হিন্দু ধর্মের ইতি বৃত্ত, পর্ব ০৩

আমরা আরো কিছুক্ষণ হিন্দু ধর্মের আরো কিছু দেব-দেবীদের জন্মবৃত্তান্ত ও তাদের পরিচয় সংক্ষিপ্তভাবে জেনে নিয়ে এই ধর্মের নিয়ম কানুন, বিধি বিধান, রীতিনীতি নিয়ে আলোচনায় মনোনিবেশ করবো।



দেবী মনসাঃ
ব্রহ্মবৈবর্ত পুরাণ অনুসারে দেবী মনসা ঋষি কশ্যপের কন্যা। একদা সর্প ও অন্যান্য সরীসৃপগণ পৃথিবীতে কলহ শুরু করলে কশ্যপ তাঁর মন থেকে মনসার জন্ম দেন। মন থেকে মনসার জন্ম হওয়ায় তার নাম হলো ‘মনসা’। এখানে বীর্যও নেই জরায়ুও নেই। ঋষি কশ্যপ মন থেকে বলেছেন শুধু হও ব্যস হয়ে গেল। মনসাবিজয় কাব্য থেকে জানা যায়, বাসুকির মা একটি ছোটো মেয়ের মূর্তি নির্মাণ করেছিলেন। শিবের বীর্য এই মূর্তি স্পর্শ করলে মনসার জন্ম হয়। কে এই বাসুকি? বাসুকি মহাভারত মহাকাব্যে উল্লিখিত সর্পকুলের রাজা অর্থাৎ নাগরাজ। বাসুকি মহাদেব শিবের সর্প। সে দেবতা শিবের গলা পেঁচিয়ে থাকে। হিন্দু পূরান অনুযায়ী দেবতারা সমুদ্র মন্থনের জন্য বাসুকিকে রজ্জু হিসাবে ব্যবহার করেছিল। বৌদ্ধ পূরাণে বাসুকির উল্লেখ দেখা যায়। কশ্যপ ও তাঁর স্ত্রী কদ্রুর জ্যেষ্ঠ্ নাগ-পুত্র (অনন্তনাগ, শেষনাগ ও বাসুকি – তিন নামেই ইনি পরিচিত)। মাতা কদ্রুর অন্যায় আদেশ অমান্য করায় কদ্রু অনন্তকে শাপ দেন যে, তিনি জনমজয়ের সর্প-যজ্ঞে দগ্ধ হয়ে মারা যাবেন। নানা পবিত্র তীর্থে কঠোর তপস্যার পর অনন্তনাগ ব্রহ্মার দেখা পান। ব্রহ্মা ওঁকে বলেন, বন-সাগর-জনপদাদি-সমন্বিত চঞ্চল পৃথিবীকে নিশ্চল করে ধারণ করতে। এটাই কি কোরানে বর্ণীত পৃথিবীকে স্থির রাখতে পাহাড়ের পেরেক? অনন্ত (শেষ) নাগ পাতালে গিয়ে মাথার ওপর পৃথিবী ধারণ করলেন। সাপের মাথার উপর পৃথিবী? ব্রহ্মার অশীর্বাদে গরুড় তাঁর সহায় হলেন এবং পাতালের নাগগণ তাঁকে নাগরাজ বাসুকিরূপে বরণ করলেন।

পুরাণ মতে― নাগদের মধ্যে ইনিই সর্বশ্রেষ্ঠ। ইনি পৃথিবীকে ধারণ করে আছেন। ইনি যখন দীর্ঘশ্বাস ফেলেন তখন সমস্ত পৃথিবী কম্পিত হয়। এখানে বোধ হয় ভুমিকম্পের একটা বৈজ্ঞানিক তত্ত্ব পাওয়া গেল। বাসুকি তাঁকে (মনসাকে) নিজ ভগিনীরূপে গ্রহণ করেন। আবার মঙ্গলকাব্য অনুযায়ী; প্রেমে মগ্ন মহাদেব শিব একদিন পার্বতির কথা চিন্তা করে করে কাম চেতনায় বীর্য বের করে দেন। সেই বীর্য পদ্ম পাতার ওপরে রাখেন। বীর্য পদ্মের নাল বেয়ে পাতালে চলে যায়। সেখানে সেই বীর্য থেকেই মনসার জন্ম। পদ্মপাতায় মনসার জন্ম হওয়ায় তার আরেক নাম পদ্মাবতী। মনসা বড় হন বাসুকীর কাছে । শিবের পত্নী পার্বতি মনসাকে শিবের উপপত্নী মনে করেন। তিনি মনসাকে অপমান করেন এবং ক্রোধবশত তাঁর একটি চোখ দগ্ধ করেন। পরে শিব একদা বিষের জ্বালায় কাতর হলে মনসাই তাঁকে রক্ষা করেন। একবার পার্বতি মনসাকে পদাঘাত করলে মনসা তাঁর বিষদৃষ্টি হেনে পার্বতিকে অজ্ঞান করে দেন। শেষে মনসা ও পার্বতির কলহে হতাশ হয়ে শিব মনসাকে পরিত্যাগ করেন। দুঃখে শিবের চোখ থেকে কয়েক ফোটা জল পড়ে আর সেই জলে জন্ম হয় মনসার সহচরী নেতার (মনসার ভাষায় নিতী)। এখানেও বীর্য নেই যোনী নেই, শুক্রানু নেই ডিম্বানুও নেই এ সব ছাড়াই জন্ম নিলেন মনসার সহচরী নেতা।

