ধর্ম, দর্শন ও বিজ্ঞান-৭ঃ ষষ্ঠ ইন্দ্রিয়, মানব মস্তিষ্ক, ধ্যান ও জ্ঞান

আমরা সাধারনত ইন্দ্রিয় বলতে পাঁচটি ইন্দ্রিয়কে বুঝি, যথা_চোখ, কান, নাক, জিহ্বা ও ত্বক_এগুলো যথাক্রমে দর্শন, শ্রবন, ঘ্রান, স্বাধ ও স্পর্শ ইন্দ্রিয়। এগুলোর মাধ্যমে আমরা জগতকে বুঝে থাকি।
আমরা যখন ঘুমাই তখন প্রায় সকল ইন্দ্রিয়ই সাধারনত নিষ্ক্রিয় থাকে। কিন্তু তখনও আমাদের দেহ কাজ করে, মস্তিষ্ক সক্রিয় থাকে। পঞ্চ ইন্দ্রিয়ের মাধ্যমে যে তথ্য বা তথ্যসমূহ মস্তিষ্করূপ জৈবিক কম্পিউটারে ইনপুট হয় তা মস্তিষ্ক প্রক্রিয়াজাতকরন করে সিদ্ধান্ত গ্রহন করে। মানব শরীরে যেহেতু জড়ীয় সত্তাও বিদ্যমান সেহেতু শরীর কিংবা মস্তিষ্কের অচেতন ক্রিয়া সম্পর্কে আমরা সচেতন নই। মস্তিষ্কের অবচেতন ক্রিয়া সম্পর্কেও আমরা সরাসরি সচেতন নই।

ষষ্ঠ ইন্দ্রিয়/Sixth sense/E.S.P.
……………………………………………..

আমরা সাধারনত ইন্দ্রিয় বলতে পাঁচটি ইন্দ্রিয়কে বুঝি, যথা_চোখ, কান, নাক, জিহ্বা ও ত্বক_এগুলো যথাক্রমে দর্শন, শ্রবন, ঘ্রান, স্বাধ ও স্পর্শ ইন্দ্রিয়। এগুলোর মাধ্যমে আমরা জগতকে বুঝে থাকি।
আমরা যখন ঘুমাই তখন প্রায় সকল ইন্দ্রিয়ই সাধারনত নিষ্ক্রিয় থাকে। কিন্তু তখনও আমাদের দেহ কাজ করে, মস্তিষ্ক সক্রিয় থাকে। পঞ্চ ইন্দ্রিয়ের মাধ্যমে যে তথ্য বা তথ্যসমূহ মস্তিষ্করূপ জৈবিক কম্পিউটারে ইনপুট হয় তা মস্তিষ্ক প্রক্রিয়াজাতকরন করে সিদ্ধান্ত গ্রহন করে। মানব শরীরে যেহেতু জড়ীয় সত্তাও বিদ্যমান সেহেতু শরীর কিংবা মস্তিষ্কের অচেতন ক্রিয়া সম্পর্কে আমরা সচেতন নই। মস্তিষ্কের অবচেতন ক্রিয়া সম্পর্কেও আমরা সরাসরি সচেতন নই।

মানব শরীরের প্রতিটি অঙ্গ-অঙ্গানু কিংবা কোষসমূহ বাইরের পরিবেশের সঙ্গেও সম্পর্কিত। শরীরে পঞ্চইন্দ্রিয় সমূহের মত প্রতিটি কোষও বাইরের পরিবেশ থেকে তথ্য প্রাপ্ত হয় যা অবশ্যই শরীর ও মস্তিষ্ককে প্রভাবিত করে।

মহাবিশ্বের সকল কনিকাই যেহেতু একই বিন্দু থেকে (বিগ ব্যাং) উৎসারিত হয়েছে এবং মানব শরীর যেহেতু কনিকাপুঞ্জেরই সমবায়িক রূপ সেহেতু কনিকা সমূহের মধ্যে কোয়ান্টাম যুগ্ম সম্বন্ধ ক্রিয়াশীল। অন্যভাবে বলা যায় জড়-অজীয় প্রতিটি সত্তার মধ্যে (যত দূরত্বেই অবস্থান করুকনা কেন) এক ধরনের অদৃশ্য সূতোর বন্ধন ক্রীয়াশীল। আমরা ইহাও জানি যে, অতি পারমানবিক কনিকার মধ্যকার কোয়ান্টাম তথ্য আদান-প্রদানে সময় ও দূরত্ব কোন বাধা নয়।

