আজ তুমি নেই…

আর মাত্র ৮দিন। এ মাসের ১১ তারিখে শেষ হয়ে যাবে ডিভোর্স এর ৯০ দিনের গ্রেস পিরিয়ড। শেষ হয়ে যাবে, ২৪ বছরের সম্পর্ক এর টানাপোড়েন !! শেষ হবে, হলো, তো? তো কি হলো? তুমি নেই? কে বললো? বললেই কি হারিয়ে যাওয়া যায়? না হয়? সেই কৈশোরের সাথী তুমি, আমার নির্লোভ প্রেম তুমি..কত স্মৃতি তোমায় ঘিরে।

?1449824031″ width=”512″ />

সেই দুপুর বেলা, বাবার মটর সাইকেলে তোমার প্রথম আসা। মনে পড়ে ? প্রথম দেখার সেই ক্ষনটি? আমার– বাবার কাছে দৌড়ে আসা, চঞ্চলতা তোমার চোখ এড়ায়নি। কালো, ক্ষীণ স্বাস্থ্যের,দু’পাশে বেণী দুলানো সেই মেয়েটির মাঝে ক্ষণিকের জন্য হলেও থমকে দাড়ালে তুমি…।।

তারপর মাঝখানে প্রায় ১বছর দেখা নেই। আবার কলেজ রো-এর বাসা। আমাকে লুকিয়ে লুকিয়ে দেখা। বারবার চোখে চোখ পড়া। অামার অনবরত কথা বলা। ইচ্ছাকৃতভাবে তোমার সামনে ঘোরাঘুরি করা। কি ছিলো দু’জনের চোখে?

কলেজ থেকে এসে যেই শুনলাম, তুমি এসেছ, বই-পত্র রেখে সোজা দৌড়ে নানাবাড়ি। আমাদের নানাবাড়িতে শিফট করা। কেন সেদিন ছুটে গেলাম। আস্তে আস্তে দোতালায় গেলাম। নানুর ডাকে সাড়া না দিয়ে দরজার পিছনে লুকিয়ে গেলাম। তোমার সরাসরি প্রশ্ন-আপনি আমায় পছন্দ করেন? যদি পছন্দ করেন তবে আপনার হাতের রুমালটি আমাকে দিয়ে যান। রুমাল দিলে নাকি ঝগড়া হয়? তারপরও রুমালটি হাতে দেয়া। প্রথম হাত ধরলে তুমি। আজ এত বছর পরেও ভাবতে গিয়ে পুলকিত আমি। সেদিনই হাতের পিঠে প্রথম চুমু দিলে তুমি…তাইনা? তারপর?

এই ৮দিন আমি ২৪ বছরের সব সুখের স্মৃতি গুলি আর একবার মনে করতে চাই। সেই সাথে একটু একটু করে কষ্ট গুলোকে দূরে ঠেলে দিতে…..?? থাকবেতো সাথে তুমি? আর বন্ধুরা আমার??

তার পর? দিন-ক্ষণের আর হিসাব রইলোনা। ভগবানই যেন অজুহাত তৈরী করে দিচ্ছিলেন দু’জনার দেখা হবার। আমার শহীদ মুক্তিযোদ্ধা মামা-র সাথে তোমার চেহারার মিল থাকায় আম্মুর তোমার প্রতি দূর্বলতা–তুমি তাদের বাচ্চু কাকার ছেলে..তো, যাকে আপা ডাকলে…তাদেরই কিশোরী মেয়ের সাথে যখন মনের বিনিময় হতে লাগলো, আব্বু-আম্মুকে কিছু সম্বোধন করাই বন্ধ করে দিলে। পরের দিন সন্ধ্যায় আম্মুর পছন্দের ভিডিও নিয়ে আসা। ছবি দেখতে দেখতে কি দেখছিলে তুমি? তোমার এই তাকিয়ে থাকা-ই কাল হলো আমার। কিংবা আমার টানা টানা দুটি চোখে হারিয়ে গেলে তুমি। রাতের খাবার খেয়ে চলে গেলে, হঠাৎ ফিরে এসে বললে …কাল দেখা করবে বাইরে? কোথায় দেখা করবো? তখন বাসা থেকে বের হয়ে দেখা করা, রীতিমতো কঠিন ব্যাপার। স্যারের বাসার নাম করে বটতলায় –হ্যাঁ হানিফ স্যারের বাসায় দেখা করা। হঠাৎ তোমার রাগ করা। আমারই এক চাচাতো ভাই-এর সাথে আমার সম্পর্ক নিয়ে সে-কি রাগ তোমার। তারপর আমার কথা এবং কা্ন্না দেখে আমাকে বুকের মধ্যে নেয়া—অতটুকু একটা মানুষ কি পরম দায়িত্বে প্রায় বখাটে হয়ে যাওয়া আমাকে আশ্রয় দিলে নিস্পাপ আলিঙ্গণে। সেই থেকে শুরু। পরমূহুর্তে শুরু হলো আমার পরীক্ষা—প্রায় তিন কিলোমিটার হাঁটালে আমায়..আমি কষ্ট করতে পারি কিনা দেখার জন্য। কখনও রাস্তার পাশে চা খাওয়া, সস্তা হোটেলে ভাত খাওয়া সবই তোমার পরীক্ষার-ই অংশ ছিলো। প্রায় প্রতিদিনই দেখা হতে লাগলো আমাদের। সকালে কেমিষ্ট্রি স্যারের বাসার সামনে। রোজার মাস। শুধু তোমাকে দেখবো বলে বারবার থুথু ফেলার অজুহাতে দরজার কাছে যাওয়া। স্যার হেসে বলেন, শিরিনকে সাত-সকালেই রোজায় ধরেছে মনে হয়। পড়া শেষে কখনও নিপু, কখনও শিউলী-র বাসায় যাচ্ছি বলে তোমার সাথে সারাদিন রোদের মধ্যে টো টো করে ঘুরে বেড়ানো। আচ্ছা, নৌকায় প্রথম চুমু খেয়েছিলে? না সেলিম ভাই এর বাসায়? হা সেলিম ভাই-এর বাসায়। সেকি ভোলা সম্ভব? তোমার শ্বাস বন্ধ হয়ে গিয়েছিলো? মনে পড়ে?

