বাংলাদেশের আগামীর ভাবনা

নব্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড জে ট্রাম্প দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম দিনই যেভাবে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পালনে উদ্যোগী হয়েছেন তাতে উদ্বেগ বাড়ছে যুক্তরাষ্ট্রসহ সারা বিশ্বে, তালিকায় আছে বাংলাদেশও। অভিবাসন, বাণিজ্য, জলবায়ু পরিবর্তন ও নিরাপত্তা নিয়ে ট্রাম্পের নতুন মার্কিন প্রশাসনের পদক্ষেপগুলো এখন মনোযোগ দিয়ে পর্যবেক্ষণ করতে হবে বাংলাদেশকে। ইতোপূর্বে ঢাকা-ওয়াশিংটন সম্পর্কের বর্তমান ধারা অব্যাহত রেখে তা এগিয়ে নিতে গত নভেম্বরের মাঝামাঝি সরকারের দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা মার্কিন প্রশাসন ও রাজনৈতিক মহলে যোগাযোগ করেছেন বলে জানা গেছে। তবে বর্তমান প্রেক্ষাপটে পরিস্থিতি অনুযায়ী সম্পর্ক এগিয়ে নিতে সময়োপযোগী পদক্ষেপ নেয়াকে গুরুত্ব দিতে হবে। ডোনাল্ড ট্রাম্পের দায়িত্ব গ্রহণের পর শুরুতে যেসব সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন তা নৈর্ব্যক্তিকভাবে মূল্যায়ন করে বাংলাদেশকে তার অবস্থান ঠিক করতে হবে। এর পাশাপাশি নতুন মার্কিন প্রশাসনে যোগাযোগ ও জানাশোনা বাড়াতে হবে। এরপর ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনকে এই বার্তা দিতে হবে যে বর্তমানে দুই দেশের সম্পর্ক যেখানে আছে তার ভিত্তিতে সম্পর্ককে এগিয়ে নিতে চায় বাংলাদেশ। কূটনীতিকদের বিশ্লেষনে, ডোনাল্ড ট্রাম্পের অন্তত চারটি বিষয়ে গৃহিত পদক্ষেপ বিবেচনায় নিতে হবে বাংলাদেশকে। এগুলো হচ্ছে অভিবাসন, বাণিজ্য, জলবায়ু পরিবর্তন ও নিরাপত্তা। উল্লেখ্য, ট্রাম্প প্রশাসনের বিবেচনায় যে ২০০টি নির্বাহী আদেশ বিবেচনায় আছে তার অন্যতম হচ্ছে ‘ডাকা’ নামে পরিচিত অবৈধ অভিবাসীদের সন্তানদের অস্থায়ী বৈধতা কর্মসূচি। বর্তমানে সীমিত সংখ্যক বাংলাদেশি এই সুবিধার আওতায় আছেন। এ ছাড়া অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার পদক্ষেপ নিলে তাতেও কিছু বাংলাদেশি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন। এসবের পাশাপাশি পরোক্ষভাবে অভিবাসন ঠেকাতে ভিসা দেওয়ার ক্ষেত্রে যাচাই-বাছাইতে কড়াকড়ি (এক্সট্রিম ভেটিং) আরোপ করা হলে বাংলাদেশিদের যুক্তরাষ্ট্রে ভিসা পাওয়ার প্রক্রিয়ায় দীর্ঘসূত্রতা সৃষ্টি হতে পারে। বাণিজ্যের ক্ষেত্রে ট্রাম্প প্রশাসন নিজেদের ব্যবসা সুরক্ষায় সংরক্ষণবাদী নীতি গ্রহণ করে অন্য দেশের জন্য বাজার সংকুচিত করার পথে গেলে তাতে বাংলাদেশ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। অন্যদিকে শুরু থেকেই জলবায়ু পরিবর্তনের দায়ভার নেয়ার ব্যাপারে নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি দেখিয়ে এসেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি যদি তাঁর পূর্বসূরি বারাক ওবামার প্যারিস জলবায়ু পরিবর্তন চুক্তিকে কার্যকর করার নেতৃত্ব সমুন্নত রাখতে অনীহা দেখান তাহলে শেষ পর্যন্ত এটির কার্যকারিতা মুখ থুবড়ে পড়তে বাধ্য। নিরাপত্তার ক্ষেত্রে নতুন মার্কিন প্রেসিডেন্ট মুসলিম জঙ্গিদের মূলোৎপাটন করার কথা বলে মুসলিমবিরোধী মনোভাব প্রকাশের মাধ্যমে নতুন করে সমস্যা তৈরি করছেন কি না, এমন ভাবনাকে উড়িয়ে দেয়া যায় না। সামগ্রিক বিবেচনায় ডোনাল্ড ট্রাম্প তার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিগুলো পূরণ করলে তাতে বাংলাদেশের শঙ্কিত হওয়ার যথেষ্ট কারণ আছে। ইতোমধ্যে কোন ধরনের সরকারি কাজের অভিজ্ঞতাহীন ট্রাম্প এক আদেশেই রাজনৈতিক বিবেচনায় নিয়োগ পাওয়া সব রাষ্ট্রদূতকে দেশে ফিরে আসার নির্দেশ দিয়েছেন, তাতে স্পষ্ট যে খুব ভেবেচিন্তে তিনি এ সিদ্ধান্ত নেননি। কারণ আগেরজনকে বাদ দিয়ে নতুন কাউকে ওই দায়িত্বে পাঠাতে তিন থেকে ছয় মাস লাগে। অথচ রাজনৈতিক নিয়োগ পাওয়া ঐ রাষ্ট্রদূতদের তালিকায় আছেন যুক্তরাজ্য, জার্মানি, জাপান ও ভারতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূতেরা। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ঐ দেশগুলোর সাথে সম্পর্কের টানপড়েন তৈরি হওয়ার যথেষ্ট কারণ আছে। তবে কূটনীতিকদের কেউ কেউ মনে করছেন, শুরুতেই তিনি যেসব পদক্ষেপ নিচ্ছেন তাতে প্রশাসনিক চিন্তার চেয়ে চমককে হয়তো প্রাধান্য দিচ্ছেন। তবে তাঁকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র তো বটেই, বিশ্বজুড়েও নিরাশা ও অস্বস্তি তৈরি হয়েছে – বাংলাদেশও এর বাইরে নয়। বাংলাদেশের ভাবনায় এখন আগামী দিনের বাণিজ্য আর নিরাপত্তা ইস্যুতে স্থিতিশীলতা। তবে সকলের প্রত্যাশা গণতান্ত্রিক চেতনায় উজ্জীবিত মার্নিক প্রশাসন এমন কোন হটকারী পদক্ষেপ নিবে না যাতে বিশ্বের চলমান স্থিতিশীলতা বিনষ্ট হতে পারে। প্রত্যাশা আমাদের আগামী দিনগুলিও হবে নিরাপদ, সমৃদ্ধির পথে অগ্রযাত্রা থাকবে অব্যাহত।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

১ thought on “বাংলাদেশের আগামীর ভাবনা

  1. বর্তমান প্রেক্ষাপটে পরিস্থিতি
    বর্তমান প্রেক্ষাপটে পরিস্থিতি অনুযায়ী সম্পর্ক এগিয়ে নিতে সময়োপযোগী পদক্ষেপ গ্রহণ করে বর্তমান সরকার দেশকে আগামীর পথে সফলতার সাথে এগিয়ে যাবে এটাই আশাবাদী।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

− 3 = 4