ধর্ম, দর্শন ও বিজ্ঞান-৫ঃ বিশ্বাসের ভৌত প্রভাব

বিশ্বাসের ভৌত প্রভাবঃ

১.১ মানুষের মস্তিষ্ক দ্বান্দ্বিক বস্তুবাদী নিয়মে চলেনা। মানুষ চালিত হয় মস্তিষ্করূপ জৈবিক কম্পিউটারে প্রোগ্রামিত কতগুলো বিশ্বাস দ্বারা।

১.২ মধ্যযুগে ইউরোপে ডাইনিতে বিশ্বাস ছিল বলেই সেখানে হাজারহাজার নারী অপমৃত্যুর শিকার হয় যদিও উইচ কিংবা ডাইনির কোন অস্তিত্ব নেই। “অস্তিত্বহীন ডাইনি বিশ্বাস”ই হাজার হাজার নির্দোষী নারীর মৃত্যুর কারন ছিল। এটা অপবিশ্বাস,এটা বিশ্বাসের ভাইরাস!

১.৩ আমিতো মনেকরি, কার্ল মার্ক্সের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী সমাজ দার্শনিক ছিলেন মুহম্মদ (স)। আমরা আরবের ঐতিহাসিক বাস্তবতায় দেখতে পাই, মুহম্মদ (স) এর সমকালীন সময়ে দরিদ্র সৈনিকগন(শোষিত) কর্তৃক ধনী প্যাগান/পৌত্তলিক ব্যবসায়ীগনের(শোষক) বৌ-বাচ্চা-সম্পত্তি অর্জনের দ্বান্দ্বিক বস্তুবাদী ক্রিয়া। মুহম্মদ (স) যথার্থ একজন রাষ্ট্র নায়ক ছিলেন। তিনি ভালোভাবেই বিশ্বাসের ভৌতপ্রভাব সম্পর্কে অবগত ছিলেন। তিনি ভালোভাবেই দরিদ্র সৈনিকদের মস্তিষ্কে ধর্মরূপ বিশ্বাসকে ইনজেক্ট করেছিলেন। দ্বান্দ্বিক বস্তুবাদী ক্রিয়াকে বিশ্বাসরূপ ভাববাদ দ্বারা তরান্বিত করা হয়। এ গেল বিশ্বাস কিংবা অপবিশ্বাসের আর একটি ভৌত ক্রিয়া।

১.৪ বিশ্বাসের পজিটিভ ভৌত প্রভাবও লক্ষনীয়। আমরা সবাই মেডিকেল সাইন্সের Placebo Effect সম্পর্কে অবগত আছি। শুধুমাত্র ডিস্টিল ওয়াটার ইনজেক্ট করেও অনেক রোগীর ব্যাথা নিরাময় সম্ভব হয় শুধুমাত্র বিশ্বাসের কারনে। হোমিও প্যাথিতে মূল ঔষধের সঙ্গে প্লেসবো চিকিৎসা একটা নিয়মিত বিষয়। পানি পড়া কিংবা ওয়াটার থেরাপি, তাবিজ-কবজ, রত্ন-পাথর ধারনেও প্লাসবো ইফেক্ট বিদ্যমান_যা মূলত বিশ্বাস থেকে রোগ নিরাময়।

১.৫ বিশ্বাসের ভৌত ক্রিয়াকে আমরা দুইভাগে ভাগ করতে পারি। যথা:
১) ইতিবাচক ক্রিয়া_যা পজিটিভ বিশ্বাস থেকে উদ্ভব। যেমন_অন্যকোন ব্যক্তি কিংবা সমাজ-রাষ্ট্রের ক্ষতি সাধন না করে অটোসাজেশনের মাধ্যমে মস্তিষ্ককে আত্নবিশ্বাসী হিসেবে গড়ে তুলে কোন কিছু অর্জন করা।

২) নেতিবাচক ক্রিয়াঃ মস্তিষ্কে বিশ্বাসের ভাইরাস ঢুকিয়ে অন্যব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান কিংবা সমাজ-রাষ্ট্রের ক্ষতিসাধনের মাধ্যমে কোন কিছু অর্জন কিংবা তথাকথিত পারলৌকিক সুখ কিংবা স্বর্গ অর্জনের প্রচেষ্টা।

_Abu Momin

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

3 + 6 =