“এক নাস্তিকের জবানবন্দী” পর্ব-৫

আতংক—৫

পুলিশ যে কতো বেশি নোংরা হতে পারে, পুলিশের আচরন যে কতোটা ভয়াবহ রকম অসভ্য হতে পারে তা বুঝেছি আমি থানায় আত্নসমর্পন করে। এরা নাকি আইন-শৃংখলা রক্ষাকারী! এরা নাকি দেশের আইন-শৃংখলা বজায় রাখে! এদের আচার-ব্যবহার শুনলে লজ্জায় কান লাল হয়ে যায়!

সেদিন সন্ধ্যায় দিদির শশুর বাড়ি থেকে চট্টগ্রামের উদ্দেশে যাত্রা করেছিলাম। মধ্য রাতের দিকে চট্টগ্রাম আসি। এসে বাড়ির এক জেঠতুতো ভাই আগরের (ছদ্দনাম) ব্যাচেলর বাসায় উঠি। সেই আমার চিন্তায় খুব অস্থির।
আগর বলল, -দাদা কি হবে? জেল খাটবে?
আমি বললাম, -উপায় নেই।
-একটা কাজ কর, তুমি দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাও।
-ধুর! দেশ ছেড়ে পালাবো কেন? এটা আমার দেশ, আমার জম্মভুমি। আমি কোনো অন্যায় করিনি।
-এদেশটা তো তোমার ন্যায়-অন্যায় বুঝবে না। তার চেয়ে বড় কথা তুমি হিন্দু! তুমি সংখ্যালঘু।
মনে মনে বললাম, -কথাটা বেঠিক বলিস নি।
সেই আবার বলল, দাদা তুমি শহর ছেড়ে চলে যাও….

এমন সময় আমার মোবাইলে কল আসে দাদাবাবুর।
-হ্যালো?
-অপ্রিয় কোথায় এখন?
-আগরের বাসায় উঠেছি। খাওয়া-দাওয়া করেছেন? ভাইগ্নারা ভালো তো?
-হুম খেয়েছি। হ্যাঁ তারা ভালো আছে। আচ্ছা তুমি তাহলে আগামীকাল থানায় আত্নসমর্পন করছো?
-হ্যাঁ।
-আমার মনে হয় থানায় না গেলেই ভালো হতো। থানা গেলে মামলা-টামলা হবে আবার!
-তাহলে কি করবো?
-তুমি একটা কাজ করতে পারো।
-কি?
-মোবাইল সুইচ অফ করে দাও। তারপর সবার সাথে যোগাযোগ বন্ধ করে দাও।
-সঞ্জয় দা কি ভাববে? আমি দাদাকে কথা দিয়েছিলাম আসব।
-আরে আমি সবাইকে ম্যানেজ করে নেব।

এর ভেতর আবার কল আসে সঞ্জয়’দার। দাদাবাবুকে বললাম, -সঞ্জয় দা কল করছে…
দাবাবাবু বলল, আচ্ছা উনার সাথে কথা বলো বলে দাদাবাবু ফোন কেটে দেন।

সঞ্জয় দা’র কল রিসিভ করে বললাম, -হ্যালো?
-অপ্রিয় আসছিস?
-হ্যাঁ।
-কোথায় আছিস?
-আগরের বাসায়।
-ভাত খেয়েছিস?
-হ্যাঁ।
-আচ্ছা ঠিক আছে ঘুমিয়ে পড়।
কাল তোকে থানায় নিয়ে যাবার সময় কল করবো।

এই কথা বলে আমার সঞ্জয় দা কেটে ফোন কল কেটে দেয়।
আগর বলল, -দাদা ঘুমাও।

ঘুমাতে গিয়ে রাজ্যের চিন্তা মাথায় এসে ভর করেছে। এপাশ ওপাশ করছি, কোনো ভাবেই ঘুম আসছে না! কাল আমাকে থানায় নির্যাতন করবে নাকি জামাই আদর করবে? নাকি আমার বিশ্বাস-অবিশ্বাস নিয়ে তর্কালোচনা করবে? নাকি আমাকে বেদম পেটাবে! এপাশ ওপাশ করতে করতে রাত কোনো রকম ভোর হল। সকালে উঠে স্নান করে ফ্রেশ হলাম। সকালে নাস্তা সেরে এসে সঞ্জয় দাকে ফোন করলাম…..