আমরা আরো কিছুক্ষণ হিন্দু ধর্মের আরো কিছু দেব-দেবীদের জন্মবৃত্তান্ত ও তাদের পরিচয় সংক্ষিপ্তভাবে জেনে নিয়ে এই ধর্মের নিয়ম কানুন, বিধি বিধান, রীতিনীতি নিয়ে আলোচনায় মনোনিবেশ করবো।

দেবী দুর্গাঃ
বলা হয় দেবী দূর্গাই সৃষ্টির মূল কারণ। মুসলমানদের যেমন নবি মুহাম্মদই সৃষ্টির আদি কারণ। তবে এখানে ব্যাপারটা ঠিক সেই রকম নয়। এই ধর্মে মুহাম্মদের ভুমিকায় আরেকজন আছেন তার কথা পরে আলোচনায় আসবে। কোরানে বর্ণীত ফেরেস্তা শিরোমণি আজাজিল আল্লাহর খুব প্রিয় ফেরেস্তা ছিল। আল্লাহর কথা অমান্য করায় এক পর্যায়ে যখন অভিশপ্ত হয়ে আজাজিল থেকে শয়তান নাম ধারণ করে বেহেস্ত থেকে বিতাড়িত হয় তখন সে আল্লাহর কাছে অলৌকিক শক্তি ও অমরত্ব দাবী করেছিল। আল্লাহ তা মঞ্জুরও করেছিলেন। এখানেও প্রায় একই ঘটনা ঘটেছে। একদিন ভগবান ব্রহ্মা দৈত্যরাজ মহিষাসুরের কিছু ভাল কাজে সন্তুষ্ট হয়ে তাকে বর দিতে চাইলেন। দৈত্যরাজ অমরত্ব বর প্রার্থনা করলেন। ব্রহ্মা সরাসরি অমরত্ব বর না দিয়ে তাকে এই বর দিলেন যে, বিশ্ব ব্রহ্মান্ডের কোনো পুরুষের হাতে তার মৃত্যু হবেনা। বিশ্ব ব্রহ্মাণ্ড স্রষ্টা ব্রহ্মার নিকট এমন বর পেয়ে মহিষাসুর নিজেকেই ব্রহ্মা ভাবতে শুরু করে দিলেন। মহিষাসুরের অত্যাচার দিনদিন বেড়েই চললো। দৈত্যরাজের মনে স্বর্গ-মর্ত্য-পাতাল সারা বিশ্ব ব্রহ্মাণ্ড জয় করার বাসনা জেগে উঠলো। তার প্রবল অত্যাচারে স্বর্গের দেবতারা পরাজিত হতে থাকেন, এক পর্যায়ে মহিষাসুর দেবরাজ ইন্দ্রকে পরাজিত করে স্বর্গের দেবতাদের স্বর্গ থেকে বিতারণ করে নিজেই স্বর্গরাজ্য অধিকার করে নেয়। অবস্থা বেগতিক দেখে দেবতারা অনন্যোপায় হয়ে ব্রহ্মার শরণাপন্ন হন। ব্রহ্মা, শিব ও অন্য সকল দেবতাকে নিয়ে বিষ্ণুর কাছে আসেন। দেবতারা অবগত আছেন যে, দৈত্যরাজ মহিষাসুরকে ব্রহ্মার দেয়া বরের কারণেই কোনো পুরুষ তাকে বধ করতে পারবেনা। তাহলে উপায়? বুদ্ধীমান বিষ্ণু এর একটা উপায় বের করে দিলেন, বললেন ‘এই পরাক্রমশালী অসুরকে বধ করতে হলে নিজ নিজ স্ত্রীর সাথে মিলিত হয়ে নিজ নিজ তেজের কাছে প্রার্থনা করতে হবে যে তাঁদের মিলিত তেজ থেকে যেন এক নারীমূর্তির আবির্ভাব হয়। বিষ্ণুর কথা মতো দেবতারা নিজ নিজ বউয়ের সাথে কাম শুরু করে দিলেন। কামের সময়ে দেবতাদের দেহ থেকে যে তেজ নির্গত হয়েছিল সেই তেজ থেকে সৃষ্টি হয় এক অপরূপা সুন্দরী দেবীর। তিনিই আমাদের দেবী দুর্গা । যে সকল দেবতাদের দেহ থেকে তেজ নির্গত হয়েছিল,তার মধ্যে ছিলেন স্বয়ং ব্রহ্মা, শিব, বিষ্ণু ও ইন্দ্র। বুঝা গেল দেবী দূর্গাও প্রকৃতির স্বাভাবিক নিয়মে জন্ম গ্রহণ করেন নি, তার জন্মের জন্যে শুক্রানু আর ডিম্বানু, মাতৃগর্ভ আর জরায়ুর প্রয়োজন হয়নি। চারজন মহা পরাক্রম শক্তিশালী দেবতাদের তেজ থেকে জন্ম নেয়া দেবীর তেজ কেমন হবে তা বলাই বাহুল্য। তিনি দৈত্যরাজ মহিষাসুরকে বধ করতে সক্ষম হলেন। তবে এখানে কিছু প্রশ্ন তো থেকেই যায়। তেজ জিনিষটা কী? যদি তা আধ্যাতিক বা রূপক অর্থে হয় তাহলে নিজ নিজ বউয়ের সাথে মিলন এর মানেটা কী?