অতএব, ইহাই সঠিক যে, জৈবিক কম্পিউটাররূপ মানব মস্তিষ্কটি শুধু পঞ্চইন্দ্রিয়ের মাধ্যমেই প্রকৃতি থেকে ডাটা সংগ্রহ করেনা; শরীরের প্রতিটি অঙ্গ-অঙ্গাণু-কোষই(cell) ইন্দ্রিয়ের ভূমিকা পালন করে পরিবেশ থেকে তথ্য সংগ্রহ করে মস্তিষ্কে সিদ্ধান্ত গ্রহনে সহায়তা করে।

এ পর্যন্ত মানুষ তথা আধুনিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মস্তিষ্কের ক্রিয়াকলাপ সম্পর্কে খুব সামান্যই জানতে পেরেছ। মস্তিষ্কের অচেতন ও অবচেতনের ক্রিয়া-কলাপ সম্পর্কে মানুষ সচেতনভাবে কোন কিছু উপলব্দি করতে পারেনা। মস্তিষ্ক অনেক সময় আমাদের এমন উপলব্ধি প্রদান করে যার কার্য-কারন আমরা জানতে পারিনা। অনেক সময়ই এই অনুমান নির্ভর বিশেষ উপলব্ধি থেকেই আমরা সঠিক বাস্তবতাকেও বুঝতে কিংবা অনুমান করতে পারি।

অনেক সময় একজন মা অনেক দূরে অবস্থিত তার সন্তানের দূর্ঘটনা কিংবা দূরাবস্থার কথা উপলব্ধি করতে পারেন। এইযে যে, বিশেষ উপলব্দির প্রক্রিয়া এটার নাম টেলিপ্যাথি। যদিও টেলিপ্যাথির বিষয়টি বিজ্ঞানের নিকট এখনও অনুদঘাটিত ও রহস্যময়! তবে উহা প্যারা-সাইকোলোজির বিশেষ প্রত্যয়।

ষষ্ঠ ইন্দ্রিয় বলতে আমরা মস্তিষ্কের এই বিশেষ উপলব্ধিকেই বুঝে থাকবো।

মেডিটেশন এবং ষষ্ঠ ইন্দ্রিয়ঃ
…………………………………………………

১.১ দুইটি চুম্বক দন্ড পাশাপাশি স্থাপন করলে উহাদের মধ্যে আকর্ষণ কিংবা বিকর্ষণ ক্রিয়াশীল হয়।

১.২ চুম্বক দন্ডের আকর্ষণ-বিকর্ষণের কারন এদের মধ্যে এক ধরনের বল ক্রিয়াশীল হয়। আর এই বলের কারন চুম্বক দন্ডদ্বয়ের মধ্যকার এক ধরনের অদৃশ্য সূক্ষ্ণ কনিকার বিনিময়।

১.৩ অন্যভাবে বলা যায় চুম্বকদন্ডদ্বয়ের মধ্যে তথ্যের বিনিময় ঘটে।

১.৪ অনুরূপভাবে, দুইটি অচুম্বক পদার্থের মধ্যেও অভিকর্ষ বল ক্রিয়াশীল থাকায় তাদের মধ্যেও তথ্যের বিনিমময় ঘটে।

১.৫ এইরূপে, মহাবিশ্বের প্রতিটি সত্তা পরস্পরের সঙ্গে এক অদৃশ্য সূতার বন্ধনে আবদ্ধ এবং প্রতিনিয়ত সত্তাসমূহের মধ্যে তথ্যের বিনিময় ঘটছে।

১.৬ সত্তাসমূহ একই বিন্দু থেকে সৃষ্টি হওয়ার কারনে( বিগ ব্যাং) তাদের মধ্যে একটি ওয়েভ ফাংশন কাজ করছে। মহাবিশ্বের একবিন্দু থেকে অপর বিন্দুতে সময়হীনভাবে কোয়ান্টাম তথ্য প্রবাহিত হচ্ছে।

