে রাখতে পাকিস্তানের প্রয়োজন ছিল অন্তত ১০ ডিভিশন সেনা, শক্তিশালী নো এবং বিমান বাহিনীর উপস্থিতি, সাথে প্যারামিলিটারী বাহিনীর সদস্যদের। জনগনের কমপক্ষে ৯০ শতাংশের প্রত্যক্ষ কিংবা নীরব সমর্থন ছিল স্বাধীনতার পক্ষে। এত বিশাল জনগোষ্ঠীকে অস্ত্রের মুখে দমিয়ে রাখতেও দরকার ছিল বিপুল সংখ্যক সেনার।

বিজয়ের মাস শেষ। আজকে যা লিখব সেটা বিজয়ের মাসে লিখলে নানা প্রসঙ্গ টেনে ত্যানা পেচিয়ে কেউ কেউ ছাগু ট্যাগ দিয়ে দিতে পারতো, এখনো আশংকামুক্ত না। তবে আমার নিজের ধারণা, জানাশোনা, উপলব্ধির ব্যাপারগুলো শেয়ার করা দরকার। এ থেকে আলোচনা হয়, আক্রমণও হতে পারে। হয়তো প্রশ্নও করবে অনেকে, দেখা যাবে নিজেই উত্তর পাচ্ছি না। আর এই উত্তরহীনতা থেকেই উত্তর খুঁজে পাবো, উপলব্ধি পাল্টে যাবে।

বাংলা আর বাংলাদেশের আদি ইতিহাস, স্বাধীনতা যুদ্ধের নানা গতিবিধি নিয়ে আগ্রহ সবসময় ছিল। বাঙ্গালীর বীরত্বের কাহিনী পড়তেও ভালোলাগতো। সেটা ঈসা খাঁ-ই হোক কিংবা ফ্লাঃ লেঃ মতিউর রহমান। বারবার পড়েছি এইসব কাহিনী। তবে আজকের পোস্ট পাকিস্তানীরা কেমন লড়াই করেছিল মুলত সেটা নিয়ে। আমার ব্যক্তিগত অভিমত হচ্ছে তারা একটা অন্যায় যুদ্ধ যথেষ্ঠ বীরত্বের সাথে কিংবা দক্ষতার সাথে লড়েছিল নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও, অন্তত যুদ্ধের শেষদিকে। মুক্তিযুদ্ধের শুরু থেকে প্রায় জুন-জুলাই পর্যন্ত দেশের নিয়ন্ত্রণ ধীরে ধীরে পাকিস্তানীদের হাতে চলে আসে। দেশীয় দোসরেরা সঙ্ক্রিয় হয় এবং পাকিস্তানীরা সম্ভবত ভাবতে শুরু করে পূর্ব পাকিস্তানকে বাগে আনা গেল। কিন্তু জুলাইয়ের পর থেকেই পাশার দান উল্টে যেতে শুরু করে। এরপর এত দ্রুত মুক্তিযুদ্ধের গতিবিধি বাঙ্গালীদের পক্ষে পাল্টে যেতে শুরু করে যেটা স্মভবত কারো কল্পনাতে ছিল না। ডিসেম্বর মাসের ঘটনাবলী ছিল নাটোকীয়। বাঙ্গালী কিংবা ভারতীয়রা কেউই হয়তো ভাবেনি এত তাড়াতাড়ি বাংলাদেশ স্বাধীন হবে। ভারতের সক্রিয় সমর্থন না পেলে এই যুদ্ধ চলতে পারতো আরো অনেক লম্বা সময় ধরে। হয়তো আরো ৫ কিংবা ১০ বছর, কিংবা আরও বেশি। প্রতিটা বুলেটের দাম আছে, প্রতিটা অস্ত্র মুল্য দিয়েই কেনা লাগে। অস্ত্র, গোলাবারুদের বাইরেও ভারতীয়রা যে প্রশিক্ষণ আর আশ্রয় দিয়েছে, আন্তর্জাতিক সমর্থন আদায়ের জন্য চেষ্টা করেছে, তাতে ভারতীয়দের যে স্বার্থই থাকুক না কেন, বাংলাদেশীদের কৃতজ্ঞতা স্বীকার করতেই হবে।

