একটি রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের মাটিচাপা

আরজু,হলের ছাদে দাঁড়িয়ে আছে।জীবনের হিসাব মেলাতে ব্যস্ত। ক্যাম্পাসে প্রায় ৮ টি বছর কেটে গেলো।

৮ বছর আগে আর দশটা শিক্ষার্থীর মতো আকাশ ছোঁয়ার স্বপ্ন নিয়ে পাড়ি দিয়েছিলো দেশসেরা বিদ্যাপীঠে।
হলে থাকা বাকিসব ছেলেগুলোর জীবন যেভাবে কাটে,সেভাবেই কাটতে থাকলো আরজুর জীবন।

বাকপটু আর মানুষের সাথে মিলেমিশে থাকার অসম্ভব এক ক্ষমতা ছিলো তার,খুব সহজেই মানুষ প্রভাবিত হয় এরকম কিছু গুণ তার ছিলো।

প্রথমবর্ষে রাত-বিরাতে ঘুরাফেরা, বন্ধুদের সাথে মাস্তি-আড্ডা দিতে গিয়ে নিজের অজান্তেই ক্যাম্পাসের সবচেয়ে ‘পরিচিত মুখ’ হয়ে গেলো আরজু।

হলের বড় ভাইরা একসময় তাকে উপদেশ (!) দিলো, “আরজু! তোমার বিরাট ফ্রেন্ড সার্কেল আর নেতৃত্বের গুণ তোমাকে খুব বড় মাপের নেতা বানাতে সাহায্য করবে।”

একথাগুলো কেবল কথার কথা নয়,আরজুর মধ্যে যেরকম গুণ ছিলো যে কেউ দেখলে চোঝ বন্ধ করে বলে দিতে পারতো যে সে জীবনে বড় কিছু করার সামর্থ্য রাখে।

তৃতীয় বর্ষে হলের কমিটি দিলো, হলের নেতারা আরজুকে খুব ভালোভাবে চিনে। কমিটিতে পদ পেতে আরজুকে কষ্ট করতে হলো না; মোটামুটি ভালোই পোস্ট পেলো।

আরজুর এলাকা থেকে কেউ ক্যাম্পাসে ঘুরতে আসলে, ক্যাম্পাসে আরজুর জনপ্রিয়তা থেকে সবাই ‘বাহ! বাহ!’ করতো।

তারও আগে পড়ালেখাকে বিদায় জানিয়েছিলো আরজু।, ঘুরাঘুরি করা বন্ধুবান্ধবের সাথে আড্ডা দিতে দিতে সময় কাটছিলো বেশ। 😀

একসময় হলের ‘ক্যান্ডিডেট’ ও হয়েছিলো আরজু, কিন্ত হতাশার শুরু হয়তোবা তখন থেকেই শুরু হলো…!!

হলে জনপ্রিয়, ক্যাম্পাসে জনপ্রিয়… সাথে পরিশ্রম।
শুধু ঘোষণার বাকি…
কিন্ত,সেই ঘোষণা শোনার পর..আরজু, না পারছিলো নিজের চোখকে আর না পারছিলো নিজের কানকে বিশ্বাস করতে!!!

তবুও হাল না ছাড়া আরজু আরো কয়েকবছর রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত ছিলো!

শেষপর্যন্ত, কোনোকিছুতেই আশানুরূপ ফলাফল নেই!!

এতবছর বাবার কাছ থেকে টাকা আনতে আনতে সেই মধ্যবিত্ত পরিবার অবশেষে নিঃস, সহায় সম্বলহীন!

সময়মতো অনার্য কম্পলিট করতে না পারা,চাকরির জন্য আবেদনের যোগ্যতা না থাকা সবমিলিয়ে চরম হতাশার মধ্যে আজ।

৮ বছর আগে যে আকাশ ছোয়ার স্বপ্ন নিয়ে সে প্রবেশ করেছিলো আজ ভাবতেছি আকাশ থেকে না হলেও ছাদ থেকে লাফ দিলেই ভালো হবে….

এই উচু ছাদকে আর এখন উচু লাগছে না….!!!

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

− 8 = 1