দেবী দুর্গার অনেক নাম—মহিষাসুরমর্দিনী, মহামায়া, জয়দুর্গা, জগদ্ধাত্রী, শূলিনী, কালী, বিপদনাশিনী, সন্তোষী, গন্ধেশ্বরী, শাকম্ভরী, বনদুর্গা, কাত্যায়নী ইত্যাদি। দেবী দুর্গার ১০ হাত। তাঁর ১০ হাত বলেই তাঁকে দশভুজা বলা হয়। তাঁর ১০টি হাত ও তিনটি চোখ রয়েছে। এ জন্য তাঁকে ত্রিনয়না বলা হয়। তাঁর বাঁ চোখ চন্দ্র, ডান চোখ সূর্য এবং কপালের ওপর অবস্থিত চোখকে জ্ঞানচোখ বলা হয়। তাঁর হাতে ১০টি অস্ত্র রয়েছে। সবচেয়ে শক্তিধর প্রাণী সিংহ তাঁর বাহন। দেবী হিসেবে দুর্গার গায়ের রং অতসী ফুলের মতো সোনালি হলুদ। তিনি তাঁর ১০ হাত দিয়ে দশদিক থেকে অকল্যাণ দূর করেন এবং আমাদের কল্যাণ করেন। দেবী দুর্গার ডান দিকের পাঁচ হাতের অস্ত্রগুলো যথাক্রমে ত্রিশূল, খড়্গ, চক্র, বাণ ও শক্তি নামক অস্ত্র। বাঁ দিকের পাঁচ হাতের অস্ত্রগুলো যথাক্রমে শঙ্খ, ঢাল, ঘণ্টা, অঙ্কুশ ও পাশ। এসব অস্ত্র দেবী দুর্গার অসীম শক্তি ও গুণের প্রতীক।

লক্ষী ও অলক্ষ্মী দেবীঃ
এ দুজন দেবী একে অপরের সহোদর বোন। লক্ষী ও অলক্ষ্মীর জন্ম-সংক্রান্ত অনেকগুলি উপাখ্যান রয়েছে। একটি উপাখ্যানের মতে, লক্ষ্মী প্রজাপতির মুখের আভা থেকে জন্ম নেন, এবং অলক্ষ্মী জন্ম নেন প্রজাপতির পৃষ্ঠদেশ থেকে। অপর একটি উপাখ্যান অণুযায়ী, লক্ষ্মীর জন্ম সমুদ্রমন্থনের সময়। এই সময় বাসুকি নাগের মুখনিসৃত কালকূট বিষ থেকে অলক্ষ্মীর জন্ম হয়। লক্ষী মঙ্গলের আর অলক্ষী অমঙ্গলের দেবী।

দেবরাজ ইন্দ্র
দেবতাদের মধ্য থেকে আমরা একজন দেবতার পরিচয় জেনে নিব, তিনি হলেন দেবরাজ ইন্দ্র। বাংলার স্বশিক্ষিত দার্শনিক আরজ আলী মাতুব্বর দেবরাজ ইন্দ্রের পরিচয়ে লিখেন;

