ধর্ম, দর্শন ও বিজ্ঞান-৬ঃ বাস্তবতা কি?

জগতে যেমন পর্যবেক্ষণযোগ্য,ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য এবং অথবা পরিমাপ্য ও নির্নয়যোগ্য বস্তু/সত্তা/বিষয়ের অস্তিত্ব রয়েছে ঠিক তেমনি অপর্যবেক্ষণযোগ্য অইন্দ্রিয়গ্রাহ্য,অপরিমাপ্য ও অনির্নেয় সত্তা কিংবা বিষয়ের অস্তিত্বও সমভাবে স্বীকার্য্য। উচ্চতর তাত্ত্বিক পদার্থবিজ্ঞানের গানিতিক সমীকরন গুলো শেষোক্ত সত্তার অস্তিত্বের অনুমোদন দেয়।

বাস্তবতা কি?

১.১ কোয়ান্টামতত্ত্ব অনুসারে, বাস্তবতা প্রতিষ্ঠায় দর্শকের ভূমিকা আবশ্যক।

১.২ যতক্ষন পর্যন্তনা একটি ইলেকট্রনে মনোসংযোগ না ঘটানো হয় ততক্ষণ পর্যন্ত ইলেকট্রনের অবস্থান অনিশ্চিত থাকে।

১.৩ মূলত বাস্তবতা হলো মনের সঙ্গে বাইরের জগতের বস্তুর অন্তঃসারের মিথোষ্ক্রিয়ার ফল যা ভিন্ন ভিন্ন দর্শকের নিকট ভিন্ন রুপে ধরা দেয়/প্রতিভাসিত হয়।

১.৪ সাদৃশ্যপূর্ন দর্শকদের নিকট বাস্তবতা সাদৃশ্যপূর্ন হয়।

১.৫ দুটি দর্শকের মধ্যকার বাস্তবতা তাদের মধ্যকার সাদৃশ্যপূর্নতার সমানুপাতিক।

১.৬ একটি বানর এবং একজন মানুষের বাস্তবতার পার্থক্য কারন তাদের[ দর্শকদ্বয়ের] মধ্যকার পার্থক্য।

১.৭ একটি বানর বিশ্বকে যেভাবে উপলব্ধি করে সেটা তার বাস্তবতা। অনুরূপ ভাবে, একজন মানুষ বিশ্বকে যেভাবে উপলব্ধি করে সেটা তার বাস্তবতা।

১.৮ দুটি দর্শকের মধ্যকার পৃথক দুটি বাস্তবতার কোনটিই ভুল নয়, কোনটিই সঠিক নয়_উভয়ই বাস্তব।

১.৯ আমরা একই সঙ্গে ভিন্ন ভিন্ন বাস্তবতায় বাস করি, যেটাকে আমরা নির্বাচন করি সেটাই আমাদের বাস্তবতা।

১.১০ ইহাই মডেল নির্ভর বাস্তবতা।

১.১১ মানুষ প্রজাতির সদস্যগনের মধ্যকার বাস্তবতাসমূহের সূক্ষ্ণ পার্থক্য রয়েছে। সূক্ষ্ণ পার্থক্যসমূহ উপেক্ষা করে আমরা একটা সাধারন বাস্তবতার মডেল পাই, সেই মডেলই হলো মানব প্রজাতির বাস্তবতার সাধারন মডেল।

১.১২ বিজ্ঞান বাস্তবতার মানবীয় মডেলকে মডিফাই করে একটি অপেক্ষাকৃত শুদ্ধ সাধারন মডেল উপস্থাপন করে যার মাধ্যমে আমরা বিশ্বকে শুদ্ধভাবে উপলব্ধি করার চেষ্টা করি।

১.১৩ এই অপেক্ষাকৃত শুদ্ধ মডেলই হলো আমাদের পদার্থবিজ্ঞান।

১.১৪ বিজ্ঞান প্রদত্ত বাস্তবতার মডেলকে আমরা তখনই শ্রেষ্ঠ মডেল হিসেবে বিবেচনায় আনতে পারি যদি এবং কেবল যদি উহার ব্যবহারিক প্রয়োগে আমরা মানব প্রজাতিকে টিকিয়ে রাখতে পারি অনন্তকাল..।!

