ধর্ম, দর্শন ও বিজ্ঞান-৪ঃ প্রাকৃতিক আইন বনাম পদার্থবিজ্ঞানের আইন

প্রাাকৃতিক আইন বনাম পদার্থবিজ্ঞানের আইনঃ
……………………………………………………………..
আমদের মহাবিশ্বের প্রাকৃতিক আইন আর পদার্থবিজ্ঞানের সূত্র/নিয়ম/আইন কি একই আইন?

আমারা জগৎকে উপলব্দি করি পঞ্চইন্দ্রিয়ের মাধ্যমে। প্রকৃতির নিয়ম ও স্পন্দন অনুভব করি একই ইন্দ্রিয়ের মাধ্যমে। আমাদের যদি একটি ইন্দ্রিয়ের সংখ্যা কম থাকত তখন কি আমরা একই ভাবে প্রকৃতির নিয়ম ও স্পন্দন অনুভব করতে পারতাম? উত্তর যদি না হয় তখন কি আমাদের কোন পদার্থ বিজ্ঞান থাকতনা? সেই পদার্ধ বিজ্ঞানেরসূত্র কি বর্তমান পদার্থ বিজ্ঞানের সূত্রের মত হত? হাঁ আমি বলতে চাচ্ছি আমাদের চেয়ে নিম্ন শ্রেনীর নরগোষ্ঠী বানর কিংবা শিম্পাঞ্জরও জগত সম্পর্কিতএকটি মডেল রয়েছে। আমাদের পদার্থবিজ্ঞান আমাদের নিকট জগতের যে মডেল দাড় করায়, শিম্পাঞ্জর জগতের মড়েল অবশ্যই ভিন্ন হবে এবং সে মডেলের পদার্থবিজ্ঞানও ভিন্ন হবে। অনুরুপভাবে, আমাদের ইন্দ্রিয়ের সংখ্যা যদি আরও বেশি থাকত, যেমন আমাদের শরীরে যদি এমন এক ইন্দ্রিয় থাকত যার মাধ্যমে আমরা ইলেকট্রোম্যাগনেটিক ওয়েভের ভাষা বুঝতে পারতাম সে ক্ষেত্রে আমাদের নিকট প্রকৃতির নিয়ম ও স্পন্দন ভিন্ন রুপে ধরা দিত। সেক্ষেত্রে আমাদের পদার্থবিদ্যা ভিন্ন হতে পারত_জগতকে আমরা অন্য রকম ভাবে উপলব্দি করতে পারতাম।

অর্থাৎ আমি বলতে চাচ্ছি প্রাাকৃতিক আইন কি আমরা জানিনা, আমরা প্রাকৃতিক আইনের স্পন্দন ও নিয়ম আমাদের ইন্দ্রিয়ের মাধ্যমে যে ভাবে ধরা দেয় সে ভাবে গড়ে তুলেছি আমরা আমাদের পদার্থ বিজ্ঞান। অর্থাৎ প্রাাকৃতিক আইন ও পদার্থ বিজ্ঞানের সূত্র বা নিয়ম এক নয়, অথচ আমরা একই মনে করছি।

অবশ্য পদার্থবিজ্ঞানের আইন ও প্রাকৃতিক আইনকে সমার্থক মনে করা ছাড়া আমাদের অন্যকোন বিকল্পও নেই।

