ধর্ম,দর্শন ও বিজ্ঞান-৮ঃ আস্তিকতা-নাস্তিকতা এবং নৈতিকতা ও বিবর্তনবাদ

মানুষের অনু-পরমানু এবং ঐ নিম্ন শ্রেনীর প্রানীটির অনু-পরমানু একই সেলে, একই বিন্দুতে কেন্দ্রিভূত[ বিগ ব্যাং কালীন] ছিল_এখনও মহাবিশ্বের সকল অনু-পরমানুর মধ্যে একই ওয়েভ ফাংশন ক্রিয়াশীল_যে কোন বিন্দুর স্পন্দনে অন্য বিন্দু গুলোও স্পন্দিত হয়।

আস্তিকতা ও নাস্তিকতাঃ নৈতিকতা

১.১ আপনি আস্তিক হোন আর নাস্তিক হোন নৈতিক শিক্ষাকে অস্বীকার কিংবা উপেক্ষা করতে পারেননা।

১.২ ইসলাম ধর্ম ও নৈতিক শিক্ষা, হিন্দু ধর্ম ও নৈতিক শিক্ষা, বৌদ্ধ ধর্ম ও নৈতিক শিক্ষা এবং খ্রিস্টান ধর্ম ও নৈতিক শিক্ষা ইত্যাদি শিক্ষার্থীদের পাঠ্য। আস্তিকতা ও নৈতিকতার শিক্ষা শিশু-কিশোরেরা এগুলো থেকে গ্রহন করে এবং তাদের মধ্যে নৈতিক শৃংখলা গড়ে উঠে।

১.৩ অধিকন্তু পরিবার ও সমাজ থেকেও শিশু-কিশোরেরা ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষা গ্রহন করে থাকে।

১.৪ ধর্মীয় নৈতিক শিক্ষার বিকল্প হিসেবে গনতন্ত্র ও নৈতিক শিক্ষা, সমাজতন্ত্র ও নৈতিক শিক্ষা, ধর্মনিরপেক্ষতা ও নৈতিক শিক্ষা, বিজ্ঞান ও নৈতিক শিক্ষা কিংবা শুধুই নৈতিক শিক্ষা রূপে কোন শিক্ষা বিদ্যালয়ের পাঠ্য সূচীতে নেই।

১.৫ নাস্তিকতা ও নৈতিক শিক্ষা বলে কোন নৈতিক শিক্ষাও কোন পাঠ্য সূচীতে নেই।

১.৬ নাস্তিক্য চিন্তার সঙ্গে নৈতিক শিক্ষা কিভাবে যুক্ত হবে সে বিষয়টিও গবেষণার দাবী রাখে।

১.৭ সাধারন জনগন ধর্ম ও ধর্ম মত সমূহকে সত্য বলে জানে ও মানে, ii. জ্ঞানী ব্যক্তিগন ধর্ম মত সমূহকে মিথ্যা মনে করে iii. আবার, রাজনীতিবিদগন ধর্মকে তাদের প্রয়োজনীয় বিষয় হিসেবে ব্যবহার করে।

১.৮ সাধারন জনগন ধর্মকে পূর্নাঙ্গ জীবন-যাপন প্রনালী মনে করে।

১.৯ নাস্তিকতা মানুষকে অবিশ্বাসবাদী, শূন্যবাদী কিংবা নৈরাজ্যবাদীতে পরিনত করবে যদি না নাস্তিকতার সঙ্গে একটি পূর্নাঙ্গ নৈতিক জীবন-যাপন প্রনালী সংযুক্ত করা হয়।

১.১০ প্রতিটি ধর্ম মতের আবির্ভাব ঘটেছিল তদানীন্তন সময়ের সমাজের চাহিদার প্রেক্ষিতেই। মানব সভ্যতার ইতিহাসে ধর্মের আবির্ভাবকে ইতিবাচক দৃষ্টিতেই বিচার-বিশ্লষণ করা উচিত।

১.১১ একটি আধুনিক বিজ্ঞান সম্মত সার্বজনীন নৈতিক জীবন-যাপন প্রনালী নির্ধারনের পূর্ব পর্যন্ত ধর্মীয় জীবন-যাপন প্রনালীকে আমরা উপেক্ষা করতে পারিনা।

১.১২ নাস্তিকতার সঙ্গে অবশ্যই একটি আদর্শের প্রবাহ থাকতে হবে। অন্যথায় শুধুই নাস্তিক্য চিন্তা আমাদেরকে ধ্বংসের দ্বার প্রান্তে পৌছে দিতে পারে।

১.১৩ অন্ধ-উগ্র-অনৈতিক আস্তিকতা/ধার্মিকতা এবং আদর্শের প্রবাহহীন অনৈতিক নাস্তিকতা উভয়ই সমভাবে ব্যক্তি-সমাজ-রাষ্ট্রের জন্য ক্ষতিকারক।

১.১৪ সংক্ষেপে, বলতে কি, আপনি আস্তিক, নাস্তিক যাই হোননা কেন আপনাকে নৈতিক হতে হবে।

বিবর্তনবাদ ও নৈতিকতাঃ

১.১ মহাবিশ্বের অন্তর্ভূক্ত জড় ও অজড় সবকিছুই বিবর্তনের মাধ্যমেই সৃষ্টি হয়েছে।

১.২ সকল জড় ও অজড় উপাদনের উৎস স্থল এক_একটি মাত্র বিন্দু থেকেই উৎপত্তি[ বিগ ব্যাং]।

১.৩ মহাবিশ্বের সকল জৈব ও অজৈব বস্তুতে একই ওয়েভ ফাংশন কাজ করছে।

১.৪ মহাবিশ্বের সকল জৈব ও অজৈব সত্তা এক অদৃশ্য সূতার বন্ধনে আবদ্ধ।

১.৫ জৈব বিবর্তনের ধারায় নিম্ন শ্রেনীর প্রানী থেকে উচ্চ শ্রেনীর প্রানীর সৃষ্টি।

১.৬ জৈব বিবর্তন আমাদের এই শিক্ষা দেয় যে, নিম্ন শ্রেনীর ঐ প্রানীটিও চূড়ান্ত বিশ্লেষণে মানুষেরই আত্মীয়।

১.৭ মানুষের অনু-পরমানু এবং ঐ নিম্ন শ্রেনীর প্রানীটির অনু-পরমানু একই সেলে, একই বিন্দুতে কেন্দ্রিভূত[ বিগ ব্যাং কালীন] ছিল_এখনও মহাবিশ্বের সকল অনু-পরমানুর মধ্যে একই ওয়েভ ফাংশন ক্রিয়াশীল_যে কোন বিন্দুর স্পন্দনে অন্য বিন্দু গুলোও স্পন্দিত হয়।

১.৮ আর এভাবেই বিগ ব্যাং তত্ত্ব ও বিবর্তনবাদ আমাদেরকে এক বিশ্বজনীন নৈতিকতার শিক্ষা প্রদান করে।

১.৯ মহাবিশ্বের সকল জৈব-অজৈব সত্তার প্রতি এক বিশ্বজনীন ভালোবাসার অনুভূতিই সকল প্রকার নৈতিকতার উৎস স্থল।

_Abu Momin

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

১ thought on “ধর্ম,দর্শন ও বিজ্ঞান-৮ঃ আস্তিকতা-নাস্তিকতা এবং নৈতিকতা ও বিবর্তনবাদ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

8 + = 9