“সাধারণত হিন্দুরা ‘ভগবান’ এ নামটিকে ঈশ্বর-এর উদ্দেশ্যেই ব্যবহার করে থাকেন। আসলে ভগবান, ঈশ্বর, পরমেশ্বর বা নিরাকার ব্রহ্ম এক কথা নয়। ভগবান হচ্ছে দেবরাজ ইন্দ্রের একটি কুখ্যাত উপাধি মাত্র। ইন্দ্র ছিলেন শৌর্য-বীর্য ও জ্ঞান-বিজ্ঞানে অতি উন্নত এবং সর্বশ্রেষ্ঠ দেবতা। তাই তাঁর একনাম ‘দেবরাজ’। কিন্তু দেবরাজ হলে কি হবে, তাঁর যৌন চরিত্র ছিলো নেহায়েত মন্দ। তিনি তাঁর গুরুপত্নী অহল্যার সতীত্ব নষ্ট করায় গুরুর অভিশাপে তাঁর সর্বাঙ্গে এক হাজার ‘ভগ’ স্ট্রেীযোনি) উৎপন্ন হয় এবং তাতে ইন্দ্রের নাম ‘ভগবান’ (ভগযুক্ত) হয়। অতঃপর উক্ত ভগ চিহ্নগুলো চক্ষুরূপ লাভ করলে ইন্দ্রের আর এক নাম হয় সহস্রলোচন। ভগবান শব্দটি হচ্ছে ইন্দ্রের ব্যভিচারের একটি স্মারকলিপি, নিন্দনীয় বিশেষণ। কিন্তু কুখ্যাত ভগবান আখ্যাটি পেয়েও তিনি তাঁর ব্যভিচারে ইস্তফা দেননি। কিকিন্ধ্যার (মধ্যভারত) অধিপতি রক্ষরাজের পত্নীর গর্ভে ‘বালী রাজের জন্ম হয়েছিলো ভগবান ইন্দ্রের ব্যভিচারের ফলে। ভগবান ইন্দ্রের শেষ দেখা পাই আমরা পুরাণের পাতায় – হস্তিনাপুরে (পুরাতন দিল্লীতে) পাণ্ডুপত্নী কুন্তীর গৃহে। সেখানে তাঁর অবৈধ যৌনাচারের ফলে কুন্তীর গর্ভে জন্মলাভ করেন তৃতীয় পাণ্ডব অর্জুন। এখানে ভগবান ইন্দ্রের আরো কিঞ্চিৎ পরিচয় দিচ্ছি। ইন্দ্রের মাতার নাম অদিতি, পিতার নাম কশ্যপ এবং দাদা ছিলেন মরীচি। তাঁর ধর্মপত্নী শচীদেবী এবং ঔরসজাত সন্তান জয়ন্ত, ঋষভ ও সীদ্ধ। বাসস্থান ছিলো সুমেরু পর্বতের অমরাবতী নামক স্থানের এক রম্য বাগানে। তার ‘ভগবান’ আখ্যা প্রাপ্তির কারণ হয়তো এই যে, তিনি ছিলেন ভগবতীর স্বামী। স্বয়ং ভগযুক্তা বলেই দুর্গাদেবী হচ্ছেন ভগবতী এবং ভগবতী-এর পুরূষ রূপে হয়তো শিব বনেছেন ভগবান। যদি তা-ই হয় অর্থাৎ ভগযুক্তা বলে দুর্গাদেবী ভগবতী হন এবং ভগবতীর স্বামী বলে শিব ভগবান হয়ে থাকেন, তাহলে জগতের তাবৎ নারীরাই ভগবতী এবং তাদের স্বামীরা সব ভগবান। কাজেই মানুষের জন্ম ও মৃত্যু মানে ভগবতী ও ভগবানেরই জন্ম-মৃত্যু। সুতরাং জগতে যতোদিন মানুষ আছে ও থাকবে, ততোদিন ভগবতী ও ভগবান আছেন ও থাকবেন। মানুষ না থাকলে থাকবে না জগতে ভগবতী বা ভগবান এবং ঘটবে তখন জগৎব্যাপী ভগবানের তিরোধান”।

হিন্দু ধর্মের সকল দেব দেবীদের জন্ম বৃত্তান্ত, তাদের রূপ সৌন্দর্য, অলৌকিক শক্তি, অপরিসীম গুনাবলী ও তাদের জীবনচরিত নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করতে গেলে সাত খন্ড রামায়ণেও কুলোবেনা। কোন দেবীকে পূজো দিলে রাজ্যের ধনসম্পদ আয়ত্বে আসবে আর না দিলে ঝাড়বংশে উজাড় হবে, লক্ষী কী করলে গৃহে আসেন আর কেন যান, দিনের কোন সময়ে কোন মন্ত্র কতোবার জপ করলে কতো ধানে কতো চাল হয়, না জপলে কেমন মহামারী দেখা দেয়, ক্ষেত ফসল ধ্বংস হয় এ সবই বিস্তারিত বর্ণীত আছে শাস্ত্রগ্রন্থে। ঠিক যেমন মুসলমানদের কোরান হাদিসে আছে বরকত, ফজিলত, রহমতের ফেরেস্তা, গজবের ফেরেস্তা ইত্যাদি। সকল দেব দেবীর বর্ণনায় না গিয়ে মহাভারতের কিছু বিশেষ চরিত্রের নাম নিচে উল্লেখ করা হলো;

