কোরানে মূত্রত্যাগ প্রসঙ্গে আসিফ মহিউদ্দীনের বক্তব্য,মুসলিমদের গালিগালাজ ও নাস্তিকতা

গতকাল খ্যাতনামা ব্লগার আসিফ মহিউদ্দীনের –“কোরানে মূত্রত্যাগ প্রসঙ্গে” শিরোনামে একটি ব্লগ পড়লাম। আসিফ সাহেবের ব্লগ ও তার সাথে সম্পর্কিত আর কয়েকটি বিষয়ে একটু আলোকপাত করলাম —

১।হঠাৎ নাস্তিক :যে বা যারা বিশেষত কম বয়েসি বা না জেনে বুঝে বা কিছুটা আধুনিক হওয়ার চেষ্টায় বা ব্লগারদের হত্যাকান্ডের নৃশংসতা দেখে নাস্তিকতার দিকে ঝুকে পড়েছেন বা নিজেদের নাস্তিক বলে দাবি করছেন তাদের বলতে চাই সম্মানিত ভাই ও বোনরা সাম্প্রদায়িক পরিচয়ের মত নাস্তিকতা কোন উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া সম্পত্তি নয়,এটি অর্জন করতে হয়।নাস্তিকতা প্রসঙ্গে আমার একজন পছন্দের লেখক সুবিনয় মুস্তফী একটি লেখা আপনাদের উদ্দেশ্যে—“এতোদিন ধর্মান্ধতার বিরুদ্ধে লিখেছি।বর্তমান অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে যে এখন নাস্তিকান্ধতার বিরুদ্ধেও লেখার সময় এসেছে। নাস্তিকতা জিনিসটা আল্টিমেটলি কোন প্রকার সর্বশক্তিমান সৃষ্টিকর্তার অস্তিত্বে অনাস্থা এবং তাকে অস্বীকার করা। এই অনাস্থা এবং অস্বীকার একটা দীর্ঘ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে ঘটে। প্রচুর অধ্যয়ন, জগৎ, জীবন,প্রকৃতি ও পরিবেশ এবং প্রতিবেশের প্রতি সজাগ দৃষ্টিপাত এবং পর্যবেক্ষণ, সামাজিক বিজ্ঞান ও প্রকৃতি বিজ্ঞানের অগ্রগতি সম্পর্কে অবগত থাকা ইত্যাদি বহুমাত্রিক এবং বহুবিধ কার্যকলাপের মাধ্যমে একজন মানুষের নাস্তিকতার পথে যাত্রা শুরু হয়। অর্থাৎ নাস্তিকতা রূপকথার গল্পের মতো কারো মাথায় হঠাৎ করে গজিয়ে ওঠা শিং নয় ;এটা বরং নদীর বুকে জেগে ওঠা চর -দীর্ঘদিনের একটু একটু পলি সঞ্চয়ের মাধ্যমে এটা জন্মে। নাস্তিকতার পলিমাটি হচ্ছে জ্ঞানের প্রতি ভালোবাসা,যুক্তির চর্চা, মানবিকতা,জনমুখীনতা…।এসবের সংশ্লেষণে একজন ব্যক্তি একটা পর্যায়ে এসে হয়তো সৃষ্টিকর্তার ধারণাতে আর বিশ্বাস রাখতে পারেননা। অর্থাৎ নাস্তিকতা শেষবিচারে সৃষ্টিকর্তায় অবিশ্বাস হলেও এই অবিশ্বাসের মূলে আছে জ্ঞান বিজ্ঞানের চর্চা। এমন একটা গভীর বোধের বিষয়কে যখন কিছু নাস্তিক প্রস্রাব পায়খানার মতো দৈনন্দিন তুচ্ছতার স্তরে নামিয়ে আনেন এবং স্যানিটারি টয়লেটের বদলে বই পুস্তকের উপর প্রস্রাব পায়খানা করতে চান, তখন নাস্তিকান্ধতার বিরুদ্ধে আমাদের কথা বলতেই হবে।”
আপনারা যারা না জেনে বুঝেই নাস্তিক তারা নিশ্চয়ই এখন নাস্তিকতার স্বরূপটি বুঝতে পারছেন। সুতরাং যারা নিজেদের নাস্তিক বলে দাবি করেন তারা একটু সময় নিয়ে পড়াশুনা করে নিজেদের প্রস্তুত করুন। সম্প্রদায় কেন্দ্রিক ধর্মের মত নাস্তিকতা বিশ্বাসের বিষয় নয় এটি পড়াশুনা ও মুক্তচিন্তার বিষয় তাই শুধু শুধু নিজেদের নাস্তিক বলে দলভারি করার দরকার নেই।আপনার জ্ঞান যেদিন বিজ্ঞান দ্বারা আলোকিত হবে চিন্তা মুক্তির পথে ধাবিত হবে সেদিন নিজেই বুঝতে পারবেন নাস্তিকতা কি???এটা কোন গালভরা শব্দ নয় এটি জ্ঞানের সমাবেশ।

