ইসলামী মৌলবাদ ও আমাদের নতজানু সরকার

ন্যায়বিচারের প্রতীক সরূপ বিশ্বের অনেক দেশের বিচারিক আদালতে গ্রিক দেবী থেমিসের ভাস্কর্য ব্যবহৃত হয়। শুধু অমুসলিম দেশে না অনেক মুসলিম দেশেও এটি ন্যায়ের প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে। আমাদের দেশের সুপ্রিম কোর্টে মোটামুটি বাঙালী কালচারের আদলে নান্দনিক এই শিল্পকর্মটি সম্প্রতি স্থাপন করা হয়েছে। শাড়ি পরা ভাস্কর্যটি দেখে মনেই হবেনা এটি গ্রিক দেবী থেমাসের। তবুও এই ভাস্কর্যটি সুপ্রিম কোর্টের সৈন্দর্য অনেকটাই বৃদ্ধি করেছে। কিন্তু ধর্মকে পুঁজি করে বেঁচে থাকা কিছু গোরা মানুষ এই ভাস্কর্যটির বিরুদ্ধে উষ্কানী দিয়ে সাধারণ মুসলমানদের লেলিয়ে দিয়ে ফায়দা তুলতে চাইছে।

ইসলামী দলগুলোর দাবি গ্রিক দেবী থেমাসের এই ভাস্কর্যটি বাঙালী কৃষ্টি, কালচার, ঐতিহ্য, ইতিহাস, সংস্কৃতি বিরোধী এবং অশ্লীল! সাথে এও বলছে, অন্যদেশের সাংস্কৃতিক আগ্রাসন তারা মানবে না। রক্ত দিয়ে হলেও এই আগ্রাসন প্রতিহত করবে! হেফাজতে ইসলাম, চরমোনাইর পীর, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ’র আমীর এমনকি আওয়ামীলীগের অংশ ওলামালীগ দাবি করছে, “ভাস্কর্য যদি স্থাপন করতেই হয় তাহলে পবিত্র কোরআন ও তলোয়ার প্রতীক হিসেবে স্থাপন করতে হবে। কোনভাবেই গ্রিক দেবীর ভাস্কর্য মানবো না”।

মুসলমানদের দাবি মতে কোরান হচ্ছে সর্বশ্রেষ্ঠ গ্রন্থ, আল্লাহর আইন, ন্যায়বিচারের প্রতীক। অথচ শরিয়া বা কোরানের আইনে আমরা কী দেখি? আসলেই কী কোরানকে ন্যায়বিচারের প্রতীক মানা যায়? কোরানেরর আইন দ্বারা পরিচালিত সৌদি আরবের দিকে তাকালে কোরানের আইনের কিছুটা আন্দাজ করতে পারি। সে দেশে পেটের দায়ে কেউ সামান্য কিছু চুরি করলে হাতের কব্জি কেটে দেয়া হয়, বিয়ে বহির্ভূত শারিরীক সম্পর্ক হলে পাথর মেরে হত্যার নির্দেশ দেয়া হয়। কোরানের আইনের ফলে দাসীদের নিজের স্ত্রীর মতো ব্যবহার করতে ও শাস্তি দিতে বলা হয়, নারীদের জন্যে কঠিন নিয়মকানুন প্রতিষ্ঠা ও শাস্তির বিধান রাখা হয়, ধর্ম ত্যাগকারী কাফের, নাস্তিকদের শাস্তি মৃত্যুদণ্ড ঘোষণা করা হয়, অন্য ধর্মের লোকদের বন্ধু হিসেবে গ্রহণ না করার নির্দেশ দেয়া হয়! সৌদিতে কোন অমুসলিম দেশের নারীরাও বোরকা হিজাব ছাড়া চলতে পারেনা। অমুসলিমরা নিজেদের ধর্ম পালন করতে পারেনা, স্বাধীন ভাবে চলতে পারেনা।

যে বইয়ের আইন এত ভয়ঙ্কর, বর্বর, মুসলিম ছাড়া অন্য ধর্মের মানুষের সাথে অন্যায় আচরণের কথা বলা হয়, শাস্তি দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়, দাস দাসী ও নারীর সাথে অমানবিক, অন্যায় ও সমান আচরণ না করার কথা বলা হয়, অন্য ধর্মের মানুষের মালামাল ও নারীদের গনিমতের মাল হিসেবে ভোগ করা হয়, সেই বই কী করে ন্যায়বিচারের সরূপ হতে পারে?