১.৭ আমরা জানি, আমাদের মস্তিষ্করূপ জৈবিক কম্পিউটারটি পঞ্চইন্দ্রিয়ের মাধ্যমে প্রকৃতি থেকে তথ্য সংগ্রহ করে জ্ঞানার্জন করে। তথ্যই জ্ঞান_তথ্য যখন মস্তিষ্কের নিউরন সেলে প্রোথিত হয় তখন তাই জ্ঞান।

১.৮ আমাদের শরীরের প্রতিটি কোষই একেকটি ইন্দ্রিয়। পঞ্চইন্দ্রিয়ের বাইরেও কোষসমূহ একক বা গুচ্ছাকারে অচেতন-অবচেতন-চেতন প্রক্রিয়ায় প্রকৃতির অন্যান্য সত্তা থেকে তথ্য সংগ্রহ করে মস্তিষ্করূপ জৈবিক কম্পিউটারে সরবরাহ করছে।

১.৯ মস্তিষ্ক শুধু পঞ্চইন্দ্রিয়ের মাধ্যমে প্রাপ্ত তথ্যই প্রক্রিয়াজাতকরন করে সিদ্ধান্ত গ্রহন করেনা, বরং পঞ্চইন্দ্রিয়ের বহির্ভূত তথ্যও সিদ্ধান্ত গ্রহনে ব্যবহার করে। কিন্তু অন্য মাধ্যম থেকে প্রাপ্ত তথ্যগুলোর ব্যাপারে আমরা সচেতন নই।

১.১০ পঞ্চইন্দ্রিয়ের সচেতন প্রক্রিয়ার বাইরে মস্তিষ্কের বিশেষ জ্ঞানার্জন প্রক্রিয়ায়ই হলো অতিন্দ্রিয় জ্ঞান যাকে আমরা ষষ্ঠ ইন্দ্রিয় থেকে প্রাপ্ত জ্ঞান বলি।

১.১১ ধ্যান কিংবা মেডিটেশন আমাদের পঞ্চইন্দ্রিয়ের কার্যক্ষমতা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে শরীরের প্রতিটি অঙ্গ-অঙ্গানু-কোষকে অধিকতর সঠিকভাবে প্রকৃতি থেকে তথ্য সংগ্রহ করার উপযোগী করে। ফলে একজন ধ্যানী ব্যক্তি/মেডিটেশনকারী/সাধকের ষষ্ঠ ইন্দ্রিয় খুলে যায়।

১.১৩ ধ্যান বা মেডিটেশন কোন ধর্ম নয়। ইহা সম্পূর্ন বিজ্ঞান সম্মত একটি প্রক্রিয়া যা বহির্জগত থেকে তথ্য গ্রহন ও মস্তিষ্কে প্রক্রিয়াজাতকরণে এবং সিদ্ধান্ত গ্রহনে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সহযোগিতা করে।

১.১৪ ধ্যানের মাধ্যমে যেমন আধ্যাত্মিক উন্নয়ন সম্ভব, তেমনি জাগতিক উন্নয়ন সম্ভব।

১.১৫ ধ্যানের বিশেষ সাধনায়/প্রয়োগে আপনি যেমন সন্নাসী হতে পারেন, তেমনি এর বিশেষ প্রয়োগে আপনি ইহজাগতিক উন্নয়ন সাধন করতে পারেন।

Human brain is just like a computer. হ্যাঁ মানব মস্তিষ্ক একটি জৈবিক কম্পিউটার। মানব মস্তিষ্ক একই সঙ্গে রিসিভার এবং ট্রান্সমিটারের কাজ করে। ইহা একই সঙ্গে প্রেরক যন্ত্র ও গ্রাহক যন্ত্রের কাজ করে। তথ্য সংগ্রহ, তথ্য ধারন, প্রক্রিয়াজাত করন ও সিদ্ধান্ত মূলক কাজ করে। কম্পিউটারের সঙ্গে এর পার্থক্য হলো ইহার নিজস্ব বুদ্ধিমত্তা রয়েছে এবং ইহা স্বয়ংক্রিয়। মস্তিষ্ক শুধু পঞ্চইন্দ্রিয়ের মাধ্যমেই তথ্য সংগ্রহ করেনা, শরীরের প্রতিটি কোষই(cell) তথ্য সংগ্রহ করে এবং এই অর্থে আমাদের ইন্দ্রিয়ের সংখ্যা অসংখ্য। পঞ্চইন্দ্রিয়ের মাধ্যমে তথ্য সংগৃহীত হওয়ার প্রক্রিয়াটি আমরা সচেতন ভাবে উবলব্ধি করতে পারি কিন্তু শরীরের অন্যান্য কোষ, অঙ্গানু কিংবা অঙ্গ কর্তৃক তথ্য সংগৃহিত হওয়ার প্রক্রিয়া আমরা সরাসরি জানতে পারিনা।
মস্তিষ্ক দুটি উপায়ে তথ্য সংগ্রহ করে থাকে, যথাঃ