২।কোরান মূত্রত্যাগ প্রসঙ্গে আসিফ সাহেবের বক্তব্য :আসিফ সাহেব কোরানে মূত্রত্যাগ প্রসঙ্গে বলেছেন তিনি কোরান কেন পৃথিবীর কোন বইয়েই মূত্রত্যাগ বা আগুনে পুড়িয়ে দেয়ার বিপক্ষে।কারণ প্রতিটি বইয়েই গুরুত্বপূর্ণ ও প্রতিটি বই তৎকালীন সময়ের ইতিহাস, ঐতিহ্য, রাজনীতি ও পারিপার্শ্বিক অবস্থার স্মারক।
তবে তিনি শুধু নিশ্চিত করছেন তিনি সুকুমার রায়ের কবিতা বইকে যেমন সম্মান করেন তেমন সম্মান কোরান কেও করেন, কোরান কে অতিরিক্ত সম্মান করার কিছু নেই। মোট কথা কোরান তার কাছে সচরাচর বই ছাড়া আর কিছুই নয়।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কথা হল আসিফ সাহেব পৃথিবীর যে কোন বইয়েই মূত্রত্যাগের বিপক্ষে।

৩।কিছু মুসলিমের গালিগালাজ: আসিফ সাহেব উনার ব্লগটি ফেসবুকে শেয়ার করেছেন। আপনারা যদি সেই শেয়ার করা পোস্টটির নিচের কমেন্ট পড়েন তবে অবাক হয়ে যাবেন।যারা কমেন্ট করেছেন তাদের অধিকাংশই তার শেয়ার করা ব্লগটি তো পড়েননি উল্টো আসিফ সাহেব কে গালিগালাজ করছেন। তারা ব্লগটি না পড়েই নিশ্চিত হয়েছেন আসিফ সাহেব কোরানে মূত্রত্যাগ কে সমর্থন করেছেন। প্লিজ ধার্মিক ভাইয়েরা একটু পড়ে তারপর না হয় মানুষ কে গালিগালাজ করবেন। আসিফ সাহেব হয়তবা আপনাদের মত ধার্মিক না কিন্তু আপনাদের চেয়েও কোরান-কে অনেক বেশি সংরক্ষণের পক্ষে।
আর আপনাদের কোরানের প্রতি যে অবিচল শ্রদ্ধা তা ‘হেফাজতে ইসলাম’র ৫মে শাপলাচত্বের সমাবেশে কোরান পোড়ানোর মধ্য দিয়েই প্রকাশ পেয়েছে।

তাই বলতে দ্বিধা নেই আসিফ সাহেব আপনাদের মত না করে হলে ও আপনাদের চেয়ে কোরান কে অনেক বেশি সম্মান করেন।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

৬ thoughts on “কোরানে মূত্রত্যাগ প্রসঙ্গে আসিফ মহিউদ্দীনের বক্তব্য,মুসলিমদের গালিগালাজ ও নাস্তিকতা

  1. ১৮ জানুয়ারী ফেসবুকে আমার
    ১৮ জানুয়ারী ফেসবুকে লিখা আমার স্ট্যাটাসটি নীচে কোড করলাম-

    পৃথিবীর সকল বইয়ের মত ধর্ম গ্রন্থগুলোকে রচনা সময়কার দর্শন চর্চা হিসাবে দেখি। পৃথিবীর সকল বই জ্ঞানের আধার, সম্মানযোগ্য। নির্দ্দিষ্ট দর্শন চর্চা করতে গিয়ে অন্য সময়ে রচিত, ভিন্ন দর্শন সম্পর্কিত বা ধর্মগ্রন্থগুলোকে চরম অবজ্ঞা করে ছিঁড়ে ফেলা, কোন গ্রন্থের উপর প্রস্রাব করে দেওয়ার ইচ্ছা পোষন করা চরম অসুস্থতা। মুক্তচিন্তা চর্চার নামে এমন ব্যক্তিরা সমাজে হিংসার চাষাবাদে যুক্ত। এসব অসুস্থ লোকের সাথে শুদ্ধ চিন্তাচর্চার কোন সম্পর্ক নাই। এদের মন ও মানসিকতা মুক্ত নয়। এসব ব্যক্তি সাম্প্রদায়িকতার সাথে যুক্ত।

  2. আমরা মুমিনরা যে কোন নাস্তিকের
    আমরা মুমিনরা যে কোন নাস্তিকের লেখা দেখা মাত্রই সেটা না পড়েই হুমকি ধামকি দেই , মা বাবা তুলে গালি মারি। কারন ইহাই কোরানের শিক্ষা , নবীর শিক্ষা। সুতরাং আপনার এইসব কুফুরি শিক্ষা আমাদের দরকার নাই।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

6 + 2 =