মূর্তি বা ভাস্কর্য ভাঙ্গা ইসলামের ইতিহাসে নতুন নয়। ইসলামের শুরুতে নবী মুহাম্মদ পৌত্তলিকদের কাবা ঘরে সংরক্ষিত ৩৬০ টি মূর্তি ভেঙ্গে মূর্তি ভাঙ্গার উৎসব শুরু করে। সেই মূর্তি ভাঙ্গার উৎসব মুসলমানরা আজকের দিনে আরো ব্যপক ভাবে চালিয়ে নিচ্ছে। সাধারণ মুসলমান থেকে শুরু করে উগ্র মুসলমান তথা আই এস, তালেবান, আল কায়দা মূর্তি ও ভাস্কর্য ভাঙ্গার উৎসব করে! যুক্তি হিসেবে বলা হয় ইসলামে মূর্তিপূজা হারাম। নবী মুহাম্মদ স্বয়ং মূর্তি ভাঙ্গার নির্দেশ দিয়ে গেছেন।

মুসলমানদের কাছে মূর্তিপূজা হারাম হতে পারে, অন্য ধর্মের মানুষের কাছে মূর্তিপূজা হারাম না। যদিও হজের নামে মুসলমানদের কাবা ঘর প্রদক্ষিণ করা, শয়তানের উদ্দেশ্য পাথর নিক্ষেপ করা, পাপমুক্ত হবার নামে কালো পাথরে চুমু খাওয়াও একপ্রকার মূর্তি পূজা। যাই হউক, বাংলাদেশে কী শুধু মুসলমান সম্প্রদায়ের মানুষ বাস করে? নাকি অন্য ধর্মের মানুষও বাস করে? অন্য ধর্মের মানুষতো কোরানের আইনকে মানে না। তারা কেন কোরানকে ন্যায়বিচারের প্রতীক মানবে?

এই উপমহাদেশে হিন্দুদের মন্দির, মূর্তি ভাঙ্গা শুরু হয়েছিল ইসলাম প্রচারের শুরুতে যখন থেকে প্রচুরসংখ্যক আরব, ইরানি, তুর্কি ও সুফি দরবেশরা ইসলাম প্রচার করতে এ দেশে আসে। এখনও সারাদেশে প্রতি বছর অসংখ্য দূর্গাপূজার মূর্তি সহ বিভিন্ন মন্দিরের মূর্তি ভেঙ্গে যাচ্ছে ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা। প্রায় প্রতিদিনই মিডিয়ায় মূর্তি ভাঙ্গার খবর আসে। শুধু মূর্তি না সমান তালে ভাস্কর্যও ভাঙ্গা হচ্ছে। হিন্দুদের মন্দির, মূর্তি ভাঙ্গার কথা না’ই বলি। আসুন দেশের কৃষ্টি, কালচার, ঐতিহ্য, ইতিহাসের প্রতীক সরূপ নানান ধরনের ভাস্কর্য ভাঙ্গার কিছু উদাহরণ তুলে ধরি,

২০১২ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর ফেসবুকে ইসলাম ধর্মের অবমাননার গুজব রটিয়ে কক্সবাজারের রামুতে শত শত বৌদ্ধ মূর্তি, পুরাকীর্তি, দামি পাথর, গহনা লুট করে নেয়া সহ ভেঙ্গে-পুড়িয়ে দেয়।

২০০৮ সাথে ১৫ অক্টোবর এয়ারপোর্টে “অচিন পাখী” শিরোনামে লালন ভাস্কর্যটি ভেঙ্গে গুড়িয়ে দেয় এক দল সাদা পাজামা, পাঞ্জাবি, টুপি পরা বর্বরেরা! এই ঘটনার পর একই বছরের ২৮ নভেম্বর তারিখে মতিঝিলের বলাকা ভাস্কর্যটি ভেঙ্গে দেয় মৌলবাদীরা।