-হ্যালো?
-দাদা তুমি কখন আসবে?
-আচ্ছা আমি তোকে জানাবো বলে সঞ্জয় দা ফোন রেখে দেন।

আমি আবার আগরের ব্যাচেলর বাসায় এসে ঘুমিয়ে পড়ি।

হঠাৎ আমার ফোন বেজে উঠে! আমি ধরফর করে উঠে পড়লাম! দেখি বেলা ২টা বেজে ৩০ মিনিট! সঞ্জয় দার ফোন। ফোন রিসিভ করলাম…

আমি বললাম, -হ্যালো দাদা।
-খাওয়া দাওয়া করেছিস?
-না।
-আচ্ছা খাওয়া সেরে অমুক জায়গায় আয়। (ওমুক জায়গার নাম বলছিনা)

আমি দুপুরের খাবার খেয়ে দাদার সেই বলে দেওয়া জায়গায় গেলাম। অনেকক্ষন দাঁড়িয়ে থাকলাম, চা সিগারেট খেলাম। দাদার কোনো খবর নেই।

অনেকক্ষন দাঁড়িয়ে থাকার পর সঞ্জয় দা, সি এন জি একটা থেকে নামলেন।
এগিয়ে গিয়ে দাদাকে বললাম, -এখন কোথায় যাবো আমরা?
দাদা বলল, -চল।
আবার আরেকটা সি এন জিতে উঠলাম আমরা। সিএনজি চলছে। দাদা ফোন দিলেন এক প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতার ডান হাতকে। ডান হাত ব্যক্তিটি আমাকে নিয়ে স্টেডিয়ামের গেট-এ যেতে বলেন। কিছুদুর যাওয়ার পর আমাদের সিএনজি থামে কাজির দেওরি পর স্টেডিয়ামের গেট বরাবর। সিএনজি থেকে নেমে ঐ ডান হাত ব্যক্তিকে সেখানে প্রথম দেখি আমি। কালো এবং যথার্থ মোটা মানুষ তিনি। তিনি যে কোনো প্রভাবশালী নেতার ডান হাত তা তার হাবভাব দেখলেই বোঝা যায়! উনি আমার দিকে আঙ্গুল দেখিয়ে সঞ্জয় দাকে বললেন,-ইনিই তাহলে অপ্রিয়! আপনার ভাই?
সঞ্জয় দা আমার দিকে চেয়ে বললেন, হ্যাঁ।
ডান হাত বললেন, -চলেন সঞ্জয় স্যার স্টেডিয়ামের ভিতরে যায়।
দাদা বললেন, -চলেন।

আমরা স্টেডিয়ামের ভিতরে ঢুকে সোজা উপরে উঠে যায়। যেখানে ভি আইপি গ্যালারি। যেখানে আন্তর্জাতিক খেলার সময় খেলোয়ার, মন্ত্রী, মিনিষ্টাররা বসে খেলা দেখে। সুনসান পরিবেশ। কোথায় কেউ নেই। শুধু আমরা তিনজন ছাড়া।

সঞ্জয় দা ডান হাত ব্যক্তিটার দিকে চেয়ে প্রথম কথা বললেন, -শুভাশিস দা একে নিয়ে কি করা যায়?
শুভাশিস বলল, সেটাই তো ভাবছি!

আমি এতোক্ষন কালো মোটা ডান হাত লোকটিকে ভাবছি কোনো মুসলমান বলে। নাম শুনে বুঝতে পারলাম তিনি হিন্দু। কিন্তু প্রভাবশালীর রাজনৈতিক নেতার ডান হাত!