যাইহোক, মুক্তিযুদ্ধে ৩০ লাখ কিংবা এমন সংখ্যক বাঙ্গালী হতাহতের হিসেবের বাইরে সম্ভবত ২২০০০ মুক্তিযোদ্ধা নিহত হয়েছিলেন। মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা ছিল ২-৩ লাখ। ইন্ডিয়ান বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স এবং সেনা সদস্যরাও ডিসেম্বরের আগে থেকেই মুক্তিবাহিনীর অনেক অপারেশনে সাহায্য করেছে, অংশ নিয়েছে, ফায়ার সাপোর্ট এবং নির্দেশনা দিয়েছে। ডিসেম্বরে আরতীয় বাহিনীর প্রায় তিনটি কোরের ৮ ডিভিশন সেনা বাংলাদেশে মুক্তিবাহিনীর সহায়তায় অভিযান শুরু করে আনুষ্ঠানিক যুদ্ধ ঘোষণার পর। শক্তিশালী নৌবাহিনীর মাধ্যমে বঙ্গোপসাগরে ছিল নেভাল ব্লকেড। বিমান বাহিনীর একমাত্র জঙ্গী বিমানের বহর ১৪ নং স্কোয়াড্রন ১৪-১৬টি এফ-৮৬ স্যাবর জেট অপারেট করতো কেবলমাত্র ঢাকা থেকে। ইন্ডিয়ানদের ছিল চতুর্দিকে প্রায় ৫ টি মেইন এয়ারবেস এবং ১০ টির বেশি জঙ্গী বিমানের স্কোয়াড্রন।

এত বিশাল ভূখন্ড দখলে রাখতে পাকিস্তানের প্রয়োজন ছিল অন্তত ১০ ডিভিশন সেনা, শক্তিশালী নৌ এবং বিমান বাহিনীর উপস্থিতি, সাথে প্যারামিলিটারী বাহিনীর পর্যাপ্ত পরিমাণ সদস্য। জনগনের কমপক্ষে ৯০ শতাংশের প্রত্যক্ষ কিংবা নীরব সমর্থন ছিল স্বাধীনতার পক্ষে। এত বিশাল জনগোষ্ঠীকে অস্ত্রের মুখে দমিয়ে রাখতে দরকার ছিল বিপুল সংখ্যক সেনার। নিরস্ত্র জনগণের উপর নির্বিচার হত্যাকান্ডে সেনা সংখ্যা কম লাগে, কিন্তু নিয়ন্ত্রণ এবং পর্যবেক্ষণে রাখতে দরকার বিপুল সংখ্যায় শারিরীক উপস্থিতি। জেলা শহর, মহকুমা শহর কিংবা স্থানীয় ক্যাম্প থেকে বের হয়ে গিয়ে সন্দেহবশত অথবা দমনের নামে নির্বিচারে গ্রাম পোড়ানো যায়, মানুষ মারা যায়, নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা সম্ভব হয়না। মুক্তিযুদ্ধের সময় দেশীয় দোসরেরা সাময়িক কমফোর্ট দিয়েছিল এই ব্যাপারে, তবে সমগ্র জনগোষ্ঠী যখন প্রতিপক্ষ হয়ে দাঁড়ায়, তখন সেই স্বল্পসংখ্যক দেশীয় দোসরের সহযোগিতায় গড়া দূর্গ তাসের ঘরের মত ভেঙ্গে পরতে বাধ্য।

