হেফাজতের বিশাআআআ……ল সমাবেশ দেখে যারা আতঙ্কিত বা আহ্লাদিত তাদের জন্য।

বাংলাদেশের শিক্ষিত সমাজের একটা বিশাল অংশ হেফাজতের লাখ লাখ মানুষের সমাবেশ দেখে আতঙ্কিত। এই বুঝি তালেবান শাসন কায়েম হয়ে গেল। আবার আরেকটা অংশ এর মধ্যেই খুশিতে বগল বাজানো শুরু করেছেন। ইসলামী বিপ্লব হয়ে গেল বলে………

এই দুপক্ষেরই বুদ্ধি প্রায় হাঁটুর কাছে।

হেফাজতের প্রথম সমাবেশে লোক সংখ্যা কত ছিল? ১ লাখ? ২ লাখ? ৩ লাখ ? আপনিই বলেন। আপনি যা বলবেন তা। ৩ লাখ? তাই সই। না না ৩ লাখ কিভাবে হবে? সেদিন হরতাল ছিল না? হরতাল না দিলে কত হতো হিসাব আছে? তো? কত হতো ৪ লাখ? ৫ লাখ? ৬ লাখ? আপনিই বলুন? ৬ লাখ। খুশি?

এই ৬ লাখ লোকের একটা বড় অংশ তো জামায়াতের তাই না? না? আচ্ছা জামায়াত বাদ। বিএনপির? তাও না? আচ্ছা বিএনপিও বাদ। তো এরা কারা? এরা হেফাজতি। হেফাজতি কারা? এরা কওমি মাদ্রাসার ছাত্র শিক্ষক।

বাহ! এই তো লাইনে এসেছেন। কওমি মাদ্রাসা কি জানেন?

কওমি মাদ্রাসা হলো সেইসব মাদ্যেরাসা গুলো দেওবন্দ ধারার শিক্ষাব্যবস্থা ও পাঠ্যক্রম অনুসরণ করে থাকে। দেওবন্দ? এইডা কি? খায় না গায়ে দেয়?

এ শিক্ষা ব্যবস্থার প্রতিষ্ঠাতা মওলানা মুহাম্মদ কাসিম নানুতুভি (১৮৩৩-১৮৭৭) এবং মওলানা রশিদ আহমেদ গাঙ্গোহি (১৮২৯-১৯০৫)এদের বিশেষত্ব কি? অনেক বিশেষত্ব। তবে এখানে যা সবচেয়ে প্রাসঙ্গিক তা হোল “এই শিক্ষা ব্যবস্থা অনেকটা গুরুমুখি শিক্ষা ব্যবস্থা” এই ব্যবস্থায় সরকার বা অন্য কোন কর্তৃপক্ষের নিয়ন্ত্রণ নেই বললেই চলে। গুরু বা হুজুরের কথার উপরেই সব চলে। হুজুরের উপর প্রতিটি ছাত্রের career নির্ভর করে। থাকা, খাওয়া অর্থাৎ বেঁচে থাকা নির্ভর করে। তাই হুজুরের কথার অবাধ্য হওয়ার কোন উপায় নাই। হুজুর নাখোশ হলে বড় বিপদ। career (সামান্য যা সুযোগ আছে আর কি)তো শেষই, বেঁচে থাকাই দায়। তাই এইসব ছাত্রদের যখন হুজুর সমাবেশে যোগ দিতে বলেন তাদের হজম করা ছাড়া আর কোন উপায় থাকে না। তাই এই সমাবেশগুলোকে বলা যায় কওমি মাদ্রাসার ছাত্র সম্মেলন। একে কোন ভাবেই সমাবেশ বলা যায় না। একে বড়জোর কওমি মাদ্রাসাগুলোর সম্মিলিত পিকনিক বলা যায়। যাতে অংশগ্রহণ বাধ্যতামূলক। না হলে লাইফ শেষ। না, না বাধ্যতামূলক বলছেন কেন? তারা কি স্বইচ্ছায় আসে নি? যখন আপনার পুরো জীবন অন্য আরেকজনের উপর অনেকাংশে নির্ভর করে তখন স্বইচ্ছা বলে কিছু থাকে? হুজুরের আদেশ উপেক্ষা করে সমাবেশে আসবে না এই সুযোগ কি কওমি মাদ্রাসার ছাত্রদের আছে?