২০১২ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারীতে বনানীর নেভাল হেডকোয়ার্টারের সামনে ভাস্কর মৃণাল হকের করা ‘অতলান্তিকে বসতি’ ভাস্কর্যটি ভেঙ্গে দেয় কিছু অজ্ঞাত ব্যক্তি। তখন ধারনা করা হয়েছিল নৌ বাহীনির লোকেরাই এটি ভেঙ্গে দিয়েছে। কারণ
নেভীর পক্ষ থেকে অনেকবার ভাস্কর্যটিকে মূর্তি হিসেবে উল্লেখ করে সরিয়ে নেওয়ার জন্য বলা হয়েছিল শিল্পী মৃণাল হককে।

২০১৩ সালের ২২ ফেব্রুয়ারী সিলেট নগরীতে জুমার নামাজের পর জঙ্গি মিছিল নিয়ে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ভাংচুর ও মাতৃভাষা দিবসে দেয়া ফুলে আগুন দিয়েছিল এক দল মুসলিম জনতা।

২০১৩ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারী জামায়াত নেতা দেলোয়ার হোসেন সাঈদীর ফাঁসির রায় ঘোষণার পর জোট বদ্ধ হয়ে ঝিনাইদহের বিষয়খালী হাইস্কুল প্রাঙ্গনে স্থাপিত মুক্তিযুদ্ধের ভাস্কর্য ভাংচুর করে।

আজ পর্যন্ত দেশে কোন ভাস্কর্য ভাঙ্গার বিচার হয়নি। বলা যেতে পারে মৌলবাদী শক্তির কাছে পরাজিত সরকার বিচার করার ধৃষ্টতা দেখাতে পারেনি। মাওলানা রাজ্জাক বিন ইউসুফ প্রকাশ্যে ঘোষণা দিয়ে বলে, “আমি মুসলিম, কাপুরুষ নই। আমি মূর্তি ভাংতে এসেছি, মূর্তি কে সম্মান করতে নয়”। বিভিন্ন সময় নারীদের নিয়ে কুৎসিত মন্তব্য করা এই রাজ্জাকই শুধু মূর্তি ভাঙ্গার হুংকার দেননি, ইসলামকে পুঁজি করে রাজনীতি করা সকল নেতারাই মূর্তি সহ ভাস্কর্য ভাঙ্গার আন্দোলন, বক্তৃতা করে, না হলে নিজেরাই ভেঙ্গে ফেলার হুশিয়ারি দেয়!

হেফাজতে ইসলাম, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, চরমোনাই’র পীর, ওলামা লীগ সহ ভুঁইফোড় ইসলামী দলগুলো সারাবছর বিভিন্ন ইস্যুতে ইসলাম গেল ইসলাম গেল রব তুলে। হাবভাব দেখে মনে হয় ইসলাম আর মুসলমানরা যেন টয়লেট টিস্যু, ফুঁ দিলে উড়ে যাবে!

২০১৫ সালে মৌলবাদীদের আন্দোলনের মুখে সাম্প্রতিক সময়ে মৌলবাদীদের কণ্ঠ হয়ে উঠা বাংলা একাডেমী একুশে বই মেলা থেকে রোদেলা প্রকাশনী নিষিদ্ধ করে। ২০১৬ সালে এসে নিষিদ্ধ করে ব-দ্বীপ প্রকাশনী! রোদেলার অপরাধ ছিল তারা নবী মুহাম্মদের জীবনী নির্ভর “নবী মুহাম্মদের তেইশ বছর” বইটি প্রকাশ করে। ব-দ্বীপের অপরাধ তারা “ইসলাম বিতর্ক” বইটি প্রকাশ করে। শুধু প্রকাশনী নিষিদ্ধ করেই শেষ করেনি, প্রকাশক ও লেখক সামসুজ্জামন মানিক ও বইটির লেখককে গ্রেপ্তার করা হয়, যারা আজ পর্যন্ত মুক্তি পাননি! যদিও নিষিদ্ধ করা দুটি বইই ছিল অনুবাদ বই।