মার্চের আগে এদেশে পাকিস্তানীদের নিয়মিত ডিভিশন ছিল মাত্র ১ টি। সেটাও ছিল আন্ডার স্ট্রেন্থ। মার্চের মাঝামাঝি থেকে পশ্চিমের আরও দুটো ডিভিশনকে রাতারাতি উড়িয়ে আনা হয়। যদিও ভারী অস্ত্র বিমানে উড়িয়ে আনা সেভাবে সম্ভব ছিল না। মুক্তিযুদ্ধের শেষ পর্যায়ে বাংলাদেশে পাকিস্তানীদের তিনটি ডিভিশন ছিল যার শক্তি ছিল প্রায় ৫০ হাজার। সেখানেও কামান, ট্যাঙ্ক সহ ভারী অস্ত্রে স্বাভাবিক ফর্মেশনের তুলনায় কম ছিল। পশ্চিমা প্যারামিলিটারী এবং রাজাকার আলবদর সহ এদেশীয় দোসরদের প্যারামিলিশিয়া বাহিনীও পাকিস্তানী বাহিনীকে সহায়তায় থাকে, যাদের সংখ্যা ছিল আনুমানিক ৫০ হাজার থেকে ১ লাখ। যে ৯০ হাজার সেনার আত্মসমর্পনের কথা আমরা জানি সেটা পশ্চিমা প্যারামিলিটারী বাহিনীর সদস্যদের হিসেব করেই।

এই হিসেব থেকে দেখা যায় যে মুক্তিযুদ্ধের শেষভাবে পাকিস্তানীদের প্রায় ১ লাখ প্রশিক্ষিত সেনা এবং সর্বোচ্চ ১ লাখ দেশীয় সশস্ত্র দোসর সহ সামরিক জনবল ছিল সর্বোচ্চ দুই লাখ। সেখানে সমগ্র দেশের সমর্থন চেনা অঞ্চলে মিত্রবাহিনীর সদস্য সংখ্যা ছিল কমপক্ষে সাড়ে চার থেকে ৫ লাখ। পাকিস্তানী নৌ এবং বিমান বাহিনী ছিল প্রায় অক্ষম। পূর্ব পাকিস্তানে পশ্চিম পাকিস্তানীদের সামরিক স্থাপনা কম রাখা মুক্তিযুদ্ধের গতিবিধির জন্য এক অর্থে ভালোই হয়েছিল। স্বাভাবিক হিসেবে এখানে অন্তত ৫-৬ ডীভিশন সেনা, ৫-৬ স্কোয়াড্রন জঙ্গী বিমান এবং নৌ বাহিনীর অন্তত অর্ধেক শক্তির উপস্থিতি থাকবার কথা ছিল জনসংখ্যার বিচারে। সেইদিকে পশ্চিমারা সবসময় উদাসীন ছিল, এমনকি ৬৫ সালের পাক ভারত যুদ্ধের পরেও এই অবস্থা পাল্টায়নি।

নভেম্বরের শুরু থেকেই পাকিস্তানীদের অবস্থা খারাপ হতে শুরু করে। প্রশিক্ষণ শেষে দলে দলে মুক্তিযোদ্ধারা দেশের অভ্যন্তরে ঢোকা শুরু করে। পশ্চিম সীমান্তে পাকিস্তান ভারতকে আক্রমণ করে শেষ ভুলটা করে বসে। ভারত সরকারও এই সুযোগটা পেয়ে যায়, যার জন্য অনেক আগে থেকেই প্রস্তুতি চলছিলো।

