‘উন্নয়নের’ আক্রমনে দিশেহারা নগরের শ্রমজীবী মানুষ

ঢাকা মহানগরির চাকচিক্য উত্তর উত্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই চাকচিক্যের জন্য যে তোড়জোড় তার নাম যদি দেয়া হয় ‘উন্নয়ন’ তবে বিষয়টি দাঁড়ায় এমন যে, ‘উন্নয়নের’ আক্রমনে নগরির শ্রমজীবী মানুষ আজ দিশেহারা। নির্মম বল প্রয়োগের মাধ্যমে চলছে ‘হকার উচ্ছেদ’। করাইল, সাততলা ইত্যাদি বস্তিতে হঠাৎ করেই আগুন লেগে যাচ্ছে।

১.
ঢাকা মহানগরির চাকচিক্য উত্তর উত্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই চাকচিক্যের জন্য যে তোড়জোড় তার নাম যদি দেয়া হয় ‘উন্নয়ন’ তবে বিষয়টি দাঁড়ায় এমন যে, ‘উন্নয়নের’ আক্রমনে নগরির শ্রমজীবী মানুষ আজ দিশেহারা। নির্মম বল প্রয়োগের মাধ্যমে চলছে ‘হকার উচ্ছেদ’। করাইল, সাততলা ইত্যাদি বস্তিতে হঠাৎ করেই আগুন লেগে যাচ্ছে।