অভিমন্যু, অম্বা, অম্বালিকা, অম্বিকা, অর্জুন (পাণ্ডব), অশ্বত্থামা, অশ্বিনীকুমার, কর্ণ, কৌরব, গঙ্গা (দেবী), গান্ধারী, ঘটোৎকচ, চিত্রাঙ্গদ, চিত্রাঙ্গদা, জন্মেজয়, দুঃশলা, দুঃশাসন, দুর্যোধন, দ্রোণাচার্য, দ্রৌপদী, ধৃতরাষ্ট্র, পরীক্ষিৎ, বলরাম, বাসুকী, বাহ্লীক, বিদুর, বেদব্যাস, ভরত (সম্রাট), ভীম, ভীষ্ম, মনসা, মাদ্রী, যুধিষ্ঠির, শকুনি, শকুন্তলা, শান্তনু, শিখণ্ডী, সঞ্জয়, সত্যবতী, সহদেব, সাত্যকি, সুভদ্রা ও হিড়িম্বা।

হিন্দু ধর্মের এক একজন দেব-দেবীর একই অঙ্গে ভিন্ন ভিন্ন রূপ, ভিন্ন ভিন্ন নাম, এক জনমে এতো বিবর্তন ও বিভিন্ন গ্রন্থে তাদের জন্ম বৃত্তান্তের অবাস্তব অবৈজ্ঞানিক বিভিন্ন প্রকার বর্ণনার বৈপরিত্য দেখলে অবাক হতে হয়। মহাভারত পাঠে হাজারো বৈপরিত্যের মাঝে পাঠকের মনে হতে পারে তিনি এক বিশাল কিনারাহীন সমুদ্রে আছেন অথবা ঘূর্ণিবায়ুর চক্করে পড়েছেন। একই ঘটনার যে কোনো একটি বর্ণনাকে সত্য বলে মেনে নিলেও বাকি সবগুলো যে মিথ্যে তা আর বলার অপেক্ষা রাখেনা।

ইতিপূর্বে আমরা দেবী মনসা, পার্বতী, দেবী দূর্গা, মা কালী, কুন্তি, দেবী স্বরসতী ও দেবরাজ ইন্দ্র সম্মন্ধে সংক্ষিপ্ত আলোচনা করেছি। এবার মহাভারতের অত্যন্ত আলোচিত ব্যক্তিত্ব দেবী সত্যবতীকে নিয়ে কিছু কথা-

সত্যবতীঃ
অনেকে বলে থাকেন মহাভারত ভরতবংশের ইতিহাস আর কেউ কেউ বলেন তা সত্যবতী-দ্বৈপায়ন বংশের ইতিহাস। বলা হয়, ‘যে বস্তুটি মহাভারতের গল্পে পাওয়া যায় না,তা ভারতবর্ষ তথা পুরো সংসারে কোথাও পাওয়া যাবে না’। দেবী সত্যবতী হলেন মহাভারতে বর্ণিত হস্তিনাপুরের কুরুরাজ শান্তনুর মহিষী। তিনি কৌরব ও পাণ্ডবদের প্রপিতামহী এবং তিনি বেদব্যাসের জননী । তাঁর গায়ে তীব্র মাছের গন্ধ থাকায় তাঁর আরেক নাম ‘মৎস্যগন্ধা’; এজন্য কেউ তার কাছে আসতে চাইত না। তাই তিনি তার পালকপিতার নির্দেশে যমুনার বুকে নৌকা চালানো আর জেলেনীর কাজ করতে থাকেন। একদা ঋষি পরাশর তার নৌকায় উঠে তার সঙ্গে মিলন প্রার্থনা করেন,এই মিলনের ফলে বেদব্যাসের জন্ম হয়। পরাশর তার শরীরের দুর্গন্ধকে মৃগনাভির সৌরভে রূপান্তরিত করেন; যেজন্য তিনি ‘যোজনগন্ধা’ ও ‘গন্ধবতী’ নামেও পরিচিত। পরবর্তীতে রাজা শান্তনু তার সৌন্দর্য ও গায়ের সৌরভে মুগ্ধ হয়ে তার প্রেমে পড়েন এবং দাশরাজের কাছে বিবাহের প্রস্তাব করলে দাশ বলেন যদি তার কন্যার সন্তানেরা রাজা হন তবেই তিনি কন্যাদান করবেন। এজন্য শান্তনুর জ্যেষ্ঠপুত্র ভীষ্ম রাজা হননি। সত্যবতী শান্তনুর মাধ্যমে চিত্রাঙ্গদ ও বিচিত্রবীর্যের জন্ম দেন; কিন্তু তার দুই পুত্রই কোন উত্তরাধিকারী না-রেখেই মারা যান। এজন্য তিনি তার পুত্র ব্যাসকে ভ্রাতৃবধূদের গর্ভে সন্তান জন্মানোর জন্য নির্দেশ দেন; যার ফলে ধৃতরাষ্ট্র ও পাণ্ডুর জন্ম হয়, যারা কৌরব ও পাণ্ডবদের পিতা। তিনি পাণ্ডুর মৃত্যুর পর তার পুত্র ব্যাসের আশ্রমে তপস্যারত অবস্থায় মারা যান।

