।। বিস্মৃতির কতক কথা ।।

ছেলেটির নাম ছিল মোরশেদ। পুরো নাম জানা হয়ে ওঠেনি কখনো। হয়তোবা চেষ্টাও করিনি!

ফরিদপুর শহরের যে এলাকায় আমরা থাকতাম সেখানকার বাজারে ছোট্ট একটি দোকান ছিল তার। ততোটা সাজানো গোছানো ছিল না, টুকটাক দৈনন্দিন সরঞ্জাম নিয়েই তার পসরা ।

আমি মাঝে মাঝে তার ক্রেতা ছিলাম, দোকানে সদাই করতে গেলে আমাকে একটা টুলে বসতে দিতো। পাশের দোকান থেকে একটা গোল্ডলিফ সিগারেট হাতে দিয়ে বলতো ভাই সিগারেটটা খান!

প্রথম দিকে ব্যাপারটা ভালোই লাগতো কিন্তু পরের দিকে বিব্রত বোধ করতাম এবং পারতো পক্ষে তাকে এড়িয়েই চলতাম! আসলে তার দোকান থেকে খুব বেশী কিছু আমার কেনারও ছিল না।

তার অনেক দিন পরে কোন এক রাতে হটাৎ বাসায় এসে শুনি মোরশেদ আমাকে খুঁজতে এসেছিল, আমি তখন বনের মোষ তাড়িয়ে সবে বাসায় ঢুকেছি ! একটু ধন্দে পড়ে গেলাম, আমার বাসা তো মোরশেদের চেনার কথা নয় ! আম্মা জানালেন রাতে আবার আসবে পাশাপাশি সন্দেহের তীর আমার দিকে, বললেন তোমার কাছে কি কোন টাকা পাবে ? আমি বললাম না তো !

টাকার কথা মাথায় আসতেই ভাবলাম ওর দোকানের অবস্থা তো অতো ভালো নয়, তাহলে কি আমার কাছে টাকা ধার চাইতে আসবে ?

কলিং বেল বেজে উঠলো, চোয়ালটা শক্ত করে দরজায় গিয়ে দাঁড়ালাম, যে ভাবেই হোক টাকা ধার দেয়া যাবেনা।

: সাগর ভাই কেমন আছেন ? আমি মোরশেদ । বিকেলে একবার এসেছিলাম, খালাম্মা বললো আপনি রাতে ফিরবেন।

: ও মোরশেদ কি খবর ?
বাসার বারান্দায় একটি পুরনো সোফা ছিল আমরা বসলাম, কুশল বিনিময় শেষ হলে মোরশেদ বললো

: ভাই দোকানটা ছেড়ে দিয়েছি। ব্যবসা খুব একটা ভালো না, বাড়ি চলে যাবো তাই আপনার সাথে দেখা করতে আসলাম ।
: ও তাই নাকি ।
আমি যথা সম্ভব কথা না বাড়িয়ে বললাম, এদিকে আসলে এসো।
মোরশেদ উঠে দাঁড়ালো, হাতে পলিথিনে জড়ানো ছোট্ট একটি প্যাকেট দিয়ে বললো, এটা আপনার জন্য এনেছি !

আমি অল্প আলোয় দেখলাম একটি মিষ্টির প্যাকেট! প্যাকেটটি হাতে নিয়ে আমি হতবাকের মতো দাঁড়িয়ে রইলাম ! মোরশেদ নিঃশব্দে চলে গেলো ~~

৩০শে জুলাই, ২০১৫
ঢাকা।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

78 + = 80