পাঠ্যপুস্তকে শিশুদের কৌশলে সহীহ মগজধোলাই

ছোটবেলায় যখন পাঠ্যবই পড়েছিলাম, তখনও কিছু ধর্মীয় গল্প ছিলো, ধর্মীয় বলতে ইসলামীক গল্প। আমরা সবই পড়েছি, কিন্তু কিছুকেই ধর্মীয় দৃষ্টিকোন দিয়ে পড়িনি, পড়াকে ধর্মদিয়ে বিচার করিনি।পড়েছি জ্ঞান হিসেবে।

কিন্তু অন্যরা কেন এটাকে ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ দিয়ে দেখছে?
কেন হিন্দু লেখক সরাও, নাস্তিক লেখক সরাও এই টাইপের দাবী উঠছে আর তা কার্যকর করা হচ্ছে, দাবি গুলো শুনে বেকুব বনে যাচ্ছি!!
লেখককে হিন্দু নাকি নাস্তিক নাকি মুসলিম এই বিভেদ করা কেন হলো!
কেন তার ধর্মের ভিত্তিতে তার লেখা সরানোর দাবী উঠলো!!
এইরকম নীচু মানসীকতাও এখনো মানুষের আছে দেখে অবাক লাগছে।

পাকিস্তান আমলে রবীন্দ্রনাথ হয়েছিলেন মালাউন কবি। রবীন্দ্রনাথ-জীবনানন্দ-শরৎচন্দ্রের লেখাগুলোকে লাত্থিমেরে যশোর বর্ডার পার করা হয়েছিলো।
বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ায় আবার তাদের লেখার আগমনী ঘটলেও সেই মানসিকতা বদলায়নি, এখনো এই মালাউনের লেখা জাতীয় সংগীত পাল্টানোরর দাবী উঠে। এখনো পাঠ্যপুস্তককে মালাউন কবি-লেখকদের লেখা সাফ করার দাবি উঠে আবার কার্যকর হয়।।
উন্নত মানসীকতা বলা চলে!!

আচ্ছা,
আগের গল্পগুলো কেন সরানো হলো? পাঠ্যপুস্তকে বাংলা বইতে ধর্ম শিক্ষার প্রয়োজন কি? ধর্মের জন্য ধর্ম বই তো আছেই। নয়তো যদি পাঠ্যপুস্তককে ধর্ম বই বানাতেই হয় তবে সমপরিমাণে হোক।

রামায়ণ, মহাভারত, গৌতম বুদ্ধ, যিশুখ্রিস্ট এর কাহিনী ঢুকানো হোক, তাদের জীবনাচরণ ঢুকানো হোক। সর্বধর্ম থাকলে কার কি ক্ষতি, কেন শুধু এক ধর্ম দিয়েই পাঠ্যপুস্তক ভরা থাকবে? অন্যধর্মের লেখাগুলো কেন বাতিলগণ্য হবে?
বাংলা বইতে ধর্মীয় কাহিনী থাকার প্রয়োজনীয়তা আছে কি? যদি থাকে তবে সর্বধর্মের সমান গমন হলে কারো কোন ক্ষতি হচ্ছে?
যদি ভেবে থাকেন অন্য ধর্মের কাহিনী থাকলে আপনাদের জাত যাবে, সব হিন্দু হয়ে যাবে, তবে নিজেদের ধর্ম ঢুকানোর ক্ষেত্রে অন্যদের জন্য এমনটা ভাবা হলোনা কেন!!
এটা জনগণের শিক্ষা, নাকি কৌশলে সহী মগজ ধোলাই করা!!

নাকি ৯২% মুসলিমের দেশে স্যেকুলার বই হওয়া যাবে না। বই গড়তে হবে মাদ্রাসার আদলে। নয়তো আন্দোলন হবে।
পড়লে পড়ো, না পড়লে ভারত ভাগো।।
সেখানে গিয়ে স্যেকুলার বই খোঁজো, বাংলাদেশ ইসলামীক দেশ।
এই দেশে স্যেকুলার বই ছাপানো চলবে না।।
.
.
.
.
হৃদয় মজুমদার
মহারাজাপুর, ঢাকা

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

59 + = 66