সত্যবতী মহাভারতে বিভিন্ন নামে পরিচিতা । তাঁকে দাশেয়ী, গন্ধকালী, গন্ধবতী, কালী, মৎস্যগন্ধা, সত্যা, বাসবী, যোজনগন্ধা ইত্যাদি নামে অভিহিত করা হয়েছে । হরিবংশ অনুসারে সত্যবতী তাঁর পূর্বজন্মে অচ্ছোদা নামে পিতৃগণের কন্যা ছিলেন যিনি শাপগ্রস্তা হয়ে পৃথিবীতে জন্ম নেন । মহাভারত, হরিবংশ ও দেবীভাগবত পুরাণ অনুসারে সত্যবতী শাপগ্রস্তা অপ্সরা অদ্রিকার কন্যা । অভিশাপের কারণে অদ্রিকা মৎস্যে পরিণত হয়ে যমুনায় বাস করত । একদা চেদীরাজ উপরিচর বসু বসন্তকালে বনে মৃগয়া করতে গিয়ে তাঁর ঋতুস্নাতা স্ত্রীকে স্মরন করে স্খলিতবীর্য হন । তিনি সেই বীর্য এক শ্যেন পাখির সাহায্যে তাঁর পত্নীর উদ্দেশ্যে পাঠান কিন্তু পথে আরেক শ্যেন পাখির সাথে যুদ্ধের ফলে সেই বীর্য যমুনার জলে পড়ে এবং অদ্রিকা তা গ্রহণ করে গর্ভবতী হয় । সত্যবতী বড় হয়ে তাঁর বাবার আদেশে ধর্মার্থে নৌকা বাইতে লাগলেন ।

দেবীভাগবত পুরাণের বর্ণনা অনুসারে যখন সত্যবতী যমুনা নদীতে ঋষি পরাশরকে খেয়া পার করছিলেন তখন পরাশর তাঁর কামনা পূরণের উদ্দেশ্যে তার ডান হাত ধরেন । সত্যবতী তাঁকে নিবৃত্ত করার জন্য বলেন তাঁর মত বেদজ্ঞ ঋষির পক্ষে এমন এক নারীর সহবাস প্রার্থনা অনুচিত যাঁর গা থেকে মাছের দুর্গন্ধ বের হয় । অবশেষে সত্যবতী পরাশরের জেদের কাছে হার মানেন কারণ তাঁর ভয় হয় পাছে ঋষি ক্রোধে মাঝ নদীতে নৌকা ডুবিয়ে দেন । সত্যবতী সম্মত হয়ে ঋষিকে অপেক্ষা করতে বলেন যতক্ষণ না নৌকা অপর পাড়ে পৌছায় । নৌকা পাড়ে পৌছাতেই ঋষি পুনর্বার সত্যবতীর হাত ধরেন কিন্তু সত্যবতী বলেন তাঁর গায়ে মাছের দুর্গন্ধ তাই তাঁদের মিলন সুখকর হবে না । এরফলে পরাশর সত্যবতীর দুর্গন্ধকে সুগন্ধে পরিণত করেন । যার ফলে তাঁর নাম যোজনগন্ধা হয়। কিন্তু সত্যবতী পুনরায় বলেন প্রকাশ্য দিবালোকে তাঁদের মিলন হলে তাঁদের সবাই দেখে ফেলবে আর তাঁর কুমারীত্ব নষ্ট হলে সমাজ তাঁকে গ্রহণ করবে না । এতে ঋষি যমুনার কুলে ঘন কুয়াশার সৃষ্টি করেন ও তাঁকে এই বর দেন তাঁর সাথে মিলন হলেও সত্যবতী কুমারীত্ব হারাবেন না এবং সে রাজপত্নী হবে । তখন সত্যবতীর মনে আর কোন সংসয় রইল না। মহাত্মা ঋষির সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করা আর তার ঔরসে এক বিদ্বান পুত্রকে গর্ভে ধারণ করার অভিলাষ জাগে তার মনে। ঋষি নির্বিবাদে তার সূক্ষ্ম বসন খুলে নিলেন, আর তাঁকে ক্রোড়ে নিয়ে ভূমিশয্যায় শয়ন করলেন। পরে ঋষি সম্ভোগে রত হয়ে কিছু সময় সত্যবতীর অন্যান্য অঙ্গ ভোগ করার পর, মহর্ষি তাঁর শিশ্ন তাঁর সঙ্গিনীর যোনিতে প্রবেশ করিয়ে রতিক্রিড়ায় লিপ্ত হলেন। কিছুকাল সঙ্গমের পর মহর্ষি বীর্যপাত করলেন। তারপর সত্যবতীকে তিনি ত্যাগ করলেন। তাঁদের মিলনের ফলে মহর্ষির ঔরসে গর্ভবতী হয় সত্যবতী। কিছুকাল পরে সে এক পুত্রসন্তান প্রসব করে। সেই পুত্র জন্ম মাত্রই পূর্ণতা প্রাপ্ত হল । তাঁর গায়ের রঙ কালো বলে নাম হল কৃষ্ণ আর দ্বীপে জন্ম বলে নাম হল দ্বৈপায়ন । পরবর্তীতে কৃষ্ণ দ্বৈপায়ন বেদকে চার ভাগে ভাগ করে বেদব্যাস নাম প্রাপ্ত হন ।