কোন কিছুকে বিশাআআআআআ……ল বলতে হলে তো কিছুর সঙ্গে তুলনা করে বলতে হবে তাই না? একটা পিঁপড়ার কাছে তো ন্যাংটো হয়ে ঘুরে বেড়ানো আপনার ছোট শিশুটিও বিশাআআআআআআ……ল। মনে করুন কওমি মাদ্রাসার ছাত্রদের যেভাবে ১৩ দফার পক্ষের সমাবেশে আসতে মনস্তত্ত্বাত্তিক ভাবে বাধ্য করা হোল ঠিক একই ভাবে যদি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের ১৩ দফার বিপক্ষের সমাবেশে আসতে বাধ্য করা হয় তবে কি হবে? শুধুমাত্র জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের আনা হলেই কি হবে কল্পনা করা যায়? ঢাকা শহরে জায়গা দিতে পারবেন? তাই কোন কিছুকে বিশাআআআআ……ল বলার আগে একটু ভেবে দেখবেন আসলেই তা বিশাল কিনা?

মুক্তিযুদ্ধের বাংলায় ইসলামী বিপ্লব হবে না রে ভাই। হুদাই বগল বাজায়েন না। বা আতঙ্কিতও হইয়েন না। খামাখা নিজেও ভয় পাবেন। আমারেও ডর খাওয়াবেন।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

৬ thoughts on “হেফাজতের বিশাআআআ……ল সমাবেশ দেখে যারা আতঙ্কিত বা আহ্লাদিত তাদের জন্য।

  1. “মুক্তিযুদ্ধের বাংলায় ইসলামী
    “মুক্তিযুদ্ধের বাংলায় ইসলামী বিপ্লব হবে না রে ভাই। হুদাই বগল বাজায়েন না। বা আতঙ্কিতও হইয়েন না। খামাখা নিজেও ভয় পাবেন। আমারেও ডর খাওয়াবেন।”

    ভাই রে, এরা তো হুদাই বগল বাজাইতেসে না!! জাইনা শুইনাই বাজাইতেসে। হেফাজত রে ব্যবহার কইরা একটা এন্টি রেভলুশ্যন দাঁড় করানো অনেক সময় সাপেক্ষ ও মাল পাতির ব্যাপার।

  2. মুক্তিযুদ্ধের বাংলায় ইসলামী

    মুক্তিযুদ্ধের বাংলায় ইসলামী বিপ্লব হবে না রে ভাই। হুদাই বগল বাজায়েন না। বা আতঙ্কিতও হইয়েন না। খামাখা নিজেও ভয় পাবেন।

    সহমত… :গোলাপ: :গোলাপ: :গোলাপ:

  3. কওমী মাদ্রাসার সব
    কওমী মাদ্রাসার সব পোলাপাইনগোরে যেইভাবে সমাবেশে আনা গেসে পাবলিক বা জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সেইভাবে সাড়া দিবো এইটা আপনারে কে কইসে ?
    ছাগল সব জায়গাতেই আছে, মনে রাখতে হইবো …
    বাই দ্য ওয়ে, ইসলামি বিপ্লব মাঠে মারা খাক…

  4. বাংলাদেশে ইসলামী বিপ্লব এতো
    বাংলাদেশে ইসলামী বিপ্লব এতো সহজে কেউ করতে পারবে না। ধর্ম ভীরু হতে পারে, কিন্তু মেজরিটি ধর্মান্ধ নয়। আর সবচেয়ে বড় কথা বাঙালির নিজের পুটুতে আঘাত লাগলে ঠিকই ঘুইরা দাঁড়ায়। উগ্র ধর্মান্ধরা মাথাচাড়া দিলে সবার পুটুতে আঘাত এসে হানা দেবে। তখন পাগলা বাঙ্গাল কি করে কেউ কইতে পারে না। একাত্তরেও কি পারছিল?

  5. আমরা ধর্মভীরু, কিন্তু
    আমরা ধর্মভীরু, কিন্তু ধর্মান্ধ নই। আমাদের মুক্তিযুদ্ধের বাংলায় অসাম্প্রদায়িক চেতনায় কেউ আঘাত করতে পারবে না…

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

83 − 77 =