মৌলবাদীদের আন্দোলন, হুমকির মুখে সরকার শুধু এই দুটি বইই নিষিদ্ধ করেনি একাত্তরের পর থেকে প্রচুর মুক্তচিন্তা, মুক্তবুদ্ধি চর্চার বই নিষিদ্ধ করা হয়েছে বাংলাদেশে। যেমন, মৌলবাদীদের চাপের মুখে ১৯৯৫ সালে ততকালীন বি এন পি সরকার হুমায়ুন আজাদের “নারী” বইটি নিষিদ্ধ করে। হুমায়ুন আজাদকে মূর্তাদ, নাস্তিক আখ্যায়িত করে বিভিন্ন সময় তাঁর ফাঁসির দাবিও করা হয়েছিল ইসলামী দলগুলোর পক্ষ থেকে। “পাক সার জমিন সাদ বাদ” বইটির জন্যে তো বইমেলায় তাঁকে কুপিয়ে হত্যা করতে চেয়েছি এবং তিন মাস পরে তিনি জার্মানিতে মারাও যান। ১৯৯৯ সালে মতিয়ুর রহমান রেন্টুর বই “আমার ফাঁসি চাই” শেখ হাসিনা সরকার বাজেয়াপ্ত ঘোষণা করে। ২০১১ সালে আবুল বারাকাতের, “পলিটিক্যাল ইকোনমি অব মাদরাসা এডুকেশন ইন বাংলাদেশ” বইটি নিষিদ্ধ করার জন্যে ইসলামী দলগুলো লাগাতার আন্দোলনে নেমেছিল এবং আবুল বারাকাতের বিচার দাবি করেছিল। মুসলমানদের খুশি করতে “কালো সূর্যের কালো জ্যোৎসায় কালো বন্যায়” কবিতার জন্যে ১৯৭৪ সালে কবি দাউদ হায়দারকে দেশ ছাড়তে বাধ্য করেছিলেন বঙ্গবন্ধু! ধারণা করা হয়ে থাকে, তিনি ঐ কবিতাতে হযরত মুহাম্মদ, যিশুখ্রীষ্ট এবং গৌতম বুদ্ধ সম্পর্কিত অবমাননাকর উক্তি করেছিলেন যা সাধারণ মুসলমানদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করেছিল। কবিতার কয়েকটি লাইন নিচে দেয়া হলো,

“অদ্ভুত আলখেল্লা পরিহিত মিথ্যুক বুদ্ধ 
বুধি বৃক্ষতলে 
যিশু ভন্ড শয়তান, 
মোহাম্মদ আরেক বদমাশ 
চোখে মুখে রাজনীতির ছাপ।” 

১৯৯২ সালের সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার প্রেক্ষাপট নিয়ে লেখা তসলিমা নাসরিনের “লজ্জা” উপন্যাসটি নিষিদ্ধ হয় ১৯৯৩ সালে। লজ্জা ছাড়াও লেখিকার সাত খন্ড আত্মজীবনীর পাঁচটিই নিষিদ্ধ করা হয়। শুধু বই নিষিদ্ধ করেই ক্ষান্ত হয়নি মুসলিম মৌলবাদী গুষ্টি। মামলা দিয়ে, দিনরাত মিছিল, মিটিং, হত্যার হুমকি, আন্দোলন, এমনকি ৫০ হাজার টাকা মাথার দাম নির্ধারণ করে দেশ ছাড়তে বাধ্য করা করেছিল।

২০১৫ সালে হজ ও তাবলিক জামাত নিয়ে কিছু কঠিন সত্য বলায় দেশের ইসলামী মৌলবাদীদের রোষানলে পড়েছিলেন মন্ত্রী আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী। এমনকি মৌলবাদীরা তাঁর ফাঁসির দাবিও তুলেছিল। যার ফলে মন্ত্রীত্ব ও সাংসদ সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছিলেন তিনি।

নাস্তিক, মুক্তমনা, প্রগতিশীল মানুষদের প্রতি নিয়মিত যুদ্ধই ঘোষণা করেছে ইসলামী দল তথা মৌলবাদী দলগুলো। যার ফলে লেখক অভিজিৎ রায়, ব্লগার রাজীব হায়দার, অনন্ত বিজয়, বাবু, নীলয় নীল, দীপন সহ একের পর এক নাস্তিক মুক্তমনা, প্রগতিশীল মানুষদের হত্যা করা হয়েছে।

