দীর্ঘ পথ পরিক্রমায় আমরা

বাঙালী জাতি অনেক আগে থেকেই অবহেলিত, তাই মুক্তির জন্য অনেক সংগ্রাম করতে হয়েছে। বাঙালী জাতির মুক্তির জন্য সংগ্রামটা শুরু হয়েছে অনেক আগে, প্রায় সত্তর-ঊনসত্তর বছর হয়ে গেল, যখন ১৯৪৮ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে বাংলার এক সূর্যসন্তান কুমিল্লার ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত পাকিস্তানের সংসদ অধিবেশনে দাঁড়িয়ে গর্জে উঠলেন, রাষ্ট্রের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের মুখের বুলি বাংলাকে রাষ্ট্র ভাষার মর্যাদা দিতে হবে। তখন পাকিস্তানের পাঞ্জাবী শাসকরা ধীরেন্দ্রনাথ দত্তকে ভারতের দালাল আর পাকিস্তানের শত্রু ও ইসলামের দুশমন হিসেবে চিহ্নিত করে তাঁর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগ আনেন। কিন্তু বঙ্গ সন্তানদের অব্যাহত অদম্য সংগ্রামের ফলে ১৯৫৬ সালে প্রণীত পাকিস্তানের প্রথম সংবিধানে উর্দুর সঙ্গে বাংলাকেও রাষ্ট্র ভাষার মর্যাদা দিতে বাধ্য হয়। সূচিত হয় বাঙালীর অধিকার আদায়ের সংগ্রামের পথে প্রথম বিজয়। তারপর থেকে এ পর্যন্ত এগোনো আর পিছানোর মধ্য দিয়ে এখনো আমরা চূড়ান্ত মুক্তির পথে পাহাড়সম চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন। স্বাধীনতা অর্জনের পর আমরা একবার বিজয়ের মহাসড়কে উঠলেও ৭৫ আবার ছিটকে পড়ি। দীর্ঘ পথ পরিক্রমার পর দ্বিতীয় দফা সংগ্রামের মধ্য দিয়ে অনেক দূর এগোলেও এ সময়ে মুক্তির অগ্রযাত্রা নিরবিছিন্ন থাকেনি। সাম্প্রদায়িকতার বিষপাপ ও সামরিকতন্ত্রের রাজনীতি থেকে মুক্তি, এটাই পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সংগ্রাম এবং মুক্তিযুদ্ধের প্রধান ও মৌলিক লক্ষ্য থাকায় স্বাধীনতার পর রাষ্ট্রকে ধর্মনিরপেক্ষ করা এটা হচ্ছে গণতন্ত্র ও অসাম্প্রদায়িকতার পূর্বশর্ত। ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রীয় দর্শন হঠাৎ করে আসেনি বা নতুন কোন তত্ত্ব নয়। দীর্ঘ ইতিহাসের পাঠ ও বাস্তব অভিজ্ঞতার প্রেক্ষাপটে ধর্মনিরপেক্ষতাকে স্বাধীন বাংলাদেশের অন্যতম অবলম্বন হিসেবে গ্রহণ করা হয়। পাকিস্তানের ২৩ বছরে রাজনীতিতে ও রাষ্ট্রপরিচালনায় ধর্মকে টেনে আনার ফলে ধর্ম, রাজনীতি, রাষ্ট্র সবকিছুতেই আমরা কলুষিত এবং ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ধর্মের চরম অবমাননা হয়েছে এবং পাকিস্তান রাষ্ট্রও থাকেনি। বর্তমান সরকারের নেতৃত্বে একটা নিরবচ্ছিন্ন যাত্রা অব্যাহত থাকায় রাষ্ট্র পরিচালনা, রাজনীতি ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের জায়গায় দেশ একটি ইতিবাচক টার্নিং পয়েন্টে পৌঁছেছে। এই টার্নিং পূর্ণ ও সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ার জন্য বাস্তবতার নিরিখে যতটুকু সময়ের প্রয়োজন তত সময় বর্তমান সরকারের নেতৃত্বে বর্তমান ধারা অব্যাহত থাকলে রাজনীতি পরিপূর্ণভাবে মুক্তিযুদ্ধের ধারায় ফিরে আসবে এবং তখন এর গুণগত পরিবর্তনও হবে। একই সঙ্গে অর্থনৈতিকভাবে দেশ শক্তিশালী অবস্থানে আসবে।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

6 + 3 =