ধর্ম, দর্শন ও বিজ্ঞান-৩ঃ শূন্য থেকে মহাবিশ্ব

শূন্য থেকে মহাবিশ্ব

০.০ শূন্য কি আমরা জানিনা! অসীম কি তাও আমরা জানিনা! ঈশ্বর কিংবা ব্রহ্ম কি তাও জানিনা! প্রথমোক্ত দুটি চিন্তা গানিতিক চিন্তন থেকে উদ্ভূত যা গনিত কিংবা পদার্থবিজ্ঞানের সঙ্গে যুক্ত যদিও শূন্য ও অসীম চিন্তন দর্শনেরও বিষয়। আর ঈশ্বর কিংবা ব্রহ্ম চিন্তা ধর্ম ও দর্শনের প্রত্যয়।

১.১ বিজ্ঞান শূন্য থেকে অসীম কিংবা সসীম মহাবিশ্বের সৃষ্টি রহস্য ব্যাখ্যার চেষ্টা করছে। যদি শূন্য থেকে জগত সৃষ্টির ব্যাখ্যাকে আমরা মেনে নিই তাহলে, Nothing comes out of nothing এই যৌক্তিক কথাটিকে আমাদের অস্বীকার করতে হয়! অর্থাৎ ‘কিছুনা’ থেকে সবকিছুর সৃষ্টিকে আমাদের মেনে নিতে হয়! শূন্য এমন একটি প্রত্যয় কিংবা বিষয় যার অস্তিত্ব জগতে নেই! তাই শূন্য অইন্দ্রিয়গ্রাহ্য, অপরিমাপ্য, অনির্নেয় ও অসংজ্ঞায়িত, কাল্পনিক ও অবাস্তব বিষয়। শূন্য থেকে কোন সৃষ্টিকে মেনে নেয়া মানে অনস্তিত্ব থেকে অস্তিত্বের সৃষ্টি হওয়াকে মেনে নেয়া_অবাস্তব থেকে বাস্তবতার সৃষ্টিকে মেনে নেয়া_বিমূর্ত থেকে মূর্তের আবির্ভাবকে মেনে নেয়া_নিরাকার থেকে আকারের আবির্ভাবকে মেনে নেয়া। এখানে মৌলিকতার প্রশ্নে মানবীয় যুক্তি অকার্যকর!

১.২ বেদান্ত দর্শনে, জগতের সৃষ্টির কারন ব্রহ্ম হলো অনন্ত, নির্গুন ও অবক্তব্য তথা বর্নাতীত অর্থাৎ মানবীয় চিন্তায় বর্ননার অযোগ্য। এই নির্গুন ব্রহ্মই জগত রূপে প্রকাশমান। অজাগতিক, অবাস্তব ব্রহ্মই বাস্তব জগত রূপে আবির্ভূত। নির্গুন ব্রহ্ম অনন্ত মাত্রায় জগত রূপে প্রকাশমান। এখানে উল্লেখ্য যে, মুসলিম দর্শনে সুফিবাদের ঈশ্বরও অনেকটাই বেদান্তের ব্রহ্মের অনুরূপ।

১.৩ অবাস্তব, কাল্পনিক, অইন্দ্রিয়গ্রাহ্য, অপরিমাপ্য,অনির্নেয়,অসংজ্ঞায়িত, অজাগতিক “শূন্য”(০) যখন অসীম রূপে মুক্তি পায় তখন তাই মহাবিশ্ব এবং অনন্ত মাত্রায় অনন্ত সংখ্যক মহাবিশ্বের সমবায়িক রূপই এই জগত।

এখানে, বিজ্ঞানের ‘শূন্য’ চিন্তন এবং বেদান্তের নির্গুন ‘ব্রহ্ম’ চিন্তন সমার্থক চিন্তন।

১.৪ বস্তু হলো জগতের দৃশ্যমান রূপ। পদার্থ বিজ্ঞানের ‘শূন্য’ চিন্তন থেকে আমরা বলতে পারি,”বস্তু হলো শূন্যের উপর ক্রিয়াশীল কতগুলো যৌক্তিক গানিতিক রাশিমালার বাস্তব প্রতিফলন যা আমাদের মস্তিষ্কে বস্তরূপে প্রতিভাসিত হয়”।

১.৫ বিজ্ঞান জানেনা ‘শূন্য’ কি? তবুও শূন্য থেকেই জগতের সৃষ্টি রহস্য ব্যাখ্যা করছে। তবে এই ব্যাখ্যা বিজ্ঞানের নয়_ বিজ্ঞানের দর্শনের।তদ্রূপ, একজন ধর্ম তাত্ত্বিক জানেননা “ব্রহ্ম” কি তবুও তিনি ব্রহ্ম থেকে জগতের সৃষ্টি ব্যাখ্যা করছেন। একজন বিজ্ঞানের দার্শনিক শূন্য থেকে জগতের ব্যাখ্যা করছেন বস্তু ও কার্য-কারন সম্পর্কের ভিত্তিতে। পক্ষান্তরে, একজন ধর্ম-দার্শনিক ব্রহ্ম থেকে ঈশ্বরকে ব্যাখ্যা করেন ভাববাদী দৃষ্টিকোনে।

১.৬ মৌলিক প্রশ্নে “শূন্য” ও “ব্রহ্ম” উভয় কল্পনই ভাববাদী কল্পন। মৌলিকতার প্রশ্নে উভয় ক্ষেত্রেই মানবীয় যুক্তি অকার্যকর। আমরা জানিনা শূন্য কি, ব্রহ্ম কি?!
আমরা মানতে বাধ্য হচ্ছি অজাগতিক শূন্য কিংবা অজাগতিক ব্রহ্মই জগতের মৌল কারন।

* বিমূর্ততাই মূর্ততার উৎস!
* অনস্তিত্বতাই অস্তিত্বের কারন!
* অবাস্তবতা থেকেই বাস্তবতার সৃষ্টি!

_Abu Momin

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

+ 42 = 44