শুভাশিস দা আমাকে তার পাশে বসিয়ে দীর্ঘ ৩০ মিনিট তালিম দিলেন। আমি মাথা নেড়ে হ্যাঁ হুঁ সায় দিলাম। আমি যেন পুলিশকে বলি, “নবীকে আমি লুইচ্চ্যা বলিনি। ফেসবুকে কে পোস্ট দিয়েছে আমি জানিনা। আমার নামে মিথ্যে রটনা করা হচ্ছে। আরো কতো মিথ্যাচার শেখাচ্ছেন তিনি…. এরইমধ্যে শুভাশিস দা থানায় ফোন করেছিল, আমাকে কখন থানায় নিয়ে যাবেন ওসির কাছ থেকে জানতে চেয়েছিল। ওসি বলল, রাত আটটার দিকে আমাকে নিয়ে যেতে।

এরপর আমরা স্টেডিয়াম থেকে নেমে এসে নিচের একটা রেস্টুরেন্টে ঢুকে একটা করে কফি খেয়ে বেড়িয়ে এলাম। শুভাশিস দা, সঞ্জয় দা কে বলল, -সঞ্জয় স্যার আমি থানার ওসির সাথে কথা বলেছি। অপ্রিয়কে রাত ৮টার দিকে নিয়ে যেতে বলল।

শুভাশিস দাকে বিদায় দিয়ে আমি আর সঞ্জয় দা একটা সিএনজি নিয়ে সঞ্জয় দার ব্যক্তিগত অফিসে যায়। তখন বিকেল সাড়ে ৫টা। ঠাই বসে আছি অফিসে। আমার মোবাইলে ফেইসবুকে ঢুকি না পুরো একদিন হয়ে গেল। সবাই বারণ করেছে, ফেইসবুকে না ঢুকতে। এর আগের দিন ফেইসবুক একাউন্ট ডিএক্টিভ করে রেখেছিলাম। একেকটি সময়ের মুহুর্ত যেন খুব দ্রুত ভাবে চলে যাচ্ছে। সন্ধ্যা গড়িয়ে গেল। আমি সঞ্জয় দাকে বললাম, -দাদা আমি একটু বাইরে থেকে আসি বলে বেড়িয়ে আসলাম।

সঞ্জয় দার সামনে কখনো সিগারেট খায় না। দাদা বলে সঞ্জয় দাকে খুব সম্মান করি। মনে হয় বাবার চেয়েও সঞ্জয় দাকে সম্মানটা বেশি করি। প্রথমে বাইরে বেড়িয়ে এসে সিগারেট ধরালাম। পর পর দুইটা টেনে শেষ করি সিগারেট। সাথে চা ও। আবার মুখে সেন্টার ফ্রেশ মুখে দিয়ে সঞ্জয় দা’র অফিসে আসি। কিছুক্ষন পর সঞ্জয় দা বলল, -শুভাশিস দা ফোন করেছে। চল আমরা বেড়িয়ে পড়ি।

থানার গেট-এ গিয়ে দেখি সেখানে ছোট ভাই সজীব, মামা, শুভাশিস দা, শুভাশিস দার এক বন্ধু আমাদের জন্য অপেক্ষা করে বসে আছে। সিএনজি থেকে নামতেই আমাকে দেখে সবাই ঘিরে ধরে। আমাকে সবাই চাপা কণ্ঠে বুঝাচ্ছে, নবীকে লুইচ্চ্যা বলেছি এই কথা যেন আমি ভুলেও স্বীকার না করি। আমি সঞ্জয় দাকে বললাম, -এটা নিয়ে তো ২৯৫ ক ধারার মামলা হবে। এবং তা জামিন অযোগ্য।
সঞ্জয় দা বলল, -তুই কোনো চিন্তা করিস না। আমরা উকিল ঠিক করে রেখেছি। কালই জামিন নিয়ে নেব।
আমি বললাম, তারা মামলা করলে করুক, আমি কোর্টে স্যারেন্ডার করে জামিন নেব।
মামা বলল, -ধুর আমরা কালই জামিন নেব। সমস্যা নেই। তোকে কেউ আটকে রাখতে পারবে না!
আমি মনে মনে বললাম, -আপনাদের পুলিশের জটিলতা নিয়ে কোনো ধারনায় নেই।

