‘হেফাজতে ইসলাম’ ও চরমোনাই পীর সাহেবের বিশ্বাসের লালপট্টি

আমাদের ‘হেফাজতে ইসলাম’ এর হুজুর-রা ও চরমোনাই পীর সাহেব সমস্যার মূলোৎপাটন না করে ডালপালা কাটা শুরু করেছেন। হুজুরা আমাদের পাঠক্রমের অন্তর্ভুক্ত যা ইসলাম বিরোধী তাই নিষিদ্ধের জন্য উঠে পড়ে লেগেছেন।

তারা হুমায়ুন আজাদের ‘বই’ কবিতাটি নিষিদ্ধ করেছেন কারণ ঐ কবিতায় কোন বইকে অন্ধ ভাবে বিশ্বাস করতে নিষেধ করেছে। এই বই শিশুদের কোরান কে অন্ধভাবে বিশ্বাসে প্রতিবন্ধক তাই ইহা নিষিদ্ধ। তাদের যুক্তি ও বুদ্ধি দুটোই অসাধারণ।

কিন্তু তাদের সর্ষেতেই ভূত।তারা পাঠক্রমের বাংলা বই থেকে ইসলাম বিরোধী লেখাসমূহ নিষিদ্ধ করছে ঠিকই। কিন্তু ঐ পাঠ্যক্রমে বিজ্ঞান বইটি ঠিকই রাখছেন। সম্মানিত হুজুর বাহিনী এই বইটি তো সবচাইতে বেশী ইসলাম বিরোধী। এটা আপনাদের ধর্মে বর্ণিত পৃথিবীর সৃষ্টিতত্ত্ব ও মানে না, আবার এটাই শিশুদের বিবর্তনবাদ ও পড়ায়, অন্ধ বিশ্বাস কে ও নিষিদ্ধ করে–আর আপনারা এটা নিষিদ্ধ না করে করেছেন বাংলা বইয়ের লেখা নিষিদ্ধ।আপনাদের পক্ষের বুয়েটিসিয়ান,ডাক্তার,বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া বুদ্ধিজীবী গুলো কি ভেড়া নাকি তারা সমস্যার মূল বিজ্ঞান বই ছেড়ে উঠেপড়ে লেগেছেন সাহিত্যের পিছনে।

হুজুর ভাইয়েরা মাথা টা শুধু মাত্র মুণ্ডন করে হজে যাওয়া আর টুপি পরার জন্য নয়, ওটার আর একটা মহৎ কার্য আছে, আর সেটা হল খাটানো। না হয় ধর্মের তত্ত্বের ব্যাখ্যায় ওটা নাই খাটালেন কিন্তু ইসলাম বিরোধীদের বিরুদ্ধে তো ভাল করে খাটান।এই বুদ্ধি ও যদি আমার মত একজন ধর্ম বিরোধীর কাছে থেকে নিতে হয় তাহলে তো লজ্জার কথা।

ভাই হুজুর সম্প্রদায় আগে বিজ্ঞান বই টা বিলুপ্ত করেন নইলে বিপদে পড়বেন। দৃশ্যত চোখে না হয় ধর্ম বিশ্বাসের লাল পট্টি বাধলেন কিন্তু বিজ্ঞান পড়ে যদি শিশুদের জ্ঞান চক্ষু একবার উন্মীলিত হয় তাহলে কিন্তু বিপদ শেষকালে অস্তিত্ব নিয়ে টানাটানিতে পড়বেন।

শিশুদের চোখে আপনাদের বিশ্বাসের এই লাল পট্টি বাধার অভিযানে–আমার শুভকামনা রইল।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

95 − = 91