গঙ্গা
দেবী সত্যবতীর সংসার নিয়ে আমরা পরবর্তিতে মহাভারত থেকে আরো বিস্তারিত আলোচনা করবো। দেব-দেবীর পরিচয় পর্বে এবার রয়েছেন হিন্দু ধর্মে অত্যন্ত শ্রদ্ধ্যেয় ও সম্মানিত দেবী গঙ্গা। হিন্দুধর্মে এই দেবী বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ স্থানের অধিকারিণী। হিন্দুরা বিশ্বাস করেন গঙ্গায় স্নান করলে সমস্ত পাপ মুছে যায় এবং জীব মুক্তিলাভ করে। অনেকে আত্মীয়-স্বজনের দেহাবশেষ বহু দূরদূরান্ত থেকে বয়ে এনে গঙ্গায় বিসর্জন দেন; তাঁরা মনে করেন, এর ফলে মৃত ব্যক্তির আত্মা স্বর্গে গমন করেন। গঙ্গার তীরবর্তী বহু স্থান হিন্দু বিশ্বাস অনুযায়ী পবিত্র। গঙ্গার জন্মকাহিনি বিষয়ে হিন্দু ধর্মগ্রন্থগুলির মধ্যে মতবেদ আছে। একটি কাহিনি অনুযায়ী ব্রহ্মার কমণ্ডলু (সন্ন্যাসীদের ব্যবহৃত মাটির বা কাঠের বা ধাতব জলপাত্র বিশেষ) এক নারীমূর্তির স্বরূপ প্রাপ্ত হয়। ইনিই গঙ্গা। বৈষ্ণব মতানুসারে, ব্রহ্মা তাঁর কমণ্ডলুর জল নিয়ে সশ্রদ্ধ চিত্তে বিষ্ণুর পদ ধৌত করেছিলেন। বিষ্ণুর পদধৌত সেই জল থেকে গঙ্গার জন্ম। তৃতীয় একটি মত অনুযায়ী, গঙ্গা পর্বতরাজ হিমালয় ও তাঁর পত্নী মেনকার কন্যা এবং পার্বতীর ভগিনী। মহাভারতের কাহিনি অনুসারে, রাজা সগর (ইক্ষাকু বংশীয় অযোধ্যার রাজা মহারাজ সগর) ষাট হাজার পুত্রের জনক হয়েছিলেন। (ষাট হাজার ছেলের বাবা! মহারাজ বলে কথা।) তিনি একবার অশ্বমেধ যজ্ঞ করলে দেবরাজ ইন্দ্র তাতে ঈর্ষান্বিত হয়ে যজ্ঞের পবিত্র ঘোড়া অপহরণ করেন। (স্বর্গের দেবরাজ ইন্দ্র দেখি একজন লম্পটই শুধু নন একজন চোরও বটে।) মহারাজ সগর তাঁর ষাট হাজার পুত্রকে অশ্বের অন্বষণে প্রেরণ করেন। তাঁরা পাতালে ধ্যানমগ্ন মহর্ষি কপিলের ঘোড়াটিকে দেখতে পান। মহর্ষিকে চোর সন্দেহ করে তাঁরা তাঁর বহু বছরের ধ্যান ভঙ্গ করলে ক্রুদ্ধ মহর্ষি দৃষ্টিপাত মাত্র তাঁদের ভস্ম করে দেন। ষাট হাজার সন্তানকে হত্যা? এ তো গনহত্যা হয়ে গেল। সগর রাজার ষাট হাজার সন্তানের আত্মা পারলৌকিক ক্রিয়ার অভাবে প্রেতরূপে আবদ্ধ হয়ে থাকেন। পরে সগরের বংশধর, রাজা দিলীপের পুত্র ভগীরথ তাঁদের আত্মার মুক্তিকামনায় গঙ্গাকে মর্ত্যে নিয়ে আসার মানসে ব্রহ্মার তপস্যা শুরু করেন। তপস্যায় সন্তুষ্ট ব্রহ্মা গঙ্গাকে মর্ত্যে প্রবাহিত হয়ে সগরপুত্রদের আত্মার সদগতিতে সহায়তা করতে নির্দেশ দেন। গঙ্গা এই নির্দেশকে অসম্মানজনক মনে করে মর্ত্যলোক প্লাবিত করার ইচ্ছা পোষণ করেন। তখন ভগীরথ গঙ্গার গতিরোধ করার জন্য শিবের আরাধনা করেন। ক্রুদ্ধ গঙ্গা শিবের মস্তকে পতিত হন। কিন্তু শিব শান্তভাবে নিজ জটাজালে গঙ্গাকে আবদ্ধ করেন এবং ছোটো ছোটো ধারায় তাঁকে মুক্তি দেন। শিবের স্পর্শে গঙ্গা আরও পবিত্র হন। স্বর্গনদী দেবী গঙ্গা পাতালে প্রবাহিত হওয়ার আগে মর্ত্যলোকে সাধারণ জীবের মুক্তির হেতু একটি পৃথক ধারা রেখে যান। এইভাবে স্বর্গ, মর্ত্য ও পাতাল – তিন লোকে প্রবাহিত হয়ে গঙ্গা “ত্রিপথগা” নামে পরিচিতা হন। যেহেতু ভগীরথ গঙ্গার মর্ত্যাবতরণের প্রধান কারণ, সেই হেতু গঙ্গার অপর নাম ভাগীরথী।