এরপর মামা, সঞ্জয় দা, শুভাশিস দা, থানায় ঢুকে ওসির সাথে কি কি যেন বললেন। এর প্রায় ১০ মিনিট পর আমাকে ডাকা পাঠালেন ওসির ঘরে।
ওসি আমাকে পায়ের নিচ থেকে গোটা মাথা পর্যন্ত একবার দেখে নিয়ে জিজ্ঞেস করলেন, -তাহলে তুমিই অপ্রিয়!
আমি বললাম, -হ্যাঁ।
ওসি বলল, -তাহলে তুমিই লিখেছো?
মিথ্যা বলার অভ্যেস খুব কম। কিভাবে সাঁজিয়ে চতুরতার সাথে মিথ্যে বলতে হয় জানি না। আমি অনেকনটা দ্বিধা সংকোচে বললাম, -না! এটা আমি লিখিনি!
ওসি বুঝে গেলেন আমি মিথ্যে বলছি। তারপর তিনি মামা, দাদা, শুভাশিস দাকে বললেন, -ঠিক আছে আপনারা যান। এই নিয়ে 295 মামলা হবে। ওকে রেখে যান।

ওরা সবাই আমাকে ছেড়ে চলে যাই। আমি ওসির রুমে বসে আছি। নিজেকে তখন খুব অসহায় লাগছিল। কিছুক্ষন পর একটি তরুন এসে আমাকে তার কক্ষে ডেকে নিয়ে যায়। তিনি আমার কাছ থেকে নানা রকমভাবে ই-মেইল পাসোয়ার্ড চায়। আমি দিইনি।

এর কিছুক্ষন পর পুলিশের পোশাক পড়া, কোমড়ে রিভলবার গুজানো, একজন এসে গর্জে উঠে বলল, -এখানে অপ্রিয় কে?

আমি চেয়ারে বসেছিলাম। খুব নির্লিপ্তভাবে বললাম, -আমি।
তিনি বললেন, -খানকির পুত দাঁড়িয়ে কথা বলতে পারিস না? এই বলে তিনি আমার গালে একটা কষে থাপ্পড় লাগিয়ে দিলেন!

থাপ্পড়টা খুব জোড়ে লেগেছে। মাথাটা জিম জিম করছে! আমি বললাম, -আপনি আমাকে মারছেন কেন? আর হ্যাঁ সভ্য ভাষায় কথা বলুন আমার সাথে!

তিনি বললেন, -মাদারচোদ! তুই আমাকে সভ্যতা শেখাচ্ছিস? খানকির পুত! গালি দিয়ে দিয়ে তিনি আমাকে এলো পাথারি কিল ঘুষি মারতে থাকেন।
তারপর তিনি আমার ই-মেইল আর পাসোয়ার্ড চেয়েছেন।
আমি বললাম, -জানি না, আমার মনে নেই।

ও হ্যাঁ এতোক্ষন যিনি আমাকে মারলেন। তার নাম তো বলাই হয়নি। তার নাম (ছদ্দনাম) মিজান উদ্দিন। তিনি থানার সেকেন্ড অফিসার। আমার কাছ থেকে স্বীকারোক্তি আদায় করার দায়িত্ব ওসি সাহেব এই বর্বর মিজানকে দিয়েছে। মিজান ফোন করলেন বাইরের একজনকে। কিভাবে আমার আইডিতে ঢোকা যাবে। তারপর আরো কিছুক্ষন শারিরিকভাবে নির্যাতন পেয়ে, অবশেষে নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে আমি ই-মেইল আর পাসোয়ার্ড দিতে সম্মত হলাম।

তিনি কম্পিউটারে ই-মেইল আর পাসোয়ার্ড দিয়ে লগ-ইন করে ঢুকে যান আমার আইডিতে।

প্রথমে আমার চ্যাট লিস্ট দেখেন। সেখানে আছে, দাঁড়িপাল্লা দমাদম, আল্লামা শয়তান, অরিত্র আহম্মেদ, এন সি নিলয়, অনন্ত বিজয় দাস, পারভেজ আলম, দ্বিগম্বর পয়গম্বর, কসমিক ডাস্ট, তম্ময় ইমাজিন, মৌলানা দুরের পাখি, আরো কতো জন চ্যাট লিস্টে ছিল নাম মনে পড়ছে না।

মিজান সবার মা বোন তুলে গালি বর্ষণ করতে থাকে, -এখানে সব খানকির পোলারাই দেখছি নাস্তিক! একেকটা মাগির পুত!