১। পঞ্চইন্দ্রিয়ের মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহঃএটি তথ্য সংগ্রহের বস্তুগত প্রক্রিয়া। এ প্রক্রিয়ায় পঞ্চইন্দ্রিয় যত সুস্থ ও সক্ষম থাকবে তথ্য সংগ্রহের প্রক্রিয়া তত শুদ্ধ হবে। পঞ্চইন্দ্রিয়ের কার্যক্ষমতার ভিন্নতা মস্তিষ্কের তথ্য সংগ্রহ, প্রক্রিয়াজাতকরন ও সিদ্ধান্তমূলক কাজ তথা বুদ্ধিমত্তায় প্রভাব ফেলবে।

২। পঞ্চইন্দ্রিয়ের বাইরে তথ্য সংগ্রহের পক্রিয়াঃ
এটি তথ্য সংগ্রহের অবস্তুগত প্রক্রিয়া। আমরা সকলেই তরঙ্গের সমুদ্রে ডুবে আছি। মহাবিশ্বের কোথাও ফাঁকা বা শূন্য নেই_ শূন্যস্থানও তরঙ্গময়_সাউন্ড, আলট্রাসাউন্ড, আলোক তরঙ্গের বিভিন্ন ভেরিয়শনসহ বিভিন্ন ইলোক্ট্রোম্যাগনেটিক ওয়েভে ভরে আছে এই শূন্যস্থান, তাছাড়া মানব সৃষ্ট বিভিন্ন রেড়িও ওয়েভতো আছেই। মানুষ যখন চিন্তা করে তখনও এনার্জি বা শক্তি তরঙ্গ নিঃসৃত হয়। প্রতটি মানব মস্তিক যখনই কোন চিন্তা করে অথবা যখনই কোন ভাব গ্রহন করে তখনই নির্দিষ্ট ফ্রিকোয়েন্সির জৈবিক তরঙ্গ নিঃসৃত হয়। অনুরুপ ভাবে সকল জীব কূলের মস্তিষ্ক ও অন্যান্য অংগানু থেকে অনবরত জৈবিক তরঙ্গ নিঃসরন ঘটছে। মানব মস্তিষ্কের তরঙ্গ ট্রান্সমিট করার ক্ষমতা যেমন আছে তেমনি তরঙ্গ রিসিভ করারও ক্ষমতা আছে। তরঙ্গ রিসিভ করার মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ, প্রক্রিয়াজাতকরনের মাধ্যমে যে জ্ঞান অর্জিত হয় তাই হলো পঞ্চইন্দ্রিয়ের বাইরে অবস্তু প্রক্রিয়ায় জ্ঞান অর্জন। এখানে উল্লেখ্য যে অবস্তুগত প্রক্রিয়ায় তরঙ্গের data গ্রহনের মাধ্যমে যে জ্ঞান অর্জিত হয় তাbrain এর অচেতন-অবচেত-চেতন প্রক্রিয়ায় আমরা সচেতন হই। জ্ঞান অর্জনের এই প্রক্রিয়াটি আমরা সরাসরি জানতে পারিনা। একেই আমরা অতীন্দ্রিয় প্রক্রিয়ায় জ্ঞান অর্জন বলি।
মেডিটেশন এবং মানব মস্তিষ্করুপ জৈবিক কম্পিউটারঃ
মেডিটেশন সম্পর্কে আমার সাধারন বক্তব্য হলো আমরা জেনে এবং না জেনে সবাই কমবেশী মেডিটেশন করি। আমরা যখন বিছানায় শুয়ে কিংবা আরাম কেদারায় বসে কোন গভীর চিন্তায় মনোনিবেশ করি উহাও মেডিটেশনের অংশ। ধর্মীয় মেডিটেশন যেমন রয়েছে তেমনি ধর্ম নিরপেক্ষ মেডিটেশন রয়েছে। তবে এটা ঠিক সব ধরনের মেডিটেশন প্রক্রিয়ায়ই মানুষের মনোদৈহিক প্রক্রিয়ায় প্রভাব ফেলে। আমি এখানে ঐ ধরনের মেডিটেশন পদ্ধতিকে বুঝাচ্ছি যা মস্তিষ্ক ও মনোদৈহিক প্রক্রিয়ায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। মেডিটেশন আমাদের পঞ্চইন্দ্রিয়ের কার্য ক্ষমতা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে শরীরে বিভিন্ন অঙ্গ, অঙ্গানু এবং সকল কোষের কার্যকারিতা ও সুস্থতার উপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। নিয়মিত মেডিটেশন করলে মস্তিষ্কের প্রকৃতি থেকে তথ্য গ্রহন করার ক্ষমতা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে, তথ্য ধারন, তথ্য প্রক্রিয়াজাতকরন সহ সিদ্ধান্ত গ্রহন করা সহজতর হয়। মেডিটেশনের মাধ্যমে যে জ্ঞান অর্জন হয় তাই আত্মজ্ঞান। সংবেদন-প্রত্যক্ষণ-অভিজ্ঞতার মাধ্যমে অর্জিত জ্ঞানের সঙ্গে আত্মজ্ঞানের সমন্বয় না ঘটলে জ্ঞানের পরিপূর্নতা কিংবা সার্বজননীয়তা ঘটেনা। মেডিটেশন মস্তিষ্ককে প্রকৃতি থেকে মানুষসহ সকল জীবকূলের জৈবিক তরঙ্গ থেকে ডাটা সংগ্রহ করে সকল জীব কূলের অনুকূলে সার্বজনীন কল্যাণময় নৈতিক সূত্র তৈরিতে সহযোগিতা করে।