?oh=54134da5bcbd1aff53805f691a225818&oe=591CBC2A

এমনকি গুলশানের কাঁচা বাজারে আগুন লেগে, নাকি বিস্ফোরণে চারতলা ভবন ধ্বসে মাটিতে মিশেছে। সেখানে বহুতল ভবন তোলার চেষ্টা সিটি কর্পোরেশন চালিয়ে আসছিল দীর্ঘদিন ধরে, তার বিরুদ্ধে এতদিন যে ব্যবসায়ীরা লড়াই করেছেন তারা এ অগ্নিকান্ডকে নিছক দুর্ঘটনা মানতে রাজী নন। জবরদস্তি ছাড়া ‘উন্নয়ন’ হয় না, এটা যাদের দর্শন, তাদের কাছে কয়েক লক্ষ হকার, বস্তীবাসী, নিম্ন আয়ের শ্রমজীবী মানুষ, এমনকি গুলশানের মাঝারি পুঁজির এই ব্যবসায়ীদের আর্তনাদের কোন মূল্য নেই।
২.
গত এক সপ্তাহ ধরে ঢাকা শহরের ফুটপাতের হকারদের উপর চলছে এক নির্মম ও নিষ্টুর অভিযান। উচ্ছেদের নামে প্রতিদিন সিটি কর্পোরেশন সাথে পুলিশ ও অন্যান্য বাহিনী নিয়ে ব্যাপক ভাংচুর, মালামাল নষ্ট, লুটপাট চালাচ্ছে। হাজার হাজার স্বল্প পুঁজির হকার মালামাল হারিয়ে, রুটি রুজির জায়গা থেকে বিতাড়িত হয়েছে। এই মানুষগুলো সর্বশান্ত অবস্থায় পরিবার, পরিজন নিয়ে অনাহারে দিন কাটাচ্ছে। এই দেয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়া মানুষগুলো নিরুপায় হয়ে প্রতিরোধ সংগ্রামে নেমেছে। বহু প্রতিকূলতা মোকাবেলা করে চলছে হকারদের দশ দফা দাবির আন্দোলন। একই সাথে ম্যাজিস্ট্রেট ও বুলডোজারের সামনে সহায় সম্বল রক্ষার আকুতি নিয়ে দাঁড়ানো এবং ফলাফল হিসেবে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটছে প্রতিদিনই। নিরীহ হকারদের বিরুদ্ধে সিটি কর্পোরেশন ও প্রশাসনের এই নিষ্টুর বলপ্রয়োগ অবিলম্বে বন্ধ করা এবং পূনর্বাসনের যথাযথ ব্যবস্থা না হওয়া পর্যন্ত ফুটপাতের চার ভাগের এক ভাগ জায়গায় হকার বসতে দেয়ার দাবিতে ইতোমধ্যে দৃঢ় আন্দোলন গড়ে উঠেছে।
৩.
ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র বিগত কয়েকদিন ধরে হুংকার করে বলে যাচ্ছেন, তিনি জনগনের ফুটপাত জনগণকে ফিরিয়ে দেবেন। কথাটা শুনতে বেশ, কিন্তু এই নগরীর কয়েক লক্ষ্য হকার এবং তাদের ষাট থেকে সত্তর লক্ষ ক্রেতা, তারা কি জনগনের হিসাবের মধ্যে পড়ে না? এই প্রশ্নের উত্তর মেয়র সাহেব বরাবরই এড়িয়ে যাচ্ছেন। নগরীর পনের আনা মানুষ কেনা কাটার জন্য কমবেশী ফুটপাতের উপর নির্ভরশীল। তাদের বিপুল অধিকাংশই বিত্ত্বহীন শ্রমজীবি জনতা যাদের ফুটপাথ ভিন্ন অন্য কোথাও কেনাকাটা করতে যাওয়ার উপায় নেই। মেয়রসহ অন্যান্য যারা হকার প্রশ্নকে পাশ কাটিয়ে ফুটপাথ একেবারে ফাঁকা করতে চাচ্ছেন, তারা জনগণ বলতে হয়তো শুধু ঐ বাকি এক আনা উচ্চবিত্ত নগরবাসীকেই বোঝেন।
পরিবেশ বান্ধব নগর গড়ে তোলার কথা বলা হচ্ছে। কিন্তু যারা একথা বলছেন, হকারদের সাথে পরিবেশের কী দ্বন্দ্ব সেই বিষয়টি তারা পরিস্কার করতে পারছেন না মোটেও। পরিবেশ বলতে তো আমরা প্রাণ-প্রকৃতি আর মানুষ বুঝি। এই তথাকথিত সুন্দর শহরের ফেরিওয়ালারা মুনাফার জন্য সমস্ত বন-বাদার, জলাশয় ধ্বংস করে এখন গরীব মানুষকে তাদের দৃষ্টিসীমা থেকে খেঁদিয়ে দিতে চাচ্ছে। প্রাণ-প্রকৃতি আর মানুষ বাদ দিলে পরিবেশের কী অবশিষ্ট থাকে, এই প্রশ্নের জবাব তো তাদের দিতে হবে। নগরের ভরাট করে ফেলা জলাশয়, নদী এবং দখল হয়ে যাওয়া খেলার মাঠ রক্ষা করার বেলায় এদের আমরা ক্ষমতার বিরুদ্ধে দাঁড়াতে দেখি না। একটি গণমুখী হকার ব্যবস্থাপনার দাবির সাথে শহরের আদর্শ পরিবেশের দ্বন্দ্বটা কোথায় এই প্রশ্নের উত্তর আসলে তাদের কাছে নাই।