ডিসেম্বরে পূর্ণদ্যমে যুদ্ধ শুরু হবার পরের সময়টা পাকিস্তানীদের জন্য ছিল ভয়াবহ। কিন্তু খুলনা, হিলি, কামালপুর, চট্টগ্রাম সহ দেশের অনেক স্থানে ৩ থেকে চারগুন শক্তিশালী মিত্রবাহিনীর বিরুদ্ধে তারা লড়তে থাকে। বিশেষ করে হিলির যুদ্ধ ছিল পাকিস্তানীদের জন্য এক অসম লড়াই। কামালপুর বিওপি দখলের জন্য বারবার মুক্তিবাহিনী এবং মিত্র বাহিনীর আক্রমণ এবং হিলির যুদ্ধ সম্ভবত বাংলাদেশ এবং পাকিস্তান মিলিটারী একাডেমীতে পড়ানো হয়। অন্তত এই দুই জায়গায় পাকিস্তানীরা অবিশ্বাস দৃঢ়তা দেখায় অবস্থান ধরে রাখতে। জেঃ নিয়াজী ঢাকায় আত্মসমর্পণ করবার পরেও দেশের নানা স্থানে লড়াই অব্যাহত থাকে। কিছু অঞ্চলে স্থানীয় কমান্ডার আত্মসমর্পণে রাজী ছিলেন না দেখে কমান্ডার পরিবর্তন করে আত্মসমর্পণের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা হয়। ডিসেম্বরের ২০ তারিখের পর এই অবস্থার উন্নতি হয় এবং সমগ্র অঞ্চল মিত্র বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে আসা শুরু হয়।

মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশে পাকিস্তানীদের প্রায় ১০ হাজার সেনা নিহত হয়। রাজাকারদের হিসাব জানি না। মুক্তিবাহিনীর সদস্য মারা যান প্রায় ২২০০০। ভারতীয় বাহিনীর ৩-৫ হাজার সেনা প্রাণ হারান। নিহতের পাল্লা বাঙ্গালী আর ভারতীয়দের দিকেই ভারী। তবে এর পেছনে কারণও আছে। প্রথাগত যুদ্ধে আক্রমণ খুবই কঠিন কাজ। এই জন্য প্রতিরক্ষামুলক অবস্থানে থাকা শত্রুর উপর সফল আক্রমণের জন্য ৩ গুণ সেনার প্রয়োজন হয়। আর পাকিস্তানীরা ছিল সুরক্ষিত প্রতিরক্ষামুলক অবস্থানে। যুদ্ধের শেষদিকে কমপ্লিট এয়ার সুপেরিওরিটি না থাকলে এইসব অবস্থান থেকে পাকিস্তানীদের হটানো আরও কঠিন হতো। আর আক্রমণে থাকা বাহিনীর নিহতের সংখ্যা বেশি হয়, সেই হিসেবে প্রাণহানীর এই হিসেব স্বাভাবিক। এর বাইরে মুক্তিযোদ্ধারা সুপ্রশিক্ষিত ছিল না পাকিস্তানী নিয়মিত সেনাদের তুলনায়। ভারী অস্ত্র ছিল কম। গোলাবারুদের মজুদও থাকতো না সেভাবে। যার ফলে লড়াইয়ের সময় গোলাবারুদ শেষ হয়ে যাবার কারণে পিছু হটতে হতো হরহামেশা। এ সকল নানা কারণে প্রশিক্ষিত নিয়মিত সেনাদের বিরুদ্ধে মুক্তিযোদ্ধাদের জীবনের ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা ছিল বেশি।

পাকিস্তানীরা কেমন যুদ্ধ করেছিলো সেটা অনেকের ভাষ্যে জানা যায়। ভারতীয় জেঃ জ্যাকব তার আত্মজীবনীমুলক গ্রন্থ্যে লিখেছেন যে, Pakistanis fought gallantly. পূর্ব এবং পশ্চিম ফ্রন্টে ৭১ এর যুদ্ধ পরবর্তী পাকিস্তানীদের বেশকিছু বীরত্বের খেতাব দেয়া হয় মুলত ভারতীয় সেনা কর্মকর্তাদের সাইটেশনের উপর ভিত্তি করে। কিছু কিছু অঞ্চলের সেনাদের মাটি কামড়ে পড়ে থাকবার ঐতিহ্য আছে। এদের মধ্যে পাকিস্তানীরাও আছে। কোথায় যেন একটা কথা শুনেছিলাম, পাকিস্তানী সেনা আর ভারতীয় অফিসারদের নিয় গঠিত সেনাবাহিনী হতো আদর্শ। আমারও এমনটাই সত্যি মনে হয়। পাকিস্তানীরা জাতিগতভাবে দাম্ভিক, বিশেষ করে পাঞ্জাবীরা। আর ওই অঞ্চলের সেনারা বুদ্ধির স্বল্পতা কিংবা গোঁয়ার স্বভাবের কারণে মৃত্যুকে ওইভাবে ভয় পায়না। আবার ভারতীয় সেনাদের যুদ্ধের বাজে পরিস্থিতিতে যুদ্ধক্ষেত্র ছেড়া পালাবার বহু ইতিহাস আছে। যদিও ভারতীয় সেনা কর্মকর্তারা ট্যাকটিকস এবং বুদ্ধির বিচারে অনেক বেশি দক্ষ।