……………………………………………………………………………………..

আর মাত্র ৬দিন।
তোমারও খারাপ লাগছে জানি। পারলে আজও ছুটে এসে বলতে, চলো শিরিন পালিয়ে যাই। কেউ বুঝবেনা জান। তুমি আমায় আজও আগের মতোই ভালবাসো। আর আমি? সে তো তুমি জানোই……. সেলিম ভাই-দের বাসায়….সে কি অবস্থা তোমার, জীবনে প্রথম কোন মেয়েকে চুমু খাওয়া তোমার…। তোমার অবস্থা দেখে আমার অবস্থা বেগতিক। ভাগ্যিস রুমে পানি ছিল, পানি খেয়ে তোমার শ্বাস ফিরে এলো। মজার ব্যাপার, কিন্তু আজ ভাবতে গিয়ে চোখ ভিজে আসে জলে। জলের কথায় মনে এলো…..নৌকায় ঘুরতে যাওয়া….নদীর জলে ঠোট ভিজানো… তারপর…….। যেদিন রুপাতলী গেলাম। কি বৃষ্টি! রিক্সায় পর্দা দিয়ে দু ‘জনের জড়াজড়ি করে যাওয়া। বৃষ্টি এলে বুড়ো বয়সেও বোধহয় সেদিন-এর কথা ভুলতে পারবোনা। তোমার তুলনায় আমিই বোধহয় দুষ্ট বেশী ছিলাম। তুমি শুধূ বলতে রোজ রোজ এভাবে দেখা করা ঠিক হচ্ছেনা, তোমার বাবা-মা টের পেলে মার লাগাবে। যেদিন বললে আমরা আর বেশী দেখা করবোনা—-আমি পরের দিন তোমার বাসায় গিয়ে হাজির। কি সাহস ছিল আমার। তুমি কথায় কথায় বলেছিলে..তুমি স্কার্ট-টপস্ পড়োনা? কেমন লাগবে পড়লে? লিয়ানার কাছ থেকে ধার করে তাই পড়ে হাজির হলাম সাত – সকালে। তোমার মা-কে দেখে আমি তো মু্গ্ধ রীতিমতো। কি সুন্দর দেখতে তিনি। আমায় দেখেই বুঝতে পারলেন। তুমি বাসায় আগেই বলেছিলে…নিজাম ম্যানেজার এর মেয়ে তোমার প্রেমে লাট্টু হয়েছে। ডাক দিয়ে বললেন, তুহিন দেখ্ কে এসেছে? তুমি দৌড়ে নামলে সিড়িতে। বাটিকের হলুদ রং-এর লুঙ্গি পড়া। খালি গায়ে। কি ফর্সা তুমি। ভালো লাগা বাড়তে লাগলো বিদ্যুতের গতিতে। তোমার রূপের পাগল আমি আজও…সেতো তুমি জানোই। তারপর? তার আর পর নেই। তোমার রুমে যাওয়া। প্রচুর বই পড়তে তুমি-তখনও। মাথার কাছে ব্রুক শিল্ড এর বিশাল এক ছবি। তুমি আমায় দেখিয়ে দেখিয়ে ওর ঠোটে আদর করছিলে। রাগে শরীর জ্বলে যাচ্ছিলো আমার। দুপুরে খেয়ে ক্যাসেটে মি:ইন্ডিয়া ছবির ‘‘ আই লাভ ইউ’’ গান শোনা। বিকালে বিএম কলেজ ঘুরে বাসায় পৌঁছে দেয়া। সেদিন-ই কি আম্মু গেটে দাঁড়িয়ে ছিল। না-কি শিউলী বলে দিয়েছিল-ওর বাসায় যাইনি আমি? দাড়াও মনে করছি…….।।