হকারদের কাঁধে যানজটের দায় চাপানোর চেষ্টা হয়। অথচ হকার বিষয়টি ফুটপাথের সাথে সম্পর্কিত। যানজট রাস্তার বিষয়। কোন সাধারণ হকারের সাধ্য আছে রাস্তায় কিছু মালামাল রেখে বিক্রি করবে? প্রাইভেট কার নিয়ন্ত্রণ, যত্রতত্র গাড়ি পার্কিং, সুষ্টু পরিবহন ব্যবস্থা চালু করার পরিবর্তে উদোর পিন্ডি বুদোর ঘাড়ে চাপিয়ে কোনো দিন এ সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়।
দেশে একদল বিরাট ক্ষমতাশালী ব্যক্তি যখন জনগণের বহু সম্পদ দখল করে ভোগ করছে, তখন ফুটপাথের এই মামুলি এবং সহায় সম্বলহীন মানুষগুলোকে বিরাট দখলদার হিসেবে দেখানোর চেষ্টা হচ্ছে। কর্মসংস্থানের দায়িত্ব রাষ্ট্রের এবং অন্ন, বস্ত্র, শিক্ষা, চিকিৎসা, বাসস্থানের অধিকার মৌলিক অধিকার। এই হকারদের কর্মসংস্থানের দায়িত্ব রাষ্ট্র নেয়নি। উপরন্তু হকাররা নিজেরাই নিজেদের কর্মসংস্থান করেছে। এখানে যারা নিয়োজিত তারা উদয়-অস্ত ঘাম ঝড়িয়ে দৈনিক দুইশত টাকা থেকে সর্বোচ্চ পাঁচশত টাকা রোজগার করেন। মাসে যে কয়দিন বেকার থাকেন, সেই দিনগুলোতে তাদের কোন আয় থাকে না। এই মানুষগুলোর আয়-উপার্জন যত অল্পই হোক দেশের অর্থনীতিতে তাদের অবদান সামান্য নয়। দেশের ক্ষুদ্র ও মাঝারি উৎপাদন বিকশিত হচ্ছে এই শ্রমশক্তির উপর ভিত্তি করে। এমনকি এই হকারদের উপর ভর করে মাত্র আধা কোটি কিংবা তারো কম টাকা বিনিয়োগে চীনসহ অন্যান্য দেশ থেকে পণ্য আমদানি করছেন অনেক ব্যবসায়ী। যাদের পুঁজি রাতারাতি দ্বিগুণ হচ্ছে হকারদের শ্রমে ঘামে। দেশীয় বাজারের জন্য যে পণ্য উৎপাদন হচ্ছে তার সিংহভাগ বিপণনের কাজটি করে যাচ্ছে হকাররা। শুধু শ্রম দিয়েই নয়, মাত্র বিশ-ত্রিশ হাজার টাকা করে হলেও দেশের ক্ষুদ্র ও মাঝারি উৎপাদনে এই কয়েক লক্ষ হাকার বিপুল অর্থের বিপণন পুঁজিরও যোগান দিচ্ছে। গ্রাম শহর মিলিয়ে অন্তত অর্ধকোটি মানুষের ভরণ-পোষণের দায়িত্ব পালন করছে। যৎ সামান্য আয়ের এই মানুষগুলোর অর্থনীতিতে এই বিরাট ভূমিকার স্বীকৃতি কোথায়? উল্টো সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ফুটপাথে দাঁড়িয়ে তারা এই কাজ করতে গিয়ে ‘বিরাট অবৈধ দখলদার’ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে সবসময়। অবৈধ বিজিএমইএ ভবন যারা ভাঙ্গতে পারে না, তারাই আবার এই নিরীহ হকারদের মাথায় লাঠির আঘাত করে। তারা ভাংচুর, মালামাল নষ্ট, লুটপাটের মধ্য দিয়ে হকারদের তথাকথিত ‘অবৈধ অবস্থান’ থেকে উচ্ছেদের বাহাদুরি করছে।
কারো কারো কাছ থেকে উন্নত বিশ্বের শহরের মত সুন্দর ঢাকার রূপকল্প আমরা পাই। এদের দৃষ্টিভঙ্গি ব্রিটিশের গোলামীর সময় থেকে খুব একটা অগ্রসর হয়নি। এরা বিশ্বের অগ্রসর নগরগুলোকে তার সু-ব্যবস্থাপনার নিরিখে যদি দেখতে শিখতো তাহলে ঢাকা সম্পর্কে তাদের প্রস্তাব ভিন্ন হতো। এই নগরের ভিত্তিই যে শ্রমজীবী মানুষ এই উপলব্ধি তাদের নাই। ফলে যাদের নগর তাদের বঞ্চিত করেই সমস্ত পরিকল্পনা।
হকারদের বল প্রয়োগের মাধ্যমে উচ্ছেদের স্বপক্ষে বহু কথার পাশাপাশি উচ্চ আদালতের একটি নির্দেশনার কথাও বলা হচ্ছে। যদিও আদালতের নির্দেশনার কথা বলে যে নিষ্ঠুর পদ্ধতিতে ‘হকার উচ্ছেদ’ করা হচ্ছে এই পদ্ধতি উচ্চ আদালত নির্দেশিত বলে হকাররা বিশ্বাস করে না।