জগত এবং আমরাঃ

১.১ জগতের সব কিছু বিজ্ঞানের মাধ্যমে ব্যাখ্যা করতে হবে। জ্ঞানের প্রতিটি শাখার মধ্যকার যোগ-সূত্র আবিষ্কার করতে হবে।

১.২ জগতে যেমন পর্যবেক্ষণযোগ্য,ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য এবং অথবা পরিমাপ্য ও নির্নয়যোগ্য বস্তু/সত্তা/বিষয়ের অস্তিত্ব রয়েছে ঠিক তেমনি অপর্যবেক্ষণযোগ্য অইন্দ্রিয়গ্রাহ্য,অপরিমাপ্য ও অনির্নেয় সত্তা কিংবা বিষয়ের অস্তিত্বও সমভাবে স্বীকার্য্য। উচ্চতর তাত্ত্বিক পদার্থবিজ্ঞানের গানিতিক সমীকরন গুলো শেষোক্ত সত্তার অস্তিত্বের অনুমোদন দেয়।

১.৩ কোয়ান্টাম তত্ত্বে, কোন ঘটনা ঘটার সম্ভবনাই শূন্য নয়। অতএব, মানুষের যেকোন কল্পনাই যে কোন একটি অর্থে বাস্তব। অনন্তমাত্রা যোগে গঠিত অনন্ত সংখ্যক মহাবিশ্বের যেকোনটিতে মানুষের যেকোন যৌক্তিক কল্পনা এপ্লাই যোগ্য হতে পারে!

১.৪ মানুষের প্রতিটি চিন্তা কিংবা কল্পনা বাস্তব জগতেরই কার্য-কারনের ফল। তাহলে বৃহত জগতের প্রেক্ষিতে যে কোন কল্পনা কিংবা চিন্তা অবাস্তব হবে কেন?

১.৫ যা বাস্তব তাই অবাস্তব, যা অস্তিত্ব তাই অনস্তিত্ব_ভিন্ন ভিন্ন মাত্রা এবং পারিপার্শ্বিকতাই বাস্তবতা-অবাস্তবতা কিংবা অস্তিত্ব-অনস্তিত্বের নির্নায়ক ও নির্ধারক।

১.৬ যা যত বেশি দূরে তার সম্পর্কে আমরা তত কম জানতে পারি। এমনকি কাছের জিনিস যা আমাদের নাকের ডগায় অবস্থিত তা জানাও সম্ভব নয় যদি তা অচতুর্মাত্রিক (4d+) স্কেলে অবস্থান করে। কারন আমাদের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি চতুর্মাত্রার স্কেলে প্রতিষ্ঠিত।

১.৭ তবে আমাদের পারিপার্শ্বিকতা জানতে, সত্য-মিথ্যা, বাস্তব-অবাস্তবতা,অস্তিত্ব-অনস্তিত্ব নির্ধারনে বিজ্ঞানের কোন বিকল্প নেই।

১.৮ এক্ষনে, আমাদের করনীয় হলো জ্ঞানের প্রতিটি শাখার মধ্যকার যোগ-সূত্র আবিষ্কার করা তথা বিজ্ঞানময় করা। সেদিন আর বেশি দূরে নয় যেদিন নীতি বিজ্ঞানের নৈতিক বিধি কিংবা সূত্রগুলো বিজ্ঞানের সমীকরন দ্বারা প্রতিবাদন যোগ্য হবে। আর তখনই সার্বজনীন মানবতা বিভাজনকারী প্রথাগত প্রাতিষ্ঠানিক ধর্মমত সহ যাবতীয় কুসংস্কার সমূহের মূল উৎপাটন করা সম্ভব হবে।

_Abu Momin

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

64 − = 58