পাকিস্তানীদের সাথে আরবদের কিছু মিল আছে। আরবরা ৪৮, ৬৭ কিংবা ৭৩ সালে সংখ্যা আর অস্ত্রে অনেক বেশি থাকলেও হেরে গিয়েছিল তাদের নির্বুদ্ধিতার কারণে। অস্ত্র থাকলেই হয় না, ব্যবহারও জানতে হয়। সৌভিয়েত নেতা ৭৩ সালের আরব ইসরাইল যুদ্ধে আরবরা আবার মার খাবার পর বলেছিলেন,

“We have offered them (the Arabs) a sensible way for so many years. But no, they wanted to fight. Fine! We gave them technology, the latest, the kind even Vietnam didn’t have. They had double superiority in tanks and aircraft, triple in artillery, and in air defense and anti-tank weapons they had absolute supremacy. And what? Once again they were beaten. Once again they scrammed [sic]. Once again they screamed for us to come save them. Sadat woke me up in the middle of the night twice over the phone, “Save me!” He demanded to send Soviet troops, and immediately! No! We are not going to fight for them. ”

এই অবস্থা পশ্চিম রণাঙ্গনে পাকিস্তানীদের মাঝেও দেখা যায়। প্রস্তুতি এবং প্রযুক্তিগত সুবিধা থাকবার পরেও নানা স্থানের লড়াইয়ে তারা বীরদর্পে হেরে যায়। যার বেশিরভাগই ছিল উর্ধতন সেনা কর্মকর্তাদের ভুলে। বিংশ শতকের যুদ্ধে একজন সৈনিকের জন্য শারীরিক শক্তির চেয়ে কৌশল আর বুদ্ধির ব্যবহার বেশি জরুরী। দম্ভ এবং নিজের ক্ষমতা সম্পর্কে অতিমুল্যায়ন আত্মঘাতী ব্যাপার। একমাত্র বিমান বাহিনী ছাড়া বাকী সকল বাহিনী ৭১ এ চরমভাবে ব্যর্থ হয়। লঙ্গেওয়ালার যুদ্ধে পাকিস্তানীদের প্যাটন ট্যাঙ্কের দুইটী ডিভিশন ভারতীয়দের উন্নত সমর কৌশলের কাছে মার খায়। অথচ প্যাটন ট্যাঙ্ক ছিল সেই সময়ের অন্যতম সেরা ট্যাঙ্ক। শতশত পাকিস্তানী ট্যাঙ্ক রাজস্তানে মুখ থুবড়ে পরে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সবচেয়ে বড় ট্যাঙ্ক ব্যাটেলের সেই স্থানের নামই এখন প্যাটননগর। যাইহোক, মার্শাল রেস হিসেবে স্বীকৃত না হয়েও যে লড়াই করা যায় তার প্রমাণ বাঙ্গালী জাতি নিজেই পাকিস্তানীদের হয়ে ৬৫ সালের পাক ভারত যুদ্ধে দিয়ে এসেছে। ৬৫ সালের যুদ্ধে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর সর্বোচ্চ সংখ্যক বীরত্বের খেতাব পাওয়া ইউনিট ছিল লেঃ কর্ণেল আতিকের ১ম বেঙ্গল রেজিমেন্ট। সবচেয়ে বেশি এয়ার কিল স্কোঃ লী আলম এবং ফ্লাঃ লেঃ সাইফুল আজমের, যারা ছিলেন বাঙ্গালী সাইফুল আজম বিশ্বের ২২ জন জীবিত লিভিং ঈগলের একজন। কয়জনই বা জানে যে পাকিস্তানের অন্যতম প্রধান এয়ারবেস রফীকি এয়ারবেস যার নামে, সেই স্কোঃ লীঃ রফিকীর জন্ম ঢাকায়, উনি জাতিতে ছিলেন বাঙ্গালী।

