আল্লামা শফি সাহেবকে বলতেছি…

১. ইসলামে মুনাফিকের পরিচয়ে বলা আছে, মুনাফিকদের জবানের ঠিক ঠিকানা নাই। আপনারা জান দেবার কথা বইলা জান নিয়া পলাইলেন। তারপর সন্ধ্যায় আসার কথা বইলাও আপনি আসলেন না। আপনার এবং আপনাদের জবানেরো কোন ঠিক ঠিকানা পাইলাম না।

২. ইসলামে নাফরমানের পরিচয়ে বলা আছে, এরা তুচ্ছ কারনে আল্লাহর হুকুমকে অগ্রাহ্য করে। আপনাদের নেতা কর্মীরা কালকে সারাদিন সামান্য একটা সমাবেশের কারনে সারাদিনের ফরয নামায ইচ্ছা কইরা কাযা করলেন! এখন আপনাদের নাফরমান কইলে তো কইবেন আমি নাস্তিক!

৩. ইসলামে মুরতাদের পরিচয়ে বলা আছে, মুরতাদরা ইসলামবিদ্বেষী কাজ করে আল্লাহর দ্বীন থেকে খারিজ হয়ে যায়। আপনার দলের কর্মীরা যে আল্লাহর আয়াত সম্বলিত হাজার হাজার বইয়ে আগুন ধরায়া দিলো, মসজিদের ভিতর আগুন ধরায়া দিলো, জাতীয় মসজিদের ইমাম সাহেবকে লাঞ্ছিত করলো, নামায বাদ দিয়ে দিনভর দেশ ও মানুষের সম্পদ নষ্ট করলো, কয়েকজন মানুষ মাইরা পিটায়া আহত করলো – এসব কি আপনার কাছে ইসলামবিদ্বেষী মনে হয়? যদি হয় তবে বুঝবো দ্বীনের বুঝ এখনো আছে আপনার ছিটাঁ ফোটাঁ আর যদি না হয়, তাইলে দলিল দিয়া দেখান আমি মাইনা নেবো। কিন্তু এগুলা যে ইসলামবিদ্বেষী কাজ সেইটার দলিল আমি দেখাইতে পারবো।

৪. ইসলামে রাষ্ট্র ও জনগনের সম্পদ নষ্ট করা হারাম ও দুনিয়াতেই শাস্তিযোগ্য অপরাধ। আপনারা গতকাল দরিদ্র ও নিরীহ হকারদের সকল পুজিঁ ধ্বংস করে দিলেন। লেলিহান আগুনে শিখায় জ্বালিয়ে ছাড়খাড় করে দিলেন তাদের দোকানপাট। রাস্তার আইল্যান্ডে লাগানো গাছ কেটে উজার করলেন। ৫০ টা বাসে আগুন ধরায় নি:চিহ্ন করে দিলেন। আপনার একটু হইলেও ইসলামি জ্ঞান আছে, এগুলা হারাম আর দুনিয়াতেই শাস্তিযোগ্য অপরাধ কিনা একটু ভাইবা দেইখেন।

৫. আমরা জানি কাপুরুষের পরিচয় হইতেছে নিজে নিরাপদ থেকে দলের দুর্বল লোকটাকে সামনে দিয়ে দেওয়া। এতে নিজে নিরাপদ থাকা যায়, শত্রুর মনও গলানো যায়। কালকে আমরা তাই দেখলাম। আপনি নিজে নিরাপদ দুরত্বে অবস্থান করে রাস্তায় নামালেন আপনার মাদ্রাসার কোমলমতি-নাবালক শিশুদের। হাতে ধরে রাখা লাঠির সমান তাদের উচ্চতা। তারপর সন্ধ্যায় পল্টি মারলেন সেই নিরাপত্তার কথা বইলাই। কেন শফি সাহেব, আপনার নিরাপত্তার দরকার আর সেই বাচ্চা গুলার বুঝি দরকার নাই? এখন আপনারাই বলেন আপনারা কাপুরুষের খাতায় নাম লেখাইলেন কিনা।

সবশেষে একটা কথা জনাব শফি, আপনি ভন্ড, মুনাফিক, মুরতাদ, কাফের, জালিম যাই হোন না কেন আমার তাতে কিছু যায় আসে না। কিন্তু আপনার মতো মুনাফিক আর মুরতাদ কাপুরুষ যদি আমার ধর্মকে হেফাজতের ঘোষণা দেয়, তাইলে আপনার মতো নাফরমান আর প্রতারককে যে কোন মূল্যে প্রতিহত করা শুধু আমার না, প্রত্যেক মুসলমানের ঈমানী দায়িত্ব। আমি আমার ঈমানি দায়িত্ব থেকে এবং আমার পবিত্র ধর্ম ও ধর্মগ্রন্থকে রক্ষার খাতিরেই যে কোন মূল্যে আপনার ও আপনার দলের পতন চাই।

আপনি আল্লাহর দ্বীনকে বেইচা টাকা, ক্ষমতা আর নাম কামাইতে মাঠে নামছেন। এই তিনটাই আপনি পাইছেন। এবং এই তিনটাই আপনি খরচ করলেন আল্লাহ ও তার মাখলুকের বিরুদ্ধে। সুতরাং, ধারান করতেছি খুব শীঘ্রই আপনি আপনার কর্মফল পাইবেন, দুনিয়া ও আখিরাতে, ইনশাল্লাহ।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

৮ thoughts on “আল্লামা শফি সাহেবকে বলতেছি…

    1. যাদের মধ্যে বিন্দুমাত্র
      যাদের মধ্যে বিন্দুমাত্র দ্বীনের জ্ঞান থাকবে তারা কখনই জামাত-শিবির-হেফাজতকে বিশ্বাস/সমর্থন করতে পারে না। ধন্যবাদ মুকুল ভাই।