স্কন্দপুরাণ অনুসারে, শিব ও পার্বতীর পুত্র কার্তিকের পালিকা-মাতা হলেন গঙ্গা। একটি কাহিনি অনুযায়ী,পার্বতী তাঁর গাত্রমল হতে গণেশের মূর্তি নির্মাণ করে তা গঙ্গায় নিমজ্জিত করলে সেই মূর্তিতে প্রাণ প্রতিষ্ঠিত হয়। এই কারণে মনে করা হয় গণেশের দুই জননী – পার্বতী ও গঙ্গা। গণেশের অপর নাম তাই দ্বৈমাতুর বা গাঙ্গেয় (গঙ্গাপুত্র)।

ব্রহ্মবৈবর্ত পুরাণ অনুসারে, বিষ্ণুর তিন স্ত্রী ছিলেন – লক্ষ্মী, গঙ্গা ও সরস্বতী। তাঁরা সবসময় পরস্পর কলহ করতেন বলে বিষ্ণু লক্ষ্মীকে নিজের কাছে রেখে শিবকে গঙ্গা ও ব্রহ্মাকে সরস্বতী দান করেন। হিন্দু মহাকাব্য মহাভারত অনুসারে, বশিষ্ট কর্তৃক অভিশপ্ত বসুগণ গঙ্গাকে তাঁদের জননী হওয়ার জন্য অনুরোধ করেন। গঙ্গা রাজা শান্তনুকে এই শর্তে পতিত্বে বরণ করেন যে গঙ্গার কোনো কাজে রাজা বাধাস্বরূপ হবেন না। একে একে অষ্টবসুর সাত জন গঙ্গাগর্ভে জন্মগ্রহণ করেন এবং জন্মমাত্রেই গঙ্গা তাঁদের জলে নিমজ্জিত করে হত্যা করেন এবং তাঁরা শাপমুক্ত হন। রাজা তাঁকে বাধা না দিলেও অষ্টম সন্তান জন্মের পর শান্তনু গঙ্গাকে বাধা দিতে বাধ্য হন। এই কারণে গঙ্গার অষ্টম সন্তানটি জীবিত রয়ে যান। এই ব্যক্তিই মহাকাব্যের সর্বজনশ্রদ্ধেয় চরিত্র ভীষ্ম। কে সেই বশিষ্ট? বশিষ্ট ব্রহ্মার সপ্তম মানসপুত্র এবং প্রজাপতি। আবার অন্য মতে – কোনো এক যজ্ঞকালে, অপ্সরী উর্বশীকে দেখে যজ্ঞকুম্ভে আদিত্য ও বরুণের বীর্যপাত হয়। ফলে, যজ্ঞকুম্ভ থেকে বশিষ্ট ও অগস্ত্য –এর জন্ম হয়। সে হিসাবে উভয়কেই আদিত্য ও বরুণের পুত্র বলা হয়। অপ্সরী উর্বশীর রূপ যে কেমন ছিল তা পবিত্র যজ্ঞকুম্ভে এদের বীর্যপাতের ঘটনায়ই অনুমান করা যায়।

চলবে…

আগের পর্বের জন্য এখানে ক্লিক করুন , পরের পর্ব এখানে

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

৩ thoughts on “হিন্দু ধর্মের ইতি বৃত্ত, পর্ব ০৩

  1. আবার অন্য মতে – কোনো এক

    আবার অন্য মতে – কোনো এক যজ্ঞকালে, অপ্সরী উর্বশীকে দেখে যজ্ঞকুম্ভে আদিত্য ও বরুণের বীর্যপাত হয়। ফলে, যজ্ঞকুম্ভ থেকে বশিষ্ট ও অগস্ত্য –এর জন্ম হয়। সে হিসাবে উভয়কেই আদিত্য ও বরুণের পুত্র বলা হয়। অপ্সরী উর্বশীর রূপ যে কেমন ছিল তা পবিত্র যজ্ঞকুম্ভে এদের বীর্যপাতের ঘটনায়ই অনুমান করা যায়।

    এ তো মারাত্নক জগাখীচুরী। যখন-তখন দেব-দেবীর বীর্যপাত! অদ্ভুত।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

1 + 7 =