যাইহোক, রাজাকার কিংবা এই ধরণের প্যারা-মিলিশিয়ারা কী করেছিল আমি সঠিক জানি না। এদের বুপদ দেখলে পালাবারই কথা। এদের বেশিরভাগই ছিল সমাজের খারাপ মানুষ কিংবা আদর্শের কারণে অন্ধ। পূর্ণ প্রশিক্ষিত সামরিক সদস্য না হবার কারণে তাদের যুদ্ধের সামান্য ভয়াবহতা দেখেই পালিয়ে যাওয়া কিংবা আত্মসমর্পণ করাটা অস্বাভাবিক ব্যাপার ছিল না।

ডিসেম্বরের সর্বাত্মক অভিযানে মিত্র বাহিনী পাকিস্তানী দূর্বল অবস্থানগুলোতে আঘাত হানে এবং শক্তিশালী অবস্থানগুলো এড়িয়ে ঢাকার দিকে অগ্রসর হয়। জনগণ ছিল স্বাধীনতার পক্ষে এবং মিত্রবাহিনী তড়িৎগতিতে পাকিস্তানী অবস্থাওগুলোকে অবরুদ্ধ করে ফেলে। রসদের সরবরাহ ছিল অসম্ভব। কারণ, সড়ক যোগাযোগ উন্নত ছিল না। হেলিকপ্টারের সংখ্যা ছিল সীমিত এবং উড্ডয়ন ছিল অনিরাপদ। এর বাইরে ওই সময়টা মোবাইলের যুগ ছিল না যে হাই কমান্ডের নির্দেশনা তাৎক্ষণিক পাওয়া যেত কিংবা শত্রুর অবস্থান দেখে তা সাথে সাথে জানিয়ে সেভাবে পরিকল্পনা করা যেতো। ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহের পাকিস্তানী সেনাদলগুলো নানা প্রধান শহরে বিচ্ছিন্নভাবে আটকা পরে। গ্রাম কিংবা প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে সেনাদলগুলোকে গুঁটিয়ে এনে জেলা কিংবা মহকুমা শহরগুলোতে প্রতিরক্ষামুলক অবস্থানে রাখা হয়। তাদের শেষ ভরসা ছিল আমেরিকার সপ্তম নৌবহর এবং চীন। যারা মুখে আশ্বাস দেয়া ছাড়া সামরিকভাবে সাহায্যের কিছুই করেনি।

এই পর্যায়ে এসেও অনেকেই ভাবেনি ঢাকা দখল করা যাবে। ঢাকা শহরের চারদিকে নদী, এই কারণে প্রাকৃতিকভাবেই সুরক্ষিত। এখানে পাকিস্তানী সেনা সংখ্যাও ছিল বেশি। হয়তো আরও মাসখানেক কিংবা তারও কিছু বেশি সময় লড়াই চলতে পারতো। ভারতীয় বিমানও বেসামরিক জনতার ক্ষয়ক্ষতির আশংকায় সেভাবে বিমান হামলা চালাতে পারতো না। তবে পশ্চিমের নিরবতা, নির্দেশনার অভাব এবং রসদ সরবরাহের সমস্ত পথ বন্ধ হয়ে যাবার কারণে তাদের পরাজয়ও ছিল সুনিশ্চিত। সপ্তম নৌবহর পৌঁছালেও তা একটা বিশ্বযুদ্ধ ছাড়া অন্য সমাধান দিতে পারতো না। কোন পরাশক্তিই দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এতটা নির্বুদ্ধিতা করতো না বলেই মনে হয়, তাই হয়েছে।