তুমি কি রাগ করছো? আমাদের কথা বলছি বলে? রাগ করোনা। আমি ২০১৪ এর শিরিন-তুহিন এর কথাতো বলছিনা। এতো একটি ছেলে আর একটি মেয়ে …ওরা ধরা পড়েছিলো …সেই…১৯৯০ তে… হা-আম্মু দাড়িয়ে গেটে…কেমিষ্ট ল্যাবরেটরীর দেয়ালের কাছ থেকেই দেখা যাচ্ছিলো। তোমার হাত ধরেই তার সামনে দাড়ালাম। আজ ছিলো তোমার পরীক্ষার পালা। আসার আগ মূহুর্তে বলছিলাম-‘‘তুমি আম্মুর কাছে আমায় চাইতে পারবে? বলতে পারবে ভালবাস আমায়?’’ আম্মু সামনে আসতেই বাংলা ছবির জাদরেল মা-এর মতো তোমার সামনেই মারতে গেলেন আমায়। আমিও জেদী, ক্রেজী। মা-র সাথে রাগ করে সোজা হাটা শুরু করলাম। বললাম, তুমি যাবে আমার সাথে? তুমি বললে..কই যাচ্ছ? মা-এর সাথে কেউ এমন করে? আমি তখন রীতিমতো বিদ্রোহী এক মেয়ে। বাসায় কিছু ভালো লাগতো না। আম্মুকে-তো শত্রু মনে হতো। পালাতে পারলেই যেন বাঁচি। তোমার কথাও শুনবো না। তোমার শাসন দেখে আম্মু একটু বোধহয় আশ্বস্ত হলেন। কিংবা কৌশলের আশ্রয় নিলেন। কারন তার জেদী মেয়েকে তো সে জানতেন। ডাকলেন তোমাকে–আমাকে সহ। কথা বললেন অনেক ক্ষণ। বললেন- ‘‘ভালো, তুমি যদি এই ছুটন্ত ঘোড়াকে লাগাম পড়াতে পারো, মন্দ কি?’’ বাস্ মোটামুটি মা-এর স্বীকৃতি হয়ে গেল। কি পাগল ছিলাম না? মা-কে অত কষ্ট দিয়েছি বলেই কি আজ? যাক কোন কষ্টের কথা নয়, আমি তোমাকে ঘিরে যা কিছু সুখের ছিল —তাই ভাবতে চাই। নইলে বাকী জীবন কাটাবো কি করে? এর ২/৩দিন পরেই বোধহয় আমার জন্মদিন ছিলো। তখনতো রাস্তার মোড়ে মোড়ে ফুল বিক্রী হতো না। হায়রে! ভোর রাতে ডিসি না যেন এসপি মহোদয়ের বাড়ীতে কুকুর -এর ভয় এড়িয়ে আমার জন্য রজনীগন্ধ্যা চুরি করা। চুরি করেছিলে? ঠিক করনি। যদি কুকুর কামড়ে দিতো? সেদিন রাতে বাবা-ও কিছুটা আঁচ করলেন। আমার মাথার কাছে তোমার দেয়া উপহার দেখে। মা-কে বললেন, ‘‘ কি ব্যাপার তোমার মেয়ের জন্মদিনে তুহিন কেন? আবার উপহার-ফুল, কি কোন কিছু ঘটছে না তো? ’’ আমি বাবা-কে দেখেই চোখ বন্ধ করে ঘুমের ভাণ করে আছি আর শুনছি সব। আম্মু বললো, ‘‘ মেয়ে বড় হয়েছে, এমন তো হতেই পারে।’’ আবার বাবা-র গলা- ‘‘সাবধান মুন্নী! এই ছেলে কিন্তু কাটপট্রির গুন্ডা’’! গুন্ডা? হা তুমি খুব সাহসী ছিলে! তখন কাটপট্রি-সদর রোডে মারামারি লেগেই থাকতো। নিজের নিরাপত্তার স্বার্থেই তোমাদের বয়সী ছেলেদের পিস্তল-ছুরি রাখতে হতো। উপরন্তু তুমি বাম সংগঠন করতে। আমার বাবা-র কাছে তুমি হলে গুন্ডা! আর আমার-হিরো! রজনীগন্ধ্যা ফুলের ঘ্রাণ আর লাইট দেয়া ঝাড়বাতির নিয়ন আলোয় সে রাতে ঘুমোলাম আমি-হিরো ছবির মিনাক্ষী শেষাদ্রীর মতো আমার গুন্ডা- জ্যাকি ওরফে তুহিন-এর স্বপ্ন দেখতে দেখতে—-

