।। অধমের মন্ত্রী দর্শন ।।

ভাগ্য সুপ্রসন্ন হইলে যাহা হয় তাহাই হইয়াছে । ছুটির দ্বিপ্রহরে কিঞ্চিৎ আলসেমির সহিত পালঙ্কে গড়াগড়ি খাইতেছিলাম অকস্মাৎ ফোন বাজিল । ফোন ধরিয়া যাহা বুঝিলাম তাহা এইরূপ।

স্নেহধন্য এক অনুজ তার ব্যক্তিগত কাজে জনৈক মন্ত্রী মহোদয়ের প্রাসাদে যাইবে আমার আজ্ঞা হইলে তাহার সফর সঙ্গী হইতে পারি ।

লোকাল বাসে নিশ্চয়ই মন্ত্রী মহোদয়ের প্রাসাদে যাত্রা ঠিক হইবে না! তাই জিজ্ঞাস করিলাম যাত্রার বাহন কি হইবে? বলিল দ্বি চক্র বিশিষ্ট মোটরযান। চারি চাক্কা হইলে ভালো হইত তারপরে ভাবিলাম মন্দ কি ? খোলা হাওয়া খাইতে খাইতে যাইব বেশ হইবে তদুপরি ইহাও ভাবিলাম যে, এতদকাল দূরদর্শনের নাটক-চলচ্চিত্রে মন্ত্রী দেখিয়াছি কিন্তু চাক্ষুষ দেখিব এই লোভ সামলাইতে পারিলাম না, বলিলাম তথাস্তু।

মোটরযানে চড়িয়া পুলিশ বাহিনীকে ফাঁকি দিয়া কিছু সময় পর দুই ভ্রাতা পৌঁছাইলাম গন্তব্যে।

মন্ত্রী মহোদয় গৃহের বাইরে, অগত্যা অপেক্ষার পালা ।

প্রাথমিক কাছারিঘরে চক্ষু মুদিয়া বসিয়া রহিয়াছি অকস্মাৎ মন্ত্রী মহোদয়ের আগমনে ধড়ফড়াইয়া উঠিলাম। পিছু নিয়া মুল কাছারি ঘরে প্রবেশ করিয়া উপস্থিত দর্শনার্থীদের সহিত আমারাও দরবারে বসিয়া পড়িলাম।

মন্ত্রী মহোদয়ের চকচকে চেহারা- জৌলুস, আকাশ বিদীর্ণ অট্টহাসি ইত্যাকার বিষয়াদি দেখিয়া আমি ক্ষণে ক্ষণে পুলকিত হই। পেয়াদা কে ডাকিয়া মন্ত্রী মহোদয় দর্শনার্থীদের জলখাবার দিতে বলিলেন, আমার পুলকিত হৃদয় প্রাণরসে আরও ভরিয়া উঠিল! পেয়াদা মিষ্টান্ন দি লইয়া গৃহে প্রবেশ করি বা মাত্রই ধন্যবাদ দিয়া স্বহস্তে তুলিয়া লইলাম।

অনেক বহু মূত্র রোগী ছিলেন তাই মান্যবর, পেয়াদা কে ফলাদি আনিবারও নির্দেশ দিলেন। এরই এক ফাঁকে অনুজ ভ্রাতা তার কাজ সারিয়া লইয়াছেন। আমার ততক্ষণে মিষ্টান্নর পর্ব শেষ, জল খাইয়া ফলের অপেক্ষায় এদিক সেদিক তাকাইতেছি ।

বর্বর ‘ব্যক্তিগত সহকারী’ (পিএস) আসিয়া বলিল, আপনাদের কাজ হইলে আসিতে পারেন ।

রাগে জ্বলিয়া পুড়িয়া অনিচ্ছা স্বতেও বাহির হইলাম। ভ্রাতা কে ডাকিয়া কহিলাম ভায়া জীবনে যদি কিছু হইতেই হয় মন্ত্রী হইয়ো ~~

ঢাকা।
১৪ই অগাস্ট, ২০১৬

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

২ thoughts on “।। অধমের মন্ত্রী দর্শন ।।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

− 1 = 1