।। এলোমেলো এই সব দিন ।।

ঢাকা শহরের সংস্কৃতিটা অন্য যেকোনো মফস্বল শহরের সংস্কৃতির সাথে মেলানো যায়না।
ব্যাপারটা যে সব সময় মনে থাকে এমন নয় তবে চৌকসতা ধরে রাখতে সচেতন ভাবেই মনে রাখতে হয়।

অফিসে যাতায়াতের জন্য যে বাস রুট আমি ব্যবহার করি তাতে সহযাত্রীর সাথে পারতো পক্ষে আলাপ হয়না কখনোই। যে শহরে পাশের ফ্ল্যাটের পরিবারের সঙ্গেই যখন আলাপ হয়না সেখানে স্বল্প দূরত্বের বাস যাত্রীর সঙ্গে সখ্যতা ভাবনাতীত।

ভদ্রলোক আগেও দু একবার কুশল জানতে চেয়েছেন! প্রথম বার তো অবাকই হই! পাল্টা প্রশ্ন করি: আমাকে চেনেন ?

: আগে দেখেছি এই বাসেই আপনি যাতায়াত করেন ।
: ও আচ্ছা

অপরিচিত লোক হটাৎ কুশল জানতে চাইলে ধন্দেই পড়তে হয়, অন্য কোন মতলব নেই তো !

বহুদিন ধরেই আমাদের সমাজে মানুষ কে পরিমাপের যে মাপকাঠি নির্ধারিত তাতে ভদ্রলোক বায়োমেট্রিক পাশ নন । শারীরিক গঠনে, পোশাকআশাকে অতোটা ঝকঝকে ভাব নেই। তাই আগ্রহও দমে যায়।

গতকালই হটাৎ ভদ্রলোকের সঙ্গে আবার দেখা, বাসের অপেক্ষায় দীর্ঘক্ষণ দাড়িয়ে আছি ভদ্রলোক এসে জিজ্ঞেস করলেন:

: ভালো আছেন ?

তাঁর সরল প্রশ্নে আমিও আগ্রহ দেখাই, আমাদের আলাপচারীতা চলে ।

ঢাকা শহরের বেড়ে উঠলেও ভদ্রলোকের সারল্য বেশ লক্ষণীয়, অবলীলায় সে তাঁর জীবনের ছোট বড় ঘটনা বলতে থাকে।

প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার তুলনায় ভদ্রলোক ছোট একটা চাকুরী করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অনেক বছর আগেই মাইক্রো বায়োলজিতে অনার্স করেছেন। পাঁচ বোন দুই ভাইয়ের সবাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণ্ডি পেরিয়েছেন। ঢাকা শহরে তাঁদের ছতলা পৈত্রিক বাড়ি রয়েছে। কিন্তু সব কিছু ছাপিয়ে একধরনের মলিনতা তাঁর অবয়বে পরিলক্ষিত হয়।

তাঁর অপর যে সহোদর ছিলেন তাঁরা ছিলেন যমজ, ২০০১ সালে এক ভয়াবহ জ্বরে তিনি মারা যান। যেদিন তিনি মারা যান সেদিন ছিল তাঁদের জন্মদিন। ভাই টি মারা যাওয়ার পরে তিনি বছর দুয়েক মানসিক ভাবে ভারসাম্যহীন ছিলেন।

তিনি যখন তাঁর ভাইয়ের গল্প বলছিলেন তাকিয়ে দেখি চোখে জলবেয়ে পড়ছে!
অকস্মাৎ গাড়ির আসে, আমরা গন্তব্যের দিকে পা বাড়াই।

প্রতিটি মানুষের জীবন আসলে এক একটি উপন্যাস, ঘটনা দুর্ঘটনার মধ্যদিয়ে নিরন্তর সুখের খোঁজে ছুটে চলা;পথ ভোলা ~~

ঢাকা।
৭ জুন, ২০১৬

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

52 + = 59