সেদিন ছিল ৩রা জুলাই। নানা বাড়ির দোতলায় শুরু প্রেম কাহিনীর ২৮তম দিন। ৪ তারিখ কোরবানী, তাই স্যারের বাসায় যাবার সময় তোমাকে বলে যাবো —বাসায় যাবার জন্য। আম্মুর দেয়া শর্তানুযায়ী আমরা আর বাইরে দেখা করতে পারবোনা।

আগের রাতে মিজানের বিয়ে ভেঙ্গে যায় বলে তোমরা দু’ বন্ধু বোধহয় মন খারাপ করেই অত বেলা অব্দি ঘুমিয়েছিলে। মিজানের সেই বান্ধবী ফাহিমা ক্যান্সার হয়ে মারা গেছে! তুমি জানতো? আজ আমাদের ছাড়াছাড়ি হচ্ছে বলে মন খারাপ করছি, অথচ ফাহিমা-মিজানের কি হলো? যাক আবার কষ্টের কথা চলে এলো। কি করবো বলো? সুখ-দু:খ যে পাশাপাশি হাত ধরে চলে। পাশের বাড়ীর অপু নামের মেয়েটি আমায় দেখে ডাক দিলো। ডেকে বললো- আপনি শিরিন? হা-বললাম আমি। আমায় হাত ধরে ঘরে নিয়ে গেল, তারপর যা বললো—তুমিতো পরে শুনেছই। তোমরা আগে প্রেম করতে, এবং সে তোমায় ভালবাসে। আমারতো রাগে-দু:খে মাথা নষ্ট। আমার রাগ দেখে সেদিন-ই তোমার বোঝা উচিত ছিলো-কি চরম বদরাগী এক মেয়ে আমি! তুমি কি করলে আমার অনবরত কথার বাণে জর্জরিত হয়ে নসিলা-র মোটা গ্লাস ভেঙ্গে নিজের হাতে বসিয়ে দিলে! ফিনকি দিয়ে রক্ত ছুটলো। মিজান তাড়াতাড়ি গামছা পেঁচিয়ে তোমায় নিয়ে গেল হাসপাতালে। আমি নির্বাক বসে রইলাম। শুধু একটা কথাই –আমার চারপাশে ঘুরপাক খেতে লাগলো–তোমার থেকে পৃথিবীতে আমায় কেউ বেশী ভালবাসতে পারে না। বিশ্বাস করো আর নাই করো, আজও আমি সেটাই বিশ্বাস করি। তোমাকে রক্তাক্ত অবস্থায় যেতে দেখে সামনের দোকান থেকে সিদ্দিক ভাই দৌড়ে এলো। আগের রাতে মিজান-ফাহিমার বিয়ে হয়নি, সকালে এই ঘটনা…ও বললো, ‘‘ মিজান এই মাইয়া! এর লাইগা ভাই আমার হাত কাটছে এমন কইরা? রাইখা দে, আইজই বিয়া হইবো।’’ মা বললেন, তোমরা আজকাল কার মেয়েরা আজ একটা প্রেম, কাল একটা, এই করে বেড়াও! আমার ছেলের যদি কিছু হয়, তুমিতো আর বিয়ে করবেনা, করবে? তাহলে শুধু শুধু এত রক্ত! স্বাভাবিকভাবেই অত রক্ত আমি এর আগে কখনও দেখিনি। আর ওভাবে নিজের হাত নিজের কাটা, তা-তো প্রশ্নই ওঠেনা। এ অামার হিরো-র পক্ষেই সম্ভব। সিদ্ধান্ত নিলাম, বিয়ে করবো আজই। তুমি কত বোঝালে, এ হয়না, তোমার বাবা-মা? কিন্তু আমিতো আমিই। যা ভেবেছিতো করেছি। মিজান ভাই-কে বললাম ফাহিমা-র মতো আমাকে হারাতে চান? না ? –তবে ব্যবস্থা করেন। মৌলভী ডাকা হলো। তারপর —কবুল! কবুল! কবুল! শিরিন-তুহিন এর শুভ পরিণয় সম্পন্ন হলো। মিজান ভাই আমার উকিল ভাই। কান্না শুরু করলো, ফাহিমাকে হারিয়ে না আমাকে পেয়ে আজও জানা হয়নি। এবার বরিশাল এলে জিজ্ঞেস করবো ওকে….।।

চলবে …

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

২ thoughts on “আজ তুমি নেই…

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

6 + 3 =