?oh=7ea5596817768a5705e8ae58a28b15b8&oe=59175569

৪.
হকাররা বলে থাকেন, যারা ক্ষমতায় আসা যাওয়া করে তাদের সকলেরই হকার প্রয়োজন হয়। কথাটা খুবই সত্য। আজকে যে মেয়র হকারদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছেন, তিনি এই হকার জনবলকে ব্যবহার করেই গদিতে বসেছেন। এজন্যই নির্বাচনের আগে ‘হকার উচ্ছেদ করবো না’ এই সরল বাক্যে তিনি সর্বত্র ওয়াদা করেছিলেন। তার এই বিশ্বাস ঘাতকতার প্রতিক্রিয়া হিসেবে গত সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে হকাররা একাই কে কয়টা ভোট ইলিশ মাছ মার্কায় দিয়েছিলেন এমন আলোচনা প্রকাশ্যেই শোনা যায় এখন।
এখন যারা রাষ্ট্র ক্ষমতায় আছে তারাও ক্ষমতায় যাওয়ার সিড়ি হিসেবে এই হকারদের ব্যবহার করেছেন। শুধু তাই নয়, এই হকারদের কাছ থেকে তোলা বিপুল পরিমাণ চাঁদার ভাগ সর্বত্র পৌঁছায় বলে সকলেরই জানা। আজ কিছু ব্যক্তিবর্গকে এই চাঁদা বাণিজ্যের দায়টাও হকারদের উপর চাপাতে দেখা যায়। তাদের আলোচনা শুনে মনে হয় হকাররাই যেন চাঁদাবাজী, মাস্তানি ও সন্ত্রাসের কারণ। পেটিবুর্জোয়া মন এমনি, যে শক্তিমান তাকে সমীহ করবে আর যে দুর্বল শক্তিমানের দোষটাও তার উপর চাপাবে।

