ট্রাম্প এবং পুতিন বিশ্বকে কোন দিকে নেবে?

অনেক রাজনৈতিক বিশ্লেষক, এমনকি আমাদের মত সাধারণ মানুষও ধারণা পোষন করেন যে আমেরিকা মিখাইল গর্বাচেভ কে নোবেল শান্তি পুরস্কারের টোপ গিলিয়ে দিয়ে সোভিয়েত ইউনিয়ন কে ভেঙে টুকরা টুকরা করে দিয়েছিল। যা ছিল সোভিয়েত রাশিয়া এবং তার তৎকালীন অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও সামরিক শক্তির জন্য বিশাল ধাক্কা বা এক ধাক্কায় ধরণী প্রপাত অবস্থা। ভঙ্গুর অর্থনৈতিক ও সামরিক শক্তিকে জনাব পুতিন অনেক কাঠখড় পুড়িয়ে তাকে পুনরুদ্ধার করতে পেরেছে তা তাদের বর্তমান সামরিক শক্তি প্রদর্শন এবং রাজনৈতিক কর্মকান্ডে স্পষ্টভাবেই পরিলক্ষিত।

নিকট অতীতে আমেরিকার রক্তচক্ষু উপেক্ষা করেও সিরিয়াতে সরাসরি যুদ্ধে জড়িয়ে পড়া, ইরানকে নিয়ে আই এস বিরোধী জোট গড়া, এমনকি তারও আগে থেকে ইরানের প্রতি আমেরিকার প্রস্তাবিত অৰ্থনৈতিক অবরোধ চলার সময় রাশিয়া সেদেশের জ্বালানির বড় ক্রেতা হয়ে ইরানের পাশে থেকেছে। এছাড়া চলমান বিশ্ব রাজনীতির ক্ষেত্রে জাতিসংঘে আমেরিকার প্রস্তাবিত বেশিরভাগ প্রস্তাবের বিরুদ্ধে সরাসরি বিরোধিতায় রাশিয়ার শক্তিবৃদ্ধির বা পুরোনো শক্তি ফিরে পাওয়ার প্রকাশ বিশেষভাবে পরিলক্ষিত হয়।

এবার কি তবে প্রতিশোধ হিসেবে রাশিয়া মতান্তরে পুতিন সাহেব আমেরিকাকে ৫০ টুকরো করার চেষ্টা করবে করবে? যার খানিক মহড়া আমরা ইতিমধ্যে সংবাদ মাধ্যমে দেখতে পেয়েছি বিগত নির্বাচনের পর তথা ট্রাম্প নির্বাচিত হওয়ার পরেই। এমনকি মাত্রই নির্বাচিত হওয়া আমেরিকান রাষ্ট্রপতি জনাব ডোনাল্ড ট্রাম্প এর দেওয়া সাম্প্রতিক বক্তব্য বা রাশিয়াকে ডিফেন্ড করার চেষ্টা এখনো বর্তমান বা সাবেক কোন রাষ্ট্রপতির বক্তব্যে দেখা যায়নি বা গত কয়েক যুগের আমেরিকান নীতির সাথেও যায়না। এমনকি আমেরিকার সব গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনে বিগত নির্বাচনের ফল প্রভাবিত করতে রাশিয়ার সাইবার হামলার প্রমান হাজির করার পরেও ডোনাল্ড ট্রাম্পের অস্বীকার বা সেই গোয়েন্দা সংস্থাগুলিকে পরোক্ষভাবে অবিশ্বাস করার মত বক্তব্য তিনি দিয়েছেন, ঠিক যে সংস্থাগুলি আগামীতে তার রাষ্ট্র পরিচালনার হাতিয়ার হিসেবে মুলকাজ করবে! এক্ষেত্রে হয়ত ধরে নেয়া যায় যে, এই প্রতিবেদন স্বীকার করলে ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্বাচিত হওয়াটাই প্রশ্নবিদ্ধ হয় তাই এই অস্বীকার, কিন্তু এরপরেও তিনি রাশিয়াকে নিয়ে আমেরিকার চলমান নীতির বাইরে গিয়ে বক্তব্য দিয়েছেন।

রাশিয়ার প্রতি অতিমাত্রায় নমনীয়তা প্রকাশ করা পুতিন ভক্ত ট্রাম্পকে দিয়ে কি আমেরিকার বিভক্তি, নাকি তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের সাইরেন বাজবে? নাকি শুরু হবে এক নতুন বিশ্ব রাজনীতির?

(আমার ব্লগেও প্রকাশিত)

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

37 − 31 =