তার বর্বরতা দেখে আমি হতভম্ব!

এরপর তিনি আমার প্রোফাইল দেখে। রিলিজিয়ন দেখে নাস্তিক। এরমধ্যে রুমে একজন ঢুকে বললেন, -মিজান স্যার এই বাংলাদশের নাস্তিক শালাদের গুরু হল অভিজিৎ রায়! এই অভিজিৎ রায় ডাণ্ডি পোলাডার সাহস কতো দেখো, সেই নাকি নাস্তিকতা নিয়ে অবিশ্বাসীর দর্শন না ফর্শন কি একটা লিখেছে। প্রতিদিন ফেইসবুকের নিউজ ফীডে তার বইয়ের প্রচ্ছদটা ঘুরে ফিরে দেখা যায়।
সেকেন্ড অফিসার মিজান বলল, -এর বন্ধু সবাই দেখি খানকির পুত! দেখ দেখ আস্তিক বনাম নাস্তিক গ্রুপে ধর্মকে কিভাবেই না পঁচাচ্ছে!
মিজান তখন আস্তিক বনাম নাস্তিক গ্রুপে আস্তিক-নাস্তিকের বিভিন্ন পোস্ট গুলো পড়ছেন।

রাত তখন সাড়ে দশটা। কিছুক্ষন আগে এক কন্সটেবল আমাকে থানার লকাবে ঢুকিয়ে দেয়। সেখানে আরো চার পাঁচজন আসামী। এরি মধ্যে তারা জেনে গেছে আমি কে? আমার অপরাধ কি।

কথা নেই বার্তা নেই একজন আসামী আমাকে বলে উঠল, -আমি যদি তোকে থানার বাইরে পেতাম খুন করে ফেলতাম!
আমি খুব শান্তভাবে বললাম, -ভাই আমি কি দোষ করেছি যে আমাকে খুন করবেন?
তিনি বললেন, -তুই আমার প্রিয় নবীকে অবমাননা করেছিস!
-কোন ধরণের অবমাননা করলাম?
-তুই আমার নবীকে…..
তিনি বলতে গিয়ে থেমে যান। আমি বললাম, -নবীকে কি?
তিনি বললেন, -তোদের সাথে কথা বললে পাপ হবে!
তিনি আর কথা বললেন না, মুখটা ঘুরিয়ে নিলেন।

সে রাতে থানায় জুড়ে পুলিশগুলোর মুখে মুখে আমাকে নিয়ে আলোচনা। বেটার সাহস কতো! একজন হিন্দু হয়ে মুসলমানদের ধর্মের বিরূদ্ধে লেখে। বাপের দেশ ইন্ডিয়া পাইছে, নাস্তিকতা চোদাই। এক এক করে একেকটা পুলিশ এসে আমাকে এক পলক দেখে যায়।
কেউ বলে, ঐ তোর চেহেরাটা একটু দেখি, এদিকে থাকা। পাপিষ্ঠ কুলাঙ্গার!
কেউ বলে, তুই আমার নবীরে চরিত্রহীন কইছস! শুয়োরের বাচ্চা এটা যদি থানা না হতো, তোকে এখানেই মেরে ফেলতাম! আমি অবাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থেকে তাদের কথাগুলো শুনি। তখন একদল ধর্মান্ধ আঁধারের জীবের মাঝে নিজেকে একজন ভীন গ্রহের এলিয়েন মনে হয়। যে এলিয়েনের ভাষা আঁধারের জীবগুলো বুঝে না। তাই আঁধারের জীবগুলো একজন নীরিহ এলিয়েনকে দেখে হায়েনার মতো দল বেঁধে ঝাঁপিয়ে পড়তে চায়ছে……

(চলবে)

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

২ thoughts on ““এক নাস্তিকের জবানবন্দী” পর্ব-৫

  1. যতই পড়ছি বাকরুদ্ধ হয়ে যাচ্ছি
    যতই পড়ছি বাকরুদ্ধ হয়ে যাচ্ছি দাদা……কি এক অন্ধকার সমাজে আমাদের বসবাস……অপেক্ষাই রইলাম পরবর্তী পর্বের জন্য

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

25 − 18 =