জলে ভাসা এলএনজি টার্মিনাল এবং অন্যান্য

দেশের সার্বিক জ্বালানি পরিস্থিতি উন্নয়নে কক্সবাজারের মহেশখালীতে দ্বিতীয় এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণে সম্মতি দিয়েছে সরকার। এর আওতায় কক্সবাজারের মহেশখালীতে সামিট কর্পোরেশন লিমিটেড কর্তৃক ৫০০ এমএমসিএফ ক্ষমতা সম্পন্ন দ্বিতীয় ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল ‘ফ্লোটিং স্টোরেজ এ্যান্ড রিগ্যাসিফিকেশন ইউনিট’ স্থাপন করা হবে। এই টার্মিনাল থেকে ১৫ বছর মেয়াদে গ্যাস সরবরাহ করা হবে। টার্মিনালটি নির্মাণে কতদিন লাগবে সেটা এখনো নির্ধারিত না হলেও এর জন্য জি টু জি ভিত্তিতে কাতারের ‘র্যা সগ্যাস’ এর নিকট থেকে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে এলএনজি ক্রয়ের নীতিগত অনুমোদনের জন্য সুপারিশ করা হয়েছে।এছাড়া কুয়েত ফান্ডের সহায়তায় তৃতীয় কর্ণফুলী সেতু নির্মাণ প্রকল্পের ‘নিউ স্কোপ অব ওয়ার্কস’র আওতায় চার লেনের ৮ কিমি সংযোগ সড়ক ও কাঠামো নির্মাণের ক্রয় প্রস্তাবে অনুমোদনের সুপারিশ করেছে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি। ২৭০ কোটি ১১ লাখ ৬৫ টাকায় কাজটি পেয়েছে ডব্লিউএমসিবি ও মীর আকতার এবং খাদিম জয়েন্ট ভেঞ্চার। সৌদি আরবের এমএএডিইএন এবং বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশনের মধ্যে স্বাক্ষরিত চুক্তির আওতায় প্রথম লটের ২৫ হাজার মেট্রিক টনের ডিএপি সার আমদানি করার প্রস্তাবেও সম্মতি দিয়েছে কমিটি। প্রতি টন ৩২৬ দশমিক ২৫ মার্কিন ডলার দরে এই আমদানিতে মোট খরচ হবে ৮১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা। তিতাস নদীর পুনঃখনন-৪ প্যাকেজের কাজ সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে করার অনুমোদন দিয়েছে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি। কাজটি করবে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর প্রতিষ্ঠান ডকইয়ার্ড এ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্ক লিমিটেড। বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রকল্পটির এই অংশে খরচ হবে ১১৯ কোটি ৪৪ লাখ ১৬ হাজার টাকা। ১৬০ কোটি ১০ লাখ ২৪ হাজার টাকা ব্যয়ে গোপালগঞ্জে শেখ সায়েরা খাতুন মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল এবং নার্সিং ইনস্টিটিউট প্রকল্পে ১০তলা ভিত্তির ৯তলা ভবন নির্মাণ কাজের দর প্রস্তাব বিবেচনার জন্যও সুপারিশ করেছে কমিটি। এছাড়া মানিকগঞ্জে ১০ তলা ভিত্তিসহ ৫ তলা হাসপাতাল ভবন নির্মাণ কাজের প্রস্তাবেও সম্মতি দিয়েছে মন্ত্রিসভা কমিটি। এর ব্যয় হবে ১৭৫ কোটি ১৯ লাখ ২৪ হাজার টাকা। এই উদ্যোগগুলিতে দৃশ্যমান হয়ে উঠেছে দেশের অবকাঠামো উন্নয়নে বর্তমান সরকারের আন্তরিকতা, সদিচ্ছা আর সময়োপযোগী পদক্ষেপের ধারাবাহিকতা। দূরদর্শী পরিকল্পনায় দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক সক্ষমতা দৃঢ় ভিত্তির উপর প্রতিষ্ঠিত করার সাফল্যেই সম্ভব হচ্ছে উন্নয়নের এই অব্যাহত অগ্রযাত্রা। জবাবদিহিতায় উজ্জীবিত বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার জনআস্থার প্রতিদান দিতে সদা সচেষ্ট বলেই গণমানসে তাদের ভাবমূর্তি প্রতিনিয়ত উজ্জলতর হয়ে উঠছে আর দেশ উন্নীত হয়েছে উন্নয়নের মহাসড়কে। আগামীতেও দেশের এই সার্বিক অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকবে, এটাই সকলের প্রত্যাশা।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

− 1 = 2