?oh=5a49b2fccb98855ea96071194ff11d84&oe=590A3772

৫.
হকার পুনর্বাসনের কোন আন্তরিক এবং কার্যকর উদ্যোগ দেখা যায়নি কখনোই। হকার ব্যবস্থাপনার সমন্বিত উদ্যোগই কেবলমাত্র সফলভাবে এই বিপুল শ্রমশক্তিকে যথাযথ পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করতে পারে। অতীতে অনেক বড় বড় প্রকল্প হয়েছে হকারদের নামে। অনেক রাষ্ট্রীয় অর্থ ব্যয় হয়েছে। কিন্তু তার সুফল প্রকৃত হকাররা পায়নি। অবস্থা সম্পন্ন ক্ষমতাসীন ব্যক্তিরা হকারদের জন্য গড়া মার্কেটে বরাদ্দ নিয়েছে। বর্তমান সময়েও পুনর্বাসনের নামে যে সকল উদ্যোগের কথা বলা হচ্ছে সেগুলো গুণগতভাবে ভিন্ন কিছু নয়।
কিছুদিন পূর্বে বলা হলো নগরির সকল হকারকে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বসতে হবে। এই ঘোষণা দিয়েই কর্তারা তাদের দায়িত্ব শেষ করলেন। তারা বিকল্প হিসেবে এই ব্যবস্থাকে যথাযথ ভাবলেন, তারা মনে করলেন সারা ঢাকা শহরের মানুষ কেনাকাটা করতে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে যাবেন আর সকল হকার উদ্যানে এসে তাদের দোকান খুলবে। এই অবাস্তব ভাবনা কাজে দেয়নি।
এরপরে নির্দেশ এলো, শুধুমাত্র সপ্তাহে দুই ছুটির দিনে পাঁচটি নির্দিষ্ট স্থানে হকাররা বসতে পারবে। এই হলিডে মার্কেটে কতজন শ্রমিক বসতে পারে? সেখানে বসতে গিয়ে নতুন করে বাণিজ্যের শিকার হতে হবে কিনা? এসব প্রশ্নের সদুত্তর কেউ দিতে পারেননি। সবচেয়ে বড় কথা সপ্তাহের অবশিষ্ট দিনগুলোতে হকাররা কিভাবে সংসার চালাবেন এর কোন জবাব কারো জানা ছিল না। এক পর্যায়ে গত ১৫ জানুয়ারি থেকে হকারদের সন্ধা সাড়ে ছয়টার পর ফুটপাথে বসার নিয়মের কথা ঘোষণা করা হয়। সিটি কর্পোরেশনের সকল সিদ্ধান্ত হকাররা প্রত্যাখ্যান করলেও, মেয়র বারবার বলে এসেছে হকার সংগঠনগুলোর সাথে সমঝোতার ভিত্তিতেই এসব সিদ্ধান্ত হয়েছে। হকারদের পূনর্বাসনের বিষয়ে অতীতের অভিজ্ঞতাগুলো কখনোই ভালো ছিল না। সাধারণ হকাররা সিটি কর্পোরেশন ও সমঝোতা করা সংগঠনগুলোকে কখনোই আস্থায় নিতে পারেনি। ফুটপাথ থেকে হকারদের স্থানান্তরিত করতে হলে যে ব্যবস্থাগুলো নেয়া প্রয়োজন তার কোনটাই না করে পুলিশ আর ম্যাজিষ্ট্রেট দিয়ে নিরীহ হকারদের ক্ষতিগ্রস্ত করা এবং তুলে দেয়া তাদের জবরদস্তির মনোভাবকেই প্রকাশ করে। উন্নয়ন সম্পর্কে এক গৎবাধা বুঝ নগরীতে নিম্নবিত্ত মানুষের উপর জুলুম নির্যাতনের চাপ বাড়িয়েই চলেছে। এই হকার পুনর্বাসনের বিষয়ে সিটি কর্পোরেশন যে মোটেও আন্তরিক নয় সেটা তাদের প্রতিটি পদক্ষেপে বোঝা যায়। এই চলমান অভিযান ভাগবাটোয়ারার নতুন হিসাব বাস্তবায়নে হচ্ছে না এই নিশ্চয়তাই বা কে দেবে?
৬.
বাংলাদেশ হকার্স ইউনিয়ন পাঁচ বছর মেয়াদী হকার পূণর্বাসন মহাপরিকল্পনার কথা বলেছে। ফুটপাতের হকারদের পূণর্বাসনের জন্য স্বল্প মেয়াদে এবং দীর্ঘ মেয়াদে দুই ধাপে অগ্রসর হতে হবে। তবে তারো আগে প্রকৃত হকারদের তালিকাভূক্ত করে তাদের পরিচয়পত্র প্রদান করতে হবে। এটাই পূণর্বাসন প্রক্রিয়ার প্রথম এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ। এই কাজের সফলতার উপর নির্ভর করবে গোটা পূনর্বাসন প্রক্রিয়ার সফলতা। পথ বিক্রেতা সুরক্ষা আইন করে তালিকাভুক্ত হকারদের কাছ থেকে মাসিক ভিত্তিতে অর্থ নিয়ে সেটার সাথে রাষ্ট্রীয় ভর্তূকি যুক্ত করে স্থায়ীভাবে তাদের জন্য ব্যবস্থা করা যায়। ব্যবসার ধরণ অনুযায়ি স্বল্প মেয়াদে স্থান নির্দিষ্ট করে তাদের ধীরে ধীরে ফুটপাথ থেকে স্থানান্তর করা যেতে পারে। এসবের কোনটাই সম্ভব হচ্ছে না কারণ ফুটপাতের হকার ক্ষমতাসীনদের জন্য এক নগদ অর্থকরি বাণিজ্যের নাম। হকারদের চলমান আন্দোলন যদি অপরাপর শ্রমজীবি মানুষের লড়াইয়ের সাথে মিলতে পারে, তাহলে দেশের রাজনীতিতে মৌলিক এবং গুণগত পরিবর্তনের পথ তৈরীতে সহায়ক হবে। হকারসহ মেহনতি মানুষের জীবনের এই সকল সংকটের সমাধান সে পথেই।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

75 + = 82