তবে এই শেষ সময়েই সীমিত শক্তি নিয়েও পাকিস্তানীরা বেশ ভালোই লড়াই করেছে। ১৬ই ডিসেম্বরের আগে বড় মাত্রার আত্মসমর্পন করেনি কোন ইউনিট। ঢাকার পতনের পরেও কিছু লোকাল কমান্ডার আত্মসমর্পনে রাজী না হয়ে লড়াই চালিয়ে যান। মুক্তিযুদ্ধের এই পর্যায়ে এসে তারা একটা অন্যায় যুদ্ধ প্রাণবাজি রেখে লড়তে থাকে।

শুরুতে একটা কথা ভুল বলেছিলাম। বীরত্ব না বলে শুধু কেমন লড়াই করেছিল সেটা বলা দরকার ছিল। নানা পরিস্থিতি বিবেচনায় বলা যায় যে তারা ভালোই লড়েছিল একটা অন্যায় যুদ্ধ, যে যুদ্ধটা বাঙালি চায়নি, তাদের উপর চাপিয়ে দেয়া ছিল। আত্ম নিয়ন্ত্রণের অধিকার, ন্যায়বিচার, মানুষে মানুষে জাতিতে জাতিতে সাম্য থাকলে পুরো বিশ্বই এক থাকতে পারে। পূর্ব এবং পশ্চিম পাকিস্তানও এক থাকতে পারতো। সংখ্যাগরিষ্ঠতার হিসেবে তো আমরাই ছিলাম পাকিস্তান। আমরা এই নামও কেড়ে নিতে পারতাম। তবে আমরা সেটা চাইনি। আমাদের নিজের স্বকীয় পরিচয় আছে এবং সেটার বাইরে বাঙ্গালী জাতি যেতে পারেনি, সম্ভবও ছিল না।

যুদ্ধ একটা অমানবিক ব্যাপার। এর একটা না একটা পক্ষ অনায্য লড়াই করেই। দুইপক্ষ একসাথে কখনো সঠিক হতে পারে না নিজেদের অবস্থানে। বীরত্বের ব্যাপারগুলো যদি এমন হতো যে একটা মানুষের জীবন বাঁচাতে গিয়ে আরেকজন কতটা কষ্ট করছে সেটাই মানবজাতিকে আরও মহৎ করতো। যুদ্ধে লাখো বাঙ্গালীর মত হাজার হাজার পাকিস্তানীরও জীবন ঝরে গেছে। তাদেরও হয়তো পরিবার ছিল, তাদেরও অনেকেই হয়তো অত্যাচারের সাথে জড়িত ছিল না কিংবা মন থেকে মানতে পারেনি। এখানেও যে লাখ লাখ নিহতের সংখ্যা বলে গেলাম, তাদের কয়জনের নামই বা পৃথিবী মনে রাখবে? অথচ প্রতিটা মানবজীবনও একটা পৃথিবীর মতন।

আমার মতে তারা একটা অন্যায় লড়াইয়ে সামরিক দক্ষতায় পিছিয়ে ছিল না। তবে যে ব্যাপারগুলো মানুষকে মানুষ করে তোলে, সেই ব্যাপারগুলো তাদের মধ্যে ছিল অনুপস্থিত। একটা মুক্তিযোদ্ধা, যে জানতো শত্রু অসম্ভব শক্তিশালী, তার হাতে আছে ভয়াবহ অস্ত্র, তাও সে সামান্য থ্রি নট থ্রি কিংবা সেকেন্ড ওয়ার্ল্ড ওয়ারের স্টেনগানের স্বল্প সংখ্যক গুলি সম্বল করে লড়াইয়ে গেছে, কারণ তারা জানতো এই লড়াই যৌক্তিক, এছাড়া উপায় নেই। প্রাণ চলে গেলেও নেই। দেশে কোটি কোটি সক্ষম মানুষ ছিল যুদ্ধে যাবার, সবাই যায়নি। যারা গিয়েছিলেন তারা দেশের সূর্য সন্তান। প্রকৃত বীর তারাই।