অতএব, কল্যাণময় একটি বিশ্ব রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় মেডিটেশনের ভূমিকা অস্বীকার করা যাবেনা।

ধর্মনিরপেক্ষতা ও মেডিটেশনঃ
………………………………………………..

১.১ মেডিটেশন যেমন ধর্মীয় হতে পারে তেমনি ধর্ম নিরপেক্ষও হতে পারে।

১.২ “ভগবান”, “ভগবান” জপ করে যে মনোদৈহিক ইতিবাচক ফল পাওয়া যায়; ঠিক তেমনি “ভকর”, “ভকর” শব্দ জপ করেও একই মনোদৈহিক ফল পাওয়া যায়।

১.৩ কোয়ান্টাম মেথড, সিলভা মেথড সহ আর অনেক আধুনিক ধর্মনিরপেক্ষ ও বিজ্ঞানসম্মত মেডিটেশন পদ্ধতি রয়েছে।

১.৪ সকল পদ্ধতিতেই প্রায় একই রকম ফল পাওয়া যায়।

১.৫ আপনি যদি নাস্তিক,সংশয়বাদী কিংবা অজ্ঞেয়বাদী হোন তাতেও সমস্যা নেই।

১.৬ আধুনিক ধর্ম নিরপেক্ষ প্রনালীতে ধ্যান অনুশীলন করে আত্ম উন্নয়নের সঙ্গে সঙ্গে জাগতিক উন্নয়ন সাধন করতে পারেন।

১.৭ আপনি যদি নাস্তিক্য মনেও ধ্যান সাধন করেন তথাপি আপনার মধ্যে বিশেষ অনুভূতি কাজ করবে যাতে আপনার মনে এক বিশ্বজনীন প্রেমানুভূতি বিরাজ করবে যা আপনাকে নৈতিকতার স্পন্দন শোনাবে ; আপনি তখন নিজেই ধর্ম_আপনিই গুরু। আপনার মস্তিষ্ক নিঃসৃত বানীই ধর্ম। এখানে উল্লেখ্য যে, গৌতম বুদ্ধ, মহাবীর প্রমুখ নিরীশ্বরবাদী ধর্ম-দার্শনিকগনও ধ্যান করতেন।

[বিভাগ: প্যারা-সাইকোলজি]

__Abu Momin

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

13 + = 22