//প্রাকৃতিক নিয়ম তৈরিতে মানুষের ভূমিকা//

০.০ ধরযাক, মহাবিশ্বের সম্প্রসারনের সাথে সাথে প্রতিটি বস্তুকনা আকার ও আয়তনে বড় হচ্ছে। ফলে আমরা যাকে ১ মিটার বলি তার দৈর্ঘ্যও বৃদ্ধি পাচ্ছে। কিন্তু বিষয়টি আমরা বুঝতে পারছিনা। বুঝতে পারছিনা এই জন্য যে পরিবর্তনটি সংঘটিত হচ্ছে সামগ্রিক/সার্বিকভাবে। পরিবর্তনটি জৈবিক ও মনস্তাত্ত্বিকভাবেও সংঘটিত হবে। জীবের DNA কোডেও এ পরিবর্তন সংঘটিত হচ্ছে_মানুষের স্মৃতিতে পরিবর্তন ঘটছে। সেক্ষেত্রে মহাবিশ্বেরর সকল কিছুর বৃদ্ধির কিংবা আকার আয়তনে বড় হওয়ার বিষয়টি আমাদের পক্ষে উপলব্ধি করা সম্ভব হবেনা। পরিমাপ যন্ত্র এবং পরিমাপকারীর মস্তিষ্কেও পরিবর্তনের কারনে মহাবিশ্বেরর কোন বস্তু আকারে দ্বিগুন হলেও তা মানুষের পক্ষে বুঝা সম্ভব হবেনা। এ কাল্পনিক উদাহরনের মাধ্যমে আমি বুঝাতে চাচ্ছি যে, মহাবিশ্বে কিংবা মহাজগতে এমনভাবে কিছু ঘটা সম্ভব যা আমাদের মানবীয় বিজ্ঞান ও যুক্তিবাদের মাধ্যমে বুঝা কিংবা উপলব্ধি করা সম্ভব নয়। কোয়ান্টাম জগতে এমন কিছু এমনভাবে ঘটা সম্ভব যা বস্তু জগতে কার্য-কারন নিয়মের ব্যত্যয় না ঘটিয়ে ঘটছে বলে আমাদের নিকট অনুভূত হবে। মহাবিশ্বের অসংখ্য ইতিহাস এবং অসংখ্য ভবিষ্যৎ রয়েছে কিন্তু মানবীয় বিজ্ঞান ও যুক্তিবাদ একটি মাত্র ইতিহাস কিংবা ভবিষ্যৎকেই খুঁজে পায় কিংবা খুঁজে পাবে। মহাবিশ্বের অসংখ্য ভিন্ন ইতিহাস ও ভবিষ্যতের মধ্যে মানবীয় বিজ্ঞান ও যুক্তিবাদ যেটাকে নির্বাচিত করে সেটাকেই আমরা বাস্তব বলে ঘোষণা করি।

১.২ একটি ইলেকট্রনে যতক্ষণ পর্যন্তনা মনঃসংযোগ করা না হয় ততক্ষণ পর্যন্ত উহার অবস্থান নির্ধারিত হয়না। অর্থাৎ ইলেকট্রনের ভৌত বাস্তবতা প্রতিষ্ঠায় দর্শকের আগমন আবশ্যক তথা মনের ভূমিকা রয়েছে।

১.২ কোয়ান্টাম বলবিদ্যা অনুসারে, বাস্তবতা প্রতিষ্ঠায় দর্শনের আগমন আবশ্যক। দর্শক ব্যতীত বাস্তবতা অনির্নেয়, অসংজ্ঞায়িত কিংবা শূন্যতা।

১.৩ মানুষের মন কোয়ান্টাম জগতের সঙ্গে সম্পর্কিত। ধ্যান কিংবা স্পিরিচুয়াল প্রাকটিসে মনের সঙ্গে কোয়ান্টাম জগতের মিথোস্ক্রিয়া ঘটে তথ্যের আদান-প্রদান ঘটে।
১.৪ ধ্যানের মাধ্যমে কোয়ান্টাম জগতে প্রবিষ্ট হওয়া মানে ঈশ্বরের মনে প্রবিষ্ট হওয়া। আর ঐখানেই রয়েছে জগতের সকল জ্ঞান কিংবা তথ্য।

১.৫ ধ্যানের মাধ্যমেই জগতের বৈচিত্রময় তথ্য মানুষের মস্তিষ্করূপ জৈবিক কম্পিউটারে ডাউনলোড হয়।

১.৬ কোয়ান্টাম জগতের কোন পরিবর্তন বস্তুজগতে সামগ্রিক পরিবর্তন আনয়ন করে ফলে বস্তুজগতের সকল ঘটনা নিয়ম মাফিক হচ্ছে বলে আমাদের মনে হবে।

১.৭ আমি মনে করি মানুষের সৃজনশীল মস্তিষ্ক কোয়ান্টাম জগতের তথ্যে প্রভাব বিস্তার করতে সক্ষম। অনন্য মানুষের মস্তিক ধ্যান বা অনুরুপ কোন পদ্ধতিতে কোয়ান্টাম জগতে প্রভাব বিস্তার করে সমগ্র জগতের ( মহাবিশ্বের) নিয়মে
[ ১.১ দ্রঃ] পরিবর্তন ঘটাতে সক্ষম।

১.৮ ধ্যান শুধু মুনি-ঋষি-নবী-রাসুল-পীর-পয়গম্বর-দূত-অবদূতগনই করেনা। সকল মানুষই কমবেশী তাদের নিজেদের মত করে ধ্যান করে।

১.৯ কোন গবেষক কিংবা ব্যক্তি যখন একাগ্র চিত্তে কোন চিন্তায় নিমগ্ন থাকে সেটাও এক রকম ধ্যান।

১.১০ আর এভাবেই প্রাকৃতিক আইন তৈরিতে মানুষ বিশেষ করে অনন্য মানুষ (supper man) গুলো ঈশ্বরের ভূমিকায় অবতীর্ন হন।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

51 − 44 =