সৈনিক হিসেবে পাকিস্তানীদের লড়াইয়ের প্রশংসা করা যায়। কিন্তু দস্যুদলও তো মাঝে মাঝে নিরাপত্তা বাহিনীর সাথে প্রাণপণ লড়াই করে জীবন বাঁচাতে। তাদের কেউ বীর বলবে কি?

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

৪ thoughts on “পাকিস্তানীরা ৭১-এ কেমন লড়েছিল?

  1. ভাল লিখেছেন। তবে আপনি যে
    ভাল লিখেছেন। তবে আপনি যে বলেছেন //মুক্তিযুদ্ধে ৩০ লাখ কিংবা এমন সংখ্যক বাঙ্গালী হতাহতের হিসেবের বাইরে সম্ভবত ২২০০০ মুক্তিযোদ্ধা নিহত হয়েছিলেন। // এই পরিসংখ্যান কোথায় পেয়েছেন জানালে খুশি হবো। না কি দুদুর ভাণ্ডার থেকে আপনিও কিছু পান মশায়?

    1. এই সংখ্যাটা ২০ হাজার থেকে ২২
      এই সংখ্যাটা ২০ হাজার থেকে ২২ হাজার হবে। ৩০ লাখের হিসাব মুক্তিযুদ্ধে নিহতের মোট সংখ্যার একটা আনুমানিক হিসাব। যেটা নিহত মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যাকে আলাদা করে বলে না।

      বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনীতে মুক্তিযুদ্ধে নিহত সদস্যদের তালিকা আছে সাধারণ মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা সহ। নিখোজ তালিকাও ছিল, যাদের নিহত ধরে নেয়া যায়। সেনাবাহিনীর তালিকা অনুসারে মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা ছিল ১ লাখ ৩১ হাজারের মত। এখানে অনেক মুক্তিযোদ্ধা যারা সেনাবাহিনীর ইউনিটগুলোর আওতা না থেকে স্থানীয় বাহিনীর হয়ে যুদ্ধ করেছিলেন তাদের কথা বলা নেই। এমন নানা কারণে মুক্তিযোদ্ধার সঠিক সংখ্যা কত তা বলা কঠিন। এখন যেমন ২ লাখ ১১ হাজার জন তালিকাভুক্ত। এর বাইরেও অনেকে নিশ্চয়ই আছেন আমার বাবার মতন বহু বছর আগে মারা গেছেন বলে সার্টিফিকেট আর গেজেটে নাম থাকবার পরেও নতুন করে তালিকাভুক্ত করাইনি। আমাদের মাসিক ভাতার প্রয়োজন নেই। এমন নিশ্চয়ই আরও অনেকেই আছেন।

      সামরিক বাহিনীতে সংরক্ষিত হিসেবের বাইরে আরও অনেক হতাহত থাকতে পারে। সংখ্যাটা আরও বেশি হলেও অবাক হবার কিছু নেই। আর আমার এখানকার হিসাবটা আনুমানিক হিসাব। আমার কাছে যে সংখ্যাটা সবচেয়ে যৌক্তিক মনে হয়েছে তাই তুলে দিলাম। এক্ষেত্রে ভিত্তিটা হচ্ছে সশস্ত্র বাহিনীতে সংরক্ষিত তালিকা।

      যাইহোক, দুদুর ভান্ডার আসলে কী জিন্স? দুদুটাই বা কে? তাকে কি আপনার খুব পছন্দ? খুবই অন্তরঙ্গ সম্পর্ক দুদুর সাথে?

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

+ 22 = 27