এরাই তারা !

১. মুক্তিযুদ্ধের সময় একতরফাভাবে বাঙালি খুনের নেশায় উন্মাদ হয়ে যায় দুই পাকিস্তানের মুসলমান নাগরিকেরা । ১৯৪৭ এর ধর্মের ভিত্তিতে যে ভারত বিভক্ত হয়ে মুসলমানের পাকিস্তান আর হিন্দুর ভারত হয় তার পূর্ন ধর্মিয় প্রতিফলন দেখা গেছে একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে ।

২. তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের মুসলমান জনগোষ্ঠি ১৯৭১ এর মুক্তিযুদ্ধকালীন এবং এর পরবর্তীতে ২০১৬ এর ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ক্ষুধার্ত শকুনের মতন খুবলে খেয়েছে হিন্দুর মাংস, ডাকাতের মত লুটপাট করেছে হিন্দুর সম্পত্তি, অসভ্য অভিশপ্তের মত অত্যাচার করেছে হিন্দুর মা বোনদের । যদিও যেসব মুসলমান এসব করেছে মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে তারা পেয়েছে রাজাকার উপাধি কিন্তু পরবর্তিতে যারা এসব করছে এবং করার পিছনে উস্কানি দিচ্ছে তাদের কোন উপাধি দেয়া হয়নি । দেশে যুদ্ধাবস্থাও নেই যে এই উছিলায় মুসলমানকে হিন্দুর উপর এসব অত্যাচার করতে হবে । উপরন্তু মুসলমান হয়ে গেছে “দুর্বৃত্ত” । রাতের আধাঁরে কে বা কারা মন্দিরে হামলা করেছে প্রতিমা ভেঙেছে কেউ দেখেনি !!

৩. মুক্তিযুদ্ধকালিন নারায়ে তাকবীর আল্লাহু আকবর বলে যে মুসলমান হিন্দুর গলা কাটতো এবং উল্লাস করতো সেই একই ইসলামি স্লোগান আজো শুনতে পাওয়া যায় সারা বাংলাদেশে । কিন্তু এখনতো যুদ্ধ নাই, হিন্দু মালাউনের সংখ্যাও কমানো হয়েছে ইসলামি জোশে , ইসলামি পরিকল্পনা কমিশনের মত করেই তবে এখনও কেন এসব চলছে ?? তবে তো বলতে হয় যুদ্ধকালের মুসলমান আর বর্তমানের মুসলমান একই ছিল এবং আছে । নাহলে এসব অবশ্যই ঘটতো না ।

৪. ভারত ভেঙে পাকিস্তান হয়েছে । পাকিস্তানও ভেঙেছে কিন্তু ভাঙেনি মুসলমানের বন্ধন , মুসলমানের সুপ্ত বাসনা , মুসলমানের পরিকল্পনা । নয়তো যুদ্ধকালীন নয় মাসে যে পরিমান মন্দির আর প্রতিমা ভাঙচুর করা হয়েছে তার কয়েক হাজার গুন বেশি মন্দির ভাঙচুর করা হয়েছে গত ৪৫ বছরে । যুদ্ধকালিন তো কোন মসজিদ ভাঙচুরের শিকার হয় নি , হয়েছে মন্দির কেবল । লুঙ্গি খুলে ধর্ম যাচাই করা হয়েছে মালাউন কি না যাচাই করতে । বলতে দ্বিধা করবো না যে মুক্তিযুদ্ধ কেবল মুক্তিযুদ্ধই ছিল না , ছিল একটা প্রকাশ্য ও সাবলীল ধর্মযুদ্ধ । যেখানে কেবল একটি নির্দিষ্ট ধর্মের মানুষজনের উপর খোলাখুলি অত্যাচার নির্যাতন চালানো হয়েছে ।

৫. মুক্তিযুদ্ধের সময় মালাউনের বউ ঝি কে যারা ঘোষনা দিয়ে গনিমতের মাল হিসেবে বিকৃত উপভোগ করে উল্লাস করেছে তারাই যুদ্ধ পরবর্তি সময়ে এই একই কাজ করেছে আরো দ্বিগুন ধর্মিয় উৎসাহে । রাজনৈতিক মুসলমান ব্যক্তিত্ব এসবের পক্ষে প্রকাশ্যে কিংবা আড়ালে সাফাইও গেয়েছে । যা অবাক তো করেই নি বরং বিশ্বাসঘাতক মীরজাফরকে মনে করিয়েছে প্রবলভাবে ।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

− 2 = 2