  1. সবশেষে একটা কথা জনাব শফি,

    সবশেষে একটা কথা জনাব শফি, আপনি ভন্ড, মুনাফিক, মুরতাদ, কাফের, জালিম যাই হোন না কেন আমার তাতে কিছু যায় আসে না। কিন্তু আপনার মতো মুনাফিক আর মুরতাদ কাপুরুষ যদি আমার ধর্মকে হেফাজতের ঘোষণা দেয়, তাইলে আপনার মতো নাফরমান আর প্রতারককে যে কোন মূল্যে প্রতিহত করা শুধু আমার না, প্রত্যেক মুসলমানের ঈমানী দায়িত্ব। আমি আমার ঈমানি দায়িত্ব থেকে এবং আমার পবিত্র ধর্ম ও ধর্মগ্রন্থকে রক্ষার খাতিরেই যে কোন মূল্যে আপনার ও আপনার দলের পতন চাই।

    এদেশের সাধারণ ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের মনের কথা ফুটে উঠেছে এই বাক্যগুলোতে। এটাই আম ধর্মপ্রাণ মানুষের ভাবনা। আপনারা মাদ্রাসার অবুঝ কিশোরদের নিয়ে যে খেলা শুরু করেছেন, এটা কখনই ধর্ম সমর্থন করেনা। সাধারণ মানুষকে বাধ্য করবেন না আপনাদের মত ধর্ম বিক্রি করে খাওয়া কাঠমোল্লাদের রাস্তাঘাটে পিটিয়ে গণধোলাই দিতে। সহ্যেরও একটা সীমা আছে। ধর্মের নামে খেটে খাওয়া মানুষদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে আগুণ, লুটের ফলাফল পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করেন। হাটহাজারী মাদ্রাসায় ব্যক্তিগত পর্যায়ের সকল অনুদান বন্ধ করে দেন। সরকারী অনুদান বন্ধ করা হোক।জাকাত ফেতরার টাকা এখন থেকে মাদ্রাসা এতিমখানায় কেউ দিবেন না। বিদেশ আসা অনুদানের টাকা ছাড় না দেওয়া হোক। বেশী বাড়াবাড়ি করলে আমরা সাধারণ জনগণও পাবলিক হয়ে আপনাদের শায়েস্তা করব।

    1. জ্বি, ঠিক বলেছেন। আল্লাহ
      জ্বি, ঠিক বলেছেন। আল্লাহ নিজেও বাড়াবাড়ি পছন্দ করেন না তাই তো তাদেরকে ফল দিলেন হাতে নাতে। “জিজ্ঞাসাবাদের বিষয়ে জানতে চাইলে পুলিশ কর্মকর্তা মনিরুল বলেন, জিজ্ঞাসাবাদের সময় বাবুনগরী প্রচুর কাঁদছেন। তিনি বলেছেন, সমাবেশের কোনো নিয়ন্ত্রণই তাঁদের হাতে ছিল না। নিয়ন্ত্রণ নিয়েছিলেন হেফাজতের অন্তর্গত ১৮-দলীয় জোটের শরিক দলগুলোর নেতারা। তিনি বলেছেন, যা কিছুই করা হয়েছে, তা বিএনপি-জামায়াতের চাপে পড়ে করা হয়েছিল।”
      সুত্রঃ প্রথম আলো।

      অথচ এই লোকই কিছু দিন আগে সাংবাদিকদের বলেছিলেন, জামায়াতে ইসলামীর সাথে তাদের কোন যোগশাযোগ নেই। এসব আওয়ামী গুজব। তারা কোন রাজনৈতিক দলও নয়।

      বাবুনগরী সাহেব, আল্লাহর দ্বীনের ধ্বজাধারী হয়েও প্রকাশ্যে অপকটে এমন ডাহা মিথ্যা কথা বলার শাস্তি তো হাতে নাতেই পাইলেন। মাদ্রাসার শিক্ষক ও আলেম হিসাবে আপনার যে সন্মান আপনি অর্জন করেছিলেন, সেইটাকে নিজের হাতে ধ্বংস করে দিলেন। পত্রিকায় আপনার ছবি ছাপা হয় পুলিশ আপনাকে ধরে নিয়ে যাইতেছে – এমন অবস্থায়। যে বয়সে ঘরে বসে নাতি পুতি নিয়ে আল্লাহ খোদার নাম নিবেন, সেই বয়সে ডিবি পুলিশের রিমান্ডে গিয়ে কান্না কাটি করতেছেন। বাবু সাহেব, এইখানেই শেষ না। আসল মাইর তো রইছেই। কথায় আছে না, আল্লার মাইর দুনিয়ার বাইর? যে পরিমান মিথ্যাচার আর জুলুম আপনারা করছেন নিরীহ ও দরিদ্র মানুষের উপর, আপনারা সেই মাইরের জন্য রেডি থাইকেন।

  2. ইসলামে নাফরমানের পরিচয়ে বলা

    ইসলামে নাফরমানের পরিচয়ে বলা আছে, এরা তুচ্ছ কারনে আল্লাহর হুকুমকে অগ্রাহ্য করে। আপনাদের নেতা কর্মীরা কালকে সারাদিন সামান্য একটা সমাবেশের কারনে সারাদিনের ফরয নামায ইচ্ছা কইরা কাযা করলেন! এখন আপনাদের নাফরমান কইলে তো কইবেন আমি নাস্তিক!

    সেইরকম একটা পয়েন্ট। আগে খেয়াল করি নি। ধন্যবাদ অসাধারণ সব যুক্তির জন্য…

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

75 + = 79