গতবছর ইসলামী দলগুলোর আন্দোলনের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলো পাঠ্যপুস্তক সংশোধন করে প্রগতিশীল ও হিন্দু লেখকদের লেখা বাদ দিয়ে ইসলামী বইয়ে রূপান্তর করা। মৌলবাদী শক্তিকে তোষামোদ করে ক্ষমতায় টিকে থাকার লোভে সরকার তাদের সব দাবি মেনে এ বছর সব বই সংশোধন করে ইসলামী বইয়ে রূপান্তর করেছে। এদিকে কওমী নামক জঙ্গীবাদ শিক্ষাকেও স্বীকৃতি দিয়ে সার্টিফিকেট দেয়ার উদ্দোগ নিয়েছে সরকার। বাংলাদেশের প্রায় সব প্রগতিশীল, অসাম্প্রদায়িক, আধুনিক, মানবিক, বৈজ্ঞানিক, সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডে বাধা দিয়ে যাচ্ছে ইসলামী তথা মৌলবাদী দলগুলো। বক্তৃতা, বিবৃতি, হুমকি দিয়ে সফল না হলে নিজেদের শক্তি প্রয়োগ করে কার্য হাছিল করে তারা। না হয় সরকারের সাথে আতাত করে হাতিয়ে নেয় জনগণের কোটি কোটি টাকার সম্পদ।

দেখা যাচ্ছে ধর্মীয় মৌলবাদীদের কাছে সরকার, রাষ্ট্র, বিচারব্যবস্থা অসহায়! অসহায় বললে ভুল হবে, মৌলবাদী দানবের পাছায় নিয়মিত তেল মালিশ করে ক্ষমতায় থাকার সহজ পথ খোঁজে নিয়েছে বিভিন্ন সময়ের ক্ষমতা লিষ্পুরা। যেমন করে ৭২ এর সংবিধান পরিবর্তন করে বিসমিল্লাহ সংযুক্ত করে জিয়া ও রাষ্ট্র ধর্ম ইসলাম সংযুক্ত করে ক্ষমতায় টিকে থাকা ও জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিল এরশাদ। পরবর্তীতে সব সরকার ও ক্ষমতা লিস্পুরা একই পথ অবলম্বন করেছে। যার ফলে আর কোন সরকার ক্ষমতায় থাকার লোভে ধর্মীয় তথা মৌলবাদী শক্তির রক্ত চোখকে উপেক্ষা করে ৭২ এর সংবিধান ফিরে যাবার সাহস দেখাতে পারেনি।

ধর্ম ব্যবসায়ী ইসলামী দলগুলো সারা বছর সাধারণ মুসলমানদের ধর্মীয় আবেগ ও অনুভূতিকে কাজে লাগিয়ে ইসলাম গেল ইসলাম গেল রব তুলে একের পর এক ফায়দা তুলে নিচ্ছে। সেই সাথে দেশকে সাম্প্রদায়িক, মৌলবাদী, উগ্র জঙ্গীবাদ রাষ্ট্রে পরিনত করছে। ইসলামী দলগুলো যদি এই আন্দোলন ও হুমকি দিয়ে সুপ্রিমকোর্ট প্রাঙ্গণ থেকে গ্রিক দেবীর ভাস্কর্যটি সরিয়ে নিতে সরকারকে বাধ্য করতে পারে, মোটকথা সফল হয় তখন দেখা যাবে এই গুষ্টিটি দেশের সব ভাস্কর্য ও ঐতিহ্য ভেঙ্গে ফেলার আন্দোলনে নামবে। নতুবা নিজেরাই ভেঙ্গে দিবে। ওরা জানে ওদের বিরুদ্ধে কথা বলার কেউ নাই। না সরকার, না বিচার ব্যবস্থা, না জনগণ। ফলে একে একে ধ্বংস করে ফেলবে দেশের কৃষ্টি, কালচার, ঐতিহ্য, ইতিহাস। সেই সাথে তাদের চাওয়া অনুযায়ী দেশ হবে মদিনা সনদের দেশ!

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

১ thought on “ইসলামী মৌলবাদ ও আমাদের নতজানু সরকার

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

95 − 92 =