বেনাপোল, শেওলা, ভোমরা ও রামগড় স্থলবন্দর উন্নয়নের উদ্যোগ

বাংলাদেশের রফতানি আয় ধারাবাহিকভাবে বেড়ে চলছে। চলতি অর্থবছরে স্থলবন্দরের রাজস্ব আহরণ দেশের অর্থনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। এর ধারাবাহিকতা ধরে রাখার জন্য সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা প্রয়োজন। স্থলবন্দর ব্যবহারকারী ব্যবসায়ী, সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট ও আমদানি-রফতানিকারকরা একসঙ্গে সুষ্ঠুভাবে কাজ করলে রাজস্ব আহরণ যেমন বাড়বে তেমনিভাবে ব্যবসা-বাণিজ্যেরও প্রসার ঘটবে। প্রতিবেশী দেশেগুলোর সঙ্গে বাণিজ্যিক অবকাঠামো প্রসারের লক্ষ্যে দেশের স্থলবন্দরগুলোর উন্নয়নে নতুন প্রকল্প হাতে নিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। তারই ধারাবাহিকতায় বর্তমান সরকার দেশের চারটি স্থলবন্দরের অবকাঠামো উন্নয়নে পদক্ষেপ নিয়েছে। সিলেটের শেওলা, সাতক্ষীরার ভোমরা, যশোরের বেনাপোল ও খাগড়াছড়ির রামগড় স্থলবন্দর উন্নয়নে প্রস্তাবিত প্রকল্পে ব্যয় হচ্ছে ৫৯৬ কোটি টাকা। এই প্রকল্প বাস্তবায়নে ১৫ কোটি ডলার ঋণ দিচ্ছে বহুজাতিক দাতা সংস্থা বিশ্বব্যাংক। বাংলাদেশী মুদ্রায় এর পরিমাণ প্রায় ৪৩৩ কোটি টাকা। অবশিষ্ট ১৬৩ কোটি টাকা সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে ব্যয় করা হচ্ছে। শেওলা, ভোমরা, রামগড় স্থলবন্দর উন্নয়ন এবং বেনাপোল বন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন প্রকল্পটি সম্প্রতি পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হয়েছে। কমিশনের বৈঠকে প্রস্তাবের বিষয়ে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত এলে চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য প্রকল্পটি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির সভায় উপস্থাপন করা হবে। একনেকের অনুমোদন পেলে ২০২১ সালের জুন মাসের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ হবে বলে আসা করা হচ্ছে। ২০১৫ সালে শেওলা স্থলবন্দরের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। ভারতের অংশে এর নাম সুতারকান্দি স্থলবন্দর। বন্দরটির মাধ্যমে ভারতের আসামের সঙ্গে বাণিজ্য স্থাপন সম্ভব। অন্যদিকে ভোমরা স্থলবন্দর দিয়ে সাতক্ষীরা হয়ে ভারতের কলকাতার সঙ্গে ব্যবসা-বাণিজ্য পরিচালিত হচ্ছে। ভোমরা বন্দরের ওপেন ইয়ার্ডের উন্নয়নে কাজ করা হবে এই প্রকল্পের আওতায়। ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের সঙ্গে বাংলাদেশের সীমান্ত রয়েছে ৪০০ কিলোমিটার। খাগড়াছড়ির রামগড় বন্দর উন্নয়নের মাধ্যমে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য আরও বাড়বে। এ বন্দরটির উন্নয়নের মাধ্যমে চট্টগ্রাম সমুদ্র বন্দরটি ভারতের ব্যবহারের উপযোগী করার কথাও ভাবছে সরকার। বন্দরগুলোর মাস্টারপ্ল্যান বাস্তবায়নে প্রকল্পটি সহায়ক হবে বলে আসা করা যাচ্ছে। বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের ৪ হাজার ৯৫ কিলোমিটার, মিয়ানমারের সঙ্গে ২৫৬ কিলোমিটার এবং উপকূলীয় এলাকায় ৫৮০ কিলোমিটার আন্তর্জাতিক সীমারেখা রয়েছে। এসব সীমারেখার মধ্যে অনেক স্থলবন্দর রয়েছে। এই স্থলবন্দর দিয়ে প্রতিদিন বিভিন্ন ধরনের পণ্য আমদানি-রফতানি হচ্ছে। এছাড়া প্রতিনিয়ত অনেক পর্যটক স্থলবন্দরগুলো দিয়ে চলাচল করছে। প্রস্তাবিত প্রকল্পের মাধ্যমে চারটি স্থলবন্দরের উন্নয়ন করে এসব ক্ষেত্রে সুবিধা বাড়ানোর উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। বাংলাদেশের বাণিজ্যিক লেনদেন উল্লেখযোগ্য মাত্রায় বৃদ্ধি পেয়েছে। বাংলাদেশ ভারতের নিকট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ট্রানজিট ফি এবং পরিবহন চার্জ আদায়ের মাধ্যমে বাংলাদেশও ব্যাপকভাবে লাভবান হবে। স্থলবন্দরগুলো উন্নয়নের মাধ্যমে উভয় দেশের সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন হবে বলে আসা করা যায়।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

১ thought on “বেনাপোল, শেওলা, ভোমরা ও রামগড় স্থলবন্দর উন্নয়নের উদ্যোগ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

91 − 82 =